তুরাইফ থেকে শুরু হয়েছে শাহিন বা পেরেগ্রিন বাজপাখির বার্ষিক শরৎকালীন অভিবাসন। এই অভিবাসনের সূচনার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তর সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে বাজপাখি শিকারি ও প্রশিক্ষকদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী এক মৌসুম আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জানিয়েছে, অক্টোবর মাস থেকেই এই অভিবাসন শুরু হয় এবং এটি উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের বাজপাখিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, বিস্তীর্ণ আল-হাম্মাদ মরুভূমি এই শিকারিদের জন্য একটি প্রধান গন্তব্য। অভিবাসী পাখিদের উড়ানপথের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই মরুভূমি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাজপাখি প্রশিক্ষণ ও শিকারের প্রতি অনুরাগী আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, প্রস্তুতি শুরু হয় অনেক আগেই। তাঁবু স্থাপন, বিশেষ ধরনের জাল তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত করার মধ্য দিয়ে এই প্রস্তুতি এগিয়ে চলে। শিকারিরা দিনের দুটি প্রধান সময়ে মাঠে নামেন—ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এবং আবার সূর্যাস্তের ঠিক আগে। এই কাজে ধৈর্য, পাখির চলাচল অনুসরণের দক্ষতা এবং অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর পরিচিতি প্রয়োজন।
এই ঐতিহ্য রক্ষা ও জাতীয় বাজপাখি সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস মৌসুমের সঙ্গে মিলিয়ে একটি নির্ধারিত বাজপাখি নিলামের আয়োজন করে। এই আয়োজনে সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি আনা হয় এবং শিকারিদের পেশাদার সহায়তা সেবা দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলামে নিজেদের বাজপাখি প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন।
কেন অক্টোবর মাসকে এই অভিবাসনের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ সময় বলে মনে করা হয়? উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ মরুভূমি ও উড়ানপথের অবস্থানই এখানে শিকারিদের ভিড় বাড়ায়। আল-হাম্মাদ মরুভূমি অভিবাসী পাখিদের চলাচলের প্রধান পথে অবস্থিত, তাই এই অঞ্চলটি শিকারিদের কাছে প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে। আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, শিকারিরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। তাঁবু তৈরি, বিশেষ জাল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হয়। এরপর ভোর থেকে সকাল এবং সূর্যাস্তের আগে—এই দুই সময়ে তাঁরা মাঠে নামেন। এই দুই সময়ই পাখিরা সাধারণত চলাচল করে, তাই এই সময় বেছে নেওয়া হয়।
শিকারিদের সাফল্যের পেছনে কী কাজ করে? ধৈর্য, পাখির গতিপথ অনুসরণের দক্ষতা এবং অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান। এসপিএ জানিয়েছে, শিকারিরা এই তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করেন। তাঁরা অভিবাসনপথ সম্পর্কে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে জানেন কোন সময়ে কোন দিক থেকে পাখি আসতে পারে। এই জ্ঞান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। তাই এই শিকার শুধু শিকার নয়, এটি একটি ঐতিহ্য যা পরিবার ও গোষ্ঠীর মধ্যে টিকে আছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস কী ভূমিকা রাখে? সংস্থাটি মৌসুমের সঙ্গে মিলিয়ে একটি নির্ধারিত বাজপাখি নিলামের আয়োজন করে। এই নিলামে সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি আনা হয়। শিকারিরা যাতে নিজেদের বাজপাখি প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন, সেই জন্য পেশাদার সহায়তা সেবা দেওয়া হয়। এই নিলাম প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলাম হিসেবে পরিচালিত হয়। এর ফলে শিকারিরা তাঁদের পাখির জন্য ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন এবং ক্রেতারাও সেরা পাখি বেছে নেওয়ার সুযোগ পান।
এই মৌসুম কেন শুধু শিকার নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও? উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে বাজপাখি প্রশিক্ষণ ও শিকার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই অঞ্চলের মানুষ এই কাজকে নিজেদের সংস্কৃতির অংশ হিসেবে দেখেন। প্রতি বছর অক্টোবর এলে তাঁরা এই মৌসুমকে ঘিরে উৎসাহিত হন। তাঁবু, জাল, সরঞ্জাম—সবকিছু প্রস্তুত করা হয়। এই প্রস্তুতি নিজেই একটি সামাজিক আয়োজন। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে এই কাজে অংশ নেন।
আল-হাম্মাদ মরুভূমির ভৌগোলিক অবস্থান কীভাবে সহায়ক? এই মরুভূমি অভিবাসী পাখিদের উড়ানপথের কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই কারণেই এটি শিকারিদের প্রধান গন্তব্য। পাখিরা যখন অভিবাসনের সময় এই পথ দিয়ে যায়, তখন শিকারিরা তাঁবু স্থাপন করে অপেক্ষা করেন। ভোর থেকে সকাল এবং সূর্যাস্তের আগে—এই দুই সময়ে পাখিরা বেশি সক্রিয় থাকে। শিকারিরা সেই সময়েই জাল ও সরঞ্জাম নিয়ে মাঠে থাকেন।
শিকারিদের দক্ষতা কীভাবে তৈরি হয়? দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও প্রজন্মান্তরের জ্ঞান থেকে। আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, ধৈর্য, পাখির গতিপথ অনুসরণ এবং অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর পরিচিতি প্রয়োজন। এই দক্ষতা একদিনে অর্জিত হয় না। শিকারিরা বছরের পর বছর মাঠে থেকে এই জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁরা জানেন কোন সময়ে কোন দিকে তাকাতে হবে। তাঁরা জানেন পাখিরা কোন উচ্চতায় উড়ে। এই জ্ঞানই তাঁদের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।
নিলাম কীভাবে শিকারিদের সহায়তা করে? এটি একটি পেশাদার সহায়তা সেবা। শিকারিরা তাঁদের ধরা পাখি নিলামে আনেন। সেখানে প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলামে সেগুলো বিক্রি হয়। এর ফলে শিকারিরা তাঁদের পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পান। ক্রেতারাও সেরা পাখি বেছে নিতে পারেন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস এই আয়োজন করে, যাতে জাতীয় বাজপাখি ঐতিহ্য সংরক্ষিত থাকে।
এই মৌসুম কতদিন চলবে? এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে এই অভিবাসন শুরু হয়। তবে কতদিন পর্যন্ত চলবে বা কত সংখ্যক পাখি এই অঞ্চলে আসবে, সেই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি। শিকারিদের প্রস্তুতি ও মাঠে নামার সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাখির সংখ্যা, নিলামের তারিখ বা অন্য কোনো পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়নি।
এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে কেন ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস গুরুত্বপূর্ণ? সংস্থাটি শুধু নিলামই আয়োজন করে না, শিকারিদের পেশাদার সহায়তাও দেয়। সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি এই নিলামে আনা হয়। এর ফলে বিভিন্ন অঞ্চলের শিকারিরা এক জায়গায় মিলিত হন। তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এই মিলনমেলা বাজপাখি সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।
শিকারিরা কেন দুই সময়ে মাঠে নামেন? কারণ ভোর থেকে সকাল এবং সূর্যাস্তের আগে পাখিরা বেশি সক্রিয় থাকে। এসপিএ জানিয়েছে, শিকারিরা এই দুই সময়ে মাঠে নামেন। তাঁরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন। পাখির গতিপথ অনুসরণ করেন। অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর পরিচিতির কারণে তাঁরা জানেন কখন কোথায় অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়জ্ঞানই তাঁদের সাফল্য এনে দেয়।
এই মৌসুম কি শুধু উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ? এসপিএ জানিয়েছে, এই অভিবাসন উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী মৌসুম ফিরিয়ে আনে। তবে নিলামে সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি আনা হয়। এর মানে এই ঐতিহ্য শুধু একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারা দেশের শিকারিরা এই নিলামে অংশ নেন। ফলে এটি একটি জাতীয় আয়োজনে পরিণত হয়।
আল-হাম্মাদ মরুভূমির পরিবেশ কেমন? এসপিএ একে বিস্তীর্ণ মরুভূমি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই মরুভূমি অভিবাসী পাখিদের উড়ানপথের কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। তাই এটি শিকারিদের প্রধান গন্তব্য। এখানে তাঁবু স্থাপন করে শিকারিরা অপেক্ষা করেন। তাঁরা বিশেষ জাল ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। এই মরুভূমির বিস্তীর্ণতা শিকারিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দেয়।
শিকারিদের প্রস্তুতি কী কী ধাপে সম্পন্ন হয়? আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁবু স্থাপন করা হয়। এরপর বিশেষ জাল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করা হয়। এরপর শিকারিরা মাঠে নামেন। ভোর থেকে সকাল এবং সূর্যাস্তের আগে—এই দুই সময়ে তাঁরা সক্রিয় থাকেন। এই প্রস্তুতি ও মাঠে নামার ধাপগুলো প্রতি বছর একইভাবে অনুসরণ করা হয়।
