তিউনিসে মাচমুম এক চিরসবুজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হয়ে আছে, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উৎসব-আনন্দের সঙ্গী হয়ে আতিথেয়তা, খুশি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হয়ে আছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, সুগন্ধি আরবীয় জুঁই বা সাধারণ জুঁইয়ের কুঁড়ি ভোর হওয়ার ঠিক আগে সংগ্রহ করা হয়। এরপর ছোট, প্রতিসম তোড়া তৈরি করা হয় পাতলা ঘাসের ডাঁটার চারপাশে ফোটেনি এমন ফুল সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে বেঁধে।
আকৃতিতে সরল হলেও তোড়ার কঠিন জ্যামিতি ও দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধের জন্য প্রয়োজন নিখুঁত গতি ও কারিগরি দক্ষতা। এটি পরিবারের ভেতরে হাতে-কলমে চলে আসা এক ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, যা সারা দেশে চাষি, কারিগর ও পথ-বিক্রেতার এক প্রাণবন্ত ক্ষুদ্র শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে।
মাচমুম শব্দটি আরবি মূল «শাম্মা» থেকে এসেছে, যার অর্থ ঘ্রাণ নেওয়া। এই তোড়া উৎসবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত—নবদম্পতি এটি হাতে ধরে রাখেন, বিয়ের অতিথিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয় এবং অতিথিদের আতিথেয়তার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক গলি ও জনসমাগমস্থলে ভেসে বেড়ানো এই সূক্ষ্ম সুগন্ধ তিউনিসিয়ার ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনের এক জীবন্ত ইন্দ্রিয়-চিহ্ন হয়ে আছে।
তাহলে ভোরের আলো ফোটার আগেই কেন এই কুঁড়ি সংগ্রহ করতে হয়? কারণ ফুল ফুটে গেলে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং তোড়ার টানটান গঠন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে—এমনটাই এসপিএর বর্ণনায় উঠে এসেছে।
প্রতিটি তোড়া তৈরিতে ঘাসের ডাঁটাকে কেন্দ্র করে কুঁড়িগুলোকে সমান দূরত্বে সাজানো হয়। সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে বেঁধে রাখা হয় যাতে ফুলগুলো নড়ে না যায়। এই সরল দেখতে কাজটিই আসলে সবচেয়ে কঠিন—কারণ গতি ও নিখুঁততা দুটোই একসঙ্গে ধরে রাখতে হয়।
কীভাবে একটি ছোট তোড়া প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকা পারিবারিক কারিগরি হয়ে উঠল? এসপিএ জানিয়েছে, এই শিল্প পরিবারের ভেতরেই হাতে-কলমে শেখানো হয়। অভিজ্ঞ কারিগরের হাত থেকে নতুন প্রজন্ম এই দক্ষতা আয়ত্ত করে।
এই কারিগরির চারপাশে গড়ে উঠেছে এক ক্ষুদ্র শিল্পব্যবস্থা। চাষিরা জুঁইয়ের কুঁড়ি ফলান, কারিগররা তোড়া গাঁথেন এবং পথ-বিক্রেতারা সেগুলো ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেন। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এই নেটওয়ার্কই মাচমুমকে জীবিত রাখছে।
মাচমুমের সঙ্গে উৎসবের সম্পর্ক কতটা গভীর? নবদম্পতি এটি হাতে ধরে রাখেন, বিয়ের অতিথিদের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং অতিথিদের আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে তুলে দেন। অর্থাৎ এটি শুধু সুগন্ধি নয়, সামাজিক সম্পর্কের একটি ভাষা।
আরবি «শাম্মা» মূল থেকে আসা এই শব্দটি ঘ্রাণ নেওয়ার কাজকেই বোঝায়। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এই তোড়ার মূল আকর্ষণ—এর ঘ্রাণ।
