রামাল্লা থেকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি গাজা উপত্যকায় চলমান আগ্রাসন ও অবরোধের মধ্যে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায় ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষের ওপর চাপিয়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে, অথচ তাদের নিরাপদ আশ্রয়, গরম করার ব্যবস্থা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস নেই।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৮ নভেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েলি লঙ্ঘন বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণে বাধ্য করা, সব সীমান্ত ক্রসিং খুলে মানবিক, চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তার অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানের দাবি জানিয়েছে।
প্রেসিডেন্সি বলেছে, ফিলিস্তিনিদের অব্যাহত মানবিক দুর্ভোগ ও জীবনের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হলো দখলদারিত্বের চলমান আগ্রাসী নীতি, মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা মেনে না চলা। এ অবস্থায় দুর্ভোগ শেষ করতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের অবস্থা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা কি কল্পনা করা যায়? বৃষ্টির পানিতে তাঁবু ডুবে যাওয়া মানে শুধু ভেজা মাটি নয়, সেটি মানে আশ্রয়হীনতা, শীতের হাত থেকে বাঁচার উপায়হীনতা এবং রোগের ঝুঁকি। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের একক ফল নয়; বরং এটি অবরোধ ও আগ্রাসনের ধারাবাহিকতার সরাসরি পরিণতি।
প্রেসিডেন্সি স্পষ্ট করেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় নেই, গরম করার ব্যবস্থা নেই, এমনকি খাদ্য, পানি ও ওষুধের মতো মৌলিক উপকরণও নেই। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এখনই হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে পরিস্থিতি আর কতদূর গড়াবে? জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের আহ্বান তাই কেবল রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, এটি একটি জরুরি মানবিক আবেদন।
নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি চার দফা দাবি
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির আহ্বানে চারটি মূল দাবি স্পষ্ট। প্রথমত, ইসরায়েলি লঙ্ঘন বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি সরকারকে তার বাধ্যবাধকতা পূরণে বাধ্য করতে হবে। তৃতীয়ত, সব সীমান্ত ক্রসিং খুলে দিতে হবে, যাতে মানবিক, চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তা কোনো বাধা ছাড়াই গাজায় প্রবেশ করতে পারে। চতুর্থত, ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এই চার দফা দাবির প্রতিটি কি একে অপরের সঙ্গে জড়িত নয়? সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ থাকলে ত্রাণ ঢুকবে না, ত্রাণ না ঢুকলে হাসপাতাল চলবে না, ওষুধ পৌঁছাবে না, খাদ্য সংকট বাড়বে। আর আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ছাড়া বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রেসিডেন্সির ভাষায়, এই দুর্ভোগ কেবল অবহেলার ফল নয়, এটি নীতি ও সিদ্ধান্তের ফল।
এসপিএ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি দখলদার কর্তৃপক্ষকে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করেছে। তাদের মতে, অবরোধ ও আগ্রাসন একসঙ্গে চলছে, আর এর মধ্যেই বাস্তুচ্যুত মানুষদের জীবনযাত্রা দিন দিন অমানবিক হয়ে উঠছে। বৃষ্টির পানিতে তাঁবু প্লাবিত হওয়ার ঘটনা সেই বাস্তবতার একটি দৃশ্যমান উদাহরণ, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ দাবি করে।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও ট্রাম্প পরিকল্পনা মানা হয়নি
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি আরও বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা মানা হয়নি। এই অমান্যতার ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। প্রেসিডেন্সির মতে, এই পরিস্থিতিতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ছাড়া দুর্ভোগ শেষ হওয়ার কোনো পথ নেই।
প্রশ্ন উঠতে পারে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ও পরিকল্পনা থাকার পরও বাস্তবে তা কার্যকর না হলে দায় কার? ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের উত্তর স্পষ্ট: দখলদার কর্তৃপক্ষ তার বাধ্যবাধকতা মানছে না, আর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ যথেষ্ট নয়। এই দুইয়ের মিলিত ফলেই গাজার মানুষ মৌলিক জীবনধারণের উপকরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই সংকটকে শুধু গাজার অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে দেখছে না; বরং এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরছে। কারণ, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত না মানা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।
বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ
বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হওয়ার ঘটনা গাজার মানবিক সংকটের তীব্রতা তুলে ধরে। নিরাপদ আশ্রয় নেই, গরম করার ব্যবস্থা নেই, মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস নেই। শীত, বৃষ্টি ও অবরোধের মধ্যে এই মানুষগুলো কীভাবে বেঁচে থাকবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাবদিহি চাইছে।
