ইয়েমেনের এডেন গভর্নরেটে গতকাল পৌঁছেছে নয়টি ত্রাণ ট্রাক, যেগুলোতে কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ) সরবরাহ করা ৩,২৪০টি খাদ্য ঝুড়ি রয়েছে। ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের আগে এই চালান পৌঁছায়।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১১ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, ত্রাণ সামগ্রী সৌদি আরব রাজ্যের চলমান সহায়তা প্রচেষ্টার প্রতিফলন, যা কেএসরিলিফের মাধ্যমে ইয়েমেনে খাদ্য নিরাপত্তা সমর্থন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য সরবরাহ করা হয়।
এডেন গভর্নরেটে নয়টি ট্রাকের আগমন মানে কী—এটি কি কেবল একটি চালান, নাকি দীর্ঘস্থায়ী সংকটে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতার আরেকটি প্রমাণ? ইয়েমেনে কেএসরিলিফের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে, এবং প্রতিটি চালান স্থানীয়ভাবে বিতরণের আগে পরিবহন, সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ধাপ পেরোতে হয়। ৩,২৪০টি খাদ্য ঝুড়ি সংখ্যাটি ছোট নয়, তবে ইয়েমেনের বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যার তুলনায় এটি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নির্ভর করে বিতরণের পরিধি ও সময়ের উপর।
কেএসরিলিফ কী এবং কেন ইয়েমেনে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ? সৌদি আরবের রাজকীয় মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ কেন্দ্র হিসেবে কেএসরিলিফ বিদেশে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে, যার মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, পানি ও আশ্রয়সহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত। ইয়েমেনে এর কার্যক্রম জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়, যেখানে খাদ্য ঝুড়ি বিতরণ একটি মূল উপাদান। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মৌলিক খাদ্য চাহিদা পূরণ করা।
এডেন গভর্নরেটে নয়টি ট্রাকের পৌঁছানো কীভাবে বিতরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত? এসপিএ জানিয়েছে, চালানটি বিতরণের আগে পৌঁছেছে, অর্থাৎ খাদ্য ঝুড়িগুলো এখন স্থানীয় পর্যায়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ার অপেক্ষায়। এডেন ইয়েমেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও প্রশাসনিক কেন্দ্র, যেখানে ত্রাণ সামগ্রী প্রায়ই সমুদ্রপথে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ এলাকায় পাঠানো হয়। এই ধাপে পরিবহন, গুদামজাতকরণ ও বিতরণের তালিকা প্রস্তুত করা জড়িত, যা মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সময়সাপেক্ষ কাজ।
৩,২৪০টি খাদ্য ঝুড়িতে কী থাকে? এসপিএ প্রতিবেদনে খাদ্য ঝুড়ির নির্দিষ্ট উপাদান উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত এই ধরনের ঝুড়িতে চাল, আটা, তেল, ডাল, চিনি ও অন্যান্য মৌলিক খাদ্যসামগ্রী থাকে, যা একটি পরিবারের কিছু সময়ের চাহিদা মেটাতে পারে। তবে এই চালানের ক্ষেত্রে ঝুড়ির আকার বা পরিবারপ্রতি বরাদ্দ কত, তা সূত্রে বলা হয়নি। বিতরণের লক্ষ্য হলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার, যাদের মধ্যে বাস্তুচ্যুত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অন্যতম।
ইয়েমেনে খাদ্য নিরাপত্তা সংকট কতটা গভীর? দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইয়েমেনে বহু পরিবার খাদ্য অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো প্রায়ই আশ্রয় ও আয়ের উৎস হারায়, ফলে তাদের খাদ্য চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সহায়তা সংস্থাগুলোর খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেএসরিলিফের এই চালান সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ, যা সৌদি আরব রাজ্যের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়।
