Tuesday, October 20, 2026
সাধারণ

ইয়েমেনে এক সপ্তাহে ৯৯৫ মাইন ও বিস্ফোরক সরাল মাসাম প্রকল্প

ইয়েমেনে এক সপ্তাহে ৯৯৫ মাইন ও বিস্ফোরক সরাল মাসাম প্রকল্প

ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে ৯৯৫টি মাইন ও বিস্ফোরক সরিয়েছে কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) মাসাম প্রকল্প। এর মধ্যে ৫০টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৩৯টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন, ৯০২টি অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এবং চারটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস রয়েছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরানো মাইন ও বিস্ফোরক সামগ্রীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩,৫৪২টিতে। মাসাম প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরানো হয়েছে মোট ৫,৯৭,০৩১টি মাইন ও বিস্ফোরক।

এসপিএ জানিয়েছে, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়া ইয়েমেনের ভূখণ্ডজুড়ে এসব সামগ্রী নির্বিচারে পুঁতে রেখেছিল, যা নিরীহ শিশু, নারী ও বয়স্কদের জীবন হুমকির মুখে ফেলেছিল এবং বেসামরিক জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করেছিল।

কেএসরিলিফের মানবিক শাখার মাধ্যমে সৌদি আরব ইয়েমেনের ভূখণ্ড মাইনমুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বেসামরিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণকে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচতে সহায়তা করে।

এক সপ্তাহে কী কী সরানো হয়েছে

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে সরানো ৯৯৫টি সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ছিল অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ, যার সংখ্যা ৯০২টি। এর বাইরে ছিল ৫০টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৩৯টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন এবং চারটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এই বিভাজনই বলে দেয়, মাঠে কেবল পোঁতা মাইন নয়, বরং বিস্ফোরিত না হওয়া গোলাবারুদও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এক সপ্তাহে ৯০২টি অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ সরানো মানে প্রতিদিন গড়ে একশরও বেশি এমন সামগ্রী অপসারণ। এই ধরনের গোলাবারুদ বহুদিন পরেও বিস্ফোরিত হতে পারে, বিশেষ করে শিশুরা কৌতূহলবশত হাত দিলে। তাহলে যে পরিবারগুলো বছরের পর বছর নিজেদের এলাকায় ফিরতে পারছে না, তাদের দুশ্চিন্তা কতটা গভীর, তা ভেবে দেখার বিষয় নয় কি?

অক্টোবরের মোট হিসাব

এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরানো মাইন ও বিস্ফোরক সামগ্রীর সংখ্যা ৩,৫৪২টি। অর্থাৎ মাসের প্রথম তিন সপ্তাহেই এই পরিমাণ সামগ্রী ইয়েমেনের মাটি থেকে সরানো হয়েছে। মাসাম প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে মোট সরানো হয়েছে ৫,৯৭,০৩১টি মাইন ও বিস্ফোরক।

এই সংখ্যা প্রায় ছয় লাখের কাছাকাছি। একটি প্রকল্প টানা এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সরাতে পারে, তার মানে ভূখণ্ডে ছড়িয়ে থাকা ঝুঁকির পরিমাণও কম নয়। তাহলে প্রশ্ন জাগে, ইয়েমেনের কতটা এলাকা এখনো এমন ঝুঁকিমুক্ত হয়নি?

কে এই সামগ্রী পুঁতেছিল

এসপিএ জানিয়েছে, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়া এসব সামগ্রী ইয়েমেনের ভূখণ্ডজুড়ে নির্বিচারে পুঁতে রেখেছিল। এই নির্বিচার পোঁতার কারণে নিরীহ শিশু, নারী ও বয়স্কদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছিল এবং বেসামরিক জনগণের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল।

নির্বিচার পোঁতা মাইন মানে রাস্তা, মাঠ, বসতি—কোথাও কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই বিস্ফোরক ছড়িয়ে দেওয়া। এতে কৃষক মাঠে যেতে পারেন না, শিশুরা খেলতে পারে না, পরিবারগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে বেসামরিক মানুষের দৈনন্দিন জীবন কতটা অসহনীয় হয়ে ওঠে, তা সহজেই অনুমেয় নয় কি?

সৌদি আরবের মানবিক ভূমিকা

এসপিএ জানিয়েছে, কেএসরিলিফের মানবিক শাখার মাধ্যমে সৌদি আরব ইয়েমেনের ভূখণ্ড মাইনমুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বেসামরিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণকে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচতে সহায়তা করে।

মাইনমুক্তকরণ কেবল বিস্ফোরক সরানোর কাজ নয়; এটি জনগণের দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। মাঠ, রাস্তা ও বসতি নিরাপদ হলে মানুষ কাজে ফিরতে পারে, শিশুরা স্কুলে যেতে পারে। তাহলে এমন উদ্যোগকে কেবল ত্রাণ নয়, বরং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ হিসেবেও দেখা যায় না কি?

তথ্যে যা নেই

এসপিএর প্রতিবেদনে কোন কোন এলাকা থেকে এই ৯৯৫টি সামগ্রী সরানো হয়েছে, তার বিস্তারিত নেই। কোন দল কতটি সামগ্রী সরিয়েছে বা কোন এলাকায় কত ঝুঁকি এখনো রয়েছে, সে তথ্যও দেওয়া হয়নি। এছাড়া মাসাম প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

শুধু সংখ্যা জানা গেলেও, এর পেছনে থাকা মাঠপর্যায়ের কাজ কতটা কঠিন, তা বোঝা যায়। প্রতিটি মাইন বা গোলাবারুদ সরানো মানে একটি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ঠেকিয়ে দেওয়া। তাহলে এই নীরব কাজটির মূল্য আমরা কতটা বুঝি?

মাসাম প্রকল্প এক সপ্তাহে কী কী সরিয়েছে? ২০২৬ সালের অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে মাসাম প্রকল্প ৯৯৫টি মাইন ও বিস্ফোরক সরিয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৩৯টি অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন, ৯০২টি অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ এবং চারটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস রয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এসব সামগ্রী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সরানো হয়েছে।

অক্টোবরে মোট কত সরানো হয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সরানো মাইন ও বিস্ফোরক সামগ্রীর মোট সংখ্যা ৩,৫৪২টি। মাসাম প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরানো হয়েছে মোট ৫,৯৭,০৩১টি মাইন ও বিস্ফোরক। এই হিসাব অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত।

কে এই বিস্ফোরকগুলো পুঁতেছিল? এসপিএ জানিয়েছে, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়া এসব সামগ্রী ইয়েমেনের ভূখণ্ডজুড়ে নির্বিচারে পুঁতে রেখেছিল। এতে নিরীহ শিশু, নারী ও বয়স্কদের জীবন হুমকির মুখে পড়েছিল এবং বেসামরিক জনগণের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়েছিল। মাসাম প্রকল্প সেই ঝুঁকি কমাতে কাজ করছে।

সৌদি আরবের ভূমিকা কী? কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের (কেএসরিলিফ) মানবিক শাখার মাধ্যমে সৌদি আরব ইয়েমেনের ভূখণ্ড মাইনমুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই প্রকল্প বেসামরিক নিরাপত্তা বাড়ায় এবং ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণকে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাঁচতে সহায়তা করে।