জেদ্দা থেকে ওআইসি ইসরায়েলের পশ্চিম তীরে ১৩টি অবৈধ বসতি আলাদা করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ২৪ মার্চ ২০২৫ তারিখে জেদ্দা থেকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এই নিন্দা প্রকাশ করে। সংস্থাটি বলেছে, তথাকথিত ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা এই ১৩টি অবৈধ বসতি আলাদা করার অনুমোদন দিয়েছে, যার উদ্দেশ্য সেগুলোকে উপনিবেশিক বসতি হিসেবে বৈধতা দেওয়া। ওআইসি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
এই সিদ্ধান্তের পরপরই ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের উগ্র ও বর্ণবাদী মন্তব্য আসে। তিনি এই পদক্ষেপকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তথাকথিত সার্বভৌমত্ব আরোপের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। ওআইসি এই ধরনের বক্তব্যকে উগ্র ও বর্ণবাদী বলে চিহ্নিত করেছে।
ওআইসি আরও সতর্ক করেছে, ইসরায়েল “স্বেচ্ছা প্রস্থান” নামে একটি বিশেষ সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা করছে, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ। সংস্থাটি এই ধরনের পরিকল্পনার প্রতি নিজের সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমির ভেতরে বা বাইরে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে উচ্ছেদ করা, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা বা নির্বাসনে পাঠানোর যেকোনো পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘ প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন।
ওআইসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ইসরায়েলি অপরাধ মোকাবিলায় তাদের দায়িত্ব পালন করে। এই অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, অবৈধ বসতি স্থাপন, বাড়িঘর ধ্বংস, জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং সার্বভৌমত্ব আরোপের প্রচেষ্টা। সংস্থাটি এই অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়েছে।
ওআইসির এই অবস্থান এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। সংস্থাটি বলেছে, এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
ওআইসি সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে এই নিন্দা জানানো হয়েছে। সংস্থাটি সবসময় ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওআইসি এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।
এখন প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি এই আহ্বানে সাড়া দেবে? জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কি নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে? ইসরায়েল কি আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে বসতি সম্প্রসারণ চালিয়ে যাবে? ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ঠেকাতে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে? দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা কি এখনো টিকে আছে? এই প্রশ্নগুলো এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রে।
ওআইসি স্পষ্ট করেছে, ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা নির্বাসন আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংস্থাটি সব সদস্য দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের এই বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওআইসি ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যকে উগ্র ও বর্ণবাদী বলে অভিহিত করেছে। এই বক্তব্য পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের তথাকথিত সার্বভৌমত্ব আরোপের পরিকল্পনার অংশ।
ওআইসি বলেছে, এই ধরনের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি। সংস্থাটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওআইসি দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করেছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সমাধানই ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ।
এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই আহ্বানে কতটা সাড়া দেয়। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে? ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সময়ই দেবে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে ওআইসির পক্ষ থেকে আরও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সংস্থাটি কী ধরনের নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছে বা কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ওআইসি কী নিয়ে নিন্দা জানিয়েছে? ওআইসি ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সেই অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছে, যার মাধ্যমে পশ্চিম তীরে ১৩টি অবৈধ বসতি আলাদা করে সেগুলোকে উপনিবেশিক বসতি হিসেবে বৈধতা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবের গুরুতর লঙ্ঘন। এসপিএ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের পর ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ উগ্র ও বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন।
ওআইসি কোন বিষয়ে সতর্ক করেছে? ওআইসি “স্বেচ্ছা প্রস্থান” নামে একটি বিশেষ ইসরায়েলি সংস্থা গঠনের বিপদ নিয়ে সতর্ক করেছে, যার উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ। সংস্থাটি ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের ভূমির ভেতরে বা বাইরে ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে উচ্ছেদ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা বা নির্বাসনের যেকোনো পরিকল্পনা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, ওআইসি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলেছে।
ওআইসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী আহ্বান জানিয়েছে? ওআইসি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন ইসরায়েলি অপরাধ মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করে। এই অপরাধগুলোর মধ্যে রয়েছে গণহত্যা, অবৈধ বসতি, বাড়িঘর ধ্বংস, জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও সার্বভৌমত্ব আরোপের প্রচেষ্টা। সংস্থাটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধান সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে। এসপিএ এই তথ্য দিয়েছে।
ওআইসি কোন সমাধানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে? ওআইসি দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই সমাধানই ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ। এসপিএ জানিয়েছে, ওআইসি ইসরায়েলি অপরাধের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে এবং দুই-রাষ্ট্র সমাধানকে সমর্থন করেছে। সংস্থাটি এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে।