জেদ্দা সুপারডোমে ৮ থেকে ১১ নভেম্বর ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন হবে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ নভেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় সৌদি ভিশন ২০৩০-এর কর্মসূচি পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। এর প্রতিপাদ্য «মক্কা থেকে বিশ্ব»।
ষষ্ঠ সংস্করণে সৌদি আরব ও বিদেশের ৫২০টিরও বেশি সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান একত্র হবে। ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি থাকবে। প্রদর্শনী ৬৭ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে হবে। এতে ১৫টিরও বেশি প্রধান অঞ্চল ও কর্মসূচি থাকবে, যা পরিচালনা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি, ব্যবসা, উদ্ভাবন, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণকে ঘিরে সাজানো।
এই সম্মেলন ১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ। এতে হজ বিষয়ক দপ্তর, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একত্র হবে। তারা পদ্ধতি, ব্যবস্থা ও চুক্তি চূড়ান্ত করবে। আসন্ন মৌসুমের জন্য উপলব্ধ সেবা ও সমাধান খতিয়ে দেখবে। হজযাত্রীদের সেবা উন্নত করার উপায় নিয়েও আলোচনা করবে।
সম্মেলনের কর্মসূচি তিনটি প্রধান ধারায় সাজানো: অবকাঠামো ও পরিচালন সেবা; ক্ষমতায়ন ও সমন্বয়; এবং উন্নয়ন ও টেকসইতা। অধিবেশনগুলোতে পরিবহন ও লজিস্টিকস, অবকাঠামো ও সুবিধা ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও আতিথেয়তা, খাদ্য ও ক্যাটারিং সেবা, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মিডিয়া ও যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন এবং হজযাত্রীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার বিষয় থাকবে।
হজ কাউন্সিলে ৩২টি অধিবেশন ও ৪২ জন বক্তা থাকবেন। তাঁরা পরিবহন, ক্যাটারিং, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, টেকসইতা, মিডিয়া, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং হজযাত্রীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার মতো ব্যবহারিক ও গবেষণামূলক বিষয়ে আলোচনা করবেন।
এত বড় আয়োজনে ৫২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এক ছাদের নিচে এলে হজ ব্যবস্থাপনার কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি বদলাবে বলে আপনি মনে করেন?
প্রদর্শনীর ৬৭ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা এবং ১৫টিরও বেশি প্রধান অঞ্চল শুধু প্রদর্শনীর জন্য নয়। এর পেছনে হজযাত্রীর সেবার প্রতিটি স্তরকে এক জায়গায় দেখার পরিকল্পনা আছে। পরিচালনা থেকে প্রশিক্ষণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদা অঞ্চলে সাজানো হবে।
সম্মেলনের তিনটি ধারার প্রথমটি অবকাঠামো ও পরিচালন সেবা। এতে পরিবহন, লজিস্টিকস, সুবিধা ব্যবস্থাপনা, আবাসন, খাদ্য সেবা, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পড়ে। দ্বিতীয় ধারা ক্ষমতায়ন ও সমন্বয়। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় থাকে। তৃতীয় ধারা উন্নয়ন ও টেকসইতা। এতে দীর্ঘমেয়াদে হজ ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করার বিষয় উঠে আসে।
১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রস্তুতি এখনই শুরু হচ্ছে। চুক্তি চূড়ান্ত করা, সেবা খতিয়ে দেখা এবং প্রস্তুতি বাড়ানোর উপায় আলোচনা—এসবই এই সম্মেলনের মূল কাজ। হজ বিষয়ক দপ্তর ও সেবাদানকারীরা একসঙ্গে বসে আসন্ন মৌসুমের পরিকল্পনা সেরে ফেলবেন।
