Thursday, October 22, 2026
অর্থনীতি

সাপ্তাহিক পিওএস লেনদেন ১২.৬ বিলিয়ন রিয়াল, আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬.৮% কম

সাপ্তাহিক পিওএস লেনদেন ১২.৬ বিলিয়ন রিয়াল, আগের সপ্তাহের চেয়ে ৬.৮% কম

১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের পয়েন্ট-অব-সেল (পিওএস) লেনদেনের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন রিয়াল, যা আগের সপ্তাহের ১৩.৫৩ বিলিয়ন রিয়ালের তুলনায় ৬.৮ শতাংশ কম। সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক পিওএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২৪৬.৪২ মিলিয়ন।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, খাদ্য ও পানীয় খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ২.২২ বিলিয়ন রিয়াল, যা ৫৯.১৪ মিলিয়ন লেনদেনে সম্পন্ন হয়েছে। এরপরই রয়েছে রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে খাত, যেখানে ১.৬৫ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় হয়েছে ৫৯.৫৬ মিলিয়ন লেনদেনে। জ্বালানি স্টেশনে ৯৯৮.২ মিলিয়ন রিয়াল (১৭.৯৭ মিলিয়ন লেনদেন), পরিবহনে ৯২১.৯ মিলিয়ন রিয়াল (৬.৯৩ মিলিয়ন), পোশাক ও অ্যাকসেসরিজে ৯১০.৯ মিলিয়ন রিয়াল (৮.৭১ মিলিয়ন) এবং স্বাস্থ্যসেবায় ৮২৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল (১০.১ মিলিয়ন) ব্যয় হয়েছে।

পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে ৭৩৩.৪ মিলিয়ন রিয়াল (১৫.০৪ মিলিয়ন লেনদেন), নির্মাণ ও ভবন উপকরণে ৩৮৯.৪ মিলিয়ন রিয়াল (৩.২১ মিলিয়ন), আসবাব ও গৃহস্থালি সরবরাহে ৩৮৪.১ মিলিয়ন রিয়াল (২.৬৪ মিলিয়ন), গহনায় ৩৫৭.৫ মিলিয়ন রিয়াল (৩৩৪,০০০ লেনদেন), সংস্কৃতি ও বিনোদনে ৩০১.১ মিলিয়ন রিয়াল (৪.১২ মিলিয়ন), বেকারি ও মিষ্টান্নে ২২৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল (৬.৩ মিলিয়ন) এবং হোটেলে ২২৩ মিলিয়ন রিয়াল (৭১৮,০০০) লেনদেন হয়েছে।

টেলিযোগাযোগ খাতে ১৯৩.৫ মিলিয়ন রিয়াল (৫.৪ মিলিয়ন লেনদেন), ইলেকট্রনিকস ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে ১৭২.৭ মিলিয়ন রিয়াল (২.০৬ মিলিয়ন), শিক্ষায় ৮৩.৫ মিলিয়ন রিয়াল (১৬৮,০০০), ইউটিলিটি ও পাবলিক সার্ভিসে ৬১ মিলিয়ন রিয়াল (৯৫৮,০০০) এবং লন্ড্রি সেবায় ৫০.৮ মিলিয়ন রিয়াল (২.৯ মিলিয়ন) ব্যয় হয়েছে। অন্যান্য খাতে মোট ১.৯ বিলিয়ন রিয়াল (৪০.১৬ মিলিয়ন লেনদেন) হয়েছে।

শহরভিত্তিক হিসাবে রাজধানী রিয়াদ শীর্ষে রয়েছে ৪.৪১ বিলিয়ন রিয়াল নিয়ে, যা ৮১.৬ মিলিয়ন লেনদেনে সম্পন্ন হয়েছে। এরপর জেদ্দা ১.৬৭ বিলিয়ন রিয়াল (২৭.৪৭ মিলিয়ন), দাম্মাম ৬৩৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৮৬ মিলিয়ন), মক্কা ৫০৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৫২ মিলিয়ন) এবং মদিনা ৪৯৫.৫ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৩২ মিলিয়ন) লেনদেন করেছে।

সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদন দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর সাপ্তাহিক গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে। পিওএস লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য উভয়ই নজরে রাখার মতো সূচক, কারণ এটি সরাসরি ভোক্তা ব্যয়ের প্রবণতা প্রতিফলিত করে। খাদ্য ও পানীয় খাতের শীর্ষস্থান এবং রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের ঘনিষ্ঠ অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এখনও পিওএস লেনদেনের বড় অংশ দখল করে আছে।

অন্যদিকে জ্বালানি স্টেশন, পরিবহন ও পোশাক খাতের অবস্থান দেখায় যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার চাহিদা স্থিতিশীল। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ৮২৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব বোঝায়। পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবায় ৭৩৩.৪ মিলিয়ন রিয়াল লেনদেন ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সক্রিয়তাও প্রকাশ করে।

নির্মাণ ও ভবন উপকরণ খাতে ৩৮৯.৪ মিলিয়ন রিয়াল এবং আসবাব ও গৃহস্থালি সরবরাহে ৩৮৪.১ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় অবকাঠামো ও আবাসন খাতের গতিশীলতার সংকেত দেয়। গহনা খাতে ৩৫৭.৫ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয়, যদিও লেনদেন সংখ্যা মাত্র ৩৩৪,০০০, তা উচ্চমূল্যের লেনদেনের প্রবণতা দেখায়। সংস্কৃতি ও বিনোদন খাতে ৩০১.১ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় বিনোদন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ইঙ্গিত বহন করে।

বেকারি ও মিষ্টান্ন খাতে ২২৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল এবং হোটেলে ২২৩ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের সক্রিয়তার পরিচয় দেয়। টেলিযোগাযোগ খাতে ১৯৩.৫ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় ডিজিটাল সংযোগের চাহিদা বজায় থাকার প্রমাণ। ইলেকট্রনিকস ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে ১৭২.৭ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি আগ্রহ দেখায়। শিক্ষা খাতে ৮৩.৫ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় শিক্ষা খাতের পিওএস লেনদেনের একটি ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ অংশ।

ইউটিলিটি ও পাবলিক সার্ভিসে ৬১ মিলিয়ন রিয়াল এবং লন্ড্রি সেবায় ৫০.৮ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় দৈনন্দিন সেবার লেনদেনের চিত্র। অন্যান্য খাতে ১.৯ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় হয়েছে ৪০.১৬ মিলিয়ন লেনদেনে, যা বিভিন্ন ছোটখাটো খাতের সম্মিলিত চিত্র।

শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে রিয়াদের আধিপত্য স্পষ্ট। ৪.৪১ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় এবং ৮১.৬ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে রাজধানী অন্যান্য শহরের চেয়ে অনেক এগিয়ে। জেদ্দার ১.৬৭ বিলিয়ন রিয়াল এবং ২৭.৪৭ মিলিয়ন লেনদেন দ্বিতীয় অবস্থানে। দাম্মাম ৬৩৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল ও ৯.৮৬ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে তৃতীয়। মক্কা ৫০৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৫২ মিলিয়ন) এবং মদিনা ৪৯৫.৫ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৩২ মিলিয়ন) নিয়ে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে।

এই শহরভিত্তিক তথ্য থেকে বোঝা যায়, বড় শহরগুলোতেই পিওএস লেনদেনের বড় অংশ কেন্দ্রীভূত। রিয়াদ ও জেদ্দার মধ্যে ব্যয়ের ব্যবধান প্রায় ২.৬৪ বিলিয়ন রিয়াল, যা অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ঘনত্বের পার্থক্য নির্দেশ করে। মক্কা ও মদিনার লেনদেন সংখ্যা প্রায় সমান হলেও ব্যয়ে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ৬.৮ শতাংশ হ্রাস আগের সপ্তাহের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। তবে এক সপ্তাহের তথ্য থেকে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন। সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই হ্রাসের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। প্রতিবেদনে খাতভিত্তিক ও শহরভিত্তিক তথ্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু হ্রাসের পেছনের কারণ, মৌসুমি প্রভাব বা ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

