সৌদি ফিল্ম কমিশন ৮ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে ‘সৌদি ফিল্ম নাইটস’ আয়োজন করছে, যেখানে জোহানেসবার্গ, ডারবান ও কেপ টাউনজুড়ে ধারাবাহিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হবে। কর্মসূচিতে সমকালীন সৌদি চলচ্চিত্রের একটি নির্বাচিত সংকলন দেখানো হবে, যা সৌদি সিনেমার বৈচিত্র্য তুলে ধরবে এবং স্থানীয় প্রতিভাকে সামনে আনবে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, আয়োজনে নির্বাচিত সৌদি চলচ্চিত্রের চারটি প্রদর্শনী থাকবে। এর মধ্যে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সিওয়ার’ ও ‘নাইট কুরিয়ার’, এবং দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইর্তিজাজ’ ও ‘ফার্স্ট ফিউনারাল ডে’। নির্মাতাদের নিজস্ব শিল্পদৃষ্টি ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি এই কাজগুলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মাত্রার গভীর প্রতিফলন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে বেশ কয়েকজন সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতাও উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা প্রদর্শনী-পরবর্তী আলোচনা এবং দর্শক ও দক্ষিণ আফ্রিকান গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে খোলা কথোপকথনে অংশ নেবেন। এসব অধিবেশনের লক্ষ্য অর্থবহ সাংস্কৃতিক সংলাপ গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে সৃজনশীল বিনিময় জোরদার করা।
সফরটি জোহানেসবার্গে শুরু হয়ে ডারবানে গিয়ে শেষ হবে কেপ টাউনে। প্রদর্শনী হবে জোহানেসবার্গের লেসেদি থিয়েটারে, ডারবানের দ্য প্লেহাউস কমপ্লেক্সের ড্রামা থিয়েটারে এবং কেপ টাউনের দ্য লাবিয়া থিয়েটারে।
সৌদি ফিল্ম নাইটসের দক্ষিণ আফ্রিকা সংস্করণ সৌদি ফিল্ম কমিশনের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের চলমান প্রচেষ্টার অংশ। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কমিশন পেশাদার অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি, চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষতা বিনিময় উৎসাহিত করা, সৌদি সৃজনশীলতা ও জাতীয় প্রতিভা তুলে ধরা এবং শিল্পের মাধ্যমে জাতির মধ্যে সেতু নির্মাণকারী সাংস্কৃতিক অবদানকারী হিসেবে রাজ্যের অবস্থান জোরদার করতে চায়।
চার প্রদর্শনী, তিন শহর, এক সাংস্কৃতিক সেতু
সৌদি ফিল্ম কমিশনের ঘোষণায় কর্মসূচির মূল কাঠামো স্পষ্ট: চারটি প্রদর্শনী, যার দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য। ‘সিওয়ার’ ও ‘নাইট কুরিয়ার’ পূর্ণদৈর্ঘ্য বিভাগে এবং ‘ইর্তিজাজ’ ও ‘ফার্স্ট ফিউনারাল ডে’ স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে রাখা হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই কাজগুলো নির্মাতাদের অনন্য শিল্পদৃষ্টি ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এসেছে এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মাত্রার গভীর প্রতিফলন ঘটায়।
প্রশ্ন হলো, একটি প্রদর্শনী তালিকা কখন সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বয়ান হয়ে ওঠে? চারটি চলচ্চিত্রের নির্বাচনই যখন দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের মিশ্রণ, তখন তা দৈর্ঘ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি নির্মাণধারার ভিন্নতাও তুলে ধরে। বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে কোনো ধরন বা থিমের তালিকা দেওয়া হয়নি, তবে নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উপস্থিতি এই সফরের কেন্দ্রীয় উপাদান। তাঁরা প্রদর্শনী-পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেবেন এবং দর্শক ও দক্ষিণ আফ্রিকান গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে খোলা কথোপকথন করবেন। এসপিএ অনুযায়ী, এসব অধিবেশনের উদ্দেশ্য অর্থবহ সাংস্কৃতিক সংলাপ গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে সৃজনশীল বিনিময় জোরদার করা।
কিন্তু পর্দার বাইরে দাঁড়ানো নির্মাতার সঙ্গে সরাসরি সংলাপ কতটা ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে? প্রদর্শনী-পরবর্তী আলোচনা সাধারণত চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতাকে ব্যক্তিগত স্তরে নিয়ে যায়, যেখানে নির্মাতা নিজেই তাঁর কাজের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে পারেন। বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য কোন নির্মাতা কোন শহরে উপস্থিত থাকবেন, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
ভৌগোলিক পরিকল্পনাও স্পষ্ট। সফর শুরু জোহানেসবার্গে, তারপর ডারবান, শেষে কেপ টাউন। প্রদর্শনীর স্থান তিনটি: জোহানেসবার্গের লেসেদি থিয়েটার, ডারবানের দ্য প্লেহাউস কমপ্লেক্সের ড্রামা থিয়েটার এবং কেপ টাউনের দ্য লাবিয়া থিয়েটার। তিন শহরে তিনটি ভিন্ন মঞ্চ—একই কর্মসূচিকে একাধিক শহরের দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এই বিন্যাস কি দক্ষিণ আফ্রিকার সাংস্কৃতিক মানচিত্রের বৈচিত্র্যকেই প্রতিফলিত করে?
