Thursday, October 15, 2026
সামাজিক

আরএসজি-র চার অংশীদারিত্ব ও তামালা-জেওয়ার উদ্যোগে লোহিত সাগর এলাকার বাসিন্দারা সুবিধা পাচ্ছেন

আরএসজি-র চার অংশীদারিত্ব ও তামালা-জেওয়ার উদ্যোগে লোহিত সাগর এলাকার বাসিন্দারা সুবিধা পাচ্ছেন

তাবুক অঞ্চলে লোহিত সাগর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য চারটি অংশীদারিত্ব এবং একাধিক উন্নয়ন উদ্যোগ চালু করেছে রেড সি গ্লোবাল (আরএসজি), যার মধ্যে তামালা নামে পরিচিত রেড সি ফার্মস কো-অপারেটিভ ও জেওয়ার ডিজিটাল অ্যাপ অন্যতম।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৩ মার্চ ২০২৫-এ জানিয়েছে, কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ডে উপলক্ষে এই উদ্যোগগুলোর সূচনা চিহ্নিত করা হয়। কোম্পানির ভাষ্যে এগুলো লোহিত সাগরের বাসিন্দাদের ক্ষমতায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ।

আরএসজি জানিয়েছে, স্থানীয় সম্প্রদায়কে সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে লোহিত সাগর জুড়ে সমিতিগুলোর সঙ্গে চারটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে কয়েকটি উন্নয়ন উদ্যোগ, যেগুলোর উদ্দেশ্য লোহিত সাগরের বাসিন্দাদের আরএসজি-র টেকসই উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পৃক্ত করা। এসব প্রচেষ্টা অঞ্চলের ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য পরিকল্পিত।

একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরএসজি বলেছে, সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি হলো রেড সি ফার্মস কো-অপারেটিভ, যা তামালা নামে পরিচিত। এর লক্ষ্য তাবুক অঞ্চলে কৃষি খাতের উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের গুণমান উন্নত করা এবং কৃষকদের নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়া। এই উদ্যোগের ফলে ৩০০ জন পর্যন্ত কৃষক উন্নত উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন, যার ফলন প্রায় ৪৪,০০০ কিলোগ্রাম কৃষিফসল।

আরএসজি জেওয়ার নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপও চালু করেছে, যা সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বাড়ায়। বিশেষভাবে লোহিত সাগর সম্প্রদায়ের জন্য তৈরি এই অ্যাপ ব্যক্তিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করে এবং চাকরির সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি দেয়। জেওয়ার ২০২৪ টিডিএম ট্রাভেল ট্রেড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট কমিউনিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম’ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অ্যাপটি ৩০,০০০-এর বেশি ব্যবহারকারী অর্জন করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ১৮০টি চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দক্ষতা বাড়ানো ও চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আরএসজি ইংলিশ ফর ট্যুরিজম প্রোগ্রাম চালু করেছে, যেখানে ছয় মাস ধরে অনলাইনে ভাষার ক্লাস দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ স্থানীয় সম্প্রদায়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও লালন করার আরএসজি-র দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মোট ২,০০০ তরুণ এই প্রোগ্রাম থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

এই উদ্যোগগুলোর পরিসর দেখে প্রশ্ন জাগে, লোহিত সাগরের বাসিন্দাদের জন্য আরএসজি-র প্রতিশ্রুতি কতটা টেকসই হবে? চারটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি অঞ্চলের পরিবারগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনবে? তামালার মাধ্যমে ৩০০ কৃষকের কাছে পৌঁছানো এবং প্রায় ৪৪,০০০ কিলোগ্রাম ফসলের ফলন কি তাবুকের কৃষি খাতকে বদলে দিতে পারবে? কৃষিপণ্যের গুণমান উন্নয়ন ও কৃষকদের নির্দেশনা—এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে?

জেওয়ার অ্যাপের সাফল্য আরেকটি দৃষ্টান্ত। ৩০,০০০-এর বেশি ব্যবহারকারী এবং ১৮০টি চাকরির সুযোগ—এই সংখ্যাগুলো কি প্রমাণ করে যে ডিজিটাল সম্পৃক্ততা স্থানীয় অর্থনীতিতে বাস্তব প্রভাব ফেলছে? ২০২৪ টিডিএম ট্রাভেল ট্রেড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট কমিউনিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম’ স্বীকৃতি পাওয়া কি অ্যাপটির কার্যকারিতার প্রমাণ? তবে প্রশ্ন থেকে যায়, জেওয়ার শুধু চাকরির সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সম্প্রদায়ের দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা পূরণে আরও ভূমিকা রাখবে?

ইংলিশ ফর ট্যুরিজম প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ছয় মাসের অনলাইন ক্লাস শেষে ২,০০০ তরুণ স্নাতক হয়েছেন। এই সংখ্যা কি পর্যটন খাতে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ বাড়াতে যথেষ্ট? ভাষা দক্ষতা অর্জনের পর তারা কি লোহিত সাগরের পর্যটন প্রকল্পগুলোতে চাকরি পাবেন? প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সংযোগ কতটা মজবুত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরএসজি-র ভাষ্যে এই উদ্যোগগুলো কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ডে উপলক্ষে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কোম্পানির ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। কিন্তু স্থানীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন ও টেকসই উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গিতে বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে? চারটি অংশীদারিত্বের মধ্যে দিয়ে সমিতিগুলোর সক্ষমতা কতটা বাড়ছে? ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাবের দাবি কতটা যাচাইযোগ্য?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, তামালা উদ্যোগ কৃষি খাতে গুণমান উন্নয়ন ও কৃষকদের নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ৩০০ কৃষকের সুযোগ এবং ৪৪,০০০ কিলোগ্রাম ফসলের ফলন এই উদ্যোগের বর্তমান পরিসরের ইঙ্গিত দেয়। তবে এই ফলন কীভাবে বিতরণ বা বিপণন হবে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