কেন এডেন গভর্নরেটকে বিতরণের কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়? এডেন ইয়েমেনের দক্ষিণে একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী, যেখানে ত্রাণ সামগ্রী প্রবেশের সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ এলাকায় ত্রাণ পাঠানোর রুটও এখান থেকে শুরু হয়। ফলে এডেনে চালান পৌঁছানো মানে শুধু স্থানীয় বিতরণ নয়, বরং অন্যান্য এলাকায় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রবেশদ্বারও তৈরি হওয়া। তবে এসপিএ প্রতিবেদনে বিতরণের ভৌগোলিক পরিধি বা কোন কোন জেলায় ঝুড়ি যাবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
নয়টি ট্রাকের সংখ্যা কি পর্যাপ্ত? একটি ট্রাক সাধারণত কয়েকশ খাদ্য ঝুড়ি বহন করতে পারে, এবং ৩,২৪০টি ঝুড়ি নয়টি ট্রাকে ভাগ করলে প্রতি ট্রাকে গড়ে ৩৬০টি ঝুড়ি পড়ে। এই হিসাব সূত্রে সরাসরি বলা হয়নি, তবে সংখ্যাগুলো থেকে এটি অনুমান করা যায়। প্রশ্ন হলো, এই পরিমাণ কতজন মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাবে? যদি একটি ঝুড়ি একটি পরিবারের জন্য হয়, তাহলে ৩,২৪০টি পরিবার উপকৃত হতে পারে। তবে পরিবারের আকার ও ঝুড়ির পরিমাণ সূত্রে স্পষ্ট নয়, তাই প্রকৃত উপকারভোগীর সংখ্যা নির্ভুলভাবে বলা যাচ্ছে না।
কেএসরিলিফের সহায়তা কীভাবে অর্থায়ন ও পরিচালিত হয়? সৌদি আরব রাজ্যের সহায়তা হিসেবে কেএসরিলিফের কার্যক্রম পরিচালিত হয়, এবং ইয়েমেনে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় এই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এসপিএ জানিয়েছে, এই সহায়তা খাদ্য নিরাপত্তা সমর্থন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে। কেএসরিলিফের অন্যান্য কার্যক্রমের মতো, এই প্রকল্পেও স্থানীয় অংশীদার ও বিতরণকারী সংস্থা জড়িত থাকতে পারে, তবে এই প্রতিবেদনে তাদের নাম বা ভূমিকা উল্লেখ করা হয়নি।
বিতরণের আগে কী কী ধাপ থাকে? ত্রাণ চালান পৌঁছানোর পর সাধারণত যাচাই, নিবন্ধন ও গুদামজাতকরণের কাজ হয়। এরপর সুবিধাভোগী পরিবারের তালিকা অনুযায়ী বিতরণ কার্ড বা টোকেন দেওয়া হয়, যাতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার আগে সহায়তা পায়। এসপিএ বলেছে, চালানটি বিতরণের আগে পৌঁছেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই ধাপগুলো এখনো সম্পন্ন হয়নি বা চলছে। বিতরণ কবে শুরু হবে বা কত দিন লাগবে, সেই সময়সূচি সূত্রে দেওয়া হয়নি।
ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত পরিবারের সংখ্যা কত? এই প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। তবে সূত্র বলছে, সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারের জন্য, যারা মৌলিক চাহিদা পূরণে সমস্যার মুখে রয়েছে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো প্রায়ই আশ্রয়শিবির বা অস্থায়ী বাসস্থানে থাকে, যেখানে খাদ্য সরবরাহ অনিয়মিত হতে পারে। এই ধরনের পরিবারের জন্য খাদ্য ঝুড়ি তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আরও সমন্বিত সমাধান প্রয়োজন।
সৌদি আরবের সহায়তা কী বার্তা বহন করে? সৌদি আরব রাজ্যের চলমান সহায়তা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই চালান পাঠানো হয়েছে, যা কেএসরিলিফের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। ইয়েমেনে মানবিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় বহু দেশ ও সংস্থা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে কেএসরিলিফ একটি প্রধান চ্যানেল, যার মাধ্যমে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এই চালান সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, তবে এর প্রভাব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করে পরবর্তী বিতরণ ও সহায়তার ধারাবাহিকতার উপর।
খাদ্য ঝুড়ি বিতরণের চ্যালেঞ্জ কী কী? ইয়েমেনে পরিবহন অবকাঠামো, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও স্থানীয় সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো বিতরণকে প্রভাবিত করতে পারে। এডেনে চালান পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও অভ্যন্তরীণ এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। এছাড়া সুবিধাভোগী নির্বাচন, তালিকা যাচাই ও বিতরণের সময়সূচি নির্ধারণও জটিল কাজ। এসপিএ প্রতিবেদনে এই চ্যালেঞ্জগুলোর কথা সরাসরি বলা হয়নি, তবে বিতরণের আগে চালান পৌঁছানোর উল্লেখ থেকে বোঝা যায় যে প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে এগোচ্ছে।
