সৌদি আরব গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে টেকসই ডিজিটাল সংযোগ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার একীকরণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং উপসাগরীয় কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করতে পারে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাহরাইনের মানামায় অনুষ্ঠিত জিসিসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রীপরিষদ কমিটির ৩০তম সভায় সৌদি আরবের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-সোয়াহা এই আহ্বান জানান।
আল-সোয়াহা বলেন, দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ এবং ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের নির্দেশনায় সৌদি আরব ভ্রাতৃপ্রতিম জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তিনটি স্তম্ভে উপসাগরীয় একীকরণ জোরদার করতে কাজ করছে।
তিনটি স্তম্ভ
প্রথম স্তম্ভ হলো ডিজিটাল সহনশীলতা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেতৃত্বে উত্তরণ। দ্বিতীয় স্তম্ভ হলো ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি শক্তি ও কম্পিউটিং সক্ষমতার একীকরণ। তৃতীয় স্তম্ভ হলো উদ্যোক্তাদের জন্য অভিন্ন বাজার গড়ে তোলা, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
আল-সোয়াহা ব্যাখ্যা করেন যে সৌদি আরব তার সক্ষমতা ও অবকাঠামো ব্যবহার করে জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ডেটা ট্রাফিক ও টেলিযোগাযোগ ধারাবাহিকতা সমর্থন করেছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ৮.৪ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ডেরও (টিবিপিএস) বেশি যোগ করা হয়েছে এবং সামগ্রিক সক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ টিবিপিএসে পৌঁছানো হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন যে সৌদি আরব জিসিসি সাধারণ সচিবালয় এবং ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্বকারী দেশের কাছে টেকসই ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাব জিসিসি বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগের আদলে তৈরি, যাতে ডিজিটাল সহনশীলতা একটি অভিন্ন ও টেকসই উপসাগরীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়।
শক্তি ও কম্পিউটিং একীকরণ
শক্তি ও কম্পিউটিং একীকরণ প্রসঙ্গে আল-সোয়াহা বলেন, সৌদি আরব এই ক্ষেত্রে কাজ করছে। তবে এসপিএর প্রতিবেদনে এই অংশের বিস্তারিত তথ্য সীমিতভাবে পাওয়া গেছে।
জিসিসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রীপরিষদ কমিটির ৩০তম সভা বাহরাইনের মানামায় অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সৌদি আরবের পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-সোয়াহা প্রতিনিধিত্ব করেন।
সৌদি আরবের আহ্বানের মূল লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে জিসিসি একীকরণ জোরদার করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে একটি সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তর করা, যা তাদের বিশ্বব্যাপী নেতৃত্বকে সমর্থন করবে।
ডিজিটাল সহনশীলতা ও ভবিষ্যৎ
আল-সোয়াহা বলেন, সৌদি আরব জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ডেটা ট্রাফিক ও টেলিযোগাযোগ ধারাবাহিকতা সমর্থনে তার সক্ষমতা ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়েছে। আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ৮.৪ টিবিপিএসের বেশি বাড়ানো এবং সামগ্রিক সক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১৮ টিবিপিএসে পৌঁছানো এর প্রমাণ।
তিনি জানান, সৌদি আরব জিসিসি সাধারণ সচিবালয় ও ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্বকারী দেশের কাছে টেকসই ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। জিসিসি বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগের আদলে এই প্রস্তাব তৈরি, যাতে ডিজিটাল সহনশীলতা অভিন্ন ও টেকসই উপসাগরীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে জিসিসি একীকরণ জোরদার করতে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্যোক্তা ও অভিন্ন বাজার
আল-সোয়াহা তিনটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় হিসেবে উদ্যোক্তাদের জন্য অভিন্ন বাজার গড়ে তোলার কথা বলেন, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়াবে। এই স্তম্ভের বিস্তারিত তথ্য এসপিএর প্রতিবেদনে সীমিত।
সৌদি আরবের এই আহ্বান জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও একীকরণের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটিং সক্ষমতার একীকরণ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসপিএর প্রতিবেদনে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি আরব কী আহ্বান জানিয়েছে? সৌদি আরব জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে টেকসই ডিজিটাল সংযোগ এবং কম্পিউটিং সক্ষমতার একীকরণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং উপসাগরীয় কোম্পানিগুলো বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করতে পারে। এই আহ্বান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে জিসিসি একীকরণ জোরদার করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।
কে এই আহ্বান জানিয়েছেন এবং কোথায়? সৌদি আরবের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-সোয়াহা বাহরাইনের মানামায় অনুষ্ঠিত জিসিসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রীপরিষদ কমিটির ৩০তম সভায় এই আহ্বান জানান। এসপিএ জানিয়েছে, সভাটি ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়।
সৌদি আরবের তিনটি স্তম্ভ কী কী? আল-সোয়াহা তিনটি স্তম্ভের কথা বলেন: ডিজিটাল সহনশীলতা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেতৃত্বে উত্তরণ; ডেটা সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি শক্তি ও কম্পিউটিং সক্ষমতার একীকরণ; এবং উদ্যোক্তাদের জন্য অভিন্ন বাজার গড়ে তোলা, যা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়াবে।
সৌদি আরব কী প্রস্তাব জমা দিয়েছে? সৌদি আরব জিসিসি সাধারণ সচিবালয় এবং ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্বকারী দেশের কাছে টেকসই ডিজিটাল আন্তঃসংযোগ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এই প্রস্তাব জিসিসি বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগের আদলে তৈরি, যাতে ডিজিটাল সহনশীলতা একটি অভিন্ন ও টেকসই উপসাগরীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়।
সৌদি আরবের সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্য কী? আল-সোয়াহা জানান, সৌদি আরব জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ডেটা ট্রাফিক ও টেলিযোগাযোগ ধারাবাহিকতা সমর্থনে আন্তর্জাতিক সক্ষমতা ৮.৪ টেরাবিট প্রতি সেকেন্ডেরও (টিবিপিএস) বেশি যোগ করেছে এবং সামগ্রিক সক্ষমতা প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৮ টিবিপিএসে পৌঁছেছে।