Wednesday, October 28, 2026
সৌদি সংবাদ

আল-খোবরে ২০ কিলোমিটার সড়কে ২০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু

আল-খোবরে ২০ কিলোমিটার সড়কে ২০ হাজার গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু

পূর্বাঞ্চল পৌরসভা আল-খোবর গভর্নরেটে চলতি কৃষি মৌসুমের গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। এতে ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কের পাশে গাছ লাগানো হবে, ২০ হাজারের বেশি গাছ ও এক লাখ গুল্ম রোপণ করা হবে এবং ৬০ হাজার বর্গমিটারের বেশি সবুজ এলাকা সম্প্রসারিত হবে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, পৌরসভা বলেছে এই উদ্যোগ আল-খোবরের নগর পরিবেশ উন্নত করা, গাছ ও সবুজ এলাকার বিস্তার বাড়ানো এবং আরও বাসযোগ্য, মানুষকেন্দ্রিক শহর গড়ার পরিকল্পনার অংশ।

কর্মসূচির মূল উপাদানের মধ্যে আছে ছায়াদানকারী গাছের সংখ্যা বাড়ানো, আবাসিক এলাকায় উদ্ভিদের বিস্তার সম্প্রসারণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন। এসপিএ জানিয়েছে, এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য শহরের আকর্ষণ ও বায়ুর মান উন্নত করা, নগরের চরিত্র সংরক্ষণ করা এবং মাথাপিছু সবুজ এলাকার অংশ বাড়ানো।

এসপিএ আরও জানিয়েছে, এসব কার্যক্রম পৌরসভা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের কৌশলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কজুড়ে গাছ লাগানো মানে কী—শহরের প্রতিদিনের চলাচলের পথগুলোই কি ধীরে ধীরে সবুজ ছায়ার নিচে ঢেকে যাবে?

আল-খোবর গভর্নরেটের সড়ক ও আবাসিক এলাকায় একসঙ্গে এত গাছ ও গুল্ম লাগানোর কাজ চলতি কৃষি মৌসুমে সম্পন্ন হবে বলে এসপিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে গাছের প্রজাতি, রোপণের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা বাজেটের কোনো উল্লেখ নেই।

শহরের পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ছায়াদানকারী গাছের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকায় উদ্ভিদের বিস্তার বাড়ানোও কর্মসূচির অংশ।

মাথাপিছু সবুজ এলাকার অংশ বাড়ানোর লক্ষ্যটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। শহরে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়লে মাথাপিছু সবুজের হিসাব কমে যায়; নতুন করে ৬০ হাজার বর্গমিটারের বেশি সবুজ এলাকা যোগ হলে সেই হিসাবে কী পরিবর্তন আসবে?

পৌরসভা বলেছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য আল-খোবরকে আরও বাসযোগ্য ও মানুষকেন্দ্রিক শহরে পরিণত করা। বায়ুর মান উন্নয়ন ও নগরের চরিত্র সংরক্ষণও এর লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে।

পৌরসভা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে এসপিএ জানিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের কোন নির্দিষ্ট কৌশল বা লক্ষ্যমাত্রার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

২০ হাজার গাছ ও এক লাখ গুল্ম—এই দুই সংখ্যার মধ্যে পার্থক্যটি লক্ষণীয়। গাছ দীর্ঘমেয়াদে ছায়া ও পরিবেশগত সুবিধা দেয়, আর গুল্ম দ্রুত মাটি ঢেকে সবুজ আচ্ছাদন তৈরি করে। শহরের সৌন্দর্য ও বায়ুর মান—দুটোই কি একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব হবে?

আল-খোবর গভর্নরেটের সড়কগুলোতে ২০ কিলোমিটারের বেশি পথজুড়ে গাছ লাগানোর কাজ কেমন করে পরিচালিত হবে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়নি। কোন সড়কগুলো এর আওতায় পড়বে, সে তথ্যও এসপিএ দেয়নি।

আবাসিক এলাকায় উদ্ভিদের বিস্তার বাড়ানোর কথা বলা হলেও কোন কোন এলাকা বা মহল্লা এর আওতায় আসবে, তা স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা কীভাবে এই পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করবেন, সে প্রশ্নও থেকে যায়।

শহরের আকর্ষণ বাড়ানো এই কর্মসূচির একটি লক্ষ্য। পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আল-খোবরের চেহারা কতটা বদলাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে সবুজ এলাকা বাড়লে শহরের দৃশ্যপট যে বদলাবে, তা সহজেই অনুমেয়।

বায়ুর মান উন্নয়নের প্রশ্নে গাছের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শহুরে পরিবেশে গাছ ধুলা ও দূষণ কমাতে সহায়ক হতে পারে—এই যুক্তিতে পৌরসভা বায়ুর মান উন্নয়নের লক্ষ্য সামনে রেখেছে। কিন্তু কতটা উন্নতি হবে, তার কোনো পরিমাপ এসপিএর প্রতিবেদনে নেই।

নগরের চরিত্র সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। আল-খোবরের নিজস্ব নগর পরিচয়ের সঙ্গে নতুন সবুজায়ন কীভাবে মিলবে, তা নিয়ে পরিকল্পনা থাকলেও প্রতিবেদনে তার বিবরণ নেই।

