নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে সিরিয়ায় ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়ের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে যৌথ নির্বাহী কর্মসূচিতে স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তির আওতায় ৯৮৭টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সংস্কার করে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য আবাসস্থল তৈরি করা হবে এবং ১০,৭৬৮টি শীতকালীন কিট বিতরণ করা হবে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা এবং কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার (কেএসরিলিফ)-এর সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ আল-রাবিইয়াহ গতকাল জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ-এর সঙ্গে এই যৌথ নির্বাহী কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির লক্ষ্য আগামী শীতকালে নিজ দেশে ফিরে আসা সিরীয় পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়ের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা। স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির আওতায় ৯৮৭টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সংস্কার করা হবে, যাতে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য জীবনযাপনের স্থান তৈরি হয়। এ ছাড়া ১০,৭৬৮টি শীতকালীন কিট বিতরণ করা হবে, যেগুলোতে উচ্চ তাপ-নিরোধক কম্বল, প্লাস্টিক শিটিং (টারপলিন) এবং শীতকালীন পোশাক ও জ্যাকেট থাকবে। এই কিটগুলোর উদ্দেশ্য পরিবারগুলোকে তীব্র শীতের হাত থেকে রক্ষা করা। এই প্রচেষ্টায় মোট ৫৮,৬২৫ জন উপকৃত হবেন, যাদের মধ্যে প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষ, নারী প্রধান পরিবার, বিধবা, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা রয়েছেন। সহায়তা কার্যক্রম আলেপ্পো, রিফ দিমাশক (গ্রামীণ দামেস্ক), দেইর আজ-জোর, ইদলিব ও হোমস গভর্নরেটে পরিচালিত হবে।
এই চুক্তি সৌদি আরবের প্রচেষ্টার অংশ, যা কেএসরিলিফের মাধ্যমে সিরীয় পরিবারগুলোকে স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে এবং স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়তা করে। এর লক্ষ্য এমন একটি জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরি করা, যা মর্যাদা ও নিরাপত্তার জীবন নিশ্চিত করে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর সহনশীলতা বাড়ায়।
সিরিয়ায় ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য শীতকাল সবচেয়ে কঠিন সময়। যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘ বছর পেরিয়ে যারা নিজ বাড়িতে ফিরছেন, তাদের অনেকের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, জানালা-দরজা ভাঙা, ছাদ চুঁইয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে শীতের তীব্রতা কীভাবে সহ্য করবেন তাঁরা? কেএসরিলিফের এই প্রকল্প ঠিক সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইছে—সংস্কার করা বাড়ি এবং শীতকালীন কিট একসঙ্গে মিলিয়ে।
৯৮৭টি বাড়ির সংস্কার শুধু ইট-পাথরের কাজ নয়। এতে পরিবারগুলো আবার নিজেদের চার দেয়ালের মধ্যে ফিরে দাঁড়াতে পারবেন, যা মানসিক স্থিতিশীলতার জন্যও জরুরি। প্রশ্ন হলো, এই সংখ্যাটি কি যথেষ্ট? সিরিয়ায় ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা কত, তা এসপিএ প্রতিবেদনে বলা হয়নি। তবে যেসব গভর্নরেটে কাজ হবে—আলেপ্পো, রিফ দিমাশক, দেইর আজ-জোর, ইদলিব ও হোমস—সেগুলো সিরিয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর এলাকা হিসেবে পরিচিত।
১০,৭৬৮টি শীতকালীন কিটের প্রতিটিতে উচ্চ তাপ-নিরোধক কম্বল, টারপলিন এবং শীতকালীন পোশাক ও জ্যাকেট থাকবে। তীব্র শীতের মধ্যে টারপলিন কীভাবে জীবন বাঁচায়? এটি বাতাস ও বৃষ্টি ঠেকিয়ে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা ধরে রাখে। কম্বল ও জ্যাকেট সরাসরি শরীরকে উষ্ণ রাখে। এসব কিট ৫৮,৬২৫ জনের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যাদের মধ্যে নারী প্রধান পরিবার, বিধবা, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা আছেন।
নারী প্রধান পরিবার ও বিধবাদের অগ্রাধিকার দেওয়া এই প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। যুদ্ধ ও সংঘাতের পর এমন পরিবারগুলো প্রায়ই সবচেয়ে বেশি অসহায় থাকেন। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরাও শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রশ্ন হলো, এই সহায়তা কি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা দেবে, নাকি এটি শুধু একটি মৌসুমি ত্রাণ? এসপিএ জানিয়েছে, চুক্তির লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক আশ্রয় নয়, বরং স্থিতিশীলতা অর্জন ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।
স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন—এই শব্দবন্ধটি গুরুত্বপূর্ণ। সিরীয় পরিবারগুলো যেন নিজ ইচ্ছায় ফিরতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করাই লক্ষ্য। জোর করে ফেরানো নয়। প্রশ্ন হলো, স্বেচ্ছায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো নিরাপত্তা ও পরিষেবা কি তাঁরা পাবেন? কেএসরিলিফের এই কর্মসূচি সেই পথের একটি ধাপ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে এই চুক্তি স্বাক্ষর তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কেএসরিলিফের সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ আল-রাবিইয়াহ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ—দুই পক্ষের এই স্বাক্ষর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের চুক্তি মাঠপর্যায়ে কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে?
সৌদি আরবের মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতায় কেএসরিলিফের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। সিরিয়া সংকটে সৌদি আরবের সহায়তা নতুন নয়। তবে এই কর্মসূচির বিশেষত্ব হলো এটি প্রত্যাবর্তনকারীদের জন্য সরাসরি আশ্রয় ও শীত সুরক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছে। প্রশ্ন হলো, অন্যান্য দাতা দেশ ও সংস্থা কি এই মডেল অনুসরণ করবে?
