রিয়াদে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের এক বছর পর একজন তরুণী আবার আইন কলেজে ফিরেছেন এবং ছবি আঁকছেন, যেখানে তিনি প্রায়ই হৃদয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেন। ডুররাহ নামের ওই নারীর বয়স বিশের কোঠায়। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, তাঁর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করেছে এবং তিনি এখন ব্যস্ত আছেন পড়াশোনা, খেলাধুলা ও ভ্রমণে।
ডুররাহর কোনো উপসর্গ ছিল না, যখন চিকিৎসকরা তাঁকে জানান যে তাঁর শরীরে একটি জিনগত মিউটেশন আছে, যা তাঁর হৃদপেশিকে দুর্বল করে দিচ্ছিল। এই মিউটেশন ধরা পড়েছিল তাঁর বোনের মাধ্যমে। বোনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ার পর জিনগত পরীক্ষায় রোগটির সঙ্গে যুক্ত একটি মিউটেশন শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসকরা পরিবারের বাকি সদস্যদের স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেন। ডুররাহর শরীরেও একই মিউটেশন পাওয়া যায়, যার ফলে রোগ আরও বাড়ার আগেই চিকিৎসকরা তাঁকে নজরদারিতে রাখতে শুরু করেন।
কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (কেএফএসএইচ) রিয়াদে তাঁর হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয়। কেএফএসএইচ-এর প্রাপ্তবয়স্ক হার্ট ফেইলিউর বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. আহমেদ আলমুস্তাফা তাঁর চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করেন। তিনি বলেন, কার্ডিওমায়োপ্যাথির অনেক কারণ থাকে এবং কারণ খুঁজে বের করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো জিনগত পরীক্ষা। এই রোগ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মাত্রায় দেখা দিতে পারে, তাই পরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই বাহকদের শনাক্ত করা যায় এবং রোগ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই তাদের অনুসরণ করা যায়।
ডুররাহর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে তাঁর কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন ও এমআরআই করা হয় এবং ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওষুধ আর যথেষ্ট না হলে একটি মেডিকেল কমিটি তাঁকে ট্রান্সপ্লান্টের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখে। তিনি প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষা করেন। এই সময়ের একটি অংশ তিনি ইনটেনসিভ কেয়ারে দৈনিক নজরদারিতে কাটান। এরপর একটি উপযুক্ত ডোনার পাওয়া যায়।
অস্ত্রোপচার চলে আট ঘণ্টা, দুপুর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। পুরো সময় একটি নার্স পরিবারের সঙ্গে ছিলেন, আর ড. আলমুস্তাফা মাঝে মাঝে বাইরে এসে তাদের হালনাগাদ তথ্য দেন। অস্ত্রোপচার শেষ হলে নার্স ডুররাহর মাকে বলেন, এই যে, আমার কাছে যে আমানত রাখা হয়েছিল তা আমি পৌঁছে দিয়েছি।
ট্রান্সপ্লান্টের পর ডুররাহকে ইসিএমও-তে রাখা হয়, যা একটি মেশিন, যা সাময়িকভাবে হৃদয় ও ফুসফুসের কিছু কাজ করে নতুন অঙ্গের ওপর চাপ কমায়। তিন দিন পর তিনি ইসিএমও থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করে।
এখন তিনি তাঁর সময় ভাগ করেন লেকচার, খেলাধুলা, ভ্রমণ এবং ছবি আঁকার মধ্যে। ছবি আঁকার সময় তিনি প্রায়ই হৃদয়কে বিষয় হিসেবে ফিরে আসেন।
ডুররাহর গল্পটি দেখায় কীভাবে পারিবারিক স্ক্রিনিং একটি রোগকে আগেই ধরে ফেলতে পারে। তাঁর বোনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ার পরই পরিবারের বাকিদের জিনগত পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাই ডুররাহর শরীরে মিউটেশন শনাক্ত করে এবং চিকিৎসকদের আগাম নজরদারি শুরু করার সুযোগ দেয়। উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও রোগ শনাক্ত হওয়া মানে কী—এটি কি পারিবারিক ইতিহাসের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে না?