তিউনিসিয়ার ঐতিহাসিক গলি ও জনসমাগমস্থলে এই সুগন্ধ ভেসে বেড়ায়। এসপিএর ভাষায় এটি তিউনিসিয়ার ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনের এক জীবন্ত ইন্দ্রিয়-চিহ্ন।
কেন এই গন্ধ এতটা দীর্ঘস্থায়ী? কারণ ফোটেনি এমন কুঁড়ি ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলো শক্তভাবে বেঁধে রাখা হয়। ফলে সুগন্ধ ধীরে ধীরে ছড়ায় এবং অনেকক্ষণ থাকে।
এই শিল্প কতটা শ্রমসাধ্য, তা বোঝা যায় এর ধাপগুলো দেখলে। প্রথমে ভোরের আগে কুঁড়ি সংগ্রহ, তারপর ঘাসের ডাঁটা প্রস্তুত, তারপর সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে একে একে বেঁধে সমান জ্যামিতিক আকার দেওয়া। প্রতিটি ধাপে হাতের দক্ষতা ছাড়া কাজ হয় না।
এসপিএ জানিয়েছে, এই তোড়া ছোট ও প্রতিসম। সরল আকৃতির এই বৈশিষ্ট্যই এটিকে চেনা যায় এমন করে তোলে। কিন্তু এই সরলতার পেছনে লুকিয়ে আছে কঠোর অনুশীলন।
তাহলে কি এই কারিগরি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে আছে? এসপিএ এমন কোনো তথ্য দেয়নি। বরং সূত্র বলছে, এই শিল্প সারা দেশে চাষি, কারিগর ও পথ-বিক্রেতার একটি প্রাণবন্ত ক্ষুদ্র শিল্পব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে।
মাচমুম শুধু একটি ফুলের তোড়া নয়, এটি আতিথেয়তার প্রতীক। অতিথিদের দেওয়া এই তোড়া উষ্ণতা ও স্বাগতের বার্তা বহন করে।
এটি খুশির প্রতীকও। বিয়ে ও উৎসবের আনন্দে এই তোড়া থাকে। সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে এটি মানুষকে একসঙ্গে জড়িয়ে রাখে।
কীভাবে একটি গন্ধ একটি জাতির পরিচয় হয়ে উঠতে পারে? তিউনিসিয়ার ক্ষেত্রে উত্তর হলো—ঐতিহাসিক গলি ও জনসমাগমস্থলে ছড়িয়ে থাকা এই সুগন্ধ দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।
এসপিএর প্রতিবেদনে মাচমুমকে তিউনিসিয়ার এক চিরসবুজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উৎসবের সঙ্গী।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই তোড়া আরবীয় জুঁই বা সাধারণ জুঁইয়ের কুঁড়ি থেকে তৈরি হয়। কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয় ভোর হওয়ার ঠিক আগে।
ঘাসের ডাঁটার চারপাশে ফোটেনি এমন ফুল সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে বেঁধে তোড়া তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতেই তোড়ার টানটান জ্যামিতিক রূপ ফুটে ওঠে।
এসপিএ জানিয়েছে, এই কারিগরি পরিবারের ভেতরে হাতে-কলমে চলে আসছে। এই পারিবারিক ধারাবাহিকতাই শিল্পটিকে টিকিয়ে রেখেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে চাষি, কারিগর ও পথ-বিক্রেতার একটি ক্ষুদ্র শিল্পব্যবস্থা সক্রিয়। এই তিন স্তরের মানুষই মাচমুমকে বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেন।
মাচমুম শব্দের উৎস নিয়েও এসপিএ তথ্য দিয়েছে। শব্দটি এসেছে আরবি «শাম্মা» থেকে, যার অর্থ ঘ্রাণ নেওয়া।
উৎসবের সঙ্গে এর সম্পর্কও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। নবদম্পতি এটি হাতে ধরে রাখেন, বিয়ের অতিথিদের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং অতিথিদের আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়।
