Sunday, November 1, 2026
সংস্কৃতি

আন্তর্জাতিক সৌদি ফ্যালকন ও হান্টিং এক্সিবিশন ২০২৬ রিয়াদে শুরু

আন্তর্জাতিক সৌদি ফ্যালকন ও হান্টিং এক্সিবিশন ২০২৬ রিয়াদে শুরু

রিয়াদের উত্তরে মালহামে রিয়াদ এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সৌদি ফ্যালকন ও হান্টিং এক্সিবিশন ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং এটি ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। দশ দিনের এই আয়োজনে ২০টি দেশের ২৫৪টি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে, আর প্রদর্শনীস্থলের আয়তন ১ লাখ ৯৭ হাজার বর্গমিটার।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। প্রদর্শনীর কর্মসূচিতে ফ্যালকনরি, শিকার, অ্যাডভেঞ্চার, ভ্রমণ এবং সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী এটি এমন একটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য, যেখানে ফ্যালকনার, বিশেষজ্ঞ, উৎসাহী ও বিভিন্ন আগ্রহের দর্শনার্থীরা আসেন।

প্রদর্শনীটি ২০১৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। এসপিএ-র তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এখানে ৭ লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন এবং ৪৭টি দেশের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছিল। ২০২৫ সালে বিক্রি ৯ কোটি ১০ লাখ সৌদি রিয়াল ছাড়িয়েছিল, যা প্রদর্শনীর বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক পরিসর ও অর্থনৈতিক প্রভাবের চিত্র।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস-এর সিইও তালাল আল-শামাইসি বলেছেন, প্রদর্শনীর এই বিস্তার ও বৈচিত্র্য ফ্যালকনরি খাতের প্রতি المملكة-এর নেতৃত্বের সমর্থন ও যত্নের প্রতিফলন, পাশাপাশি এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরে যে সম্পদ দেওয়া হয়েছে তারও প্রমাণ। তাঁর এই বক্তব্য এসপিএ-তে প্রকাশিত হয়েছে।

দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য রিয়াদের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রদর্শনীস্থল পর্যন্ত শাটল বাস সেবা চালু আছে। এসপিএ জানিয়েছে, বাসগুলো চব্বিশ ঘণ্টা চলাচল করে এবং রুট ও সময়সূচি সেন্টার ও প্রদর্শনীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে পাওয়া যাবে। প্রদর্শনী প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হিসেবে এই আয়োজনের পরিসর কতটা বিস্তৃত, তা বোঝা যায় অংশগ্রহণকারী দেশ ও ব্র্যান্ডের সংখ্যা দেখে। ২০টি দেশের ২৫৪টি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড একটি ছাদের নিচে এলে সেখানে ফ্যালকনরি সরঞ্জাম, শিকারের উপকরণ, ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চার-সংশ্লিষ্ট পণ্য এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার সমাহার তৈরি হয়। কিন্তু এই সংখ্যাগুলো কি আসলে খাতটির বর্তমান আকারের পূর্ণ চিত্র দেয়, নাকি এর বাইরে আরও অনেক কিছু রয়েছে?

২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে প্রদর্শনীটি প্রতি বছর বড় হয়েছে। গত বছর ৭ লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য। ৪৭টি দেশের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড অংশ নেওয়ার কথা এসপিএ জানিয়েছে। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি কি শুধু আয়োজনের সাফল্য, নাকি সৌদি আরবে ফ্যালকনরি ও শিকার-সংশ্লিষ্ট পর্যটনের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের প্রমাণ?

অর্থনৈতিক দিক থেকেও প্রদর্শনীটি তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালে বিক্রি ৯ কোটি ১০ লাখ সৌদি রিয়াল ছাড়িয়েছিল। এই অঙ্ক শুধু লেনদেনের হিসাব নয়, বরং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি সক্রিয় বাজারের সংকেত। ফ্যালকনরি ও শিকার সরঞ্জামের মতো বিশেষায়িত খাতে এত বড় বিক্রি কীভাবে সম্ভব হচ্ছে, আর এর কতটা সুফল স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে?

প্রদর্শনীর সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ফ্যালকনরি এই অঞ্চলের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আর প্রদর্শনীটি সেই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে বলে আয়োজকদের বরাতে এসপিএ জানিয়েছে। তালাল আল-শামাইসি বলেছেন, এই বিস্তার ও বৈচিত্র্য নেতৃত্বের সমর্থন ও যত্নের প্রতিফলন। কিন্তু একটি প্রদর্শনী কতটা কার্যকরভাবে প্রজন্মান্তরে ঐতিহ্য হস্তান্তরের কাজ করতে পারে?

দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে শাটল বাস সেবা চালু করা হয়েছে, যা রিয়াদের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রদর্শনীস্থলে মানুষ আনে। বাসগুলো চব্বিশ ঘণ্টা চলে এবং রুট ও সময়সূচি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকায় পরিবার, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা নিজেদের সুবিধামতো সময়ে আসতে পারেন। এই সময়সূচি কি সবার জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক?

