মক্কায় একসময় মাটির পাত্র দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। ঐতিহ্যবাহী ঘরে পানি সংরক্ষণ ও ঠান্ডা রাখা, খাবার সংরক্ষণ এবং খাবার পরিবেশনের কাজে এসব পাত্র ব্যবহৃত হতো। কিন্তু বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ও আধুনিক রান্নাঘরের সামগ্রী আসার পর মাটির পাত্র ঘরের অপরিহার্য সামগ্রী থেকে ঐতিহ্যবাহী বস্তুতে পরিণত হয়েছে, যা অতীত যুগের স্মৃতি বহন করে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মাটির পাত্র বিভিন্ন আকার ও আকারে পাওয়া যেত, প্রতিটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযুক্ত ছিল। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘জির’, যা পানীয় জল রাখার বড় মাটির পাত্র। এর ছিদ্রযুক্ত দেয়াল দিয়ে সামান্য পানি বাইরে চলে আসত এবং গরমে বাষ্পীভূত হয়ে ভেতরের পানি ঠান্ডা করত। মক্কার উষ্ণ আবহাওয়ায় রেফ্রিজারেটর ও ওয়াটার কুলারের বহু আগে এটি অত্যন্ত মূল্যবান ছিল।
‘মাশরাবিয়াত’ নামে পরিচিত ছোট পাত্রগুলো হাতের নাগালে রাখা হতো, যাতে পরিবারের সদস্যরা ও অতিথিরা নিজেরাই পানি পান করতে পারেন। এভাবে এগুলো ঘরের আতিথেয়তার অংশ হয়ে উঠেছিল। মাটির পাত্রে খাবার ও রসদও রাখা হতো এবং মাটির থালায় খাবার পরিবেশন করা হতো, যতদিন না স্টেইনলেস স্টিল, কাচ ও সিরামিকের রান্নাঘরের সামগ্রী সাধারণ হয়ে ওঠে।
বিদ্যুৎ, রেফ্রিজারেটর ও ওয়াটার কুলার আসার পর, যা খাবার ও পানি ঠান্ডা রাখত এবং ব্যবহার ও পরিষ্কার করা সহজ ছিল, মাটির পাত্রের উপর দৈনন্দিন নির্ভরতা কমতে থাকে। আজ মাটির পাত্রগুলো মজলিস কক্ষ, প্রবেশপথ ও ঘরের কোণে সাজসজ্জার সামগ্রী হিসেবে নতুন ভূমিকা খুঁজে পেয়েছে। এগুলো ঐতিহ্যবাহী মক্কার জীবনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে।
এগুলো বস্তুগত ঐতিহ্যের অংশ, যা নথিভুক্ত করার যোগ্য। এটি ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের দক্ষতা এবং পরিবারগুলো কীভাবে তাদের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা প্রতিফলিত করে। নতুন প্রজন্মের কাছে এটি তাদের পূর্বপুরুষদের জীবনে একসময় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করা সরঞ্জামগুলো আবিষ্কারের সুযোগ করে দেয়।
মক্কার বাজারে কি এখনও জির পাওয়া যায়? স্থানীয় কারিগররা কি এখনও মাটির পাত্র তৈরি করেন? আধুনিক ঘরে জিরের ঠান্ডা করার গুণ কি এখনও কাজে লাগে? নতুন প্রজন্ম কি এই ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে আগ্রহী? মাটির পাত্রের এই রূপান্তর কি শুধু মক্কায়, নাকি সৌদি আরবের অন্য শহরেও ঘটেছে? ভবিষ্যতে কি এই শিল্প টিকে থাকবে?
মক্কায় মাটির পাত্রের প্রধান ব্যবহার কী ছিল? মক্কায় মাটির পাত্র মূলত পানি সংরক্ষণ ও ঠান্ডা রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। ‘জির’ নামের বড় মাটির পাত্রের ছিদ্রযুক্ত দেয়াল দিয়ে পানি বাইরে এসে বাষ্পীভূত হতো, ফলে ভেতরের পানি ঠান্ডা থাকত। এছাড়া খাবার ও রসদ সংরক্ষণ এবং মাটির থালায় খাবার পরিবেশনের কাজেও এগুলো ব্যবহার হতো। এসপিএ জানিয়েছে, এসব পাত্র বিভিন্ন আকার ও আকারে পাওয়া যেত, প্রতিটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য উপযুক্ত ছিল।
মাটির পাত্রের ব্যবহার কেন কমে গেল? বিদ্যুৎ, রেফ্রিজারেটর ও ওয়াটার কুলার আসার পর মাটির পাত্রের ব্যবহার কমতে থাকে। এসব যন্ত্র খাবার ও পানি ঠান্ডা রাখত এবং ব্যবহার ও পরিষ্কার করা সহজ ছিল। এছাড়া স্টেইনলেস স্টিল, কাচ ও সিরামিকের রান্নাঘরের সামগ্রী সাধারণ হয়ে ওঠার পর মাটির পাত্রের দৈনন্দিন নির্ভরতা কমে যায়। এসপিএ জানিয়েছে, এসব কারণেই মাটির পাত্র ঘরের অপরিহার্য সামগ্রী থেকে ঐতিহ্যবাহী বস্তুতে পরিণত হয়েছে।
আজ মাটির পাত্রের নতুন ভূমিকা কী? আজ মাটির পাত্রগুলো মজলিস কক্ষ, প্রবেশপথ ও ঘরের কোণে সাজসজ্জার সামগ্রী হিসেবে নতুন ভূমিকা খুঁজে পেয়েছে। এগুলো ঐতিহ্যবাহী মক্কার জীবনের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং ঘরে ঐতিহ্যবাহী চরিত্র যোগ করে। এসপিএ জানিয়েছে, এগুলো বস্তুগত ঐতিহ্যের অংশ, যা নথিভুক্ত করার যোগ্য। এটি ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের দক্ষতা এবং পরিবারগুলো কীভাবে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল তা প্রতিফলিত করে।