চলতি কৃষি মৌসুমে এই কাজ শুরু হয়েছে। মৌসুম কত দিন চলবে, বা রোপণের কাজ কখন শেষ হবে—এসপিএ এসব তথ্য দেয়নি।

এক লাখ গুল্ম রোপণের পরিকল্পনা শহরের সবুজ আচ্ছাদন দ্রুত বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে গুল্মের প্রজাতি, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা বা সেচের উৎস সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

২০ হাজার গাছের মধ্যে ছায়াদানকারী গাছের সংখ্যা কত, তাও স্পষ্ট নয়। পৌরসভা ছায়াদানকারী গাছের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছে, কিন্তু মোট সংখ্যার মধ্যে তার অনুপাত উল্লেখ করেনি।

৬০ হাজার বর্গমিটারের বেশি সবুজ এলাকা সম্প্রসারণের লক্ষ্যটি উল্লেখযোগ্য। এই এলাকা নতুন পার্ক, সড়কসংলগ্ন সবুজ ফালি নাকি আবাসিক এলাকার ভেতরের উদ্যান—কোথায় যোগ হবে, তা প্রতিবেদনে বলা হয়নি।

মাথাপিছু সবুজ এলাকার অংশ বাড়ানো একটি পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য। তবে বর্তমানে আল-খোবরে মাথাপিছু সবুজ এলাকা কত, সে তথ্য এসপিএ দেয়নি। ফলে কতটা অগ্রগতি হবে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা কঠিন।

পৌরসভা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যের কথা বলা হয়েছে। এই কৌশলগুলোতে সবুজায়ন ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত রয়েছে, তবে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

আল-খোবরের বাসিন্দাদের জন্য এই কর্মসূচি কী বাস্তব পরিবর্তন আনবে—সড়কে বেশি ছায়া, আবাসিক এলাকায় বেশি সবুজ, নাকি বায়ুর মানে অনুভূত উন্নতি? তিনটি লক্ষ্যই ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু কোনটির অগ্রাধিকার বেশি, তা স্পষ্ট নয়।

শহরের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রশ্নে সবুজ এলাকার ভূমিকা নিয়ে গবেষণা ও নীতি—দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। পৌরসভা এই উদ্যোগকে সেই দিকেই একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

সড়কের পাশে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন গাছ ও গুল্ম কে দেখভাল করবে, পানি সরবরাহের ব্যবস্থা কী হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রতিবেদনে নেই।

এসপিএর প্রতিবেদনে কর্মসূচির ব্যয়, ঠিকাদার, রোপণের নির্দিষ্ট তারিখ বা পর্যায়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার কোনো উল্লেখ নেই। শুধু ঘোষিত পরিসংখ্যান ও উদ্দেশ্যগুলোই তুলে ধরা হয়েছে।

আল-খোবর গভর্নরেটে চলতি কৃষি মৌসুমে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে—এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে শহরের সবুজায়নে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়ক, ২০ হাজারের বেশি গাছ, এক লাখ গুল্ম ও ৬০ হাজার বর্গমিটারের বেশি সবুজ এলাকা—এই লক্ষ্যগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়, তা দেখার বিষয়।

আল-খোবরে কী কী রোপণ করা হবে? পূর্বাঞ্চল পৌরসভা আল-খোবর গভর্নরেটে ২০ হাজারের বেশি গাছ ও এক লাখ গুল্ম রোপণ করবে। এসপিএ জানিয়েছে, ২০ কিলোমিটারের বেশি সড়কের পাশে গাছ লাগানো হবে এবং ৬০ হাজার বর্গমিটারের বেশি সবুজ এলাকা সম্প্রসারিত হবে। প্রতিবেদনে গাছের প্রজাতি বা রোপণের নির্দিষ্ট সময়সূচি উল্লেখ নেই।

এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কী? পৌরসভা বলেছে, উদ্যোগটি আল-খোবরের নগর পরিবেশ উন্নত করা, গাছ ও সবুজ এলাকার বিস্তার বাড়ানো এবং আরও বাসযোগ্য, মানুষকেন্দ্রিক শহর গড়ার পরিকল্পনার অংশ। এর মধ্যে ছায়াদানকারী গাছের সংখ্যা বাড়ানো, আবাসিক এলাকায় উদ্ভিদের বিস্তার সম্প্রসারণ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন রয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, বায়ুর মান ও শহরের আকর্ষণ উন্নত করাও লক্ষ্য।

কোন কৌশলের সঙ্গে এই উদ্যোগ সামঞ্জস্যপূর্ণ? এসপিএ জানিয়েছে, এই প্রচেষ্টা পৌরসভা ও আবাসন মন্ত্রণালয়ের কৌশলগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মাথাপিছু সবুজ এলাকার অংশ বাড়ানো এবং নগরের চরিত্র সংরক্ষণও এর লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়ের কোন নির্দিষ্ট কৌশল বা লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়নি।

কর্মসূচির ব্যয় বা সময়সূচি কী জানা গেছে? এসপিএর প্রতিবেদনে কর্মসূচির ব্যয়, ঠিকাদার বা পর্যায়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রার কোনো উল্লেখ নেই। চলতি কৃষি মৌসুমে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবে মৌসুম কত দিন চলবে বা রোপণ কখন শেষ হবে তা বলা হয়নি। কোন সড়ক বা আবাসিক এলাকা এর আওতায় পড়বে, সে তথ্যও প্রতিবেদনে নেই।