১ লাখ ৯৭ হাজার বর্গমিটার আয়তনের প্রদর্শনীস্থল একটি বিশাল পরিসর। এত বড় জায়গায় ২৫৪টি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড ছড়িয়ে থাকলে দর্শনার্থীদের পুরোটা ঘুরে দেখা একটি চ্যালেঞ্জ। আয়োজকরা কীভাবে এই অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ ও গোছানো করতে পারবেন, সে প্রশ্নও জরুরি। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক চরিত্র আরেকটি দিক তুলে ধরে। ২০টি দেশের অংশগ্রহণ মানে বিভিন্ন সংস্কৃতি, পদ্ধতি ও পণ্যের মিলন। ফ্যালকনরি যেহেতু বহু দেশে চর্চিত, সেহেতু এই মিলনস্থল আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু এই বিনিময় কতটা ভারসাম্যপূর্ণ, আর স্থানীয় কারিগররা এর থেকে কতটা লাভবান হচ্ছেন?

গত বছর ৭ লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন, যা আয়োজনের জনপ্রিয়তার স্পষ্ট প্রমাণ। এত মানুষের সমাগম নিশ্চিতভাবে স্থানীয় অর্থনীতি, হোটেল, পরিবহন ও খাদ্য সেবার ওপর প্রভাব ফেলে। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই প্রভাবের পরিমাণ বা বিশ্লেষণ দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এই তথ্য প্রকাশিত হলে প্রদর্শনীর প্রকৃত অর্থনৈতিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

প্রদর্শনীটি ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে রিয়াদে অবস্থানকারী বা ভ্রমণে আসা যে কেউ প্রদর্শনী দেখতে পারবেন। ফ্যালকনরি, শিকার, অ্যাডভেঞ্চার ও ভ্রমণ—এই চারটি ক্ষেত্র একসঙ্গে একটি প্রদর্শনীতে পাওয়া সাধারণত সহজ নয়। সেই বিবেচনায় এই আয়োজন আগ্রহীদের জন্য একটি বড় সুযোগ। কিন্তু যে কেউ আসতে চান, তিনি কি সবকিছু সম্পর্কে যথেষ্ট জানতে পারবেন?

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সৌদি ফ্যালকন ও হান্টিং এক্সিবিশন ২০২৬ কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ফ্যালকনরি ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের একটি মিলনস্থল। ২০১৮ সাল থেকে এর ধারাবাহিক বিস্তার এবং ২০২৫ সালের ৯ কোটি ১০ লাখ রিয়ালের বিক্রি এই দাবিকে সমর্থন করে। তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্রদর্শনীর টিকিট মূল্য, বিস্তারিত কর্মসূচি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।

প্রদর্শনীটি কোথায় ও কতদিন চলবে? রিয়াদের উত্তরে মালহামে রিয়াদ এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে এবং ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এসপিএ জানিয়েছে, এটি প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে। দর্শনার্থীদের জন্য রিয়াদের বিভিন্ন স্থান থেকে চব্বিশ ঘণ্টা শাটল বাস সেবা চালু আছে।

কতটি দেশ ও ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে? এসপিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০টি দেশের ২৫৪টি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে। প্রদর্শনীস্থলের আয়তন ১ লাখ ৯৭ হাজার বর্গমিটার। গত বছর ৪৭টি দেশের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি প্রদর্শক ও ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছিল এবং ৭ লাখের বেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন।

প্রদর্শনীর অর্থনৈতিক প্রভাব কেমন? এসপিএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রদর্শনীতে বিক্রি ৯ কোটি ১০ লাখ সৌদি রিয়াল ছাড়িয়েছিল। ২০১৮ সালে চালু হওয়ার পর থেকে প্রদর্শনীটি ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসর বেড়েছে। তবে প্রতিবেদনে এই আয়ের বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা খাতভিত্তিক তথ্য দেওয়া হয়নি।

প্রদর্শনীর কর্মসূচিতে কী কী আছে? ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস আয়োজিত এই প্রদর্শনীর কর্মসূচিতে ফ্যালকনরি, শিকার, অ্যাডভেঞ্চার, ভ্রমণ এবং সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা রয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এটি ফ্যালকনার, বিশেষজ্ঞ, উৎসাহী ও বিভিন্ন আগ্রহের দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। প্রদর্শনীটি আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে কাজ করছে।

আয়োজকরা কী বলেছেন? ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস-এর সিইও তালাল আল-শামাইসি বলেছেন, প্রদর্শনীর বিস্তার ও বৈচিত্র্য ফ্যালকনরি খাতের প্রতি নেতৃত্বের সমর্থন ও যত্নের প্রতিফলন। এসপিএ জানিয়েছে, এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরে সম্পদ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।