Friday, October 30, 2026
সংস্কৃতি

সৌদি ফিল্ম কনফেক্স ২০২৬-এর চতুর্থ সংস্করণ ২৮-২৯ অক্টোবর রিয়াদে

সৌদি ফিল্ম কনফেক্স ২০২৬-এর চতুর্থ সংস্করণ ২৮-২৯ অক্টোবর রিয়াদে

সৌদি ফিল্ম কনফেক্স ২০২৬-এর চতুর্থ সংস্করণ ২৮ ও ২৯ অক্টোবর রিয়াদের জেএক্স ফিল্ম স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী ও সৌদি ফিল্ম কমিশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান প্রিন্স বাদের বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন হবে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, সৌদি ফিল্ম কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং বেঞ্চমার্কের আয়োজনে এই ইভেন্ট «Industry Shapers’ Edition» প্রতিপাদ্যে হবে। এতে চলচ্চিত্র খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা, পেশাজীবী ও খাত-বিশেষজ্ঞরা একত্র হবেন।

নতুন এই সংস্করণ সৌদি আরবের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কনফেক্সের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ সম্প্রসারিত করবে। এসপিএ জানিয়েছে, এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে জাতীয় সংস্কৃতি কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

কনফেক্স একটি বিশেষায়িত ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যা চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমের পুরো পরিসরকে একত্র করে—প্রযোজনা ও পরিবেশনা কোম্পানি, কারিগরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বিনিয়োগ সংস্থা, অর্থায়ন তহবিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা পর্যন্ত। এখানে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, চুক্তি স্বাক্ষর এবং খাতজুড়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়।

২০২৬ সালের সংস্করণটি দুই দিনের একটি কেন্দ্রীভূত শিল্প-ইভেন্ট, যা চলচ্চিত্র পেশাজীবী ও খাতের স্টেকহোল্ডারদের জন্য পরিকল্পিত। এটি প্রধানত দুই গোষ্ঠীকে সেবা দেবে। প্রথমটি হলো নির্বাহী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা, যার মধ্যে কর্পোরেট নেতা এবং খাতে সক্রিয় সরকারি সংস্থা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। দ্বিতীয়টি হলো শিল্প পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞরা, যার মধ্যে প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজনা ও পরিবেশনা কোম্পানি এবং সৃজনশীল ও কারিগরি সেবা প্রদানকারীরা রয়েছেন।

কিন্তু এই দুই দিনের আয়োজনে ঠিক কী ধরনের আলোচনা টেবিলে আসবে? এসপিএ জানিয়েছে, কর্মসূচিতে থাকবে প্যানেল আলোচনাসহ একটি সম্মেলন, চলচ্চিত্র খাতের কোম্পানিগুলোকে প্রদর্শনকারী একটি প্রদর্শনী এবং বিশেষায়িত কর্মশালা। এসব কার্যক্রম অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দেবে।

খাত-বিশেষজ্ঞরা কনফেক্সকে শুধু একটি মেলা হিসেবে দেখেন না, বরং একটি কাজের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন, যেখানে প্রযোজনা থেকে পরিবেশনা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল এক ছাদের নিচে আসে। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম কি সত্যিই নতুন চুক্তি ও অংশীদারিত্বের জন্ম দিতে পারে, নাকি এটি মূলত নেটওয়ার্কিংয়ের একটি বার্ষিক আয়োজন হয়ে থাকে?

এসপিএ জানিয়েছে, কনফেক্সের মূল লক্ষ্য হলো চলচ্চিত্র খাতে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ সম্প্রসারণ। এই লক্ষ্য সরাসরি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে জাতীয় সংস্কৃতি কৌশলের সঙ্গে যুক্ত। অর্থাৎ আয়োজনটি কেবল সাংস্কৃতিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, সাংস্কৃতিক কৌশলের লক্ষ্যগুলো বাস্তবে রূপ নিতে এই ধরনের বার্ষিক সম্মেলন কতটা সহায়ক ভূমিকা রাখে?