পিওএস লেনদেনের এই তথ্য সৌদি আরবের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সক্রিয়তার একটি স্ন্যাপশট। ২৪৬.৪২ মিলিয়ন লেনদেন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে দেশের ভোক্তা ব্যয়ের ব্যাপকতা দেখায়। খাদ্য, রেস্তোরাঁ, জ্বালানি ও পরিবহনের মতো খাতগুলো শীর্ষে থাকা বোঝায় যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা ও পণ্যই পিওএস লেনদেনের মূল চালিকাশক্তি।

স্বাস্থ্য, পেশাদার সেবা, নির্মাণ, আসবাব, গহনা, বিনোদন, হোটেল, টেলিযোগাযোগ, ইলেকট্রনিকস, শিক্ষা, ইউটিলিটি ও লন্ড্রি খাতের তথ্য বিস্তৃত পরিসরে ভোক্তা ব্যয়ের চিত্র দেয়। এই বৈচিত্র্য সৌদি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের সক্রিয়তার প্রতিফলন।

রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, মক্কা ও মদিনার তথ্য দেশের প্রধান শহরগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রমের তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করে। রিয়াদের শীর্ষস্থান রাজধানীর কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে। জেদ্দা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে এর গুরুত্ব বোঝায়। দাম্মাম, মক্কা ও মদিনার অবস্থান তাদের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ভূমিকা নির্দেশ করে।

সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক পিওএস প্রতিবেদন নীতি নির্ধারক, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র। এই তথ্য ভোক্তা ব্যয়ের প্রবণতা বুঝতে সহায়তা করে। তবে এক সপ্তাহের তথ্য থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না; ধারাবাহিক কয়েক সপ্তাহের তথ্য প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে মোট লেনদেন মূল্য, লেনদেন সংখ্যা, খাতভিত্তিক বিভাজন ও শহরভিত্তিক বিভাজন রয়েছে। কিন্তু হ্রাসের কারণ, মৌসুমি প্রভাব, ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস বা তুলনামূলক দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণ নেই। এই সীমাবদ্ধতা পাঠকের মনে রাখা প্রয়োজন।

সৌদি আরবের পিওএস ব্যবস্থা দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বাড়ায়। ১২.৬ বিলিয়ন রিয়ালের সাপ্তাহিক লেনদেন দেশের ভোক্তা বাজারের আকার ও সক্রিয়তার একটি সূচক।

খাদ্য ও পানীয় খাতে ২.২২ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় এবং ৫৯.১৪ মিলিয়ন লেনদেন এই খাতের ব্যাপকতা দেখায়। রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতে ১.৬৫ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় এবং ৫৯.৫৬ মিলিয়ন লেনদেন প্রায় সমান লেনদেন সংখ্যা কিন্তু কম মূল্য নির্দেশ করে। জ্বালানি স্টেশনে ৯৯৮.২ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় এবং ১৭.৯৭ মিলিয়ন লেনদেন উচ্চ গড় মূল্যের লেনদেনের ইঙ্গিত দেয়।

পরিবহনে ৯২১.৯ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৬.৯৩ মিলিয়ন লেনদেন, পোশাকে ৯১০.৯ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৮.৭১ মিলিয়ন লেনদেন, স্বাস্থ্যে ৮২৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল এবং ১০.১ মিলিয়ন লেনদেন—এই তথ্যগুলো বিভিন্ন খাতের লেনদেনের গড় মূল্যের পার্থক্য দেখায়।

পেশাদার ও ব্যবসায়িক সেবায় ৭৩৩.৪ মিলিয়ন রিয়াল এবং ১৫.০৪ মিলিয়ন লেনদেন, নির্মাণে ৩৮৯.৪ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৩.২১ মিলিয়ন লেনদেন, আসবাবে ৩৮৪.১ মিলিয়ন রিয়াল এবং ২.৬৪ মিলিয়ন লেনদেন—এই খাতগুলোর তথ্য ব্যবসায়িক ও গৃহস্থালি চাহিদার চিত্র দেয়।