চিকিৎসকরা প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন, পরে কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন ও এমআরআই করা হয়। কিন্তু হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আরও কমলে ট্রান্সপ্লান্ট ছাড়া অন্য পথ ছিল না। মেডিকেল কমিটি তাঁকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখে। অপেক্ষার সময়টুকু সহজ ছিল না—প্রায় পাঁচ মাস, যার কিছু অংশ ইনটেনসিভ কেয়ারে দৈনিক নজরদারিতে। উপযুক্ত ডোনার পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কীভাবে একজন রোগী ও তাঁর পরিবারকে প্রভাবিত করে?
অস্ত্রোপচারের দিনটি ছিল দীর্ঘ। আট ঘণ্টার অস্ত্রোপচার, দুপুর থেকে রাত আটটা। পরিবারের পাশে একজন নার্স ছিলেন পুরো সময়। ড. আলমুস্তাফা মাঝে মাঝে বাইরে এসে পরিবারকে হালনাগাদ তথ্য দেন। অস্ত্রোপচার শেষে নার্সের কথাগুলো—আমার কাছে যে আমানত রাখা হয়েছিল তা আমি পৌঁছে দিয়েছি—এমন এক মুহূর্ত, যা চিকিৎসা পেশার মানবিক দিকটিকে সামনে আনে। এমন মুহূর্ত কি চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কের গভীরতা বোঝায় না?
ট্রান্সপ্লান্টের পর ডুররাহকে ইসিএমও-তে রাখা হয়। এই মেশিন সাময়িকভাবে হৃদয় ও ফুসফুসের কিছু কাজ করে নতুন অঙ্গের ওপর চাপ কমায়। তিন দিন পর তিনি ইসিএমও থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করে। এই তিন দিন পরিবারের জন্য কেমন ছিল, তা সহজে বোঝা যায় না। নতুন অঙ্গ গ্রহণ করেছে কি না—এই অপেক্ষা কি সবচেয়ে কঠিন অংশ নয়?
এখন ডুররাহ আবার আইন কলেজে ফিরেছেন। তিনি খেলাধুলা ও ভ্রমণেও সময় দেন। আর ছবি আঁকার সময় তিনি প্রায়ই হৃদয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেন। যে অঙ্গ তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে, সেটিই তাঁর শিল্পের কেন্দ্রে ফিরে আসে। এই ফিরে আসা কি কেবল শিল্পের বিষয় নয়, বরং কৃতজ্ঞতার প্রকাশও নয়?
ড. আহমেদ আলমুস্তাফার বক্তব্য অনুযায়ী, কার্ডিওমায়োপ্যাথির অনেক কারণ থাকে এবং জিনগত পরীক্ষা কারণ খুঁজে বের করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই রোগ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মাত্রায় দেখা দিতে পারে। তাই পরীক্ষা বাহকদের উপসর্গের আগেই শনাক্ত করতে দেয় এবং রোগ গুরুতর হওয়ার আগেই তাদের অনুসরণ করা যায়। ডুররাহর ক্ষেত্রে ঠিক তা-ই হয়েছে। তাঁর বোনের রোগ ধরা পড়ার পর পরিবারের স্ক্রিনিং হয় এবং ডুররাহর মিউটেশন ধরা পড়ে। উপসর্গহীন অবস্থায় রোগ ধরা পড়া কি তাঁর জন্য সৌভাগ্য ছিল না?