আয়োজনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর দুই স্তরের অংশগ্রহণকারী কাঠামো। একদিকে নির্বাহী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা, যাদের মধ্যে কর্পোরেট নেতৃত্ব এবং সরকারি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আছেন। অন্যদিকে পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞরা, যাদের মধ্যে প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার এবং প্রযোজনা ও পরিবেশনা কোম্পানির প্রতিনিধিরা আছেন। এই দুই গোষ্ঠীর মিলনস্থল কি নীতি ও সৃজনশীলতার মধ্যে সেতু তৈরি করতে পারে?

এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনফেক্সের পরিসরে প্রযোজনা ও পরিবেশনা কোম্পানি, কারিগরি সেবা প্রদানকারী, বিনিয়োগ সংস্থা, অর্থায়ন তহবিল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা—সবাই অন্তর্ভুক্ত। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ উপস্থিতি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, চুক্তি স্বাক্ষর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়ন তহবিলের উপস্থিতি কি প্রতিভা উন্নয়ন ও অর্থায়নের ফাঁকগুলো পূরণে ভূমিকা রাখবে?

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সংস্করণটি একটি কেন্দ্রীভূত দুই দিনের শিল্প-ইভেন্ট, যা পেশাজীবী ও খাতের স্টেকহোল্ডারদের জন্য পরিকল্পিত। এটি আগের সংস্করণগুলোর ধারাবাহিকতা বহন করছে। চতুর্থ সংস্করণে পৌঁছে কনফেক্স কি তার প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে, নাকি এখনো অনেক পথ বাকি?

কনফেক্সের কর্মসূচিতে সম্মেলন, প্রদর্শনী ও কর্মশালা—এই তিনটি স্তম্ভ রয়েছে। সম্মেলনে প্যানেল আলোচনা হবে, প্রদর্শনীতে চলচ্চিত্র খাতের কোম্পানিগুলো তাদের কাজ তুলে ধরবে এবং কর্মশালায় বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও আলোচনা হবে। এই তিনটি স্তম্ভ কি একে অপরকে পরিপূরক করে, নাকি আলাদা আলাদা লক্ষ্য নিয়ে এগোয়?

সৌদি ফিল্ম কমিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই ইভেন্টের আয়োজক বেঞ্চমার্ক। সংস্কৃতি মন্ত্রী ও কমিশনের বোর্ড চেয়ারম্যানের পৃষ্ঠপোষকতা আয়োজনটিকে সরকারি সমর্থনের একটি স্পষ্ট সংকেত দেয়। তাহলে প্রশ্ন হলো, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি আয়োজনের এই সমন্বয় কি খাতের জন্য কার্যকর মডেল হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে?

এসপিএ জানিয়েছে, কনফেক্স চলচ্চিত্র খাতের সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমকে একত্র করে। প্রযোজনা ও পরিবেশনা থেকে শুরু করে কারিগরি সেবা, বিনিয়োগ, অর্থায়ন, শিক্ষা ও সরকারি সংস্থা—সবাই এই প্ল্যাটফর্মে মিলিত হন। এই সম্পূর্ণ পরিসর একত্র হওয়া কি খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে সহায়ক, নাকি কেবল স্বল্পমেয়াদি সংযোগ তৈরি করে?

আয়োজনের স্থান হিসেবে জেএক্স ফিল্ম স্টুডিও বেছে নেওয়া হয়েছে, যা রিয়াদে অবস্থিত। তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর। এসপিএ-র প্রতিবেদনে আয়োজনের সময়সূচি ও স্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া বা টিকিটের মূল্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

কনফেক্সের থিম «Industry Shapers’ Edition» এই বছরের আয়োজনের কেন্দ্রীয় বার্তা নির্দেশ করে। এই থিম কি খাতের নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে? এসপিএ-র প্রতিবেদনে থিমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে আয়োজনের লক্ষ্য ও অংশগ্রহণকারী কাঠামো থেকে বোঝা যায় যে শিল্প-নেতৃত্ব ও পেশাগত উন্নয়নই মূল ফোকাস।

সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে জাতীয় সংস্কৃতি কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কনফেক্স চলচ্চিত্র খাতে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে। এই কৌশলগত সংযোগ আয়োজনটিকে একটি বৃহত্তর জাতীয় পরিকল্পনার অংশ করে তোলে। প্রশ্ন হলো, এই বৃহত্তর পরিকল্পনার মধ্যে চলচ্চিত্র খাতের অবস্থান আসলে কতটা শক্তিশালী হচ্ছে?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে আয়োজনের লক্ষ্য, অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠী, কর্মসূচির ধরন ও থিম সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি, বিনিয়োগের পরিমাণ, অংশগ্রহণকারী কোম্পানির নাম বা অতিথি তালিকা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে আয়োজনের বাস্তব ফলাফল সম্পর্কে আগাম কোনো ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