আলেপ্পো, রিফ দিমাশক, দেইর আজ-জোর, ইদলিব ও হোমস—এই পাঁচটি গভর্নরেট বেছে নেওয়ার কারণ এসপিএ স্পষ্ট করেনি। তবে এসব এলাকায় বাস্তুচ্যুতির মাত্রা ও অবকাঠামোর ক্ষতি ব্যাপক বলে জানা যায়। সংস্কার কাজ স্থানীয় শ্রমিকদের জন্যও কাজের সুযোগ তৈরি করতে পারে, যদিও এসপিএ এই বিষয়ে কিছু বলেনি।
শীতকালীন কিট বিতরণের সময়সীমা, সংস্কার কাজের সময়সূচি, বাজেট বা অর্থায়নের উৎস—এসব বিষয়ে এসপিএ প্রতিবেদনে কোনো তথ্য নেই। প্রশ্ন হলো, এসব বিবরণ কবে প্রকাশিত হবে? তবুও চুক্তির মূল বিষয় স্পষ্ট: ৯৮৭টি বাড়ি, ১০,৭৬৮টি কিট এবং ৫৮,৬২৫ জন উপকৃত।
সিরিয়ার পরিবারগুলো বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় দিন কাটিয়েছেন। শীতের রাতে কম্বলের অভাবে শিশুরা কাঁপে, বয়স্করা অসুস্থ হন। এই প্রকল্প সেই কষ্ট কিছুটা লাঘব করবে বলে আশা করা যায়। প্রশ্ন হলো, ৫৮,৬২৫ জনের মধ্যে কতজন প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন? এসপিএ সেই বিশ্লেষণ দেয়নি।
কেএসরিলিফের এই কর্মসূচি শুধু একটি চুক্তি নয়; এটি সিরিয়ার ভবিষ্যতের জন্য একটি বার্তা—যে পরিবারগুলো ফিরতে চান, তাঁদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব। প্রশ্ন হলো, এই উদ্যোগ কি সিরিয়ার পুনর্গঠনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হয়ে উঠবে? এসপিএ এই সংযোগের কথা বলেনি, তবে মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কেএসরিলিফ ও জাতিসংঘের মধ্যে চুক্তিটি কী? রয়্যাল কোর্টের উপদেষ্টা ও কেএসরিলিফের সুপারভাইজার জেনারেল ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ আল-রাবিইয়াহ এবং জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ একটি যৌথ নির্বাহী কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির লক্ষ্য আগামী শীতকালে সিরিয়ায় ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্য আশ্রয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন। স্বাক্ষর হয় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে।
কতগুলো বাড়ি সংস্কার করা হবে এবং কোথায়? কর্মসূচির আওতায় ৯৮৭টি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সংস্কার করে নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য আবাসস্থল তৈরি করা হবে। কাজ হবে আলেপ্পো, রিফ দিমাশক (গ্রামীণ দামেস্ক), দেইর আজ-জোর, ইদলিব ও হোমস গভর্নরেটে। এসপিএ জানিয়েছে, এই সংস্কার সিরীয় পরিবারগুলোর স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন ও স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়তা করবে।
শীতকালীন কিটে কী থাকে এবং কতজন উপকৃত হবেন? ১০,৭৬৮টি শীতকালীন কিটে উচ্চ তাপ-নিরোধক কম্বল, প্লাস্টিক শিটিং (টারপলিন) এবং শীতকালীন পোশাক ও জ্যাকেট থাকবে। এসব কিট তীব্র শীত থেকে পরিবারগুলোকে রক্ষা করবে। মোট ৫৮,৬২৫ জন উপকৃত হবেন, যাদের মধ্যে প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষ, নারী প্রধান পরিবার, বিধবা, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা রয়েছেন।
এই সহায়তা কাদের জন্য অগ্রাধিকার পাবে? সহায়তা কার্যক্রমে প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষ, নারী প্রধান পরিবার, বিধবা, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার পাবেন। এসপিএ জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এবং তাদের সহনশীলতা বাড়ানোই লক্ষ্য। চুক্তির উদ্দেশ্য সিরীয় পরিবারগুলোর মর্যাদা ও নিরাপত্তার জীবন নিশ্চিত করা।
এই চুক্তি সৌদি আরবের কোন লক্ষ্যের অংশ? এটি সৌদি আরবের প্রচেষ্টার অংশ, যা কেএসরিলিফের মাধ্যমে সিরীয় পরিবারগুলোকে স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে এবং স্থিতিশীলতা অর্জনে সহায়তা করে। লক্ষ্য হলো মর্যাদা ও নিরাপত্তার জীবন নিশ্চিত করা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর সহনশীলতা বাড়ানো। এসপিএ অনুযায়ী, এটি মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতার অংশ।
এসপিএ প্রতিবেদনে কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএ প্রতিবেদনে সংস্কার কাজের সময়সূচি, শীতকালীন কিট বিতরণের নির্দিষ্ট তারিখ, প্রকল্পের বাজেট বা অর্থায়নের উৎস উল্লেখ নেই। এছাড়া সিরিয়ায় ফিরে আসা মোট পরিবারের সংখ্যা বা ৫৮,৬২৫ জনের মধ্যে কতজন সবচেয়ে বেশি সহায়তার প্রয়োজন—এসব বিশ্লেষণও দেওয়া হয়নি। শুধু চুক্তির মূল পরিসংখ্যান ও লক্ষ্য জানানো হয়েছে।





