Sunday, September 20, 2026
বিজ্ঞান

রোগ প্রতিরোধে প্রবাল প্রশিক্ষণ সম্ভব বলে দাবি KAUST বিজ্ঞানীদের

রোগ প্রতিরোধে প্রবাল প্রশিক্ষণ সম্ভব বলে দাবি KAUST বিজ্ঞানীদের

King Abdullah University of Science and Technology (KAUST)-এর বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে প্রবালগুলোকে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা প্রতিরোধ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব, যা বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীর রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৯ আগস্ট ২০২৬-এ জানিয়েছে, ISME Host Microbe-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রবালগুলোকে রোগ সৃষ্টিকারী প্যাথোজেনের উপ-মারাত্মক ডোজ বা নিষ্ক্রিয় রূপের সংস্পর্শে আনলে পরবর্তীতে ওই রোগের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়াটি ‘প্যাথোজেন প্রাইমিং’ নামে পরিচিত, যা অনেকটা ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মতো অ্যাডাপ্টিভ ইমিউন সিস্টেম না থাকা সত্ত্বেও প্রবালগুলো সুরক্ষামূলক ইমিউন মেমোরি-র মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। KAUST-এর মেরিন সায়েন্সের অধ্যাপক এবং গবেষণার সিনিয়র লেখক Raquel Peixoto জানান, প্যাথোজেনের সংস্পর্শে আসা প্রবালগুলো পুনরায় একই রোগ সৃষ্টিকারী উপাদানের মুখোমুখি হলে উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম হয়েছে।

এই সুরক্ষা প্রভাবটি কেবল প্রবালের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের সাথে নয়, বরং এর মাইক্রোবায়োমের সাথেও যুক্ত। লোহিত সাগরের প্রবাল ব্যবহার করে করা এই গবেষণার প্রেক্ষিতে গবেষক দল প্যাথোজেন প্রাইমিং ব্যবহারের জন্য একটি পেটেন্ট আবেদন জমা দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল বা সময়সীমা উল্লেখ নেই।

প্যাথোজেন প্রাইমিং কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে? প্যাথোজেন প্রাইমিং হলো প্রবালকে রোগ সৃষ্টিকারী প্যাথোজেনের উপ-মারাত্মক ডোজ বা নিষ্ক্রিয় রূপের সংস্পর্শে আনার প্রক্রিয়া। এটি ভ্যাকসিনের মতো কাজ করে, যার ফলে প্রবালগুলো পরবর্তীতে একই রোগের মুখোমুখি হলে তা প্রতিরোধ করতে সক্ষম হয়।

এই আবিষ্কারের বিশেষত্ব কী? এটি প্রথম প্রমাণ যে প্রবালগুলোর মানুষের মতো অ্যাডাপ্টিভ ইমিউন সিস্টেম না থাকলেও তারা সুরক্ষামূলক ইমিউন মেমোরি-র মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এটি প্রবালের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করে।

প্রবালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আর কী ভূমিকা রাখে? গবেষণায় দেখা গেছে যে এই সুরক্ষামূলক প্রভাবটি কেবল প্রবালের নিজস্ব পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে না, বরং এর মাইক্রোবায়োমের পরিবর্তনের সাথেও যুক্ত। মাইক্রোবায়োম হলো প্রবালের সাথে বসবাসকারী অণুজীবের সম্প্রদায়।

গবেষণার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী? লোহিত সাগরের প্রবাল ব্যবহার করে এই গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে। গবেষক দল প্যাথোজেন প্রাইমিং ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবালের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি পেটেন্ট আবেদন জমা দিয়েছে এবং বর্তমানে এই পদ্ধতিটি পরীক্ষা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।