Saturday, October 17, 2026
সাধারণ

সৌদির পাঁচ অঞ্চলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস, লোহিত সাগরে বাতাসের গতি ৪৫ কিমি পর্যন্ত

সৌদির পাঁচ অঞ্চলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস, লোহিত সাগরে বাতাসের গতি ৪৫ কিমি পর্যন্ত

নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। এসব এলাকার উচ্চভূমিতে কুয়াশা জমার সম্ভাবনাও রয়েছে। ধুলাবাহী বাতাস বইবে বলেও জানানো হয়েছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে জানিয়েছে, জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী এসব অঞ্চলে বজ্রঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকাগুলোর পার্বত্য উচ্চভূমিতে কুয়াশা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়ার এই অবস্থা শুধু বৃষ্টি বা বাতাসের বিষয় নয়। বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি আর কুয়াশা একসঙ্গে এলে পাহাড়ি রাস্তায় চলাচল কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে, তা ভেবে দেখেছেন কি? নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের অনেক অংশই পাহাড়ি ও উঁচু ভূমি। এসব এলাকায় কুয়াশা জমলে দৃশ্যমানতা কমে যায়, আর শিলাবৃষ্টি রাস্তাকে পিচ্ছিল করে তোলে।

এসপিএ জানিয়েছে, লোহিত সাগরে বাতাস উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিমমুখী থাকবে। সন্ধ্যায় তা দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্বমুখী হয়ে যাবে। সাগরের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বাতাসের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। দক্ষিণাঞ্চলে বাতাস দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বমুখী হবে এবং গতি পৌঁছাতে পারে ঘণ্টায় ১২ থেকে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।

লোহিত সাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা আধা মিটার থেকে দুই মিটার পর্যন্ত হতে পারে। সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থেকে উত্তাল থাকবে। বাতাসের গতির এই তারতম্য মানে কী? উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বাতাস তুলনামূলক মৃদু থাকলেও দক্ষিণাঞ্চলে তা অনেক বেশি জোরালো হতে পারে। একই সাগরে দুই ধরনের অবস্থা বিরাজ করা নৌযান চলাচলের জন্য বাড়তি সতর্কতার দাবি রাখে।

অন্যদিকে আরব উপসাগরে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে পশ্চিমমুখী থাকবে। সেখানে বাতাসের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১০ থেকে ২২ কিলোমিটার। আরব উপসাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা আধা মিটার থেকে এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং সমুদ্র শান্ত থাকবে।

লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের মধ্যে এই পার্থক্য কেন এত স্পষ্ট? এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যেখানে আরব উপসাগরে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার। ঢেউয়ের উচ্চতাও লোহিত সাগরে সর্বোচ্চ দুই মিটার, আরব উপসাগরে সর্বোচ্চ এক মিটার।

আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসে স্থলভাগের যে পাঁচটি অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর অবস্থান দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত। নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও কুয়াশার কথা একসঙ্গে এসেছে। এই সম্মিলিত পূর্বাভাস কী বোঝায়? একই সময়ে বৃষ্টি, শিল আর কুয়াশা মানে আবহাওয়া পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে।

ধুলাবাহী বাতাসের বিষয়টিও পূর্বাভাসে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বজ্রঝড়ের আগে বা সঙ্গে ধুলাবাহী বাতাস বইলে দৃশ্যমানতা আরও কমতে পারে। কুয়াশার সঙ্গে ধুলার মিশ্রণে পাহাড়ি সড়কে অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে না কি?

লোহিত সাগরের বাতাসের দিক নিয়ে এসপিএ দুটি ধাপের কথা জানিয়েছে। দিনের বেলায় বাতাস উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিমমুখী থাকবে, আর সন্ধ্যায় তা দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্বমুখী হবে। এই দিক পরিবর্তন কেন গুরুত্বপূর্ণ? কারণ বাতাসের দিক বদলালে সমুদ্রের অবস্থাও বদলাতে পারে, আর সন্ধ্যার সময় নৌপথে চলাচলকারীদের জন্য তা জানা জরুরি।

লোহিত সাগরের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২৫ কিলোমিটার। দক্ষিণাঞ্চলে গতি ঘণ্টায় ১২ থেকে ৪৫ কিলোমিটার। অর্থাৎ একই সাগরে অঞ্চলভেদে বাতাসের গতির ব্যবধান বেশ বড়। এই ব্যবধান নৌযান পরিচালনার পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে?

ঢেউয়ের উচ্চতা লোহিত সাগরে আধা মিটার থেকে দুই মিটার। এসপিএ বলেছে, সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থেকে উত্তাল থাকবে। অর্থাৎ কোথাও কোথাও সমুদ্র শান্ত, আবার কোথাও উত্তাল। এই অবস্থা মাছ ধরার নৌকা বা ছোট জাহাজের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে?

আরব উপসাগরের চিত্র তুলনামূলক শান্ত। সেখানে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে পশ্চিমমুখী, গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ঢেউ আধা মিটার থেকে এক মিটার, সমুদ্র শান্ত। দুই সাগরের এই বৈপরীত্য একই দিনে কীভাবে সম্ভব? এসপিএর পূর্বাভাসে দুই জলাশয়ের জন্য আলাদা আলাদা বাতাসের দিক, গতি ও ঢেউয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

স্থলভাগের পূর্বাভাসে কুয়াশার কথা বিশেষভাবে এসেছে। এসপিএ জানিয়েছে, এসব এলাকার উচ্চভূমিতে কুয়াশা জমতে পারে। উচ্চভূমিতে কুয়াশা জমলে সড়কপথে দৃশ্যমানতা কমে যায়। পাহাড়ি রাস্তায় কুয়াশা আর শিলাবৃষ্টি একসঙ্গে এলে যানবাহন চালানো কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তা সহজেই অনুমেয়।

বজ্রঝড়ের তীব্রতা নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে মাঝারি থেকে ভারী। সঙ্গে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা। শিলাবৃষ্টি কৃষি, গবাদি পশু ও খোলা মাঠে থাকা মানুষের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসপিএর পূর্বাভাসে অবশ্য ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য নেই, কারণ এটি ভবিষ্যৎ আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনার বিবরণ নয়।

ধুলাবাহী বাতাস সাধারণত শুষ্ক ও খোলা এলাকায় বেশি প্রভাব ফেলে। নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে এই বাতাস বইতে পারে। ধুলার সঙ্গে বজ্রঝড়ের সংমিশ্রণে আবহাওয়া আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে কি?

লোহিত সাগরের বাতাসের গতির হিসাব ঘণ্টায় ১০ থেকে ২৫ কিলোমিটার এবং ১২ থেকে ৪৫ কিলোমিটার—এই দুই ব্যান্ডে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের জন্য প্রথম ব্যান্ড, দক্ষিণাঞ্চলের জন্য দ্বিতীয় ব্যান্ড। ঢেউয়ের উচ্চতা আধা মিটার থেকে দুই মিটার। এসব সংখ্যা নৌপরিবহন, মৎস্যজীবী ও উপকূলীয় বাসিন্দাদের জন্য সরাসরি প্রাসঙ্গিক।

আরব উপসাগরের তথ্যে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২২ কিলোমিটার এবং ঢেউ আধা মিটার থেকে এক মিটার। সমুদ্র শান্ত। লোহিত সাগরের তুলনায় আরব উপসাগরের অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল। একই দেশের দুই উপকূলে একই দিনে এমন পার্থক্য কেন হয়, তা নিয়ে আবহাওয়াবিদদের বিশ্লেষণের বিষয় বটে।

এসপিএর প্রতিবেদনে সময়ও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি ২৭ মার্চ ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত, স্থানীয় সময় ১১টা ১৩ মিনিটে, যা গ্রিনিচ মান সময় ০৮টা ১৩ মিনিট। অর্থাৎ পূর্বাভাসটি ওই দিনের জন্য প্রযোজ্য।

পূর্বাভাসে বৃষ্টির পরিমাণ,持续时间 বা কোনো নির্দিষ্ট শহরের নাম আলাদাভাবে দেওয়া হয়নি। শুধু অঞ্চলভেদে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা ও ধুলাবাহী বাতাসের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুই সাগরের বাতাসের দিক, গতি ও ঢেউয়ের উচ্চতার তথ্য দেওয়া হয়েছে।

এসপিএর এই প্রতিবেদনে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য নেই, সতর্কতা জারির মেয়াদ বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানের বিস্তারিত পূর্বাভাসও নেই। শুধু জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের বরাত দিয়ে অঞ্চলভিত্তিক ও সমুদ্রভিত্তিক আবহাওয়ার অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।

কোন কোন অঞ্চলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে? জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার উচ্চভূমিতে কুয়াশা জমার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ধুলাবাহী বাতাস বইবে বলে এসপিএ জানিয়েছে।

লোহিত সাগরে বাতাসের গতি ও ঢেউয়ের অবস্থা কেমন থাকবে? লোহিত সাগরে বাতাস উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিমমুখী থাকবে, সন্ধ্যায় তা দক্ষিণ-পূর্ব থেকে উত্তর-পূর্বমুখী হবে। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২৫ কিলোমিটার, দক্ষিণাঞ্চলে ১২ থেকে ৪৫ কিলোমিটার। ঢেউ আধা মিটার থেকে দুই মিটার, সমুদ্র তুলনামূলক শান্ত থেকে উত্তাল থাকবে।

আরব উপসাগরের অবস্থা লোহিত সাগর থেকে কীভাবে আলাদা? আরব উপসাগরে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে পশ্চিমমুখী থাকবে এবং গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২২ কিলোমিটার। ঢেউ আধা মিটার থেকে এক মিটার, সমুদ্র শান্ত থাকবে। লোহিত সাগরে যেখানে ঢেউ সর্বোচ্চ দুই মিটার ও বাতাসের গতি ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত, সেখানে আরব উপসাগরের অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল।

কুয়াশা জমার পূর্বাভাসের অর্থ কী? এসপিএ জানিয়েছে, নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের উচ্চভূমিতে কুয়াশা জমতে পারে। উচ্চভূমিতে কুয়াশা জমলে দৃশ্যমানতা কমে যায়। বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সঙ্গে কুয়াশা একসঙ্গে এলে পাহাড়ি সড়কে চলাচল আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ধুলাবাহী বাতাস কোথায় বইবে? জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী নাজরান, জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা অঞ্চলের কিছু অংশে ধুলাবাহী বাতাস বইবে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। ধুলার সঙ্গে কুয়াশা মিশে গেলে দৃশ্যমানতা আরও কমতে পারে।

এসপিএর প্রতিবেদনে কী কী তথ্য অনুপস্থিত? প্রতিবেদনে বৃষ্টির পরিমাণ, পূর্বাভাসের持续时间, সতর্কতার মেয়াদ বা নির্দিষ্ট শহরের বিস্তারিত তথ্য নেই। ক্ষয়ক্ষতির কোনো বিবরণও দেওয়া হয়নি। শুধু জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের বরাত দিয়ে অঞ্চলভিত্তিক বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, কুয়াশা, ধুলাবাহী বাতাস এবং দুই সাগরের বাতাস ও ঢেউয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।