নাইজেরিয়ার কানো রাজ্যে ইউরোলজিক্যাল সার্জারির স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা প্রকল্প শেষ করেছে কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ)। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলা এই প্রকল্পে ৮১টি সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ করা হয় ৫৩ জনের ওপর। এর মধ্যে ৪০টি এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি এবং ১৩টি অন্য অপারেশন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিভিন্ন চিকিৎসা বিশেষত্বের আটজন স্বেচ্ছাসেবক মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের (এমডব্লিউএল) সহযোগিতায় এই প্রকল্পে অংশ নেন। কানো রাজ্যে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
প্রকল্পের সময় কেএসরিলিফের স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা দল রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে। পাশাপাশি ১৬ জন চিকিৎসাকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং চারটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
এই প্রকল্প কেএসরিলিফের চলমান স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা প্রকল্পগুলোর অংশ, যেগুলো বিভিন্ন বিশেষত্বে পরিচালিত হয়। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য প্রয়োজনীয় দেশগুলোর নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করা।
নাইজেরিয়ার কানো রাজ্যে এই ধরনের ইউরোলজিক্যাল সার্জারি প্রকল্প কতটা প্রয়োজনীয় ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। ৫৩ জন রোগীর ওপর ৮১টি হস্তক্ষেপ মানে অনেক রোগীর একাধিক পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল। এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতির সংখ্যা ৪০, যা মোট হস্তক্ষেপের প্রায় অর্ধেক।
আটজন স্বেচ্ছাসেবক বিভিন্ন বিশেষত্ব থেকে এসেছেন। এই বৈচিত্র্য কি স্থানীয় রোগীদের জটিল সমস্যাগুলো এক জায়গায় সমাধান করতে সহায়তা করেছে? প্রশিক্ষণ পাওয়া ১৬ জন চিকিৎসাকর্মী ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে সেবা চালিয়ে যেতে পারবেন কি? চারটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কোন বিষয়ে ছিল, তা বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত বলা হয়নি।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সহযোগিতা এই প্রকল্পে একটি বড় ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় অংশীদারত্ব ছাড়া এতগুলো রোগীকে চিহ্নিত করা ও চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হতো। কোনো কোন রোগীকে বাছাই করা হয়েছিল, তার মানদণ্ড বিজ্ঞপ্তিতে নেই।
কেএসরিলিফের চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে এই কর্মসূচি একটি। নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করার লক্ষ্য থাকলেও কতজন রোগী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের কথা বলা হয়েছে, তবে তার পরিমাণ বা মূল্য উল্লেখ নেই।
প্রকল্পটি ২৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ৩ অক্টোবর শেষ হয়। এই আট দিনে ৮১টি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দশটি হস্তক্ষেপ—এই গতি কি আটজন স্বেচ্ছাসেবকের জন্য স্বাভাবিক ছিল? স্থানীয় হাসপাতালের সহায়তা কেমন ছিল, তা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।
নাইজেরিয়ার কানো রাজ্যে এই প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে অনুরূপ কর্মসূচির পথ প্রশস্ত করতে পারে। তবে রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ কীভাবে হবে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬ জন চিকিৎসাকর্মী কি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন, তাও স্পষ্ট নয়।
কেএসরিলিফের স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা প্রকল্পগুলো বিভিন্ন দেশে চলছে। প্রতিটি প্রকল্পের পরিধি ও ফলাফল ভিন্ন। নাইজেরিয়ার এই প্রকল্পে ৫৩ জন রোগী সরাসরি চিকিৎসা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে কতজন জটিল অবস্থায় ছিলেন, তা জানা যায়নি।
এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি সাধারণত কম আক্রমণাত্মক হয় এবং দ্রুত সুস্থতার সুযোগ দেয়। ৪০টি এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি মানে অনেক রোগী কম সময়ে ঘরে ফিরতে পেরেছেন। তবে ১৩টি অন্য অপারেশন কী ধরনের ছিল, বিজ্ঞপ্তিতে তার বিবরণ নেই।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সংখ্যা চার এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মীর সংখ্যা ১৬। এই প্রশিক্ষণ কি স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়াতে যথেষ্ট? ভবিষ্যতে কেএসরিলিফ এই ধরনের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাবে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞপ্তিতে নেই।
নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করার লক্ষ্য থাকলেও রোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া কী ছিল, তা জানা যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় কেমন ছিল, তাও স্পষ্ট নয়। মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের ভূমিকা কোন পর্যায়ে ছিল, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য নেই।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কানো থেকে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্পের মোট ব্যয়, রোগীদের বয়স বা লিঙ্গ, এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
কেএসরিলিফের এই প্রকল্পে কতজন রোগী চিকিৎসা পেয়েছেন? প্রকল্পে ৫৩ জন রোগীর ওপর ৮১টি সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি এবং ১৩টি অন্য অপারেশন। রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়। এসপিএ জানিয়েছে, প্রকল্পটি ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কানো রাজ্যে চলেছিল।
প্রকল্পে কতজন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন? বিভিন্ন চিকিৎসা বিশেষত্বের আটজন স্বেচ্ছাসেবক এই প্রকল্পে অংশ নেন। তারা মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের সহযোগিতায় কাজ করেন। এসপিএ জানিয়েছে, দলটি ১৬ জন চিকিৎসাকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং চারটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত বলা হয়নি।
প্রকল্পটি কোথায় ও কখন অনুষ্ঠিত হয়? প্রকল্পটি নাইজেরিয়ার কানো রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়। সময়কাল ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর ২০২৬। এসপিএ জানিয়েছে, এটি কেএসরিলিফের চলমান স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা প্রকল্পগুলোর অংশ, যেগুলোর লক্ষ্য প্রয়োজনীয় দেশগুলোর নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করা।
কেএসরিলিফের লক্ষ্য কী? কেএসরিলিফের চলমান স্বেচ্ছাসেবী চিকিৎসা প্রকল্পগুলো বিভিন্ন বিশেষত্বে পরিচালিত হয়। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য প্রয়োজনীয় দেশগুলোর নিম্ন আয়ের ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা করা। নাইজেরিয়ার প্রকল্পে রোগীদের ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয় এবং স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসপিএ প্রকল্পের ব্যয় বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু জানায়নি।