Monday, October 19, 2026
সংস্কৃতি

মাঙ্গা অ্যারাবিয়া প্রথমবার আরবিতে ‘ওয়ান পিস’ প্রকাশ করল

মাঙ্গা অ্যারাবিয়া প্রথমবার আরবিতে ‘ওয়ান পিস’ প্রকাশ করল

রিয়াদ থেকে মাঙ্গা অ্যারাবিয়া জাপানি মাঙ্গা সিরিজ ‘ওয়ান পিস’-এর আরবি সংস্করণ প্রথমবার প্রকাশ করেছে। সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মিডিয়া গ্রুপ (এসআরএমজি)-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল অ্যাপে এখন ১০০-এর বেশি অধ্যায় পাওয়া যাচ্ছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, এই প্রকাশনা জাপানি বড় প্রকাশকদের সঙ্গে মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় এসেছে, যার মধ্যে শুইশা অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটির কৌশল হলো আন্তর্জাতিক কাজ আরবিতে উপস্থাপন করা, পাশাপাশি মৌলিক আরবি কনটেন্ট তৈরি করা এবং স্থানীয় স্রষ্টাদের সহায়তা করা।

মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার জেনারেল ম্যানেজার ও এডিটর-ইন-চিফ ড. এসাম বুখারি বলেছেন, সিরিজটির বৈশ্বিক বিস্তার এবং আরব পাঠকদের সঙ্গে এর দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এই প্রকাশনা একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ। তিনি যোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বড় কাজগুলো আরব দর্শকদের কাছে অফিসিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে মূল মান ও কপিরাইট সংরক্ষিত থাকে।

প্রোডাকশন ম্যানেজার নুরা আল-জুমাইলি জানিয়েছেন, আরবি সংস্করণে সরাসরি অনুবাদ, পর্যালোচনা, প্রুফরিডিং এবং আর্টওয়ার্কের সঙ্গে সংলাপের সূক্ষ্ম মিলকরণ করা হয়েছে, যাতে মূলের পরিচয় অটুট থাকে এবং নির্ভুলতা ও গুণমান নিশ্চিত হয়।

একটি মাঙ্গা সিরিজ যখন নতুন ভাষায় পৌঁছায়, তখন তার চরিত্রগুলোর আবেগ কি নতুন পাঠকের কাছে একইভাবে পৌঁছায়? আরব পাঠকরা দীর্ঘদিন ধরে ‘ওয়ান পিস’-এর নাম শুনে আসছেন, কিন্তু অফিসিয়াল আরবি সংস্করণ তাঁদের হাতে আসতে এত সময় লাগল কেন? মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার ডিজিটাল অ্যাপ ইতিমধ্যে ১৯০-এর বেশি দেশে ১ কোটিরও বেশি ডাউনলোড ছাড়িয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরুর পর থেকে তার প্রিন্ট ম্যাগাজিনের ২ কোটিরও বেশি কপি বিতরণ করেছে। এই বিপুল পরিসরের পাঠকগোষ্ঠীই কি নতুন ভাষায় প্রকাশের পথ প্রশস্ত করল?

‘ওয়ান পিস’ তৈরি করেছেন এইচিরো ওডা। সিরিজটি ১৯৯৭ সালে শুইশার সাপ্তাহিক শোনেন জাম্পে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ শুরু হয়। এরপর এটি ৬০-এর বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ৬০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে জাপানেই বিক্রি হয়েছে ৪৫ কোটিরও বেশি। একটি সিরিজ যখন একই সময়ে এত দেশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন অনুবাদকের সামনে মূল লেখকের কণ্ঠ ধরে রাখার চাপ কতটা বাড়ে?

এই সিরিজটি একক লেখকের একটি কমিক বই সিরিজের সর্বাধিক কপি প্রকাশের জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ধরে রেখেছে। রেকর্ডটি প্রথম ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালে হালনাগাদ করা হয়। মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার এই উদ্যোগের পেছনে শুইশার মতো প্রকাশকদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব কাজ করছে। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক প্রকাশকদের সঙ্গে এমন অংশীদারিত্ব আরব অঞ্চলে অফিসিয়াল অনুবাদের বাজারকে কতটা বদলে দিতে পারে?

মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার কৌশলে দুটি ধারা একসঙ্গে চলছে—একদিকে আন্তর্জাতিক কাজ আরবিতে আনা, অন্যদিকে মৌলিক আরবি কনটেন্ট তৈরি ও স্থানীয় স্রষ্টাদের সহায়তা। ড. এসাম বুখারি যে অফিসিয়াল চ্যানেলের কথা বলেছেন, তা কপিরাইট সংরক্ষণের পাশাপাশি মূল কাজের গুণমান ধরে রাখার বিষয়টিও বোঝায়। কিন্তু পাঠকের কাছে ‘অফিসিয়াল’ শব্দটির আসল মূল্য কী—ভাষার নির্ভুলতা, নাকি স্রষ্টার অধিকার রক্ষা?

নুরা আল-জুমাইলি যে প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছেন, তা কেবল অনুবাদ নয়। সরাসরি অনুবাদ, পর্যালোচনা, প্রুফরিডিং এবং আর্টওয়ার্কের সঙ্গে সংলাপ মিলিয়ে দেওয়া—প্রতিটি ধাপে মূল কাজের পরিচয় রক্ষার চেষ্টা আছে। মাঙ্গার পাতায় সংলাপের বেলুন ছোট-বড় হয়, চরিত্রের মুখভঙ্গির সঙ্গে শব্দের তাল মেলাতে হয়। আরবি ভাষার গঠন জাপানি মূল থেকে ভিন্ন, তাই এই মিলকরণ কতটা কঠিন হতে পারে?

প্রিন্ট ম্যাগাজিনের ২ কোটিরও বেশি কপি বিতরণ এবং অ্যাপের ১ কোটিরও বেশি ডাউনলোড দেখায়, মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার পাঠকভিত্তি কেবল সৌদি আরবে সীমাবদ্ধ নয়। ১৯০-এর বেশি দেশে অ্যাপের উপস্থিতি মানে আরবি ভাষাভাষী পাঠক যেখানেই থাকুন, তাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে সিরিজটি পড়তে পারবেন। ডিজিটাল অ্যাপ কি তবে প্রিন্টের চেয়ে বড় মঞ্চ হয়ে উঠছে?

‘ওয়ান পিস’ ৬০-এর বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ৬০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। জাপানে এই সংখ্যা ৪৫ কোটিরও বেশি। এই তথ্যগুলোই বোঝায়, সিরিজটির ইতিমধ্যে একটি বৈশ্বিক পাঠকসমাজ আছে। আরবি সংস্করণ সেই সমাজে নতুন একটি ভাষা যোগ করল। কিন্তু একটি কাজ যখন এত ভাষায় অনূদিত হয়, তখন মূল জাপানি সংস্করণের সঙ্গে নতুন পাঠকের সম্পর্ক কেমন হয়?

ড. এসাম বুখারি সিরিজটির বৈশ্বিক বিস্তার ও আরব পাঠকদের সঙ্গে এর দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মানে, আরব অঞ্চলে ‘ওয়ান পিস’-এর একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি আগে থেকেই ছিল। এখন সেই পরিচিতি অফিসিয়াল চ্যানেলে রূপ নিচ্ছে। অনানুষ্ঠানিক অনুবাদ থেকে অফিসিয়াল সংস্করণে যাওয়ার এই পরিবর্তন পাঠকদের অভ্যাসে কী প্রভাব ফেলবে?

মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার যাত্রাপথে শুইশার সঙ্গে অংশীদারিত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে এসপিএ উল্লেখ করেছে। শুইশা জাপানি মাঙ্গার একটি বড় প্রকাশক, আর ‘ওয়ান পিস’ তাদের সাপ্তাহিক শোনেন জাম্পে ১৯৯৭ সাল থেকে প্রকাশিত। এই সম্পর্ক কেবল একটি সিরিজ আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ, নাকি ভবিষ্যতে আরও জাপানি কাজ আরবিতে আসার পথ খুলে দেবে?

প্রতিষ্ঠানটির কৌশলে মৌলিক আরবি কনটেন্ট তৈরি এবং স্থানীয় স্রষ্টাদের সহায়তার বিষয়টিও আছে। আন্তর্জাতিক কাজ আরবিতে আনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিভা গড়ে তোলার এই দুইমুখী প্রচেষ্টা কি আরব মাঙ্গা শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে? স্থানীয় স্রষ্টারা আন্তর্জাতিক মানের কাজের পাশে নিজেদের জায়গা খুঁজে পাবেন কীভাবে?

