Monday, November 2, 2026
সৌদি সংবাদ

সৌদি আরবের সভাপতিত্বে আরব পরিবেশমন্ত্রীদের ৬২তম নির্বাহী অফিস বৈঠক

সৌদি আরবের সভাপতিত্বে আরব পরিবেশমন্ত্রীদের ৬২তম নির্বাহী অফিস বৈঠক

কায়রোতে আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ের সদর দপ্তরে আজ আরব পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী পরিষদের নির্বাহী অফিসের ৬২তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছে সৌদি আরব।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি আরবের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পরিবেশ, পানি ও কৃষি উপমন্ত্রী ড. ওসামা ইব্রাহিম ফাকিহা। অধিবেশনে নির্বাহী অফিসের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি এবং আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পরিষদের পূর্ববর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনের সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি পরিষদের ৩৭তম অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হয়, যা আগামীকাল ইয়েমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাহলে আরব অঞ্চলের পরিবেশ নীতিনির্ধারণে এই ধারাবাহিক বৈঠকগুলোর ভূমিকা আসলে কতটা কার্যকর?

নির্বাহী অফিস খসড়া এজেন্ডাও আলোচনা করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি ও বৈঠক সংক্রান্ত ২১টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই বিষয়গুলোর মধ্যে আছে জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণ মোকাবিলা বিষয়ক আরব দলের ২৪তম বৈঠকের ফলাফল, সেই সঙ্গে মরুকরণ মোকাবিলা বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের পক্ষসমূহের সম্মেলনের ফলাফল।

এজেন্ডায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, পানি, কৃষি ও পরিবেশ নীতির মধ্যকার আন্তঃসংযোগ এবং রাসায়নিক, বর্জ্য ও ওজোন সংক্রান্ত কনভেনশনও রয়েছে। নির্বাহী অফিস খসড়া এজেন্ডা ও খসড়া সিদ্ধান্ত পরিষদের কাছে বিবেচনা ও গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করবে। প্রশ্ন হলো, এই ২১টি বিষয়ের মধ্যে কোনটি আরব বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত?

মরুকরণ মোকাবিলার বিষয়টি আরব অঞ্চলের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই অঞ্চলের বিশাল অংশ শুষ্ক ও অর্ধ-শুষ্ক জলবায়ুর অন্তর্ভুক্ত। মরুকরণ মোকাবিলা বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের পক্ষসমূহের সম্মেলনের ফলাফল এজেন্ডায় স্থান পাওয়া মানে এই ইস্যুতে আঞ্চলিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত হয়েছে। জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণ মোকাবিলা বিষয়ক আরব দলের ২৪তম বৈঠকের ফলাফলও একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে। তাহলে কি আরব দেশগুলো মরুকরণ মোকাবিলায় অভিন্ন কৌশল গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছেছে?

এজেন্ডার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকৃতিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর এই ধারণা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পরিবেশ আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। আরব অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে এটি জল সংরক্ষণ, মাটি ক্ষয় রোধ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রশ্ন দাঁড়ায়, প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান আরব অঞ্চলের শুষ্ক পরিবেশে কতটা বাস্তবসম্মতভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব?

পানি, কৃষি ও পরিবেশ নীতির মধ্যকার আন্তঃসংযোগ নিয়ে আলোচনা আরব বিশ্বের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। এই অঞ্চলে পানির scarcity একটি দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জ এবং কৃষি খাত পানির বড় ব্যবহারকারী। পরিবেশ নীতির সঙ্গে কৃষি ও পানি নীতির সমন্বয় ছাড়া টেকসই ফলাফল সম্ভব নয়। এসপিএ জানিয়েছে, এই আন্তঃসংযোগ এজেন্ডার একটি অংশ হিসেবে আলোচিত হয়েছে। তাহলে কি সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের জাতীয় নীতিতে এই সমন্বয় আনতে পারবে?

রাসায়নিক, বর্জ্য ও ওজোন সংক্রান্ত কনভেনশনগুলোও এজেন্ডায় রয়েছে। এই বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক পরিবেশ শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আরব দেশগুলো এসব কনভেনশনের পক্ষ হিসেবে নিজেদের দায়বদ্ধতা পালন করে আসছে। এসব চুক্তির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এই বৈঠকের এখতিয়ারভুক্ত। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তিগুলোর বাস্তবায়নে আরব অঞ্চলের অগ্রগতি কতটা সন্তোষজনক?

নির্বাহী অফিসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খসড়া এজেন্ডা ও খসড়া সিদ্ধান্ত পরিষদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরিষদ সেগুলো বিবেচনা করে গ্রহণ করবে। এর মানে হলো, নির্বাহী অফিসের কাজ এখানেই শেষ নয়; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রী পর্যায়ের পরিষদের বৈঠকে। এই প্রক্রিয়াটি আরব লীগের কাঠামোর মধ্যে পরিবেশ বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। তাহলে কি এই দুই স্তরের প্রক্রিয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গতি আনতে সক্ষম?