চলচ্চিত্র খাতের পেশাজীবীদের জন্য কনফেক্স একটি বার্ষিক মিলনস্থল হয়ে উঠেছে, যেখানে প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও কারিগরি সেবা প্রদানকারীরা একত্র হন। এই ধরনের নিয়মিত আয়োজন কি খাতে দীর্ঘস্থায়ী পেশাগত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে? অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সুযোগই কনফেক্সের মূল আকর্ষণ।

বিনিয়োগ সংস্থা ও অর্থায়ন তহবিলের উপস্থিতি কনফেক্সকে একটি ব্যবসায়িক মাত্রা দেয়। প্রযোজনা কোম্পানিগুলোর জন্য এটি অর্থায়ন খোঁজার একটি সুযোগ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ধরনের আয়োজনে প্রকৃত অর্থায়ন চুক্তি কতটা হয়, আর কতটা সম্ভাবনার আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকে?

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্তর্ভুক্তি কনফেক্সের আরেকটি দিক। চলচ্চিত্র খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিষ্ঠানগুলো কি শিল্প-প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিতে পারছে, নাকি শিল্প ও শিক্ষার মধ্যে ফাঁক এখনো রয়ে গেছে?

সৌদি ফিল্ম কমিশনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কনফেক্স সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতার একটি উদাহরণ। কমিশন নীতিমালা ও তত্ত্বাবধানের দিকটি দেখে, আর বেঞ্চমার্ক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে। এই বিভাজন কি খাতের জন্য কার্যকর, নাকি আরও সমন্বয় প্রয়োজন?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে কনফেক্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা পরবর্তী সংস্করণ সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। চতুর্থ সংস্করণের পর আয়োজনটি কোন দিকে এগোবে, তা নিয়ে প্রতিবেদনে কোনো ইঙ্গিত নেই। তবে আয়োজনের ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, এটি একটি নিয়মিত বার্ষিক কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

সৌদি আরবের চলচ্চিত্র খাত দ্রুত বিকাশমান। এই বিকাশের মধ্যে কনফেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে। প্রযোজনা, পরিবেশনা, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্ম খাতের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। কিন্তু এই সম্পূর্ণ চিত্র কি বাস্তব অগ্রগতির প্রতিফলন, নাকি সম্ভাবনার একটি মানচিত্র মাত্র?

আয়োজনের দুই দিনের কর্মসূচিতে সম্মেলন, প্রদর্শনী ও কর্মশালা—তিনটি ধারা একসঙ্গে চলবে। অংশগ্রহণকারীরা প্যানেল আলোচনায় শুনতে পারবেন, প্রদর্শনীতে কোম্পানিগুলোর কাজ দেখতে পারবেন এবং কর্মশালায় হাতে-কলমে শিখতে পারবেন। এই তিনমুখী অভিজ্ঞতা কি অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সক্ষম হবে?

এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনফেক্স অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, চুক্তি স্বাক্ষর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। এই তিনটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা কঠিন। প্রশ্ন হলো, কোন দিকটিতে কনফেক্স সবচেয়ে বেশি সফল হচ্ছে—সম্পর্ক গড়া, চুক্তি করা, নাকি জ্ঞান বিনিময়?

সৌদি ফিল্ম কমিশনের নেতৃত্বে আয়োজিত এই ইভেন্ট খাতের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ও পেশাজীবীদের একই মঞ্চে আনে। নীতি নির্ধারক ও সৃজনশীল পেশাজীবীদের মধ্যে সরাসরি সংলাপের সুযোগ এই আয়োজনের একটি বড় বৈশিষ্ট্য। এই সংলাপ কি নীতিমালা গঠনে বাস্তব প্রভাব ফেলে?

কনফেক্সের আন্তর্জাতিক মাত্রা সম্পর্কে এসপিএ-র প্রতিবেদনে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে আয়োজনের পরিসরে প্রযোজনা, পরিবেশনা, বিনিয়োগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈচিত্র্য থেকে বোঝা যায়, এটি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীদের একত্র করার লক্ষ্য রাখে। এই বৈচিত্র্য কি সৌদি চলচ্চিত্র খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়ক হবে?

সব মিলিয়ে, সৌদি ফিল্ম কনফেক্স ২০২৬-এর চতুর্থ সংস্করণ ২৮ ও ২৯ অক্টোবর রিয়াদের জেএক্স ফিল্ম স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রিন্স বাদের বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহানের পৃষ্ঠপোষকতায়, সৌদি ফিল্ম কমিশনের তত্ত্বাবধানে ও বেঞ্চমার্কের আয়োজনে এই ইভেন্ট «Industry Shapers’ Edition» প্রতিপাদ্যে হবে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে আয়োজনের লক্ষ্য, অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠী ও কর্মসূচির ধরন তুলে ধরা হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট চুক্তি, বিনিয়োগের পরিমাণ বা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি ফিল্ম কনফেক্স ২০২৬ কখন ও কোথায় অনুষ্ঠিত হবে? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি ফিল্ম কনফেক্স ২০২৬-এর চতুর্থ সংস্করণ ২৮ ও ২৯ অক্টোবর রিয়াদের জেএক্স ফিল্ম স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনটি সংস্কৃতি মন্ত্রী ও সৌদি ফিল্ম কমিশনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান প্রিন্স বাদের বিন আবদুল্লাহ বিন ফারহানের পৃষ্ঠপোষকতায় হবে। সৌদি ফিল্ম কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং বেঞ্চমার্কের আয়োজনে এই ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।

এই বছরের থিম কী এবং এর অর্থ কী? এসপিএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের সংস্করণের থিম «Industry Shapers’ Edition»। আয়োজনটি দুই দিনের একটি কেন্দ্রীভূত শিল্প-ইভেন্ট, যা চলচ্চিত্র পেশাজীবী ও খাতের স্টেকহোল্ডারদের জন্য পরিকল্পিত। থিমটি শিল্প-নেতৃত্ব ও পেশাগত উন্নয়নের দিকে ইঙ্গিত করে। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে থিমের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

কনফেক্সের কর্মসূচিতে কী কী থাকবে? এসপিএ জানিয়েছে, কর্মসূচিতে প্যানেল আলোচনাসহ একটি সম্মেলন, চলচ্চিত্র খাতের কোম্পানিগুলোকে প্রদর্শনকারী একটি প্রদর্শনী এবং বিশেষায়িত কর্মশালা থাকবে। এসব কার্যক্রম অংশগ্রহণকারীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দেবে। আয়োজনটি দুই দিনব্যাপী চলবে।

কনফেক্স কোন কোন গোষ্ঠীকে সেবা দেবে? এসপিএ জানিয়েছে, কনফেক্স প্রধানত দুই গোষ্ঠীকে সেবা দেবে। প্রথমটি হলো নির্বাহী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা, যার মধ্যে কর্পোরেট নেতা এবং সরকারি সংস্থা ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। দ্বিতীয়টি হলো শিল্প পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞরা, যার মধ্যে প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, প্রযোজনা ও পরিবেশনা কোম্পানি এবং সৃজনশীল ও কারিগরি সেবা প্রদানকারীরা রয়েছেন।

কনফেক্স কীভাবে সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে যুক্ত? এসপিএ জানিয়েছে, নতুন সংস্করণ সৌদি আরবের চলচ্চিত্র শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কনফেক্সের ভূমিকা অব্যাহত রাখবে এবং বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সুযোগ সম্প্রসারিত করবে। এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে জাতীয় সংস্কৃতি কৌশলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। কনফেক্স চলচ্চিত্র ইকোসিস্টেমের পুরো পরিসরকে একত্র করে।

এসপিএ-র প্রতিবেদনে কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএ-র প্রতিবেদনে আয়োজনের লক্ষ্য, অংশগ্রহণকারী গোষ্ঠী, কর্মসূচির ধরন ও থিম সম্পর্কে তথ্য রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি, বিনিয়োগের পরিমাণ, অংশগ্রহণকারী কোম্পানির নাম বা অতিথি তালিকা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া বা টিকিটের মূল্য সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।