পশ্চিম তীরে চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অন্তত ১৬০টি হামলার ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস। দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস এই তথ্য জানিয়ে ফিলিস্তিনি কৃষকদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, হামলাগুলোতে গুলি চালানো, অগ্নিসংযোগ, গাছ ও বাগান ধ্বংস এবং ফসল ও কৃষি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা রয়েছে। অফিসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় প্রায়ই ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষা বা সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রধান অজিত সুংঘয় বলেছেন, ফসল সংগ্রহের মৌসুমে হামলাগুলোকে বাস্তুচ্যুতি ও সম্পত্তি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা হাজার হাজার ফিলিস্তিনি কৃষককে তাদের জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, অথচ বসতি স্থাপনকারীদের ফসল কাটার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীর ও গাজায় জলপাই খাতের ক্ষতি প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার প্রায় ২০ লাখ জলপাই গাছের ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে দুই লাখ ৮৬ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের পেছনে কী ধরনের দৈনন্দিন বাস্তবতা লুকিয়ে আছে, তা কি আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারি? একটি গাছ ধ্বংস মানে কেবল একটি গাছ হারানো নয়, বরং একটি পরিবারের বছরের আয়, খাদ্য ও স্মৃতির অংশ মুছে যাওয়া।
জাতিসংঘের অফিস ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে, মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করতে, কৃষকদের জমিতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে, সহায়তা পৌঁছে দিতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সম্প্রদায় সুরক্ষা, জরুরি প্রস্তুতি, আইনি সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য পর্যাপ্ত ও নমনীয় অর্থায়ন দেওয়া হয়।
জলপাই শুধু একটি ফসল নয়, এটি পশ্চিম তীরের বহু পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। মৌসুম শুরু হলে কৃষকরা সারা বছরের আয়ের বড় অংশের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু হামলার ভয়ে অনেকেই জমিতে যেতে পারছেন না। তাহলে যে কৃষক নিজের জমিতে যেতে ভয় পান, তিনি কীভাবে নিজের ভবিষ্যৎ গড়বেন?
অজিত সুংঘয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা ও হামলার সমন্বিত প্রভাব কৃষকদের জমি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে। একদিকে প্রবেশাধিকার সীমিত, অন্যদিকে বসতি স্থাপনকারীদের ফসল কাটার সুযোগ—এই বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, ঘটনাস্থলে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে গাজার দুই লাখ জলপাই গাছের ৯০ শতাংশ ধ্বংসের অর্থ হলো, ভূখণ্ডটির জলপাই উৎপাদনের ভিত্তি প্রায় মুছে গেছে। পশ্চিম তীরে দুই লাখ ৮৬ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে আগামী কয়েক মৌসুমে উৎপাদন কমবে, আয় কমবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। এই ক্ষতি কি কেবল অর্থনৈতিক, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতাও?
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জলপাই খাতে প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই অঙ্ক কৃষক পরিবারগুলোর কাছে কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি হারানো মৌসুম, বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রম, ঋণ এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গল্প। ক্ষতির হিসাব যত বাড়ে, পুনরুদ্ধারের পথও তত দীর্ঘ হয়।
জাতিসংঘের অফিসের সুপারিশে মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, উপস্থিতি বাড়লেই কি হামলা কমবে? অভিজ্ঞতা বলে, কেবল উপস্থিতি নয়, জবাবদিহি ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সুরক্ষা টেকসই হয় না। আবার উপস্থিতি না থাকলে অনেক ঘটনা রেকর্ডই হয় না। তাহলে কোন পথটি কৃষকদের জন্য বাস্তব সুরক্ষা আনবে?
দাতাদের প্রতি আহ্বানে সম্প্রদায় সুরক্ষা, জরুরি প্রস্তুতি, আইনি সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য অর্থায়নের কথা বলা হয়েছে। এসব খাত একে অপরের সঙ্গে জড়িত। জমিতে যেতে না পারলে খাদ্য নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে; আইনি সহায়তা না পেলে ক্ষতিপূরণের পথ বন্ধ হয়; জীবিকার সুযোগ না থাকলে বাস্তুচ্যুতি ত্বরান্বিত হয়। এই শৃঙ্খল ভাঙলে কী হবে?
জলপাই সংগ্রহের মৌসুম সাধারণত পরিবার, শ্রমিক ও সম্প্রদায়ের সম্মিলিত কাজের সময়। হামলার কারণে সেই সম্মিলিত কাজ ব্যাহত হলে গ্রামীণ অর্থনীতির গভীরে প্রভাব পড়ে। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা জমিতে সাহায্য করতে না পারলে পরিবারের আয় কমে; শ্রমিকরা কাজ না পেলে দিনমজুরির আয় হারায়। এই প্রভাব কি কেবল এক মৌসুমের, নাকি বহু বছরের?
জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী, হামলায় গুলি, অগ্নিসংযোগ, গাছ ও বাগান ধ্বংস এবং ফসল ও সরঞ্জাম চুরি—এই ধরনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি ধরনের হামলার আলাদা প্রভাব রয়েছে। গুলি আতঙ্ক তৈরি করে, আগুন স্থায়ী ক্ষতি করে, চুরি তাৎক্ষণিক আয় কেড়ে নেয়। কোন ধরনের ক্ষতি পূরণ করা সবচেয়ে কঠিন?
আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘটেছে বলে অফিস জানিয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বল হলে জবাবদিহির চাপ কমে যায়। তাহলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রথম ধাপ কী হওয়া উচিত?
জাতিসংঘের অফিস বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বানও জানিয়েছে। বসতি সম্প্রসারণ ও কৃষকদের জমিতে প্রবেশাধিকার—এই দুই বিষয় পরস্পর সম্পর্কিত। সম্প্রসারণ বাড়লে কৃষকদের জমি কমে, প্রবেশাধিকার সংকুচিত হয় এবং হামলার ঝুঁকি বাড়ে। এই চক্র ভাঙার উপায় কী?
ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যে গাজা ও পশ্চিম তীর—দুই অঞ্চলেরই ক্ষতির চিত্র রয়েছে। গাজায় ৯০ শতাংশ গাছ ধ্বংস এবং পশ্চিম তীরে দুই লাখ ৮৬ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত—এই দুই তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করলে বোঝা যায়, জলপাই খাতের সংকট কেবল স্থানীয় নয়, ব্যাপক। পুনরুদ্ধারের জন্য কী কী প্রয়োজন?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের অফিস কৃষকদের সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। আহ্বান ও বাস্তবায়নের মধ্যে দূরত্ব কতটা, তা নির্ভর করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদিচ্ছা ও চাপের ওপর। কৃষকদের জন্য সময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মৌসুম শেষ হয়ে এলে ক্ষতি অপূরণীয় হয়ে যায়। তাহলে জরুরি বলতে ঠিক কতটা জরুরি?
একটি বিষয় স্পষ্ট: জলপাই সংগ্রহের মৌসুম কৃষকদের জন্য আয়, খাদ্য ও পরিচয়ের সঙ্গে জড়িত। হামলা, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা ও ক্ষতির হিসাব—এই তিনটি মিলে একটি জটিল সংকট তৈরি করেছে। জাতিসংঘের অফিসের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তবে তার জন্য ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি দরকার। কৃষকরা কি আবার নিশ্চিন্তে নিজের জমিতে ফিরতে পারবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয়, ক্ষতিপূরণের কোনো অঙ্ক বা ভবিষ্যতের কোনো সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে শুধু জাতিসংঘের অফিসের রেকর্ড, কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান এবং আহ্বানের কথা রয়েছে।
পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কী ধরনের হামলার ঘটনা রেকর্ড হয়েছে? জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের রেকর্ড অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম দুই সপ্তাহে অন্তত ১৬০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাগুলোতে গুলি চালানো, অগ্নিসংযোগ, গাছ ও বাগান ধ্বংস এবং ফসল ও কৃষি সরঞ্জাম চুরির ঘটনা রয়েছে। অফিস বলেছে, এসব হামলায় প্রায়ই ইসরায়েলি বাহিনীর সুরক্ষা বা অংশগ্রহণ ছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘের অফিসের প্রধান হামলাগুলোকে কী হিসেবে বর্ণনা করেছেন? জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রধান অজিত সুংঘয় বলেছেন, ফসল সংগ্রহের মৌসুমে হামলাগুলোকে বাস্তুচ্যুতি ও সম্পত্তি দখলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা হাজার হাজার ফিলিস্তিনি কৃষককে তাদের জমিতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, অথচ বসতি স্থাপনকারীদের ফসল কাটার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জলপাই খাতে ক্ষতির পরিমাণ কত এবং গাছের কী ক্ষতি হয়েছে? ফিলিস্তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীর ও গাজায় জলপাই খাতের ক্ষতি প্রায় ১৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজার প্রায় ২০ লাখ জলপাই গাছের ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে দুই লাখ ৮৬ হাজার গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কৃষক পরিবারগুলোর আয় ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলছে।
জাতিসংঘের অফিস কী কী পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে? অফিস ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে, মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করতে, কৃষকদের জমিতে প্রবেশ নিশ্চিত করতে, সহায়তা পৌঁছে দিতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করতে দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দাতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সম্প্রদায় সুরক্ষা, জরুরি প্রস্তুতি, আইনি সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য পর্যাপ্ত ও নমনীয় অর্থায়ন দেওয়া হয়।
হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের ওপর প্রভাব কী? জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ও ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এটি ইঙ্গিত দেয়, ঘটনাস্থলে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা দুর্বল হলে জবাবদিহির চাপ কমে যায় এবং হামলার ঘটনা রেকর্ড করা কঠিন হয়। অফিস মাঠপর্যায়ে আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
জলপাই খাতের সংকট কৃষকদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলে? জলপাই পশ্চিম তীরের বহু পরিবারের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। মৌসুম শুরু হলে কৃষকরা সারা বছরের আয়ের বড় অংশের জন্য অপেক্ষা করেন। হামলার ভয়ে অনেকেই জমিতে যেতে পারছেন না, ফলে আয় কমে এবং খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। গাছ ধ্বংস হলে আগামী কয়েক মৌসুমে উৎপাদন কমে, শ্রমিকরা কাজ হারান এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব পড়ে।