হজ কাউন্সিলের ৩২টি অধিবেশনে ৪২ জন বক্তা থাকবেন। এই সংখ্যা দেখায় কত বিস্তৃত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পরিবহন থেকে ভিড় ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি থেকে স্বাস্থ্যসেবা—প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মত বিনিময় করবেন।
প্রতিপাদ্য «মক্কা থেকে বিশ্ব» কেন বেছে নেওয়া হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
হজ শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। ১৫০টিরও বেশি দেশের হজযাত্রী এখানে আসেন। তাই সম্মেলনে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও হজ বিষয়ক দপ্তরগুলোর অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজন তুলে ধরবেন।
প্রদর্শনীর অঞ্চলগুলোর মধ্যে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন আলাদা জায়গা পেয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ভিড় ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগে নতুন সমাধান খোঁজা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নও আলাদা ক্ষেত্র হিসেবে আছে।
আবাসন ও আতিথেয়তা, খাদ্য ও ক্যাটারিং সেবা—এগুলো হজযাত্রীর সরাসরি অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত। সম্মেলনে এসব বিষয়ে আলাদা অধিবেশন হবে। সেবার মান বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা হজ ব্যবস্থাপনার দুটি বড় স্তম্ভ। সম্মেলনের কর্মসূচিতে这两个 বিষয় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। ভিড় ব্যবস্থাপনাও আলোচনার তালিকায় আছে।
একটি সম্মেলনে এত প্রতিষ্ঠান ও দেশ একত্র হলে হজ সেবার মান সত্যিই বাড়ে বলে আপনি মনে করেন?
মিডিয়া ও যোগাযোগও সম্মেলনের একটি ক্ষেত্র। হজযাত্রীদের তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সচেতনতা বাড়ানো এর সঙ্গে জড়িত। প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের মাধ্যমে সেবাদানকারীদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়ও থাকবে।
সৌদি ভিশন ২০৩০-এর কর্মসূচি পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের সঙ্গে হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের এই সহযোগিতা তাৎপর্যপূর্ণ। হজযাত্রীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করাই এর লক্ষ্য। সম্মেলনের প্রতিটি ধারা ও অধিবেশন সেই লক্ষ্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।
প্রাথমিক প্রস্তুতির এই পর্যায়ে চুক্তি ও ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়। এর ফলে হজ মৌসুম শুরুর আগেই সেবাদানকারীরা প্রস্তুত হয়ে যান। আসন্ন মৌসুমের জন্য উপলব্ধ সেবা ও সমাধান খতিয়ে দেখা হয়।
১৫০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ মানে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজন। এই বৈচিত্র্য সামলাতে সমন্বয় জরুরি। ক্ষমতায়ন ও সমন্বয় ধারাটি সম্ভবত সেই দিকটিই তুলে ধরে।
হজ কাউন্সিলের গবেষণামূলক বিষয়গুলো ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় কাজে লাগবে। ব্যবহারিক বিষয়গুলো তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে। দুটো মিলেই সম্মেলনের কর্মসূচি সাজানো।
টেকসইতা এখন হজ ব্যবস্থাপনার একটি বড় প্রশ্ন। সম্পদের ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এতে পড়ে। উন্নয়ন ও টেকসইতা ধারায় এসব বিষয় আলোচনা হবে।
হজযাত্রীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করা শুধু সেবার সংখ্যা বাড়ানো নয়। এর সঙ্গে মান, গতি ও সহজলভ্যতাও জড়িত। সম্মেলনের একাধিক অধিবেশনে এই বিষয়টি ফিরে আসবে।
জেদ্দা সুপারডোমে চার দিনের এই আয়োজনে কী নতুন সমাধান উঠে আসবে বলে আপনি আশা করছেন?
হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের সহযোগিতা হজ সেবার সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখায়। এটি শুধু একটি মৌসুমের প্রস্তুতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের অংশ।
প্রদর্শনীর ১৫টিরও বেশি প্রধান অঞ্চল ও কর্মসূচির মধ্যে সচেতনতাও আছে। হজযাত্রীদের সঠিক তথ্য ও নির্দেশনা দেওয়া সেবার একটি বড় অংশ। প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন সেবাদানকারীদের জন্য।
সৌদি আরব ও বিদেশের ৫২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক—তিন ধরনেরই আছে। এই তিন ধরনের প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় হজ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সম্মেলনের তিনটি ধারা একে অপরের সঙ্গে জড়িত। অবকাঠামো ছাড়া সেবা চলে না, ক্ষমতায়ন ছাড়া সমন্বয় হয় না, আর টেকসইতা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এসপিএ জানিয়েছে, সম্মেলন ৮ থেকে ১১ নভেম্বর জেদ্দা সুপারডোমে হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট সময়সূচি, নিবন্ধন পদ্ধতি বা অংশগ্রহণের শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। কোনো মূল্য বা বক্তাদের নামও উল্লেখ করা হয়নি।
ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী কবে, কোথায় হবে? জেদ্দা সুপারডোমে ৮ থেকে ১১ নভেম্বর ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন হবে। হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় সৌদি ভিশন ২০৩০-এর কর্মসূচি পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এটি আয়োজন করছে। প্রতিপাদ্য «মক্কা থেকে বিশ্ব»।
সম্মেলনে কত প্রতিষ্ঠান ও দেশ অংশ নেবে? সৌদি আরব ও বিদেশের ৫২০টিরও বেশি সরকারি, বেসরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান একত্র হবে। ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে অংশগ্রহণ ও উপস্থিতি থাকবে। প্রদর্শনী ৬৭ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে হবে। এতে ১৫টিরও বেশি প্রধান অঞ্চল ও কর্মসূচি থাকবে, যা পরিচালনা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি, ব্যবসা, উদ্ভাবন, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণকে ঘিরে সাজানো।
সম্মেলনের মূল ধারাগুলো কী কী? কর্মসূচি তিনটি প্রধান ধারায় সাজানো: অবকাঠামো ও পরিচালন সেবা; ক্ষমতায়ন ও সমন্বয়; এবং উন্নয়ন ও টেকসইতা। অধিবেশনগুলোতে পরিবহন ও লজিস্টিকস, অবকাঠামো ও সুবিধা ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও আতিথেয়তা, খাদ্য ও ক্যাটারিং, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মিডিয়া ও যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন এবং হজযাত্রীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার বিষয় থাকবে।
হজ কাউন্সিলে কত অধিবেশন ও বক্তা থাকবেন? হজ কাউন্সিলে ৩২টি অধিবেশন ও ৪২ জন বক্তা থাকবেন। তাঁরা পরিবহন, ক্যাটারিং, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, টেকসইতা, মিডিয়া, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং হজযাত্রীর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার মতো ব্যবহারিক ও গবেষণামূলক বিষয়ে আলোচনা করবেন। এসপিএ জানিয়েছে, এই সম্মেলন ১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ।
সম্মেলনের উদ্দেশ্য কী? সম্মেলন ১৪৪৮ হিজরি হজ মৌসুমের প্রাথমিক প্রস্তুতির অংশ। এতে হজ বিষয়ক দপ্তর, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একত্র হয়ে পদ্ধতি, ব্যবস্থা ও চুক্তি চূড়ান্ত করবে। আসন্ন মৌসুমের জন্য উপলব্ধ সেবা ও সমাধান খতিয়ে দেখবে এবং হজযাত্রীদের সেবা উন্নত করার উপায় নিয়ে আলোচনা করবে।
প্রদর্শনীর আয়তন ও অঞ্চল সম্পর্কে কী জানা যায়? প্রদর্শনী ৬৭ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে হবে। এতে ১৫টিরও বেশি প্রধান অঞ্চল ও কর্মসূচি থাকবে। এগুলো পরিচালনা, জ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তি, ব্যবসা, উদ্ভাবন, সচেতনতা ও প্রশিক্ষণকে ঘিরে সাজানো। এসপিএ জানিয়েছে, সম্মেলনে সৌদি আরব ও বিদেশের ৫২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এবং ১৫০টিরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ থাকবে।