এই চালান কি অন্যান্য সহায়তার সঙ্গে সমন্বিত? ইয়েমেনে একাধিক মানবিক সংস্থা ও donor দেশ সহায়তা দিয়ে থাকে। কেএসরিলিফের এই চালানও সম্ভবত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে এই প্রতিবেদনে অন্য কোনো সংস্থার নাম বা সমন্বয়ের বিবরণ নেই। শুধু বলা হয়েছে, সহায়তা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
৩,২৪০টি খাদ্য ঝুড়ির হিসাব কীভাবে দেখছেন বিশ্লেষকরা? সংখ্যাটি একটি নির্দিষ্ট চালানের পরিমাণ, যা এককভাবে বড় মনে হলেও ইয়েমেনের সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সীমিত। তবে প্রতিটি চালান জরুরি অবস্থায় তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে পারে। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের চালান কত ঘন ঘন আসে এবং বিতরণ কতটা দক্ষতার সঙ্গে হয়? এসপিএ এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের চালানের কথা বা বিতরণের ফলাফল উল্লেখ করেনি।
বিতরণের পর কী হবে? খাদ্য ঝুড়ি বিতরণের পর সাধারণত পরিবারগুলো কিছু সময়ের জন্য খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আয়, কৃষি, বাজার ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি প্রয়োজন। কেএসরিলিফের প্রকল্প জরুরি সহায়তার অংশ হিসেবে কাজ করে, যা তাৎক্ষণিক চাহিদা পূরণে সহায়ক। এই চালানের পরবর্তী ধাপ কী হবে, তা সূত্রে বলা হয়নি।
এডেনে চালান পৌঁছানোর সময় কী গুরুত্ব বহন করে? ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এসপিএ এই খবর প্রকাশ করে, এবং চালানটি তার আগের দিন পৌঁছায়। সময়ের হিসাবে এটি একটি সাম্প্রতিক ঘটনা। ইয়েমেনে মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে সময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিলম্ব হলে পরিবারগুলোর সংকট আরও গভীর হতে পারে। চালান পৌঁছানোর পর বিতরণ শুরু হলে উপকারভোগীরা দ্রুত সহায়তা পেতে পারেন।
কেএসরিলিফের এই সহায়তা কি শুধু খাদ্যেই সীমাবদ্ধ? এই প্রতিবেদনে শুধু খাদ্য সহায়তার কথা বলা হয়েছে। কেএসরিলিফের অন্যান্য কার্যক্রমে স্বাস্থ্য, পানি, আশ্রয় ও শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, তবে এই চালানের ক্ষেত্রে শুধু খাদ্য ঝুড়ির উল্লেখ আছে। সূত্রে অন্য কোনো খাতের কথা বলা হয়নি।
ইয়েমেনে খাদ্য সহায়তার সমন্বয় কে করে? স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও donor প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। কেএসরিলিফ সাধারণত স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে বিতরণ সম্পন্ন করে। এই প্রতিবেদনে সেই অংশীদারদের নাম নেই। শুধু বলা হয়েছে, সহায়তা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
খাদ্য ঝুড়ির মান ও নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়? ত্রাণ সামগ্রীর মান যাচাই ও নিরাপদ পরিবহন মানবিক সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খাদ্যসামগ্রী যাতে নষ্ট না হয় বা মেয়াদোত্তীর্ণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়। এসপিএ এই প্রতিবেদনে মান নিয়ন্ত্রণ বা যাচাইয়ের বিবরণ দেয়নি। তবে চালান পৌঁছানোর পর বিতরণের আগে এই ধরনের প্রক্রিয়া সাধারণত অনুসরণ করা হয়।
এই চালান কি স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে? খাদ্য সহায়তা তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটায়, তবে স্থানীয় বাজার ও কৃষির উপর এর প্রভাব নির্ভর করে বিতরণের ধরন ও পরিমাণের উপর। এই প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক প্রভাবের কোনো তথ্য নেই। শুধু বলা হয়েছে, সহায়তা খাদ্য নিরাপত্তা সমর্থন ও মৌলিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে।