প্রেসিডেন্সির বক্তব্য অনুযায়ী, এই দুর্ভোগ দখলদারিত্বের চলমান আগ্রাসী নীতি, মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত না মানার সরাসরি ফল। অর্থাৎ, সমস্যাটি কেবল ত্রাণের অভাব নয়, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অভাবও। এই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
এসপিএ জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে যে আহ্বান জানিয়েছে, তা চারটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে। লঙ্ঘন বন্ধ, বাধ্যবাধকতা পূরণে বাধ্য করা, ক্রসিং খোলা এবং আন্তর্জাতিক সুরক্ষা। এই চারটি দাবি একসঙ্গে পূরণ না হলে গাজার মানবিক সংকট কাটবে না বলে প্রেসিডেন্সি মনে করছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির আহ্বান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যদি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে গাজার মানুষ আরও দুর্ভোগে পড়বে। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি কেবল বিবৃতি দিয়েই দায় এড়াবে, নাকি বাস্তব পদক্ষেপ নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি দখলদার কর্তৃপক্ষকে গাজার মানবিক বিপর্যয়ের জন্য সম্পূর্ণ দায়ী করেছে। সেই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। এই দাবির মূল ভিত্তি হলো, মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত না মানা আন্তর্জাতিক আইন ও নৈতিকতার পরিপন্থী।
গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, গরম করার ব্যবস্থা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস নিশ্চিত করা কেন এত কঠিন? ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির মতে, এর কারণ অবরোধ ও আগ্রাসন। এই দুইয়ের কারণে ত্রাণ প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, আর মানুষ মৌলিক জীবনধারণের উপকরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
দুর্ভোগ শেষ করার পথ
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি স্পষ্ট করেছে, ফিলিস্তিনিদের অব্যাহত মানবিক দুর্ভোগ ও মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ দখলদারিত্বের চলমান আগ্রাসী নীতি, মানবিক ও ত্রাণ সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা না মানা। এই কারণগুলো চিহ্নিত করে তারা জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির আহ্বান কেবল একটি বিবৃতি নয়; এটি একটি রাজনৈতিক ও মানবিক দাবি, যা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পেশ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নিরাপত্তা পরিষদ এই আহ্বানে সাড়া দেয় কি না। সাড়া না দিলে গাজার মানবিক সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয়, গরম করার ব্যবস্থা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব গাজার মানবিক বিপর্যয়ের একটি অংশ। এই বিপর্যয়ের জন্য ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি দখলদার কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
এসপিএ-র এই প্রতিবেদনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য পদক্ষেপ, সময়সীমা বা কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। তেমনই, ত্রাণ সহায়তার পরিমাণ, ক্রসিং খোলার সময়সূচি বা আন্তর্জাতিক সুরক্ষার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু উল্লেখ নেই। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সির আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি কী দাবি করেছে? ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে ইসরায়েলি লঙ্ঘন বন্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ, ইসরায়েলি সরকারকে বাধ্যবাধকতা পূরণে বাধ্য করা, সব সীমান্ত ক্রসিং খুলে মানবিক, চিকিৎসা ও ত্রাণ সহায়তার অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রদানের দাবি জানিয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই দাবি গাজার মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে জানানো হয়েছে।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি কেমন? এসপিএ জানিয়েছে, গাজায় বাস্তুচ্যুত মানুষের তাঁবু বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়েছে এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয়, গরম করার ব্যবস্থা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিস নেই। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি এই অবস্থার জন্য দখলদার কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছে। তাদের মতে, অবরোধ ও আগ্রাসনের কারণে এই দুর্ভোগ চলছে এবং আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে কী বলা হয়েছে? ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি বলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনা মানা হয়নি। এই অমান্যতার ফলে মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্সি এই পরিস্থিতিতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে, যাতে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ শেষ হয়।





