জাজান অঞ্চলের পার্বত্য উচ্চভূমিতে কফি চাষ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আর এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে জাজান বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি গবেষণা, জাত উন্নয়ন এবং কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো ও সৌদি কফিতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় চারটি উদ্ভিদ পেটেন্ট নিবন্ধন করেছে, যেগুলো নতুন সৌদি কফি জাতের জন্য। জাতগুলোর নাম «জাজান লাইট», «জাজান প্রিমিয়াম», «জাজান মোকা» এবং «জেইউ২০৩০»। এসপিএ বলেছে, এগুলো বৈজ্ঞানিক অর্জন, যা উদ্ভিদ সম্পদ নিয়ে গবেষণার পথ আরও প্রশস্ত করে এবং কফি চাষে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড নেচার রিসার্চ সেন্টার ৭০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জাতের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করছে। এসপিএ জানিয়েছে, এ কাজে ৬৮ লাখ সৌদি রিয়ালেরও বেশি গবেষণা অর্থায়ন রয়েছে। অর্থায়নটি সেচ, সার প্রয়োগ, জিনগত সম্পদের ম্যাপিং এবং রোগপ্রতিরোধী জাত নির্বাচনের মতো বিষয়গুলো কভার করে।
এই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে ৩৫টি পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, তিনটি বিশেষায়িত কফি নির্দেশিকা এবং একটি কফি গবেষণা ও প্রযুক্তি ল্যাব তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০টি কর্মশালা ও নয়টি মাঠপর্যায়ের কোর্সের আয়োজনও করেছে, যার মাধ্যমে আধুনিক চাষ পদ্ধতি সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
জাজান বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি কফি কোম্পানির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। এসপিএ অনুযায়ী, এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য যৌথ গবেষণা উন্নয়ন, চারা উৎপাদনে সহায়তা এবং কৃষি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা। বিশ্ববিদ্যালয়টি জাজান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কফি রিসার্চ-ও আয়োজন করেছে, যেখানে গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একত্র হয়ে উৎপাদনের টেকসইতা এবং কৃষকদের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
জাজানের পার্বত্য এলাকার কফি চাষ কেন এখন গবেষণার কেন্দ্রে? এসপিএ জানিয়েছে, এই অঞ্চলের কফি চাষ জ্ঞান ও উদ্ভাবনের ভিত্তিতে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়; জাত উন্নয়ন ও কৃষক প্রশিক্ষণও এর অংশ। ফলে মাঠপর্যায়ে চাষ পদ্ধতির পরিবর্তন এবং উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা একসঙ্গে তৈরি হচ্ছে।
চারটি পেটেন্টের বিষয়টি কেবল নাম নয়, বরং একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। «জাজান লাইট», «জাজান প্রিমিয়াম», «জাজান মোকা» ও «জেইউ২০৩০» নামের এই জাতগুলো উদ্ভিদ সম্পদ নিয়ে গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এসপিএ এগুলোকে উদ্ভাবনী সৌদি কফি জাত হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রশ্ন হলো, এই জাতগুলো কৃষকের মাঠে কত দ্রুত পৌঁছাবে এবং স্থানীয় কফি উৎপাদনে কেমন প্রভাব ফেলবে?
গবেষণার পরিধি বিস্তৃত। এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড নেচার রিসার্চ সেন্টার ৭০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জাতের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৬৮ লাখ রিয়ালের বেশি অর্থায়ন। এই অর্থ সেচ, সার প্রয়োগ, জিনগত সম্পদের ম্যাপিং এবং রোগপ্রতিরোধী জাত নির্বাচনে ব্যয় হচ্ছে। এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার এই চারটি ক্ষেত্র কফি চাষের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলোকে সরাসরি সম্বোধন করে।
৩৫টি পিয়ার-রিভিউড প্রবন্ধ এবং তিনটি বিশেষায়িত কফি নির্দেশিকা এই গবেষণার দৃশ্যমান ফল। এর সঙ্গে রয়েছে একটি কফি গবেষণা ও প্রযুক্তি ল্যাব। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই বৈজ্ঞানিক উপাদানগুলো কৃষকের দৈনন্দিন কাজে কতটা রূপান্তরিত হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয় ১০টি কর্মশালা ও নয়টি মাঠপর্যায়ের কোর্স আয়োজন করেছে, যেখানে আধুনিক চাষ পদ্ধতি সরাসরি কৃষকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এসপিএ এই কোর্সগুলোর বিস্তারিত পাঠ্যক্রম বা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখ করেনি।
অংশীদারিত্বের প্রশ্নেও গুরুত্ব রয়েছে। জাজান বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি কফি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ গবেষণা, চারা উৎপাদনে সহায়তা এবং কৃষি উদ্ভাবন উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব করেছে। এসপিএ এই অংশীদারিত্বের আর্থিক মূল্য বা সময়সীমা উল্লেখ করেনি। তবে চারা উৎপাদনে সহায়তার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয়, গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি পথ তৈরি হচ্ছে।
জাজান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কফি রিসার্চ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক মঞ্চে এনেছে। এসপিএ জানিয়েছে, সম্মেলনে উৎপাদনের টেকসইতা এবং কৃষকদের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই আলোচনা থেকে কী konkrit পদক্ষেপ বেরিয়ে এসেছে এবং তা কৃষকদের কাছে কতটা পৌঁছেছে?