এই ঐতিহ্য কি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে? আহমেদ আল-বানাকির বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, এই কাজে ধৈর্য, দক্ষতা ও অভিবাসনপথের গভীর পরিচিতি প্রয়োজন। এই জ্ঞান সহজে অর্জিত হয় না। এটি বছরের পর বছর অভিজ্ঞতা থেকে আসে। তাই এটি একটি প্রজন্মান্তরের ঐতিহ্য। পরিবারের বড়রা ছোটদের এই কাজ শেখান।
নিলামে কী ধরনের পাখি আনা হয়? এসপিএ জানিয়েছে, সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি এই নিলামে আনা হয়। এর মধ্যে শাহিন বা পেরেগ্রিন বাজপাখিও থাকতে পারে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো প্রজাতির নাম উল্লেখ করা হয়নি। শিকারিরা তাঁদের ধরা পাখি প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন। প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলামে ক্রেতারা সেগুলো কিনতে পারেন।
এই মৌসুমের অর্থনৈতিক দিক কী? শিকারিরা তাঁদের পাখি নিলামে বিক্রি করতে পারেন। এর ফলে তাঁদের আয়ের একটি পথ তৈরি হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস পেশাদার সহায়তা সেবা দেয়। এই সেবার মাধ্যমে শিকারিরা ন্যায্য মূল্য পান। তবে এসপিএ কোনো আর্থিক পরিসংখ্যান বা মূল্যের তথ্য দেয়নি।
শিকারিদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী? ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা। আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, শিকারিরা ধৈর্য, পাখির গতিপথ অনুসরণের দক্ষতা এবং অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর পরিচিতির ওপর নির্ভর করেন। এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে থাকলে সাফল্য আসে। কিন্তু এগুলোর যেকোনো একটি দুর্বল হলে শিকার ব্যর্থ হতে পারে। তাই শিকারিরা প্রতি বছর নিজেদের দক্ষতা ঝালিয়ে নেন।
এই অভিবাসন কি প্রতি বছর একই সময়ে ঘটে? এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে শাহিন বাজপাখির বার্ষিক শরৎকালীন অভিবাসন শুরু হয়। এটি বার্ষিক ঘটনা। তাই প্রতি বছর এই সময়ে উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে শিকারিরা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। এই নিয়মিত ঘটনাই ঐতিহ্যবাহী মৌসুমকে জীবন্ত রাখে।
নিলাম কেন প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলাম হিসেবে পরিচালিত হয়? এর ফলে পাখির প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হয়। শিকারিরা তাঁদের পাখি প্রদর্শন করেন। ক্রেতারা সরাসরি অংশ নেন। এই প্রতিযোগিতা শিকারিদের আরও ভালো পাখি ধরার উৎসাহ দেয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস এই ব্যবস্থা পরিচালনা করে।
এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে সচেতনতা কীভাবে বাড়ছে? ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনসের আয়োজন এই ঐতিহ্যকে সবার সামনে তুলে ধরে। নিলাম ও সহায়তা সেবার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম এই কাজ সম্পর্কে জানতে পারে। এসপিএ জানিয়েছে, এই আয়োজন জাতীয় বাজপাখি ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য করা হয়। তাই এটি শুধু শিকারিদের জন্য নয়, সবার জন্য একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন।
শিকারিরা কীভাবে নিজেদের সরঞ্জাম প্রস্তুত করেন? আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, তাঁরা বিশেষ জাল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত করেন। এই প্রস্তুতি মৌসুম শুরুর আগেই সম্পন্ন হয়। তাঁবু স্থাপনও এই প্রস্তুতির অংশ। এরপর তাঁরা মাঠে নামেন। এই প্রস্তুতি ছাড়া শিকার সম্ভব নয়।
এই মৌসুমে কতজন শিকারি অংশ নেন? এসপিএ এই বিষয়ে কোনো সংখ্যা দেয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে শিকারিদের প্রস্তুতি, মাঠে নামার সময় এবং নিলামের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা, ধরা পাখির সংখ্যা বা নিলামের মোট মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না।
আল-হাম্মাদ মরুভূমি ছাড়া অন্য কোথাও শিকার হয় কি? এসপিএ জানিয়েছে, আল-হাম্মাদ মরুভূমি শিকারিদের প্রধান গন্তব্য। তবে এটি একমাত্র স্থান কি না, সেই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। উত্তর সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে এই মৌসুম উদযাপিত হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো স্থানের তালিকা দেওয়া হয়নি।
এই ঐতিহ্য কি সরকারিভাবে স্বীকৃত? ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস এই মৌসুমে নিলাম আয়োজন করে এবং শিকারিদের সহায়তা দেয়। এটি একটি জাতীয় সংস্থা। তাই এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ রয়েছে বলে বোঝা যায়। এসপিএ জানিয়েছে, এই আয়োজন জাতীয় বাজপাখি ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য করা হয়।
শিকারিরা কেন সূর্যাস্তের আগে মাঠে নামেন? কারণ এই সময়ে পাখিরা সক্রিয় থাকে। এসপিএ জানিয়েছে, শিকারিরা ভোর থেকে সকাল এবং সূর্যাস্তের ঠিক আগে—এই দুই সময়ে মাঠে নামেন। এই সময়ে পাখিরা অভিবাসনের সময় চলাচল করে। তাই শিকারিরা এই সময় বেছে নেন। এই সময়জ্ঞান তাঁদের অভিজ্ঞতা থেকে আসে।
এই মৌসুম কি পর্যটকদের আকর্ষণ করে? এসপিএ এই বিষয়ে কিছু জানায়নি। বিজ্ঞপ্তিতে শিকারি, প্রশিক্ষক, নিলাম ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। পর্যটন বা দর্শনার্থীদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, অক্টোবর মাস উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে বাজপাখি শিকারিদের জন্য একটি বিশেষ সময়। আল-হাম্মাদ মরুভূমি তাদের প্রধান গন্তব্য। আহমেদ আল-বানাকির মতো শিকারিরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। ভোর ও সূর্যাস্তের আগে তাঁরা মাঠে নামেন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস নিলাম আয়োজন করে। এই সবকিছু মিলিয়ে একটি ঐতিহ্যবাহী মৌসুম জীবন্ত হয়ে ওঠে। এসপিএ জানিয়েছে, এই মৌসুম জাতীয় বাজপাখি ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক। তবে বিজ্ঞপ্তিতে পাখির সংখ্যা, নিলামের তারিখ, মূল্য বা মৌসুমের শেষ সময় সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।
পেরেগ্রিন বাজপাখির অভিবাসন কখন শুরু হয়? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবর মাসে শাহিন বা পেরেগ্রিন বাজপাখির বার্ষিক শরৎকালীন অভিবাসন শুরু হয়। এই অভিবাসনের সঙ্গে উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী শিকার মৌসুম ফিরে আসে। শিকারিরা আগে থেকেই তাঁবু স্থাপন ও বিশেষ জাল প্রস্তুত করেন। ভোর থেকে সকাল এবং সূর্যাস্তের আগে তাঁরা মাঠে নামেন।
আল-হাম্মাদ মরুভূমি কেন গুরুত্বপূর্ণ? এসপিএ জানিয়েছে, বিস্তীর্ণ আল-হাম্মাদ মরুভূমি অভিবাসী পাখিদের উড়ানপথের কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। এই কারণেই এটি শিকারিদের প্রধান গন্তব্য। শিকারিরা এখানে তাঁবু স্থাপন করেন এবং বিশেষ জাল ও সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষা করেন। আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, ধৈর্য, পাখির গতিপথ অনুসরণের দক্ষতা এবং অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর পরিচিতি প্রয়োজন।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস কী করে? এসপিএ জানিয়েছে, ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস মৌসুমের সঙ্গে মিলিয়ে একটি নির্ধারিত বাজপাখি নিলামের আয়োজন করে। এই নিলামে সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি আনা হয়। শিকারিদের পেশাদার সহায়তা সেবা দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলামে নিজেদের বাজপাখি প্রদর্শন ও বিক্রি করতে পারেন। এই আয়োজন জাতীয় বাজপাখি ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহায়ক।
শিকারিরা দিনের কোন সময়ে মাঠে নামেন? এসপিএ জানিয়েছে, শিকারিরা দিনের দুটি প্রধান সময়ে মাঠে নামেন—ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত এবং আবার সূর্যাস্তের ঠিক আগে। আহমেদ আল-বানাকি জানিয়েছেন, এই দুই সময়ে পাখিরা বেশি সক্রিয় থাকে। শিকারিরা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন এবং পাখির গতিপথ অনুসরণ করেন। অভিবাসনপথ সম্পর্কে গভীর পরিচিতির কারণে তাঁরা জানেন কখন কোথায় অপেক্ষা করতে হবে।
নিলামে কীভাবে পাখি বিক্রি হয়? এসপিএ জানিয়েছে, নিলামে সারা দেশ থেকে ধরা পড়া পাখি আনা হয়। শিকারিরা তাঁদের পাখি প্রদর্শন করেন এবং প্রতিযোগিতামূলক সরাসরি নিলামে বিক্রি করেন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনস পেশাদার সহায়তা সেবা দেয়। এর ফলে শিকারিরা ন্যায্য মূল্য পান এবং ক্রেতারা সেরা পাখি বেছে নিতে পারেন। বিজ্ঞপ্তিতে মূল্যের কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই মৌসুম সম্পর্কে কী তথ্য পাওয়া যায়নি? এসপিএ জানিয়েছে, অক্টোবরে অভিবাসন শুরু হয় এবং আল-হাম্মাদ মরুভূমি শিকারিদের প্রধান গন্তব্য। আহমেদ আল-বানাকির বক্তব্য ও ন্যাশনাল সেন্টার ফর ফ্যালকনসের নিলামের কথা বলা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে পাখির সংখ্যা, নিলামের তারিখ, মূল্য, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বা মৌসুমের শেষ সময় সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি।