এসপিএ জানিয়েছে, ডুররাহর অস্ত্রোপচার হয় কেএফএসএইচ রিয়াদে এবং তিনি এখন পড়াশোনা, খেলাধুলা ও ভ্রমণে সময় দেন। তবে প্রতিবেদনে ডোনারের পরিচয়, অস্ত্রোপচারের খরচ বা হাসপাতালে থাকার মোট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা অন্য রোগীদের অবস্থা বা ট্রান্সপ্লান্টের পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কথাও উল্লেখ করা হয়নি। এসপিএ আরও জানায়নি যে ডুররাহর পরিবারের অন্য কেউ একই মিউটেশন বহন করছেন কি না বা ভবিষ্যতে তাঁর আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না।
ডুররাহর গল্প শুধু একটি সফল অস্ত্রোপচারের গল্প নয়। এটি পারিবারিক স্ক্রিনিং, আগাম শনাক্তকরণ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প। এটি এমন এক তরুণীর গল্প, যিনি হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের পর আবার আইন পড়ছেন এবং হৃদয় এঁকেছেন। তাঁর বয়স বিশের কোঠায়, আর তিনি এখন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। এই ফিরে আসা কি চিকিৎসা বিজ্ঞানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সংকল্পেরও প্রমাণ নয়?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে ডুররাহর বোনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। কার্ডিওমায়োপ্যাথি নিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের পরীক্ষার ফলাফলও উল্লেখ করা হয়নি। ডুররাহর চিকিৎসার সময়সূচি, ওষুধের বিবরণ বা হাসপাতালে ভর্তির তারিখও প্রতিবেদনে নেই। তবে যা আছে, তা হলো একটি স্পষ্ট বার্তা—জিনগত পরীক্ষা ও পারিবারিক স্ক্রিনিং রোগ আগেই ধরে ফেলতে পারে। ডুররাহর ক্ষেত্রে এই আগাম শনাক্তকরণই সম্ভবত তাঁর চিকিৎসার পথকে সুগম করেছে। উপসর্গহীন অবস্থায় পরীক্ষা করানোর গুরুত্ব কি এই গল্প থেকে স্পষ্ট হয় না?
ডুররাহর অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে ইসিএমও-তে রাখা হয়েছিল, যা হৃদয় ও ফুসফুসের কিছু কাজ সাময়িকভাবে করে। তিন দিন পর তিনি ইসিএমও থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করে। এই সময়ে পরিবার কী অনুভব করেছে, তা এসপিএ-র প্রতিবেদনে বিস্তারিত নেই। তবে নার্সের সেই কথাগুলো—আমার কাছে যে আমানত রাখা হয়েছিল তা আমি পৌঁছে দিয়েছি—পরিবারের জন্য কতটা স্বস্তির ছিল, তা অনুমেয়। চিকিৎসকদের এই মানবিক সমর্থন কি রোগীর সুস্থতার অংশ নয়?
এক বছর পর ডুররাহ আবার আইন কলেজে ফিরেছেন। তিনি খেলাধুলা ও ভ্রমণও করছেন। আর ছবি আঁকার সময় হৃদয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। যে অঙ্গ তাঁকে বাঁচিয়েছে, সেটিই এখন তাঁর শিল্পে ফিরে আসে। এই ব্যক্তিগত পুনর্জন্ম কি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা নয়?
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ডুররাহর চিকিৎসা কেএফএসএইচ রিয়াদে হয়েছে এবং ড. আহমেদ আলমুস্তাফা তাঁর কেস তত্ত্বাবধান করেছেন। প্রতিবেদনে ডুররাহর বয়স বিশের কোঠায় বলা হয়েছে, তবে তাঁর পূর্ণ নাম বা বিস্তারিত পরিচয় দেওয়া হয়নি। অস্ত্রোপচারের সময়, অপেক্ষার সময় এবং ইসিএমও-তে থাকার সময় সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে ডোনার সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই। ডোনার কে ছিলেন বা কোথা থেকে এসেছেন, তা এসপিএ জানায়নি। ডোনার সম্পর্কে জানার অধিকার রোগীর পরিবারের আছে কি?
ডুররাহর গল্পে পারিবারিক স্ক্রিনিংয়ের ভূমিকা স্পষ্ট। তাঁর বোনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ার পর পরিবারের বাকিদের পরীক্ষা করা হয়। ডুররাহর শরীরে একই মিউটেশন পাওয়া যায়। ফলে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই চিকিৎসকরা তাঁকে নজরদারিতে রাখতে পারেন। এই আগাম সতর্কতা না থাকলে কী হতো, তা ভাবা যায়। পারিবারিক ইতিহাস থাকলে সবার জিনগত পরীক্ষা করা কি উচিত নয়?
চিকিৎসকরা প্রথমে ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করেন। এরপর কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন ও এমআরআই করা হয়। কিন্তু হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা আরও কমলে ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হয়। মেডিকেল কমিটি তাঁকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখে। প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষার পর উপযুক্ত ডোনার পাওয়া যায়। এই অপেক্ষার সময়ে রোগীর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তা এসপিএ-র প্রতিবেদনে নেই। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রোগীদের জন্য আরও সহায়তা প্রয়োজন কি না?
