Wednesday, October 21, 2026
সৌদি সংবাদ

কেএফএসএইচ-এ এক সেশনে ১০ বছরের শিশুর ফুসফুস ধোয়া হলো, অক্সিজেন ৭৯% থেকে স্বাভাবিক

কেএফএসএইচ-এ এক সেশনে ১০ বছরের শিশুর ফুসফুস ধোয়া হলো, অক্সিজেন ৭৯% থেকে স্বাভাবিক

রিয়াদের কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (কেএফএসএইচ) প্রায় নয় ঘণ্টার একক সেশনে ১০ বছরের এক শিশুর পুরো ফুসফুস ধোয়ার (হোল-লাং ল্যাভাজ) প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। বিরল ফুসফুস রোগে আক্রান্ত শিশুটির রক্তে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন নেমে গিয়েছিল ৭৯ শতাংশে, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ। প্রক্রিয়ার পাঁচ দিন পর শিশুটিকে জটিলতা ছাড়াই স্থিতিশীল অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২১ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিকের অনেক নিচে নেমে যাওয়া এবং একটানা সম্পূরক অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছিল।

শিশুটির সমস্যা ছিল পালমোনারি অ্যালভিওলার প্রোটিনোসিস (পিএপি) নামের একটি বিরল রোগ, যেখানে ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রোটিন ও চর্বি জমে যায়। এই জমা রক্তে অক্সিজেনের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দেয়। শিশুটির অবস্থা এমন এক উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তাকে একটানা সম্পূরক অক্সিজেন ছাড়া চলা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এমন বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৭৯ শতাংশে নেমে যাওয়া কতটা উদ্বেগের, তা কি সহজে বোঝা যায়? স্বাভাবিক মাত্রার সঙ্গে তুলনা করলে এই ব্যবধান স্পষ্ট, আর ঠিক সেই কারণেই চিকিৎসা দলের সামনে সময়ের চাপ ছিল।

এসপিএ জানিয়েছে, শিশুটির দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, তীব্র ক্লান্তি, হাঁটতে অসুবিধা এবং ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এই লক্ষণগুলোই ধীরে ধীরে তার দৈনন্দিন জীবনকে সীমিত করে তুলছিল।

চিকিৎসা দল প্রক্রিয়াটি চালিয়েছিল একটি বিশেষ নলের সাহায্যে, যা দিয়ে প্রতিটি ফুসফুসকে আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতে একটি ফুসফুস দিয়ে ভেন্টিলেশন চালু রাখা হয়, আর অন্যটি ধোয়া হয়। এভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ফুসফুসের ভেতরের জমা পদার্থ সরানো সম্ভব হয়।

দলটি প্রথমে উষ্ণ স্যালাইন দিয়ে ধাপে ধাপে প্রথম ফুসফুস ধুয়ে ফেলে জমা পদার্থ সরায়। তরল বারবার নিষ্কাশন ও পুনরায় ভরাট করা হয়, যতক্ষণ না তা প্রায় পরিষ্কার হয়ে আসে। এরপর একই প্রক্রিয়া দ্বিতীয় ফুসফুসেও সম্পন্ন করা হয়।

একটি ফুসফুস ধোয়ার সময় অন্যটি দিয়ে শ্বাস চালু রাখা কতটা সূক্ষ্ম কাজ, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কারণ, এই ভারসাম্য একবার বিচ্যুত হলে রোগীর অক্সিজেন সরবরাহে সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

প্রক্রিয়ার পর শিশুটিকে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যেখানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকে। পরবর্তী দিনগুলোতে তার সম্পূরক অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা প্রতি মিনিটে ৪.৫ লিটার থেকে কমে এক লিটারে নেমে আসে। এরপর তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

অক্সিজেনের চাহিদা এভাবে কমে আসা কেন চিকিৎসার সাফল্যের বড় সংকেত? কারণ, এটি সরাসরি দেখায় যে ফুসফুস আবার রক্তে অক্সিজেন পাঠানোর কাজ আগের চেয়ে ভালোভাবে করতে পারছে।

এই সফল প্রক্রিয়াটি বিরল ও জটিল শিশু-ফুসফুস রোগের চিকিৎসায় কেএফএসএইচ-এর সক্ষমতা তুলে ধরে। প্রতিটি ফুসফুসকে স্বতন্ত্রভাবে ভেন্টিলেশন দেওয়া প্রয়োজন হয় এমন সূক্ষ্ম হস্তক্ষেপ করার সামর্থ্যও এতে প্রকাশ পায়, যা উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এমন রোগীদের ব্যবস্থাপনা সম্ভব করে।

এসপিএ আরও জানিয়েছে, কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম এবং বিশ্বে ১২তম স্থানে রয়েছে।

একটি শিশুর ফুসফুস ধোয়ার মতো জটিল প্রক্রিয়া একক সেশনেই সম্পন্ন করা কতটা কঠিন, তা ভাবলে চিকিৎসা দলের প্রস্তুতির গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। প্রায় নয় ঘণ্টার এই সেশন এবং তার পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণ—দুটোই একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