তিউনিসিয়ার ঐতিহাসিক গলি ও জনসমাগমস্থলে এই সুগন্ধ ভেসে বেড়ায়। এসপিএ এটিকে তিউনিসিয়ার ঐতিহ্য ও দৈনন্দিন জীবনের জীবন্ত ইন্দ্রিয়-চিহ্ন বলে বর্ণনা করেছে।
এসপিএর এই প্রতিবেদনে তোড়া তৈরির নির্দিষ্ট মূল্য, উৎপাদনের পরিমাণ বা বার্ষিক কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। কোনো নির্দিষ্ট চাষি, কারিগর বা বিক্রেতার নামও উল্লেখ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট শহর বা অঞ্চলের নামও দেওয়া হয়নি, শুধু তিউনিস ও সারা দেশের কথা বলা হয়েছে। মাচমুমের ইতিহাস কত পুরনো, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট কোনো সাল উল্লেখ করা হয়নি।
তবুও এসপিএর বর্ণনা থেকে স্পষ্ট, মাচমুম তিউনিসিয়ার সাংস্কৃতিক জীবনে একটি জীবন্ত উপস্থিতি। ভোরের কুঁড়ি থেকে হাতে গাঁথা তোড়া, আর সেই তোড়ার সুগন্ধ—এই তিন ধাপেই জড়িয়ে আছে এক জাতির আতিথেয়তা, আনন্দ ও সামাজিক বন্ধন।
মাচমুম কী দিয়ে তৈরি হয়? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মাচমুম তৈরি হয় সুগন্ধি আরবীয় জুঁই বা সাধারণ জুঁইয়ের কুঁড়ি দিয়ে। কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয় ভোর হওয়ার ঠিক আগে। এরপর ছোট, প্রতিসম তোড়া বানানো হয় পাতলা ঘাসের ডাঁটার চারপাশে ফোটেনি এমন ফুল সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে বেঁধে। সরল দেখতে এই গঠনই তোড়ার চেনা জ্যামিতিক রূপ তৈরি করে।
মাচমুম শব্দের অর্থ কী? এসপিএ জানিয়েছে, মাচমুম শব্দটি আরবি মূল «শাম্মা» থেকে এসেছে, যার অর্থ ঘ্রাণ নেওয়া। নামের মধ্যেই এই তোড়ার মূল আকর্ষণ—এর সুগন্ধ—লুকিয়ে আছে। ফোটেনি কুঁড়ি ব্যবহার ও শক্ত বাঁধনই এই গন্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করে।
মাচমুম কোন কোন উপলক্ষে ব্যবহৃত হয়? এসপিএর বর্ণনা অনুযায়ী, মাচমুম উৎসবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। নবদম্পতি এটি হাতে ধরে রাখেন, বিয়ের অতিথিদের মধ্যে ভাগ করে দেন এবং অতিথিদের আতিথেয়তার প্রতীক হিসেবে দেওয়া হয়। ঐতিহাসিক গলি ও জনসমাগমস্থলে এর সুগন্ধ ছড়িয়ে থাকে।
এই কারিগরি কীভাবে টিকে আছে? এসপিএ জানিয়েছে, মাচমুম গাঁথার কারিগরি পরিবারের ভেতরে হাতে-কলমে চলে আসছে। সারা দেশে চাষি, কারিগর ও পথ-বিক্রেতার একটি প্রাণবন্ত ক্ষুদ্র শিল্পব্যবস্থা এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছে। চাষিরা কুঁড়ি ফলান, কারিগররা তোড়া গাঁথেন এবং বিক্রেতারা তা ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেন।
তোড়া তৈরিতে কী দক্ষতা লাগে? এসপিএ বলছে, তোড়ার কঠিন জ্যামিতি ও দীর্ঘস্থায়ী সুগন্ধের জন্য প্রয়োজন নিখুঁত গতি ও কারিগরি দক্ষতা। ঘাসের ডাঁটার চারপাশে ফোটেনি ফুল সূক্ষ্ম সুতো দিয়ে সমানভাবে বাঁধতে হয়। এই সরল দেখতে কাজেই হাতের অনুশীলন ও অভিজ্ঞতা দুটোই দরকার হয়।
এসপিএর প্রতিবেদনে কী দেওয়া হয়নি? প্রতিবেদনে তোড়ার মূল্য, উৎপাদনের পরিমাণ বা বার্ষিক কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি। কোনো নির্দিষ্ট চাষি, কারিগর বা বিক্রেতার নামও উল্লেখ করা হয়নি। নির্দিষ্ট শহর বা অঞ্চলের নামও দেওয়া হয়নি, শুধু তিউনিস ও সারা দেশের কথা বলা হয়েছে। মাচমুমের ইতিহাস কত পুরনো, সে বিষয়েও সুনির্দিষ্ট সাল দেওয়া হয়নি।