অস্ত্রোপচার আট ঘণ্টা ধরে চলে। দুপুর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। পরিবারের পাশে একজন নার্স ছিলেন। ড. আলমুস্তাফা মাঝে মাঝে বাইরে এসে পরিবারকে হালনাগাদ তথ্য দেন। অস্ত্রোপচার শেষে নার্স ডুররাহর মাকে বলেন, এই যে, আমার কাছে যে আমানত রাখা হয়েছিল তা আমি পৌঁছে দিয়েছি। এই কথাগুলো কতটা গভীর, তা চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত নয় এমন কারও পক্ষে বোঝা কঠিন। চিকিৎসকদের এই ধরনের মানবিক যোগাযোগ কি চিকিৎসারই অংশ নয়?
ডুররাহর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করেছে এবং তিনি এখন সুস্থ। তিনি আইন পড়ছেন, খেলাধুলা করছেন, ভ্রমণ করছেন এবং ছবি আঁকছেন। তাঁর শিল্পে হৃদয় ফিরে আসে। এই গল্পটি সৌদি আরবে অঙ্গদানের গুরুত্বকেও সামনে আনে। ডোনার না থাকলে তাঁর এই ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। অঙ্গদান সম্পর্কে আরও সচেতনতা প্রয়োজন কি না?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে ডুররাহর ভবিষ্যৎ চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তাঁকে নিয়মিত ফলো-আপ করতে হবে কি না, বা কোনো ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে কি না, তা উল্লেখ নেই। তাঁর পড়াশোনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা শিল্পচর্চার বিস্তারিতও নেই। তবে যা আছে, তা হলো একটি সফল ট্রান্সপ্লান্টের গল্প এবং পারিবারিক স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব। ডুররাহর অভিজ্ঞতা থেকে অন্য পরিবার কী শিখতে পারে? উপসর্গ না থাকলেও জিনগত পরীক্ষা করানো কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?
ডুররাহর গল্পটি সৌদি আরবের স্বাস্থ্যসেবার একটি দিক তুলে ধরে—জিনগত পরীক্ষা, পারিবারিক স্ক্রিনিং, উন্নত ট্রান্সপ্লান্ট সুবিধা এবং মানবিক চিকিৎসা। কেএফএসএইচ রিয়াদে তাঁর চিকিৎসা হয়েছে। ড. আহমেদ আলমুস্তাফা তাঁর কেস তত্ত্বাবধান করেছেন। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি এখন আইন কলেজে ফিরেছেন এবং ছবি আঁকছেন। এই ফিরে আসা কি চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাফল্যের পাশাপাশি রোগীর নিজের সংকল্পেরও প্রমাণ নয়?
ডুররাহর বোনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ার পর পরিবারের স্ক্রিনিং হয়। এই স্ক্রিনিংয়ের কারণেই ডুররাহর মিউটেশন ধরা পড়ে। যদি তাঁর বোনের রোগ ধরা না পড়ত, তাহলে ডুররাহর অবস্থা হয়তো আরও খারাপ হতে পারত। পারিবারিক ইতিহাস জানা কতটা জরুরি, তা এই ঘটনা দেখায়। প্রতিটি পরিবারের কি নিজেদের জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত নয়?
অস্ত্রোপচারের পর ডুররাহকে ইসিএমও-তে রাখা হয়। এই মেশিন নতুন হৃদয়ের ওপর চাপ কমায়। তিন দিন পর তিনি ইসিএমও থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করে। এই তিন দিন পরিবারের জন্য কতটা উদ্বেগের ছিল, তা সহজে বোঝা যায় না। নতুন অঙ্গ গ্রহণ করেছে কি না—এই অপেক্ষা কি সবচেয়ে কঠিন?