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের বিষয়টি সিরিজটির ব্যতিক্রমী অবস্থান তুলে ধরে। একক লেখকের একটি কমিক বই সিরিজের সর্বাধিক কপি প্রকাশ—এই রেকর্ড ২০১৫ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০২২ সালে হালনাগাদ করা হয়। এই ধরনের স্বীকৃতি কি নতুন ভাষার পাঠকদের কাছে সিরিজটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করে?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্রকাশনার তারিখ, অ্যাপে অধ্যায়ের সংখ্যা এবং প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক পরিসংখ্যান আছে। তবে আরবি সংস্করণের মূল্য, ভবিষ্যতে কত অধ্যায় যোগ হবে বা প্রিন্ট সংস্করণে ‘ওয়ান পিস’ আসবে কি না—এসব বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।

‘ওয়ান পিস’-এর আরবি সংস্করণ কোথায় পাওয়া যাচ্ছে? মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার ডিজিটাল অ্যাপে ‘ওয়ান পিস’-এর ১০০-এর বেশি অধ্যায় এখন পাওয়া যাচ্ছে। এসপিএ জানিয়েছে, এটি সিরিজটির প্রথম আরবি প্রকাশনা। মাঙ্গা অ্যারাবিয়া সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মিডিয়া গ্রুপ (এসআরএমজি)-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ ১৯০-এর বেশি দেশে ১ কোটিরও বেশি ডাউনলোড ছাড়িয়েছে এবং প্রিন্ট ম্যাগাজিনের ২ কোটিরও বেশি কপি বিতরণ হয়েছে।

আরবি সংস্করণ তৈরিতে কী কী ধাপ নেওয়া হয়েছে? প্রোডাকশন ম্যানেজার নুরা আল-জুমাইলি জানিয়েছেন, আরবি সংস্করণে সরাসরি অনুবাদ, পর্যালোচনা, প্রুফরিডিং এবং আর্টওয়ার্কের সঙ্গে সংলাপের সূক্ষ্ম মিলকরণ করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল মূল কাজের পরিচয় অটুট রাখা এবং নির্ভুলতা ও গুণমান নিশ্চিত করা। এসপিএ জানিয়েছে, এই প্রকাশনা শুইশাসহ বড় জাপানি প্রকাশকদের সঙ্গে মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় এসেছে।

‘ওয়ান পিস’ সিরিজের ইতিহাস কী? ‘ওয়ান পিস’ তৈরি করেছেন এইচিরো ওডা এবং এটি ১৯৯৭ সালে শুইশার সাপ্তাহিক শোনেন জাম্পে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ শুরু হয়। এসপিএ জানিয়েছে, সিরিজটি ৬০-এর বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী ৬০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে জাপানেই ৪৫ কোটিরও বেশি। এটি একক লেখকের একটি কমিক বই সিরিজের সর্বাধিক কপি প্রকাশের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ধরে রেখেছে, যা ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ২০২২ সালে হালনাগাদ হয়।

মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার কৌশল কী? মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার কৌশল হলো আন্তর্জাতিক কাজ আরবিতে উপস্থাপন করা, পাশাপাশি মৌলিক আরবি কনটেন্ট তৈরি করা এবং স্থানীয় স্রষ্টাদের সহায়তা করা। জেনারেল ম্যানেজার ও এডিটর-ইন-চিফ ড. এসাম বুখারি বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বড় কাজ আরব দর্শকদের কাছে অফিসিয়াল চ্যানেলে পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে মূল মান ও কপিরাইট সংরক্ষিত থাকে। এসপিএ জানিয়েছে, এই প্রকাশনা শুইশার সঙ্গে অংশীদারিত্বের উপর ভিত্তি করে এসেছে।

প্রকাশনাটি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ? ড. এসাম বুখারি বলেছেন, সিরিজটির বৈশ্বিক বিস্তার এবং আরব পাঠকদের সঙ্গে এর দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে এই প্রকাশনা একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ। এসপিএ জানিয়েছে, ‘ওয়ান পিস’ ৬০-এর বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রকাশিত এবং বিশ্বব্যাপী ৬০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। মাঙ্গা অ্যারাবিয়ার অ্যাপ ১৯০-এর বেশি দেশে ১ কোটিরও বেশি ডাউনলোড ছাড়িয়েছে, যা নতুন ভাষার প্রকাশনার পরিসর বোঝায়।