পিএপি রোগে ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রোটিন ও চর্বি জমা হওয়ার বিষয়টি এসপিএ উল্লেখ করেছে। এই জমা অক্সিজেনের দক্ষ পরিবহন রোধ করে, আর তাই রোগীর শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। শিশুটির ক্ষেত্রে অবস্থা এতটাই অগ্রসর হয়েছিল যে সম্পূরক অক্সিজেন তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিশেষ নলটি প্রতিটি ফুসফুসকে আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ দেয়। এই কৌশলেই এক ফুসফুস ধোয়ার সময় অন্যটি দিয়ে শ্বাস চালু রাখা সম্ভব হয়। উষ্ণ স্যালাইন ধাপে ধাপে ব্যবহার করে জমা পদার্থ সরানো হয় এবং তরল প্রায় পরিষ্কার হওয়া পর্যন্ত নিষ্কাশন ও পুনঃভরাট চলতে থাকে।

দুই ফুসফুসের ক্ষেত্রেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এরপর রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের উন্নতি এবং অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা হ্রাসই ছিল পরবর্তী পর্যবেক্ষণের মূল সূচক।

একটি বিরল রোগের চিকিৎসায় এ ধরনের সাফল্য কি ভবিষ্যতে অনুরূপ রোগীদের জন্য পথ দেখাবে না? এসপিএ-র প্রতিবেদনে সেই সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত রয়েছে, যদিও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

শিশুটির ছাড়া পাওয়ার সময় স্থিতিশীল অবস্থা এবং জটিলতার অনুপস্থিতি—এই দুটি তথ্যই এসপিএ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ দিনের হাসপাতালে অবস্থানও প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্রক্রিয়ার খরচ, চিকিৎসা দলের সদস্যদের নাম, ব্যবহৃত স্যালাইনের পরিমাণ বা শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এসব দিক প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।

শিশুটির কী রোগ ছিল এবং তা কীভাবে ক্ষতি করছিল? শিশুটির ছিল পালমোনারি অ্যালভিওলার প্রোটিনোসিস (পিএপি), একটি বিরল রোগ যেখানে ফুসফুসের বায়ুথলিতে প্রোটিন ও চর্বি জমে যায়। এই জমা রক্তে অক্সিজেনের দক্ষ পরিবহন রোধ করে। এসপিএ জানিয়েছে, শিশুটির রক্তে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন ৭৯ শতাংশে নেমে গিয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রা ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশ। অবস্থা অগ্রসর হওয়ায় সে একটানা সম্পূরক অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।

প্রক্রিয়াটি কীভাবে সম্পন্ন করা হয়েছিল? চিকিৎসা দল একটি বিশেষ নল ব্যবহার করে প্রতিটি ফুসফুস আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করে। এতে একটি ফুসফুস দিয়ে ভেন্টিলেশন চালু রেখে অন্যটি ধোয়া হয়। প্রথমে উষ্ণ স্যালাইন দিয়ে ধাপে ধাপে প্রথম ফুসফুস ধুয়ে জমা পদার্থ সরানো হয়, তরল বারবার নিষ্কাশন ও পুনরায় ভরাট করা হয় যতক্ষণ না তা প্রায় পরিষ্কার হয়। এরপর একই প্রক্রিয়া দ্বিতীয় ফুসফুসে চালানো হয়।

প্রক্রিয়ার পর শিশুটির অবস্থার কী পরিবর্তন হয়? প্রক্রিয়ার পর শিশুটিকে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, যেখানে তার শ্বাস-প্রশ্বাস ধীরে ধীরে উন্নত হয়। এসপিএ জানিয়েছে, পরবর্তী দিনগুলোতে তার সম্পূরক অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা প্রতি মিনিটে ৪.৫ লিটার থেকে কমে এক লিটারে নেমে আসে। পাঁচ দিন পর তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয় এবং কোনো জটিলতা দেখা যায়নি।

এই সাফল্য হাসপাতালের সামর্থ্য সম্পর্কে কী বোঝায়? এসপিএ জানিয়েছে, এই সফল প্রক্রিয়া বিরল ও জটিল শিশু-ফুসফুস রোগের চিকিৎসায় কেএফএসএইচ-এর সক্ষমতা তুলে ধরে। প্রতিটি ফুসফুসকে স্বতন্ত্রভাবে ভেন্টিলেশন দেওয়া প্রয়োজন হয় এমন সূক্ষ্ম হস্তক্ষেপ করার সামর্থ্যও এতে প্রকাশ পায়। এতে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হয় এমন রোগীদের ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয়। এসপিএ আরও জানায়, হাসপাতালটি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম এবং বিশ্বে ১২তম স্থানে রয়েছে।

শিশুটির প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী ছিল? এসপিএ জানিয়েছে, শিশুটির দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, তীব্র ক্লান্তি, হাঁটতে অসুবিধা এবং ওজন কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এসব লক্ষণ ধীরে ধীরে তার দৈনন্দিন জীবনকে সীমিত করে তোলে। অবস্থা অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছানোর পর সে একটানা সম্পূরক অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। রক্তে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন ৭৯ শতাংশে নেমে যাওয়াই ছিল উদ্বেগের প্রধান কারণ।

এসপিএ-র প্রতিবেদনে কী কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্রক্রিয়ার খরচ, চিকিৎসা দলের সদস্যদের নাম, ব্যবহৃত স্যালাইনের পরিমাণ বা শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রক্রিয়াটি প্রায় নয় ঘণ্টার একক সেশনে সম্পন্ন হয়েছিল এবং শিশুটিকে পাঁচ দিন পর ছেড়ে দেওয়া হয়—এই তথ্য প্রতিবেদনে রয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা অনুরূপ রোগীদের সংখ্যা নিয়েও বিস্তারিত কিছু উল্লেখ করা হয়নি।