সময়সীমা ৮ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬, অর্থাৎ সাত দিনের কর্মসূচি। এই সাত দিনে চারটি প্রদর্শনী এবং সংশ্লিষ্ট আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এসপিএ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিটি প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি দেওয়া হয়নি, শুধু সামগ্রিক সময়সীমা ও শহরভিত্তিক স্থান উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌদি ফিল্ম কমিশনের ভাষ্যে এই আয়োজন তার চলমান আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার অংশ। কমিশন জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সংস্করণ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অন্তর্গত। এর মাধ্যমে তারা পেশাদার অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি, চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষতা বিনিময় উৎসাহিত করা, সৌদি সৃজনশীলতা ও জাতীয় প্রতিভা তুলে ধরা এবং সিনেমার শিল্পের মাধ্যমে জাতির মধ্যে সেতু নির্মাণকারী সাংস্কৃতিক অবদানকারী হিসেবে রাজ্যের অবস্থান জোরদার করতে চায়।
এই লক্ষ্যগুলোর মধ্যে কোনটি বাস্তবে কতটা অর্জিত হয়, তা নির্ভর করে প্রদর্শনীর পরের ধাপে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত উদ্দেশ্যগুলো একাধিক স্তরে বিস্তৃত—একদিকে পেশাদার অংশীদারত্ব, অন্যদিকে সৃজনশীল বিনিময়, আবার অন্যদিকে জাতীয় প্রতিভার প্রদর্শন। একটি সাত দিনের সফরে এই সবগুলো লক্ষ্য একসঙ্গে কতটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব?
দক্ষিণ আফ্রিকার গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে খোলা কথোপকথনের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ, আয়োজন শুধু দর্শকের জন্য নয়, সংবাদমাধ্যমের জন্যও একটি সংলাপের সুযোগ তৈরি করছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই অধিবেশনগুলোর লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে অর্থবহ সাংস্কৃতিক সংলাপ ও সৃজনশীল বিনিময় জোরদার করা।
চলচ্চিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে ‘সমকালীন সৌদি চলচ্চিত্র’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘সৌদি সিনেমার বৈচিত্র্য’ এবং ‘স্থানীয় প্রতিভা’ তুলে ধরার কথা। চারটি চলচ্চিত্রের মধ্যে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য হওয়ায় ফরম্যাটের বৈচিত্র্য নিশ্চিত, তবে বিষয়বস্তুর বৈচিত্র্য সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি বিস্তারিত কিছু বলে না।
প্রশ্ন থেকে যায়, একটি চলচ্চিত্র সফর কি কেবল প্রদর্শনী, নাকি তার চেয়ে বেশি কিছু? সৌদি ফিল্ম কমিশনের বর্ণনায় এটি সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দক্ষতা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক সেতু নির্মাণের একটি হাতিয়ার। সেই অর্থে সাত দিনের এই আয়োজনকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জোহানেসবার্গ, ডারবান ও কেপ টাউন—দক্ষিণ আফ্রিকার তিন প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এই তিন শহরে প্রদর্শনী আয়োজনের সিদ্ধান্ত কর্মসূচিরreach বিস্তৃত করে। তবে এসপিএ বিজ্ঞপ্তিতে কোন শহরে কত দর্শক প্রত্যাশিত, টিকিটের মূল্য কত, বা প্রদর্শনীগুলো কতবার হবে—এসব তথ্য নেই।
সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে ‘বেশ কয়েকজন’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সংখ্যা দেওয়া হয়নি। তাঁদের নামও উল্লেখ করা হয়নি। একইভাবে প্রদর্শনী-পরবর্তী আলোচনার বিষয়বস্তু বা ভাষা সম্পর্কেও বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে ভাষা একটি বড় প্রশ্ন। সৌদি চলচ্চিত্র সাধারণত আরবি ভাষায় নির্মিত হয়, আর দক্ষিণ আফ্রিকার দর্শক বহুভাষিক পরিবেশে বাস করেন। বিজ্ঞপ্তিতে সাবটাইটেল বা অনুবাদ সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। তাহলে ভাষার সীমা পেরিয়ে চলচ্চিত্রের গল্প কতটা পৌঁছাবে?