সৌদি আরবের সহায়তা কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়? কেএসরিলিফের প্রকল্পগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও বিতরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ বা মূল্যায়নের বিবরণ নেই। তবে এসপিএ জানিয়েছে, সহায়তা সৌদি আরব রাজ্যের চলমান প্রচেষ্টার অংশ।
ইয়েমেনে এই ধরনের সহায়তার ভবিষ্যৎ কী? মানবিক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সহায়তার চাহিদা বাড়তে পারে। কেএসরিলিফের মতো সংস্থাগুলোর ধারাবাহিক সহায়তা জরুরি। এই চালান সেই ধারাবাহিকতার একটি উদাহরণ, তবে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সূত্রে উল্লেখ নেই। বিতরণের ফলাফল ও পরবর্তী চালান সম্পর্কে জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন।
সূত্রটি কী বলেনি? এসপিএ প্রতিবেদনে খাদ্য ঝুড়ির উপাদান, বিতরণের সময়সূচি, সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা, বিতরণকারী সংস্থার নাম, চালানের মোট মূল্য বা বিতরণের ভৌগোলিক পরিধি উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, নয়টি ট্রাকে ৩,২৪০টি খাদ্য ঝুড়ি এডেন গভর্নরেটে পৌঁছেছে এবং বিতরণের আগে এটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য জরুরি সহায়তা প্রকল্পের অংশ।
ইয়েমেনের এডেনে কী পৌঁছেছে এবং কতগুলো খাদ্য ঝুড়ি রয়েছে? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, নয়টি ত্রাণ ট্রাক এডেন গভর্নরেটে পৌঁছেছে এবং সেগুলোতে কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ) সরবরাহ করা ৩,২৪০টি খাদ্য ঝুড়ি রয়েছে। চালানটি বিতরণের আগে পৌঁছেছে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এটি ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের অংশ।
এই সহায়তা কে দিয়েছে এবং কেন? সহায়তা সৌদি আরব রাজ্যের চলমান সহায়তা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কেএসরিলিফের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এর লক্ষ্য ইয়েমেনে খাদ্য নিরাপত্তা সমর্থন করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। চালানটি এডেন গভর্নরেটে পৌঁছেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায় বিতরণ করা হবে।
খাদ্য ঝুড়িগুলো কাদের মধ্যে বিতরণ করা হবে? এসপিএ জানিয়েছে, খাদ্য ঝুড়িগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত পরিবার রয়েছে। বিতরণ ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রে জরুরি সহায়তা প্রকল্পের অংশ হিসেবে হবে। সূত্রে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা বা বিতরণের নির্দিষ্ট এলাকার নাম উল্লেখ করা হয়নি।
চালানটি কবে পৌঁছেছে এবং খবরটি কবে প্রকাশিত হয়েছে? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১১ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, নয়টি ট্রাক গতকাল এডেন গভর্নরেটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ চালানটি ১০ অক্টোবর ২০২৬-এ পৌঁছেছে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে স্থানীয় সময় ২০:৪৩ এবং জিএমটি ১৭:৪৩ উল্লেখ করা হয়েছে। বিতরণ কবে শুরু হবে, সেই সময়সূচি সূত্রে দেওয়া হয়নি।
খাদ্য ঝুড়িতে কী কী থাকে এবং কত পরিবার উপকৃত হবে? এসপিএ প্রতিবেদনে খাদ্য ঝুড়ির নির্দিষ্ট উপাদান বা সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত এই ধরনের ঝুড়িতে চাল, আটা, তেল, ডাল ও চিনির মতো মৌলিক খাদ্যসামগ্রী থাকে। ৩,২৪০টি ঝুড়ি থেকে প্রতি পরিবারে একটি হিসাবে হিসাব করলে তত পরিবার উপকৃত হতে পারে, তবে ঝুড়ির আকার ও পরিবারের আকার সূত্রে স্পষ্ট নয়।
এই সহায়তা কি ইয়েমেনে কেএসরিলিফের একমাত্র কার্যক্রম? না, এসপিএ জানিয়েছে এটি সৌদি আরব রাজ্যের চলমান সহায়তা প্রচেষ্টার অংশ, যা কেএসরিলিফের মাধ্যমে ইয়েমেনে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদনে শুধু খাদ্য সহায়তার কথা বলা হয়েছে, যা জরুরি সহায়তা প্রকল্পের আওতায়। কেএসরিলিফের অন্যান্য কার্যক্রম বা ভবিষ্যতের চালান সম্পর্কে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।