Tuesday, November 3, 2026
সৌদি সংবাদ

ক্রাউন প্রিন্স রিয়াদে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন

ক্রাউন প্রিন্স রিয়াদে মন্ত্রিসভা বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন

রিয়াদে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ। বৈঠকের শুরুতেই তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাতার রাষ্ট্রের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সুদান প্রজাতন্ত্রের ট্রানজিশনাল সোভেরেইনটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার বিষয়বস্তু মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্সিয়াল কোর্টের চেয়ারম্যান শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিষয়েও মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন তিনি।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এসব আলোচনায় সৌদি আরবের সঙ্গে এই ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও বিকশিত করার উপায় পর্যালোচনা করা হয়। এ ছাড়া আলোচনায় আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টাও উঠে আসে।

বৈঠক শেষে সৌদি প্রেস এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে সৌদি আরবের অংশগ্রহণের ফলাফল মন্ত্রিসভা পর্যালোচনা করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা জাতীয় প্রচেষ্টা এবং এই বৈশ্বিক আয়োজনে সৌদি আরবের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছে, বিশেষত বিভিন্ন পর্যায়ে বহুপাক্ষিক পদক্ষেপে তার নেতৃত্ব ও সমর্থনের জন্য। এসব প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেয়, সংলাপ ও কূটনীতি বাড়ায়, বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করে এবং মানবিক চাহিদার প্রতি সাড়া জোরদার করে।

মন্ত্রিসভা জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তাকে সর্বপ্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার চলমান প্রচেষ্টার অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেছে। এই সহায়তা জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করা এবং সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক কেবল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক সমাবেশ নয়—এটি এমন এক সময়ে বসেছে যখন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। ক্রাউন প্রিন্সের হাতে থাকা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের কারণে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর সভাপতিত্ব একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে এই বৈঠকের এজেন্ডায় যেসব বিষয় উঠে এসেছে তা আঞ্চলিক কূটনীতির বর্তমান অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

ক্রাউন প্রিন্স যে চারটি টেলিফোন আলোচনার কথা মন্ত্রিসভাকে জানিয়েছেন, তার মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনা রয়েছে। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গেও কথা হয়েছে তাঁর। সুদানের ট্রানজিশনাল সোভেরেইনটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন—দুই দিকই উঠে এসেছে। প্রশ্ন হলো, এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগ কি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি সমন্বিত কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্সের বৈঠক উপসাগরীয় অঞ্চলের ভেতরের সমন্বয়ের দিকটি সামনে আনে। এসপিএ জানিয়েছে, আলোচনায় সৌদি আরব ও এই দেশগুলোর সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা আরও দৃঢ় ও বিকশিত করার উপায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টাও আলোচনায় এসেছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই আলোচনার ফলাফল কতটা দৃশ্যমান হবে কূটনৈতিক পদক্ষেপে?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে সৌদি আরবের অংশগ্রহণের ফলাফল মন্ত্রিসভা পর্যালোচনা করেছে। মন্ত্রিসভা এই বৈশ্বিক আয়োজনে জাতীয় প্রচেষ্টা এবং সৌদি আরবের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছে। বিশেষভাবে প্রশংসা পেয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে বহুপাক্ষিক পদক্ষেপে সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও সমর্থন। এসপিএর বরাতে গণমাধ্যমমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি এসব কথা জানিয়েছেন।

মন্ত্রিসভার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এসব প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেয়। সংলাপ ও কূটনীতি বাড়ায়। বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করে। মানবিক চাহিদার প্রতি সাড়া জোরদার করে। প্রশ্ন হলো, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় এই ভূমিকা কি সৌদি আরবের কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে স্থায়ী জায়গা করে নিচ্ছে?

সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা এই বৈঠকের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মন্ত্রিসভা জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তাকে সর্বপ্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার চলমান প্রচেষ্টার অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই সহায়তা জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করা এবং সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে।

এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট হয়, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সৌদি আরব কেবল নিজের নিরাপত্তা নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামোকেও শক্তিশালী করতে চায়। আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করার বিষয়টি মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে সরাসরি উঠে এসেছে। প্রশ্ন হলো, এই সহায়তা কি সন্ত্রাসবিরোধী আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় নতুন সমন্বয়ের দিকে নিয়ে যাবে?