গহনায় ৩৫৭.৫ মিলিয়ন রিয়াল ব্যয় মাত্র ৩৩৪,০০০ লেনদেনে—এটি সবচেয়ে উচ্চ গড় মূল্যের লেনদেনগুলোর একটি। সংস্কৃতি ও বিনোদনে ৩০১.১ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৪.১২ মিলিয়ন লেনদেন, বেকারিতে ২২৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৬.৩ মিলিয়ন লেনদেন, হোটেলে ২২৩ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৭১৮,০০০ লেনদেন—এই খাতগুলোর তথ্য বিনোদন ও পর্যটন খাতের সক্রিয়তা দেখায়।

টেলিযোগাযোগে ১৯৩.৫ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৫.৪ মিলিয়ন লেনদেন, ইলেকট্রনিকসে ১৭২.৭ মিলিয়ন রিয়াল এবং ২.০৬ মিলিয়ন লেনদেন, শিক্ষায় ৮৩.৫ মিলিয়ন রিয়াল এবং ১৬৮,০০০ লেনদেন, ইউটিলিটিতে ৬১ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৯৫৮,০০০ লেনদেন, লন্ড্রিতে ৫০.৮ মিলিয়ন রিয়াল এবং ২.৯ মিলিয়ন লেনদেন—এই তথ্যগুলো ছোট খাতগুলোর লেনদেনের চিত্র।

অন্যান্য খাতে ১.৯ বিলিয়ন রিয়াল এবং ৪০.১৬ মিলিয়ন লেনদেন—এই বড় অঙ্ক বিভিন্ন খাতের সম্মিলিত লেনদেন।

শহরভিত্তিক তথ্যে রিয়াদ ৪.৪১ বিলিয়ন রিয়াল এবং ৮১.৬ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে শীর্ষে। জেদ্দা ১.৬৭ বিলিয়ন রিয়াল এবং ২৭.৪৭ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয়। দাম্মাম ৬৩৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৯.৮৬ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে তৃতীয়। মক্কা ৫০৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৯.৫২ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে চতুর্থ। মদিনা ৪৯৫.৫ মিলিয়ন রিয়াল এবং ৯.৩২ মিলিয়ন লেনদেন নিয়ে পঞ্চম।

রিয়াদের লেনদেন সংখ্যা ৮১.৬ মিলিয়ন, যা জেদ্দার ২৭.৪৭ মিলিয়নের প্রায় তিন গুণ। ব্যয়ের দিক থেকেও রিয়াদ জেদ্দার প্রায় ২.৬৪ গুণ। এই ব্যবধান রাজধানীর অর্থনৈতিক কেন্দ্রীভবনের সূচক।

মক্কা ও মদিনার লেনদেন সংখ্যা প্রায় সমান (৯.৫২ মিলিয়ন ও ৯.৩২ মিলিয়ন) এবং ব্যয়ও কাছাকাছি (৫০৩.৩ মিলিয়ন ও ৪৯৫.৫ মিলিয়ন)। দাম্মামের লেনদেন সংখ্যা ৯.৮৬ মিলিয়ন, যা মক্কা ও মদিনার চেয়ে বেশি, কিন্তু ব্যয় ৬৩৯.৯ মিলিয়ন, যা মক্কা ও মদিনার চেয়ে বেশি।

সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়। ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত। আগের সপ্তাহের মোট ১৩.৫৩ বিলিয়ন রিয়ালের তুলনায় এই সপ্তাহে ৬.৮ শতাংশ হ্রাস। এই হ্রাসের কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

সৌদি আরবের পিওএস ব্যবস্থা দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট রূপান্তরের একটি অংশ। সাপ্তাহিক লেনদেনের তথ্য ভোক্তা ব্যয়ের প্রবণতা বুঝতে সহায়ক। ২৪৬.৪২ মিলিয়ন লেনদেন এবং ১২.৬ বিলিয়ন রিয়াল মূল্য দেশের বাজারের সক্রিয়তার প্রমাণ।

খাদ্য, রেস্তোরাঁ, জ্বালানি, পরিবহন, পোশাক ও স্বাস্থ্য—এই ছয়টি খাত মিলিয়ে মোট ব্যয় প্রায় ৬.৯৩ বিলিয়ন রিয়াল, যা মোট ব্যয়ের বড় অংশ। বাকি খাতগুলো মিলিয়ে বাকি অংশ। এই বিন্যাস নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতের প্রাধান্য দেখায়।