সৌদি আরবের সভাপতিত্ব এই অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পরিবেশ, পানি ও কৃষি উপমন্ত্রী ড. ওসামা ইব্রাহিম ফাকিহা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সৌদি আরব আঞ্চলিক পরিবেশ সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এই সভাপতিত্ব সেই ধারাবাহিকতার অংশ। প্রশ্ন দাঁড়ায়, সৌদি আরবের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন থেকে কী ধরনের ফলাফল প্রত্যাশা করা যায়?

আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ৩৭তম অধিবেশন ইয়েমেনের সভাপতিত্বে হবে। নির্বাহী অফিসের এই বৈঠকে সেই অধিবেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সভাপতিত্ব হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া আরব লীগের পরিবেশ বিষয়ক কাজের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে। তাহলে কি সভাপতিত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অগ্রাধিকারও বদলে যায়?

আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ের সদর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাকে সামনে আনে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা এখানে একত্র হয়ে অভিন্ন পরিবেশ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। এসপিএ জানিয়েছে, বৈঠকে নির্বাহী অফিসের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি ও সাধারণ সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের বৈঠকগুলো আঞ্চলিক পরিবেশ কূটনীতিতে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে?

আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি ও বৈঠক সংক্রান্ত ২১টি বিষয়ের মধ্যে কোনটি কোন অগ্রাধিকার পাবে, তা পরিষদের বৈঠকে নির্ধারিত হবে। নির্বাহী অফিস শুধু খসড়া তৈরি করে; চূড়ান্ত গ্রহণ করে পরিষদ। এই বিভাজন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল রাখে। তাহলে কি এই প্রক্রিয়ায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু ও এজেন্ডার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে খসড়া সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বিষয়বস্তু, কোন সদস্য রাষ্ট্র কী অবস্থান নিয়েছে, বা আলোচনায় কোনো分歧 উঠেছে কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি। বৈঠকের সময়কাল বা পরবর্তী পদক্ষেপের কোনো সময়সীমাও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। এসব তথ্য পরিষদের বৈঠকের পর হয়তো স্পষ্ট হবে। প্রশ্ন হলো, এই বৈঠকের প্রকৃত ফলাফল জানতে আরব পরিবেশ কূটনীতির পরবর্তী ধাপগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কি?

৬২তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব কে করেছে এবং সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব কে করেছেন? আরব পরিবেশ বিষয়ক মন্ত্রী পরিষদের নির্বাহী অফিসের ৬২তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেছে সৌদি আরব। এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি আরবের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন পরিবেশ, পানি ও কৃষি উপমন্ত্রী ড. ওসামা ইব্রাহিম ফাকিহা। বৈঠকটি কায়রোতে আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে নির্বাহী অফিসের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধি ও সাধারণ সচিবালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে কী কী বিষয় আলোচনা হয়েছে? বৈঠকে পরিষদের পূর্ববর্তী মন্ত্রী পর্যায়ের অধিবেশনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং ৩৭তম অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। ৩৭তম অধিবেশন আগামীকাল ইয়েমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়া ২১টি বিষয় সম্বলিত খসড়া এজেন্ডাও আলোচনা করা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি ও বৈঠক সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়েছে।

খসড়া এজেন্ডায় কোন কোন বিষয় রয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, খসড়া এজেন্ডায় ২১টি বিষয় রয়েছে, যার মধ্যে জীববৈচিত্র্য ও মরুকরণ মোকাবিলা বিষয়ক আরব দলের ২৪তম বৈঠকের ফলাফল এবং মরুকরণ মোকাবিলা বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের পক্ষসমূহের সম্মেলনের ফলাফল অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান, পানি, কৃষি ও পরিবেশ নীতির আন্তঃসংযোগ এবং রাসায়নিক, বর্জ্য ও ওজোন সংক্রান্ত কনভেনশনও এজেন্ডায় রয়েছে।

খসড়া এজেন্ডা ও সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপ কী? নির্বাহী অফিস খসড়া এজেন্ডা ও খসড়া সিদ্ধান্ত পরিষদের কাছে বিবেচনা ও গ্রহণের জন্য উপস্থাপন করবে। এর মানে হলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে মন্ত্রী পর্যায়ের পরিষদের বৈঠকে। এসপিএ জানিয়েছে, নির্বাহী অফিসের এই বৈঠকে পরিষদের ৩৭তম অধিবেশনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে, যা আগামীকাল ইয়েমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে।

৩৭তম অধিবেশনের সভাপতিত্ব কে করবেন এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হবে? এসপিএ জানিয়েছে, পরিষদের ৩৭তম অধিবেশন আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সভাপতিত্ব করবে ইয়েমেন। নির্বাহী অফিসের ৬২তম অধিবেশনে এই অধিবেশনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বর্তমান ৬২তম অধিবেশনটি কায়রোতে আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।