মন্ত্রিসভার বৈঠকে আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্সের টেলিফোন আলোচনা ও বৈঠকগুলোর বিবরণে বলা হয়েছে, এসব আলোচনায় আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টা উঠে এসেছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক—দুই পর্যায়ের কথাই এসেছে এসপিএর প্রতিবেদনে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, আঞ্চলিক উন্নয়নের কোন দিকগুলোকে এই আলোচনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে?

বৈঠকের সূচনায় ক্রাউন প্রিন্সের দেওয়া ব্রিফিং থেকে বোঝা যায়, কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি ধারাবাহিক চিত্র তাঁর হাতে রয়েছে। রাশিয়া, কাতার, সুদান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই চারটি আলাদা আলাদা সম্পর্কের বিষয় মন্ত্রিসভার সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব দেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্কের ধরন ভিন্ন হলেও আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন। প্রশ্ন হলো, এই বৈচিত্র্যময় কূটনৈতিক যোগাযোগ কি একটি সমন্বিত আঞ্চলিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ?

গণমাধ্যমমন্ত্রী সালমান আল-দোসারির বিবৃতিই এই বৈঠকের ফলাফল সম্পর্কে জনসমক্ষে আসা প্রধান তথ্যসূত্র। এসপিএর কাছে দেওয়া সেই বিবৃতিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে অংশগ্রহণের ফলাফল পর্যালোচনার কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রশংসায় জাতীয় প্রচেষ্টা ও সৌদি আরবের ভূমিকার কথা এসেছে। প্রশ্ন হলো, এই প্রশংসার পেছনে কোন নির্দিষ্ট অর্জনকে মন্ত্রিসভা গুরুত্ব দিয়েছে?

বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সরাসরি এসেছে। সংলাপ ও কূটনীতি বাড়ানোর কথা এসেছে। বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তার কথা এসেছে। মানবিক চাহিদার প্রতি সাড়া জোরদার করার কথাও এসেছে। এসবই মন্ত্রিসভার মূল্যায়নের অংশ হিসেবে এসপিএর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে?

সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি মন্ত্রিসভার আলোচনায় অপরিহার্য অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো এবং বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করার বিষয়টি এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করার কথাও এসেছে। প্রশ্ন হলো, এই সমন্বয় বাস্তবে কেমন রূপ নেবে?

এসপিএর প্রতিবেদনে বৈঠকের সময়সূচি হিসেবে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখটি উল্লেখ করা হয়েছে। রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ সভাপতিত্ব করেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমমন্ত্রী বিবৃতি দিয়েছেন। এই তথ্যগুলোই এসপিএর প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে রয়েছে।

ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের টেলিফোন আলোচনা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি দিক তুলে ধরে। কাতারের আমিরের সঙ্গে আলোচনা উপসাগরীয় প্রতিবেশী সম্পর্কের দিকটি সামনে আনে। সুদানের ট্রানজিশনাল সোভেরেইনটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনা আঞ্চলিক সংকটের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক উপসাগরীয় সহযোগিতার ধারাকে এগিয়ে নেয়। প্রশ্ন হলো, এই চারটি যোগাযোগের মধ্যে কোনটি মন্ত্রিসভার আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?

মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় সৌদি আরব ও এই দেশগুলোর সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা আরও দৃঢ় ও বিকশিত করার উপায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক—দুই পর্যায়ের নিরাপত্তার কথা এসেছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই দুই পর্যায়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে সৌদি আরবের অংশগ্রহণকে মন্ত্রিসভা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখেছে। এই আয়োজনে সৌদি আরবের নেতৃত্ব ও সমর্থনের প্রশংসা করা হয়েছে। বহুপাক্ষিক পদক্ষেপে এই সমর্থন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রসারিত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় সৌদি আরবের এই ভূমিকা কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে?