সৌদি ফিল্ম কমিশনের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ধারায় এই আয়োজন একটি সংযোজন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সংস্করণ সেই ধারারই অংশ।
চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষতা বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে, তবে কোন ধরনের দক্ষতা, কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে, বা কী বিনিময় হবে—এসবের বিবরণ বিজ্ঞপ্তিতে নেই। পেশাদার অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরির কথাও সাধারণভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি বা প্রকল্পের নাম ছাড়া।
রাজ্যের সাংস্কৃতিক অবস্থান তুলে ধরার লক্ষ্যও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট। বলা হয়েছে, কমিশন সিনেমার শিল্পের মাধ্যমে জাতির মধ্যে সেতু নির্মাণকারী সাংস্কৃতিক অবদানকারী হিসেবে রাজ্যের অবস্থান জোরদার করতে চায়। এই বাক্যটি আয়োজনের কাঠামোগত উদ্দেশ্যকে সংক্ষেপে ধরে।
প্রশ্ন হলো, সাংস্কৃতিক সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে একমুখী প্রদর্শনী কতটা কার্যকর? সৌদি চলচ্চিত্র দক্ষিণ আফ্রিকায় দেখানো হচ্ছে, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান চলচ্চিত্র সৌদি আরবে দেখানোর কোনো পরিকল্পনার কথা বিজ্ঞপ্তিতে নেই। বিনিময়ের ধারণাটি তাই এই মুহূর্তে এক দিক থেকেই বর্ণিত।
তবুও, দুই দেশের গণমাধ্যম ও দর্শকের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সুযোগ কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্মাতারা নিজেদের কাজের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে পারবেন, প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন। এসপিএ জানিয়েছে, এই আলোচনার লক্ষ্য অর্থবহ সাংস্কৃতিক সংলাপ।
সাত দিনের কর্মসূচিতে চারটি প্রদর্শনী—গড়ে প্রতি শহরে একাধিক অনুষ্ঠান নয়। জোহানেসবার্গে শুরু, ডারবানে মধ্য, কেপ টাউনে সমাপ্তি। এই ক্রমটি ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক, তবে কোন শহরে কোন চলচ্চিত্র দেখানো হবে, তা বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট নয়।
সৌদি ফিল্ম নাইটসের এই সংস্করণ আয়োজনের তারিখ ৮-১৪ অক্টোবর ২০২৬। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী ঘোষণাটি এসেছে ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ, অর্থাৎ আয়োজনের মাত্র কয়েক দিন আগে। এই স্বল্প সময়ের ঘোষণা কি আয়োজনের পরিধিকে প্রভাবিত করবে?
বিজ্ঞপ্তিতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, পৃষ্ঠপোষক, বা স্থানীয় সহযোগীদের নাম নেই। শুধু সৌদি ফিল্ম কমিশনের উদ্যোগ হিসেবে আয়োজনটির কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কোন প্রতিষ্ঠান এতে সহযোগিতা করছে, সে তথ্য দেওয়া হয়নি।
চলচ্চিত্রের নামগুলো ছাড়া নির্মাতাদের পরিচয়ও বিজ্ঞপ্তিতে নেই। ‘সিওয়ার’, ‘নাইট কুরিয়ার’, ‘ইর্তিজাজ’ ও ‘ফার্স্ট ফিউনারাল ডে’—এই চারটি শিরোনামই একমাত্র নির্দিষ্ট সৃজনশীল তথ্য। এগুলোর নির্মাতা কে, কাহিনী কী, দৈর্ঘ্য কত—এসবের কিছুই উল্লেখ করা হয়নি।
একটি সাংস্কৃতিক সফরের সাফল্য পরিমাপের মাপকাঠি কী হওয়া উচিত? দর্শকের সংখ্যা, গণমাধ্যমের কভারেজ, নাকি ভবিষ্যতের সহযোগিতার চুক্তি? বিজ্ঞপ্তিতে কোনো মাপকাঠি বা মূল্যায়নের কথা বলা হয়নি, শুধু উদ্দেশ্যগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সৌদি চলচ্চিত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সফরের তাৎপর্য রয়েছে। তবে এসপিএ-র এই প্রতিবেদন কেবল ঘোষণার তথ্য দেয়—কোনো পূর্ববর্তী সফরের ফলাফল, দর্শক প্রতিক্রিয়া বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিবরণ এতে নেই।