এখন ডুররাহ তাঁর সময় ভাগ করেন লেকচার, খেলাধুলা, ভ্রমণ এবং ছবি আঁকার মধ্যে। তিনি প্রায়ই হৃদয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেন। যে অঙ্গ তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে, সেটিই তাঁর শিল্পের কেন্দ্রে ফিরে আসে। এই শিল্প কি কৃতজ্ঞতার প্রকাশ নয়?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে ডুররাহর অস্ত্রোপচারের খরচ, হাসপাতালে থাকার মোট সময় বা ডোনারের পরিচয় সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা অন্য রোগীদের অবস্থা বা ট্রান্সপ্লান্টের পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কথাও উল্লেখ নেই। ডুররাহর পরিবারের অন্য কেউ একই মিউটেশন বহন করছেন কি না, তাও জানানো হয়নি। তবে যা আছে, তা হলো একটি স্পষ্ট বার্তা—জিনগত পরীক্ষা ও পারিবারিক স্ক্রিনিং রোগ আগেই ধরে ফেলতে পারে। ডুররাহর ক্ষেত্রে এই আগাম শনাক্তকরণই সম্ভবত তাঁর চিকিৎসার পথকে সুগম করেছে। উপসর্গহীন অবস্থায় পরীক্ষা করানোর গুরুত্ব কি এই গল্প থেকে স্পষ্ট হয় না?
ডুররাহর রোগ কীভাবে ধরা পড়ে? ডুররাহর বোনের কার্ডিওমায়োপ্যাথি ধরা পড়ার পর জিনগত পরীক্ষায় রোগটির সঙ্গে যুক্ত একটি মিউটেশন শনাক্ত হয়। চিকিৎসকরা পরিবারের বাকি সদস্যদের স্ক্রিনিং করার পরামর্শ দেন। ডুররাহর শরীরেও একই মিউটেশন পাওয়া যায়, যার ফলে রোগ আরও বাড়ার আগেই চিকিৎসকরা তাঁকে নজরদারিতে রাখতে শুরু করেন। ডুররাহর কোনো উপসর্গ ছিল না।
ট্রান্সপ্লান্টের আগে তাঁর চিকিৎসা কী ছিল? হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমতে থাকলে ডুররাহর কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন ও এমআরআই করা হয় এবং ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওষুধ আর যথেষ্ট না হলে একটি মেডিকেল কমিটি তাঁকে ট্রান্সপ্লান্টের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখে। তিনি প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষা করেন, যার একটি অংশ ইনটেনসিভ কেয়ারে দৈনিক নজরদারিতে কাটে।
অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী অবস্থা কেমন ছিল? কেএফএসএইচ রিয়াদে অস্ত্রোপচার চলে আট ঘণ্টা, দুপুর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত। পুরো সময় একটি নার্স পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর ডুররাহকে ইসিএমও-তে রাখা হয়, যা হৃদয় ও ফুসফুসের কিছু কাজ সাময়িকভাবে করে। তিন দিন পর তিনি ইসিএমও থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁর শরীর নতুন হৃদয় গ্রহণ করে।
ড. আহমেদ আলমুস্তাফা কী বলেছেন? কেএফএসএইচ-এর প্রাপ্তবয়স্ক হার্ট ফেইলিউর বিভাগের কনসালট্যান্ট ড. আহমেদ আলমুস্তাফা বলেন, কার্ডিওমায়োপ্যাথির অনেক কারণ থাকে এবং জিনগত পরীক্ষা কারণ খুঁজে বের করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই রোগ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন মাত্রায় দেখা দিতে পারে, তাই পরীক্ষা বাহকদের উপসর্গের আগেই শনাক্ত করতে দেয় এবং রোগ গুরুতর হওয়ার আগেই তাদের অনুসরণ করা যায়।
এখন ডুররাহ কী করছেন? হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের এক বছর পর ডুররাহ আবার আইন কলেজে ফিরেছেন। তিনি খেলাধুলা ও ভ্রমণেও সময় দেন। ছবি আঁকার সময় তিনি প্রায়ই হৃদয়কে বিষয় হিসেবে বেছে নেন। যে অঙ্গ তাঁকে নতুন জীবন দিয়েছে, সেটিই তাঁর শিল্পের কেন্দ্রে ফিরে আসে। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি এখন পড়াশোনা, খেলাধুলা ও ভ্রমণে সময় দেন।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে কী বলা হয়নি? প্রতিবেদনে ডোনারের পরিচয়, অস্ত্রোপচারের খরচ বা হাসপাতালে থাকার মোট সময় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা অন্য রোগীদের অবস্থা বা ট্রান্সপ্লান্টের পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার কথাও উল্লেখ নেই। ডুররাহর পরিবারের অন্য কেউ একই মিউটেশন বহন করছেন কি না বা ভবিষ্যতে তাঁর আর কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না, তাও জানানো হয়নি।