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের অবস্থান মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে স্পষ্ট। সর্বপ্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে চলমান প্রচেষ্টার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তাকে এই প্রচেষ্টার অপরিহার্য অংশ বলা হয়েছে। কেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করার প্রসঙ্গে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই আর্থিক সহায়তার পরিধি ও প্রভাব সম্পর্কে আরও বিস্তারিত কখন জানা যাবে?

এসপিএর প্রতিবেদনে বৈঠকের আলোচ্যসূচির যে অংশগুলো উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা, জাতিসংঘে অংশগ্রহণের ফলাফল এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তা। এই বিষয়গুলোর বাইরে বৈঠকে আর কী আলোচনা হয়েছে তা এসপিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বিবরণও প্রতিবেদনে নেই।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর মন্ত্রিসভার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে এসপিএর প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। আঞ্চলিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার নির্দিষ্ট ফলাফল কী হবে তাও প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। জাতিসংঘে অংশগ্রহণের পর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য নেই। সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কেও প্রতিবেদন নীরব।

ক্রাউন প্রিন্সের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক আঞ্চলিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার একটি চিত্র তুলে ধরে। চারটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ, জাতিসংঘে অংশগ্রহণের মূল্যায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তা—এই তিনটি ধারা মন্ত্রিসভার আলোচনায় প্রধানভাবে উঠে এসেছে। এসপিএর প্রতিবেদনে এসব বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে, তবে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে ক্রাউন প্রিন্স কী বিষয়ে ব্রিফিং দিয়েছেন? বৈঠকের শুরুতেই ক্রাউন প্রিন্স রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সুদানের ট্রানজিশনাল সোভেরেইনটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের সঙ্গে টেলিফোন আলোচনার বিষয়বস্তু মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মনসুর বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিষয়েও অবহিত করেন। এসপিএ জানিয়েছে, আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন উঠে এসেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন নিয়ে মন্ত্রিসভার অবস্থান কী? মন্ত্রিসভা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে সৌদি আরবের অংশগ্রহণের ফলাফল পর্যালোচনা করেছে। গণমাধ্যমমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি এসপিএকে বলেন, মন্ত্রিসভা জাতীয় প্রচেষ্টা এবং এই বৈশ্বিক আয়োজনে সৌদি আরবের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেছে। বিশেষত বিভিন্ন পর্যায়ে বহুপাক্ষিক পদক্ষেপে নেতৃত্ব ও সমর্থনের জন্য। এসব প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেয় বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে সৌদি আরবের সহায়তার বিষয়ে কী বলা হয়েছে? মন্ত্রিসভা জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তাকে সর্বপ্রকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার চলমান প্রচেষ্টার অপরিহার্য অংশ হিসেবে দেখেছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই সহায়তা জাতীয় সক্ষমতা বাড়ানো, বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করা এবং সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে।

বৈঠকে কোন কোন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে? ক্রাউন প্রিন্সের ব্রিফিং অনুযায়ী রাশিয়া, কাতার, সুদান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এসব আলোচনায় সৌদি আরব ও এই ভ্রাতৃপ্রতিম ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা আরও দৃঢ় ও বিকশিত করার উপায় পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার প্রচেষ্টাও আলোচনায় এসেছে।

বৈঠকটি কোথায় ও কবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কে সভাপতিত্ব করেছেন? এসপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী বৈঠকটি রিয়াদে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন। বৈঠক শেষে সৌদি প্রেস এজেন্সিকে বিবৃতি দিয়েছেন গণমাধ্যমমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি।

মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও মানবিক বিষয়ে কী বলা হয়েছে? মন্ত্রিসভার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নেয়, সংলাপ ও কূটনীতি বাড়ায়, বৈশ্বিক সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করে এবং মানবিক চাহিদার প্রতি সাড়া জোরদার করে। এসপিএর বরাতে গণমাধ্যমমন্ত্রী সালমান আল-দোসারি এসব কথা জানিয়েছেন। এই মূল্যায়ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে সৌদি আরবের অংশগ্রহণের ফলাফল পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে।