Tuesday, November 3, 2026
সংস্কৃতি

বাব আল-বুনত থেকে লোহিত সাগর জাদুঘর: জেদ্দার সামুদ্রিক ইতিহাসের সাক্ষী

বাব আল-বুনত থেকে লোহিত সাগর জাদুঘর: জেদ্দার সামুদ্রিক ইতিহাসের সাক্ষী

জেদ্দার ঐতিহাসিক বাব আল-বুনত ভবনটি ২০২৫ সালে পুনরুদ্ধারের পর লোহিত সাগর জাদুঘর হিসেবে পুনরায় চালু হয়েছে, যেখানে এক হাজারেরও বেশি নিদর্শন ও শিল্পকর্ম সাতটি বিষয়ভিত্তিক বিভাগে সাজানো হয়েছে। ২,০০০ বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে দুই তলা বিশিষ্ট প্রবাল পাথরের এই ভবনটি জেদ্দার সবচেয়ে পুরনো টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর একটি এবং এখনো এর মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের অনেকটাই ধরে রেখেছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এ বছরের সৌদি জাতীয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে জেদ্দা তার এই ঐতিহাসিক ভবনের ভূমিকা স্মরণ করছে, যা একসময় রাজ্যের সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার ছিল এবং ১৯৪৬ সালে মিশরে বাদশাহ আবদুলআজিজ বিন আবদুররহমান আল সৌদের সমুদ্রযাত্রার প্রস্থানস্থল ছিল। সেই যাত্রায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর কয়েকজন পুত্র ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ঐতিহাসিক জেদ্দার বাব আল-বুনতে বাসিন্দারা জড়ো হয়েছিলেন বাদশাহকে বিদায় জানাতে এবং একই পথে ফেরার সময় তাঁকে একইভাবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কীভাবে একটি সাধারণ ঘাটের ভবন একটি জাতির স্মৃতির কেন্দ্রে পরিণত হলো, তা নিয়ে ভাবতে পারেন পাঠক?

তৎকালীন অভ্যর্থনা কমিটি কোয়ারান্টিন, কাস্টমস ও ডাকঘর ভবনের সামনের চত্বরের নাম দেয় বাদশাহ আবদুলআজিজ স্কয়ার এবং সেখানে যাওয়ার রাস্তার নাম দেয় বাদশাহ আবদুলআজিজ স্ট্রিট। বাদশাহর নির্দেশে সেই সময় জেদ্দা বন্দর উন্নয়নের কাজ হয়েছিল। এই কাজে তিনটি প্রধান স্থাপনা ছিল: আল-ইসকালা নামে পরিচিত একটি বড় অফশোর পিয়ার, কোয়ারান্টিন ভবন (আল-কারানতিনা) এবং হজযাত্রীদের কাস্টমস, যা বাব আল-বুনত ভবনে ছিল।

একটি ভবনের দেয়াল কীভাবে এতগুলো যুগ, যাত্রা ও মানুষের স্মৃতি ধারণ করতে পারে? বাব আল-বুনত তার উত্তর দেয় প্রবাল পাথরের গায়ে জমা হওয়া ইতিহাসের স্তরে স্তরে।

জাদুঘরটিতে প্রদর্শনীগুলো ঐতিহাসিক বর্ণনার সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে বাব আল-বুনতের বিবর্তন, লোহিত সাগরের উৎপত্তি ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য, এর পরিবেশগত বৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য। বাদশাহর ঐতিহাসিক যাত্রা থেকে জাদুঘর হিসেবে নতুন জীবনের যাত্রা পর্যন্ত এই স্থানটি সমুদ্রের সঙ্গে জেদ্দার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাতির ইতিহাসের একটি অধ্যায় সংরক্ষণ করে।

২০২৫ সালে কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রামের অধীনে টেকসই পুনরুদ্ধারের পর এটি লোহিত সাগর জাদুঘর হিসেবে পুনরায় চালু হয়, যা সৌদি ভিশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা এগিয়ে নেয় এবং জেদ্দাকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবেশদ্বার হিসেবে এর ভূমিকা ফিরিয়ে আনে।

একটি সংস্কার প্রকল্প কীভাবে একটি শহরের আত্মপরিচয় ফিরিয়ে দিতে পারে? জেদ্দার ক্ষেত্রে উত্তরটি লুকিয়ে আছে প্রবাল পাথরের দেয়াল, সমুদ্রমুখী চত্বর আর প্রজন্মের পর প্রজন্মের স্মৃতিতে।

লোহিত সাগরের তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই ভবনটি একদিকে যেমন বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রার সাক্ষী, তেমনি অন্যদিকে আধুনিক জাদুঘর হিসেবে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম। জাদুঘরের সাতটি বিভাগ দর্শকদের নিয়ে যায় সমুদ্রের গভীরে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে এবং বাব আল-বুনতের নিজের রূপান্তরের গল্পে।

প্রবাল পাথরে গড়া দুই তলা ভবনটি ২,০০০ বর্গমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। জেদ্দার সবচেয়ে পুরনো টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর একটি হিসেবে এটি এখনো তার মূল স্থাপত্যের অনেক বৈশিষ্ট্য বহন করছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোই দর্শকদের বুঝতে সাহায্য করে, কেন এই ভবনকে শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং একটি জীবন্ত দলিল হিসেবে দেখা হয়।

১৯৪৬ সালের সেই সমুদ্রযাত্রা ছিল বাব আল-বুনতের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। বাদশাহ আবদুলআজিজ বিন আবদুররহমান আল সৌদ মিশরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন এই ঘাট থেকেই, সঙ্গে ছিলেন তাঁর কয়েকজন পুত্র ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ফেরার পথেও একই রুট ব্যবহার করেছিলেন তিনি, আর জেদ্দার বাসিন্দারা তাঁকে একই উষ্ণতায় বরণ করেছিলেন।

সেই সময়ের অভ্যর্থনা কমিটি কোয়ারান্টিন, কাস্টমস ও ডাকঘর ভবনের সামনের চত্বরের নাম দেয় বাদশাহ আবদুলআজিজ স্কয়ার এবং সেখানে নিয়ে যাওয়া রাস্তার নাম দেয় বাদশাহ আবদুলআজিজ স্ট্রিট। এই নামকরণ আজও সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মৃতি বহন করে।

বাদশাহর নির্দেশে জেদ্দা বন্দরের উন্নয়ন হয়েছিল, যেখানে তিনটি প্রধান স্থাপনা ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল আল-ইসকালা নামে পরিচিত বড় অফশোর পিয়ার, দ্বিতীয়টি কোয়ারান্টিন ভবন বা আল-কারানতিনা, আর তৃতীয়টি ছিল হজযাত্রীদের কাস্টমস, যা বাব আল-বুনত ভবনে অবস্থিত ছিল। এই তিনটি স্থাপনা মিলেই জেদ্দাকে একটি কার্যকর সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তুলেছিল।

সময়ের সঙ্গে বাব আল-বুনতের ভূমিকা বদলেছে, কিন্তু সমুদ্রের সঙ্গে জেদ্দার সম্পর্ক বদলায়নি। ২০২৫ সালে কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রামের অধীনে টেকসই পুনরুদ্ধারের পর ভবনটি লোহিত সাগর জাদুঘর হিসেবে নতুন করে দরজা খুলে দেয়। এই উদ্যোগ সৌদি ভিশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এবং জেদ্দাকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবেশদ্বার হিসেবে এর পুরনো ভূমিকা ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

জাদুঘরে এক হাজারেরও বেশি নিদর্শন ও শিল্পকর্ম রয়েছে, যা সাতটি বিষয়ভিত্তিক বিভাগে সাজানো। প্রদর্শনীগুলো ঐতিহাসিক বর্ণনার সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা মিলিয়ে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে বাব আল-বুনতের বিবর্তন, লোহিত সাগরের উৎপত্তি ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য, এর পরিবেশগত বৈচিত্র্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য।

একটি জাদুঘর কি কেবল অতীত সংরক্ষণ করে, নাকি ভবিষ্যতের জন্যও পথ দেখায়? বাব আল-বুনতের ক্ষেত্রে উত্তরটি সম্ভবত দুটোই, কারণ এটি একইসঙ্গে স্মৃতি ও শিক্ষার জায়গা।

জাতীয় দিবসের উদযাপনে জেদ্দা এই ভবনকে স্মরণ করছে ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন এটি ইতিমধ্যে জাদুঘর হিসেবে নতুন জীবন পেয়েছে। বাদশাহর ঐতিহাসিক যাত্রা থেকে জাদুঘর হিসেবে নতুন অধ্যায় পর্যন্ত এই স্থানটি সমুদ্রের সঙ্গে জেদ্দার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাতির ইতিহাসের একটি অধ্যায় সংরক্ষণ করে।

প্রবাল পাথরের দেয়াল, দুই তলার কাঠামো আর ২,০০০ বর্গমিটারেরও বেশি বিস্তৃত এলাকা—এই ভৌত বৈশিষ্ট্যগুলোই বাব আল-বুনতকে জেদ্দার সবচেয়ে পুরনো টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর একটি করে তুলেছে। মূল স্থাপত্যের অনেক বৈশিষ্ট্য ধরে রাখার কারণে এটি ইতিহাসপ্রেমী ও গবেষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।

জাদুঘরের সাতটি বিভাগ দর্শকদের নিয়ে যায় সমুদ্রের গভীরে, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনে এবং বাব আল-বুনতের নিজের রূপান্তরের গল্পে। ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা ও ঐতিহাসিক বর্ণনার এই মেলবন্ধন জাদুঘরটিকে শুধু প্রদর্শনীর জায়গা নয়, বরং শেখার ও অনুভব করার জায়গা করে তুলেছে।

একটি পুরনো কাস্টমস ভবন কীভাবে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হয়ে উঠল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ১৯৪৬ সালের সেই যাত্রায় এবং বাদশাহর নির্দেশে গড়ে ওঠা বন্দর অবকাঠামোয়। হজযাত্রীদের কাস্টমস হিসেবে ব্যবহৃত ভবনটি আজ লোহিত সাগরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জাদুঘর।

জেদ্দার বাসিন্দারা একসময় বাদশাহকে বিদায় জানাতে ও স্বাগত জানাতে এই চত্বরেই জড়ো হতেন। সেই জনসমাগমের স্মৃতি আজও চত্বর ও রাস্তার নামে বেঁচে আছে। বাদশাহ আবদুলআজিজ স্কয়ার ও বাদশাহ আবদুলআজিজ স্ট্রিট সেই দিনগুলোর সাক্ষী।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, জাতীয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে জেদ্দা এই ঐতিহাসিক ভবনের ভূমিকা স্মরণ করছে। প্রতিবেদনে বাব আল-বুনতের সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার হিসেবে ভূমিকা, ১৯৪৬ সালের যাত্রা, বন্দর উন্নয়নের তিনটি স্থাপনা, ভবনের আকার ও নির্মাণসামগ্রী, ২০২৫ সালের পুনরুদ্ধার এবং জাদুঘরের সংগ্রহ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ব্যয়, জাদুঘরের দর্শনার্থীর সংখ্যা, খোলার নির্দিষ্ট তারিখ বা ভবিষ্যতের কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এসপিএর প্রতিবেদনে এসব তথ্য অনুপস্থিত।

বাব আল-বুনত ভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী? বাব আল-বুনত ছিল জেদ্দার সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং ১৯৪৬ সালে বাদশাহ আবদুলআজিজ বিন আবদুররহমান আল সৌদের মিশরগামী সমুদ্রযাত্রার প্রস্থানস্থল। সেখানে হজযাত্রীদের কাস্টমসও ছিল। এসপিএ জানিয়েছে, বাসিন্দারা এই চত্বরেই বাদশাহকে বিদায় ও স্বাগত জানাতেন, আর পরে চত্বর ও রাস্তার নামকরণ হয় বাদশাহ আবদুলআজিজের নামে।

ভবনটি কত বড় এবং কী দিয়ে তৈরি? এসপিএ অনুযায়ী, বাব আল-বুনত ২,০০০ বর্গমিটারেরও বেশি জায়গা জুড়ে দুই তলা বিশিষ্ট এবং প্রবাল পাথরে নির্মিত। এটি জেদ্দার সবচেয়ে পুরনো টিকে থাকা স্থাপনাগুলোর একটি এবং এখনো এর মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের অনেকটাই ধরে রেখেছে।

জাদুঘরে কী কী প্রদর্শিত হয়? জাদুঘরে এক হাজারেরও বেশি নিদর্শন ও শিল্পকর্ম সাতটি বিষয়ভিত্তিক বিভাগে সাজানো। প্রদর্শনীগুলো ঐতিহাসিক বর্ণনার সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা মিলিয়ে বাব আল-বুনতের বিবর্তন, লোহিত সাগরের উৎপত্তি ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য, পরিবেশগত বৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরে।

ভবনটি কখন এবং কীভাবে জাদুঘর হলো? এসপিএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রামের অধীনে টেকসই পুনরুদ্ধারের পর বাব আল-বুনত লোহিত সাগর জাদুঘর হিসেবে পুনরায় চালু হয়। এই উদ্যোগ সৌদি ভিশন ২০৩০ লক্ষ্যমাত্রা এগিয়ে নেয় এবং জেদ্দাকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবেশদ্বার হিসেবে এর ভূমিকা ফিরিয়ে আনে।

বাদশাহর নির্দেশে বন্দরে কী কী তৈরি হয়েছিল? বাদশাহর নির্দেশে জেদ্দা বন্দরের উন্নয়নে তিনটি প্রধান স্থাপনা তৈরি হয়: আল-ইসকালা নামে পরিচিত একটি বড় অফশোর পিয়ার, কোয়ারান্টিন ভবন (আল-কারানতিনা) এবং হজযাত্রীদের কাস্টমস, যা বাব আল-বুনত ভবনে ছিল। এসপিএ এই তিনটি স্থাপনার কথা উল্লেখ করেছে।

প্রতিবেদনে কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএর প্রতিবেদনে পুনরুদ্ধার প্রকল্পের ব্যয়, জাদুঘরের দর্শনার্থীর সংখ্যা, খোলার নির্দিষ্ট তারিখ বা ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। প্রতিবেদনে বাব আল-বুনতের ইতিহাস, ১৯৪৬ সালের যাত্রা, বন্দর উন্নয়ন, ভবনের বৈশিষ্ট্য ও জাদুঘরের সংগ্রহ সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হয়েছে।