সব মিলিয়ে, ৮-১৪ অক্টোবর ২০২৬-এ দক্ষিণ আফ্রিকার তিন শহরে চারটি সৌদি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী এবং নির্মাতাদের সঙ্গে সংলাপ—এই হলো ঘোষিত কর্মসূচির মূল কাঠামো। সৌদি ফিল্ম কমিশন এটিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ধারায় দেখছে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রদর্শনীর টিকিট, দর্শক সংখ্যা, সাবটাইটেল, নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাতাদের নাম বা স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কোনো তথ্য নেই। এসব বিষয়ে পরবর্তী ঘোষণার ওপর নির্ভর করতে হবে।
সৌদি ফিল্ম নাইটস দক্ষিণ আফ্রিকায় কখন ও কোথায় অনুষ্ঠিত হবে? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, কর্মসূচি ৮ থেকে ১৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনী হবে তিন শহরে: জোহানেসবার্গের লেসেদি থিয়েটার, ডারবানের দ্য প্লেহাউস কমপ্লেক্সের ড্রামা থিয়েটার এবং কেপ টাউনের দ্য লাবিয়া থিয়েটার। সফর জোহানেসবার্গে শুরু হয়ে ডারবান হয়ে কেপ টাউনে শেষ হবে। প্রতিটি প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি।
কোন সৌদি চলচ্চিত্রগুলো দেখানো হবে? এসপিএ অনুযায়ী চারটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হবে। পূর্ণদৈর্ঘ্য বিভাগে রয়েছে ‘সিওয়ার’ ও ‘নাইট কুরিয়ার’, স্বল্পদৈর্ঘ্য বিভাগে ‘ইর্তিজাজ’ ও ‘ফার্স্ট ফিউনারাল ডে’। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্মাতাদের অনন্য শিল্পদৃষ্টি ও বৈচিত্র্যময় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে তৈরি এই কাজগুলো রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মাত্রার গভীর প্রতিফলন। চলচ্চিত্রগুলোর কাহিনী, দৈর্ঘ্য বা নির্মাতার নাম অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি।
কর্মসূচিতে সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ভূমিকা কী? এসপিএ জানিয়েছে, বেশ কয়েকজন সৌদি চলচ্চিত্র নির্মাতা আয়োজনে উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা প্রদর্শনী-পরবর্তী আলোচনা এবং দর্শক ও দক্ষিণ আফ্রিকান গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে খোলা কথোপকথনে অংশ নেবেন। এই অধিবেশনগুলোর লক্ষ্য অর্থবহ সাংস্কৃতিক সংলাপ গড়ে তোলা এবং দুই দেশের মধ্যে সৃজনশীল বিনিময় জোরদার করা। কোন নির্মাতা কোন শহরে থাকবেন বা কতজন উপস্থিত হবেন, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি।
এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কী? সৌদি ফিল্ম কমিশন জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সংস্করণ তার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ। এর মাধ্যমে কমিশন পেশাদার অংশীদারত্বের নতুন সুযোগ তৈরি, চলচ্চিত্র শিল্পে দক্ষতা বিনিময় উৎসাহিত করা, সৌদি সৃজনশীলতা ও জাতীয় প্রতিভা তুলে ধরা এবং সিনেমার মাধ্যমে জাতির মধ্যে সেতু নির্মাণকারী সাংস্কৃতিক অবদানকারী হিসেবে রাজ্যের অবস্থান জোরদার করতে চায়। নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি বা প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়নি।
কর্মসূচির কোন তথ্য এখনো ঘোষণা করা হয়নি? এসপিএ-র বিজ্ঞপ্তিতে প্রদর্শনীর টিকিটের মূল্য, প্রত্যাশিত দর্শক সংখ্যা, সাবটাইটেল বা অনুবাদ ব্যবস্থা, প্রতিটি প্রদর্শনীর নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং অংশগ্রহণকারী নির্মাতাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। স্থানীয় দক্ষিণ আফ্রিকান সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা পৃষ্ঠপোষকদের নামও নেই। শুধু সামগ্রিক সময়সীমা, তিন শহরের নাম, তিনটি মঞ্চ এবং চারটি চলচ্চিত্রের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে। এসব বাকি তথ্যের জন্য পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।