সৌদি কফির বিনিয়োগ প্রসঙ্গে এসপিএ বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টার লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং সৌদি কফিতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ। এই লক্ষ্যে গবেষণা, জাত উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ—তিনটি স্তম্ভ একসঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু এসপিএ এই বিনিয়োগের আকার, সম্ভাব্য বাজার বা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে কোনো সংখ্যা দেয়নি।
জাজান অঞ্চলের পার্বত্য উচ্চভূমি কফি চাষের জন্য পরিচিত একটি এলাকা, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সেখানকার স্থানীয় জাতের জীববৈচিত্র্যকে কাজে লাগাচ্ছে। ৭০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জাতের পর্যবেক্ষণ এই বৈচিত্র্যকে গবেষণার ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। প্রশ্ন হলো, স্থানীয় জাতগুলোর মধ্যে কোনগুলো ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণিত হবে?
গবেষণা অর্থায়নের ৬৮ লাখ রিয়ালের বেশি বিনিয়োগ চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যয় হচ্ছে—সেচ, সার প্রয়োগ, জিনগত সম্পদের ম্যাপিং এবং রোগপ্রতিরোধী জাত নির্বাচন। এই ক্ষেত্রগুলো কফি চাষের উৎপাদনশীলতা ও টেকসইতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এসপিএ জানিয়েছে, এই অর্থায়ন গবেষণা কার্যক্রমকে সহায়তা করছে, তবে কোন ক্ষেত্রে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা আলাদা করে উল্লেখ করেনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। একদিকে ল্যাবে জাত উন্নয়ন ও জিনগত ম্যাপিং, অন্যদিকে মাঠে কর্মশালা ও কোর্সের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ। প্রশ্ন হলো, এই দুই ধারার মধ্যে তথ্য প্রবাহ কতটা কার্যকর এবং কৃষকের অভিজ্ঞতা কীভাবে গবেষণায় ফিরে আসছে?
সৌদি কফি খাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ একটি প্রাতিষ্ঠানিক মডেল তৈরি করছে, যেখানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষক এবং বাণিজ্যিক অংশীদার একসঙ্গে কাজ করছে। এসপিএর প্রতিবেদনে এই মডেলের সাফল্যের কোনো স্বতন্ত্র মূল্যায়ন বা উৎপাদন বৃদ্ধির পরিসংখ্যান নেই।
সামগ্রিকভাবে, জাজান বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ চারটি পেটেন্ট, ৭০টিরও বেশি জাতের পর্যবেক্ষণ, ৬৮ লাখ রিয়ালের বেশি গবেষণা অর্থায়ন, ৩৫টি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, তিনটি নির্দেশিকা, একটি ল্যাব, ১০টি কর্মশালা, নয়টি মাঠকোর্স, সৌদি কফি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। এসপিএ এই উদ্যোগের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, জাতগুলোর বাণিজ্যিক উন্মোচনের সময়সূচি বা কৃষক পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির কোনো পূর্বাভাস দেয়নি।
জাজান বিশ্ববিদ্যালয় কোন কোন কফি জাতের পেটেন্ট নিবন্ধন করেছে? বিশ্ববিদ্যালয় চারটি উদ্ভিদ পেটেন্ট নিবন্ধন করেছে—«জাজান লাইট», «জাজান প্রিমিয়াম», «জাজান মোকা» এবং «জেইউ২০৩০»। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এগুলো উদ্ভাবনী সৌদি কফি জাত এবং বৈজ্ঞানিক অর্জন, যা উদ্ভিদ সম্পদ নিয়ে গবেষণার পথ প্রশস্ত করে। এসপিএ এই জাতগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বা বাণিজ্যিক উন্মোচনের সময়সূচি উল্লেখ করেনি।
গবেষণায় কত অর্থায়ন এবং কী কী ক্ষেত্র কভার করা হচ্ছে? এসপিএ জানিয়েছে, গবেষণায় ৬৮ লাখ সৌদি রিয়ালেরও বেশি অর্থায়ন রয়েছে। এই অর্থায়ন সেচ, সার প্রয়োগ, জিনগত সম্পদের ম্যাপিং এবং রোগপ্রতিরোধী জাত নির্বাচনের মতো ক্ষেত্রগুলো কভার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড নেচার রিসার্চ সেন্টার ৭০টিরও বেশি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জাতের জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করছে। এসপিএ কোন ক্ষেত্রে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে তা আলাদা করে দেয়নি।
গবেষণার ফল হিসেবে কী কী প্রকাশনা ও স্থাপনা তৈরি হয়েছে? এসপিএ অনুযায়ী, গবেষণা থেকে ৩৫টি পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং তিনটি বিশেষায়িত কফি নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে। এছাড়া একটি কফি গবেষণা ও প্রযুক্তি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ১০টি কর্মশালা ও নয়টি মাঠপর্যায়ের কোর্সের আয়োজন করেছে, যার মাধ্যমে আধুনিক চাষ পদ্ধতি সরাসরি কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসপিএ কর্মশালাগুলোর অংশগ্রহণকারী সংখ্যা উল্লেখ করেনি।
সৌদি কফি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বের লক্ষ্য কী? জাজান বিশ্ববিদ্যালয় সৌদি কফি কোম্পানির সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই অংশীদারিত্বের লক্ষ্য যৌথ গবেষণা উন্নয়ন, চারা উৎপাদনে সহায়তা এবং কৃষি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা। অংশীদারিত্বটি সৌদি কফিতে বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ। এসপিএ এই চুক্তির আর্থিক মূল্য বা সময়সীমা উল্লেখ করেনি।
জাজান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কফি রিসার্চ-এ কী আলোচনা হয়েছে? বিশ্ববিদ্যালয়টি জাজান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন কফি রিসার্চ আয়োজন করেছে, যেখানে গবেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একত্র হয়েছেন। এসপিএ জানিয়েছে, সম্মেলনে উৎপাদনের টেকসইতা এবং কৃষকদের মুখোমুখি চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই সম্মেলন গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। এসপিএ সম্মেলনের নির্দিষ্ট সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত উল্লেখ করেনি।