জেওয়ার অ্যাপের ক্ষেত্রে ৩০,০০০-এর বেশি ব্যবহারকারী ও ১৮০টি চাকরির সুযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যাপটি সরাসরি যোগাযোগ, চাকরির সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি দেয়। ২০২৪ সালের টিডিএম ট্রাভেল ট্রেড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে স্বীকৃতি পাওয়া অ্যাপটির কার্যকারিতার একটি বাহ্যিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

ইংলিশ ফর ট্যুরিজম প্রোগ্রাম ছয় মাস ধরে অনলাইনে পরিচালিত হয়েছে এবং ২,০০০ তরুণ স্নাতক হয়েছেন। এই প্রশিক্ষণ স্থানীয়দের চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য পূরণ করে। তবে প্রশিক্ষণ শেষে কতজন প্রকৃতপক্ষে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, সে তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

সামগ্রিকভাবে, আরএসজি-র এই উদ্যোগগুলো লোহিত সাগর এলাকার বাসিন্দাদের কৃষি, ডিজিটাল সম্পৃক্ততা ও ভাষা দক্ষতার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। চারটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব, তামালা, জেওয়ার ও ইংলিশ ফর ট্যুরিজম—এই চারটি ধারায় কাজ চলছে। কিন্তু এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল, বিনিয়োগের পরিমাণ, সময়সীমা বা পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে এসপিএ-র প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। অংশীদার সমিতিগুলোর নাম, চুক্তির মেয়াদ বা বাজেটের উল্লেখও প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।

তামালা উদ্যোগ কী এবং এর ফলে কত কৃষক উপকৃত হচ্ছেন? তামালা হলো রেড সি ফার্মস কো-অপারেটিভ, যা তাবুক অঞ্চলে কৃষি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে। এটি কৃষিপণ্যের গুণমান উন্নত করা এবং কৃষকদের নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক সেবা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। এই উদ্যোগের ফলে ৩০০ জন পর্যন্ত কৃষক উন্নত উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন এবং ফলন প্রায় ৪৪,০০০ কিলোগ্রাম কৃষিফসল। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

জেওয়ার অ্যাপ কী কাজ করে এবং এর স্বীকৃতি কী? জেওয়ার একটি ডিজিটাল অ্যাপ, যা বিশেষভাবে লোহিত সাগর সম্প্রদায়ের জন্য তৈরি। এটি ব্যক্তিদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করে এবং চাকরির সুযোগ ও শিক্ষামূলক কর্মসূচি দেয়। অ্যাপটি ২০২৪ টিডিএম ট্রাভেল ট্রেড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট কমিউনিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম’ স্বীকৃতি পেয়েছে। এতে ৩০,০০০-এর বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে এবং ১৮০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইংলিশ ফর ট্যুরিজম প্রোগ্রাম সম্পর্কে কী জানা যায়? আরএসজি স্থানীয় বাসিন্দাদের দক্ষতা বাড়ানো ও চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করতে ইংলিশ ফর ট্যুরিজম প্রোগ্রাম চালু করেছে। এতে ছয় মাস ধরে অনলাইনে ভাষার ক্লাস দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ স্থানীয় সম্প্রদায়ের দক্ষতা উন্নয়নের আরএসজি-র দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। মোট ২,০০০ তরুণ এই প্রোগ্রাম থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে।

আরএসজি কতটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে এবং কেন? আরএসজি লোহিত সাগর জুড়ে সমিতিগুলোর সঙ্গে চারটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে। এর উদ্দেশ্য স্থানীয় সম্প্রদায়কে সহায়তা ও ক্ষমতায়ন করা এবং লোহিত সাগরের বাসিন্দাদের আরএসজি-র টেকসই উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্পৃক্ত করা। এসব প্রচেষ্টা অঞ্চলের ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য পরিকল্পিত। কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ডে উপলক্ষে এই উদ্যোগগুলোর সূচনা চিহ্নিত করা হয়।

এই উদ্যোগগুলো কোন উপলক্ষে চালু করা হয়েছে? আরএসজি কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি ডে উপলক্ষে এই উদ্যোগগুলোর সূচনা চিহ্নিত করেছে। কোম্পানির ভাষ্যে এগুলো লোহিত সাগরের বাসিন্দাদের ক্ষমতায়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। এসপিএ ২৩ মার্চ ২০২৫-এ তাবুক থেকে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রচেষ্টাগুলো অঞ্চলের ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য পরিকল্পিত।

এসপিএ-র প্রতিবেদনে কী কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএ-র প্রতিবেদনে অংশীদার সমিতিগুলোর নাম, চুক্তির মেয়াদ, বিনিয়োগের পরিমাণ বা বাজেটের উল্লেখ নেই। তামালার ৪৪,০০০ কিলোগ্রাম ফসল কীভাবে বিতরণ বা বিপণন হবে, তাও স্পষ্ট নয়। ইংলিশ ফর ট্যুরিজম প্রোগ্রামের ২,০০০ স্নাতকের মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, সে তথ্যও দেওয়া হয়নি। এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বা পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।