পেশাদার সেবা, নির্মাণ, আসবাব, গহনা, বিনোদন, বেকারি, হোটেল, টেলিযোগাযোগ, ইলেকট্রনিকস, শিক্ষা, ইউটিলিটি ও লন্ড্রি—এই খাতগুলোর সম্মিলিত ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। এই বৈচিত্র্য সৌদি অর্থনীতির বহুমুখী চাহিদার প্রতিফলন।

রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, মক্কা ও মদিনা—এই পাঁচ শহরের মোট ব্যয় প্রায় ৭.৭২ বিলিয়ন রিয়াল, যা মোট ব্যয়ের বড় অংশ। বাকি শহর ও অঞ্চলের তথ্য প্রতিবেদনে আলাদাভাবে দেওয়া হয়নি।

সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে মূল্য, লেনদেন সংখ্যা, খাত ও শহরভিত্তিক তথ্য রয়েছে। তবে হ্রাসের কারণ, মৌসুমি প্রভাব, ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস বা দীর্ঘমেয়াদি তুলনা নেই। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিবেদনটি সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র।

সাপ্তাহিক পিওএস লেনদেনের মোট মূল্য ও লেনদেন সংখ্যা কত? সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পিওএস লেনদেনের মোট মূল্য ১২.৬ বিলিয়ন রিয়াল এবং লেনদেন সংখ্যা ২৪৬.৪২ মিলিয়ন। আগের সপ্তাহে মোট মূল্য ছিল ১৩.৫৩ বিলিয়ন রিয়াল, অর্থাৎ এই সপ্তাহে ৬.৮ শতাংশ হ্রাস হয়েছে। এসপিএ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

কোন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে? খাদ্য ও পানীয় খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে ২.২২ বিলিয়ন রিয়াল, যা ৫৯.১৪ মিলিয়ন লেনদেনে সম্পন্ন। এরপর রেস্তোরাঁ ও ক্যাফে খাতে ১.৬৫ বিলিয়ন রিয়াল (৫৯.৫৬ মিলিয়ন লেনদেন) এবং জ্বালানি স্টেশনে ৯৯৮.২ মিলিয়ন রিয়াল (১৭.৯৭ মিলিয়ন লেনদেন) ব্যয় হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই তিন খাত শীর্ষে রয়েছে।

শহরভিত্তিক লেনদেনের চিত্র কী? রিয়াদ শীর্ষে রয়েছে ৪.৪১ বিলিয়ন রিয়াল নিয়ে, যা ৮১.৬ মিলিয়ন লেনদেনে সম্পন্ন। এরপর জেদ্দা ১.৬৭ বিলিয়ন রিয়াল (২৭.৪৭ মিলিয়ন), দাম্মাম ৬৩৯.৯ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৮৬ মিলিয়ন), মক্কা ৫০৩.৩ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৫২ মিলিয়ন) এবং মদিনা ৪৯৫.৫ মিলিয়ন রিয়াল (৯.৩২ মিলিয়ন)। এসপিএ এই তথ্য দিয়েছে।

গহনা খাতে লেনদেনের বৈশিষ্ট্য কী? গহনা খাতে মোট ব্যয় ৩৫৭.৫ মিলিয়ন রিয়াল, কিন্তু লেনদেন সংখ্যা মাত্র ৩৩৪,০০০। এটি অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক কম লেনদেনে উচ্চ মূল্যের ব্যয় নির্দেশ করে। এসপিএ জানিয়েছে, গহনা খাতের এই তথ্য সাপ্তাহিক পিওএস প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত।

প্রতিবেদনে কী তথ্য অনুপস্থিত? সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে ৬.৮ শতাংশ হ্রাসের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি। মৌসুমি প্রভাব, ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস বা দীর্ঘমেয়াদি তুলনামূলক বিশ্লেষণও নেই। এসপিএ শুধু সাপ্তাহিক তথ্য দিয়েছে; হ্রাসের পেছনের কারণ বা পরবর্তী সপ্তাহের পূর্বাভাস সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।