Saturday, October 24, 2026
সংস্কৃতি

তুয়াইক পর্বত: নজদের ভূপ্রকৃতিতে ধনুকের মতো বাঁকা চুনাপাথরের প্রাচীরের গল্প

তুয়াইক পর্বত: নজদের ভূপ্রকৃতিতে ধনুকের মতো বাঁকা চুনাপাথরের প্রাচীরের গল্প

মধ্যপ্রাচ্যের ভূগোলের বুকে এমন এক পর্বতশ্রেণি আছে, যার আকৃতি দেখে আরবের মানুষ তাকে নাম দিয়েছে গলার হার বা কোলারের সঙ্গে তুলনা করে। সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চলীয় নজদ অঞ্চল জুড়ে ধনুকের মতো বাঁক নিয়ে বিস্তৃত এই পর্বতটির নাম তুয়াইক পর্বত, আর এর নামের উৎসও লুকিয়ে আছে সেই বাঁকা আকৃতির মধ্যেই।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, তুয়াইক পর্বতের নাম এসেছে এর স্বতন্ত্র ধনুকাকৃতি গঠন থেকে, যা নজদ অঞ্চল জুড়ে কোলার বা গলার হারের মতো বাঁক নিয়ে বিস্তৃত। আরবি ভাষায় ‘তাওক’ শব্দের অর্থ কোলার, আর সেই শব্দের ক্ষুদ্রার্থক রূপই হলো ‘তুয়াইক’। অর্থাৎ নামটিই যেন পর্বতটির আকারের সঙ্গে মিশে আছে।

এই ভূ-নিদর্শনটি একটি সংকীর্ণ চুনাপাথরের এস্কার্পমেন্ট বা খাড়া ঢাল গঠন করেছে, যা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এর বিস্তার শুরু হয়েছে উত্তরে আল-জুলফি গভর্নরেটের থুওয়াইরাত বালিয়াড়ি থেকে এবং তা চলেছে দক্ষিণে রুব আল-খালি বা খালি চতুর্থাংশ মরুভূমির সীমান্ত পর্যন্ত। প্রশ্ন জাগে, কতটা বিস্তৃত হলে একটি পর্বতকে আমরা ভূ-প্রকৃতির প্রাচীর বলে ডাকতে পারি?

ভৌগোলিকভাবে এই পর্বতের পূর্ব ঢাল ধীরে ধীরে নেমে গেছে, অন্যদিকে পশ্চিম মুখ খাড়া ও নাটকীয় ক্লিফের মতো হঠাৎ নিচে নেমে গেছে। ওয়াদি হানিফা এর পূর্ব দিক থেকে নিষ্কাশিত হয়েছে, আর অন্যান্য উপত্যকা পশ্চিম থেকে পূর্বে পর্বতশ্রেণিটিকে ছেদ করেছে। এই দুই ধরনের ঢালের পার্থক্যই পর্বতটিকে এক অনন্য ভূ-রূপ দিয়েছে।

ঐতিহাসিকভাবে এই পর্বতটি ‘জাবাল আল-আরিদ’ বা ‘আরিদ আল-ইয়ামামা’ নামেও পরিচিত ছিল। ধ্রুপদী ও আধুনিক আরবি কবিতায় এই এস্কার্পমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। কেন কবিরা বারবার এই পাথুরে প্রাচীরের কাছে ফিরে এসেছেন? সম্ভবত কারণ এটি কেবল ভূগোল নয়, বরং স্মৃতি ও পরিচয়েরও বাহক।

মধ্য ও দক্ষিণ নজদের প্রধান বসতিগুলো এই পর্বতের ঢাল থেকে নেমে আসা উর্বর উপত্যকাগুলোর পাশে গড়ে উঠেছিল। পর্বতটি পূর্বের সুদাইর গ্রামগুলো এবং পশ্চিমের আল-ওয়াশমের মধ্যে প্রাকৃতিক বিভাজক হিসেবে কাজ করেছিল। এই ভৌগোলিক বিভাজন কীভাবে স্থানীয় জনপদগুলোর জীবনযাত্রা ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।

তুয়াইক পর্বত জাতীয় স্থিতিশীলতার একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। এসপিএ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী হিজ রয়্যাল হাইহনেস প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ মন্তব্য করেছিলেন, ‘সৌদি জনগণের সংকল্প তুয়াইক পর্বতের মতো।’ এই উদ্ধৃতি কীভাবে একটি ভৌগোলিক নিদর্শনকে জাতীয় চেতনার প্রতীকে পরিণত করে?

প্রশ্ন থেকে যায়, এই ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ চুনাপাথরের প্রাচীর ভবিষ্যতে ভূ-পর্যটন বা সাংস্কৃতিক গবেষণায় কতটা মনোযোগ পাবে? এসপিএর প্রতিবেদনে পর্বতটির ভূতাত্ত্বিক বয়স, উচ্চতা বা সুনির্দিষ্ট কোনো পরিমাপ উল্লেখ করা হয়নি। তবে এর নাম, আকার, বিস্তার ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা নজদের ভূ-প্রকৃতির এক অনন্য চিত্র তুলে ধরে।

তুয়াইক পর্বতের নামের উৎস কী? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, পর্বতটির নাম এসেছে এর স্বতন্ত্র ধনুকাকৃতি গঠন থেকে, যা নজদ অঞ্চল জুড়ে কোলার বা গলার হারের মতো বাঁক নিয়ে বিস্তৃত। আরবি ‘তাওক’ শব্দের অর্থ কোলার, আর এর ক্ষুদ্রার্থক রূপ ‘তুয়াইক’।

পর্বতটি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত? এসপিএ অনুযায়ী, তুয়াইক পর্বত একটি সংকীর্ণ চুনাপাথরের এস্কার্পমেন্ট, যা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এটি উত্তরে আল-জুলফি গভর্নরেটের থুওয়াইরাত বালিয়াড়ি থেকে দক্ষিণে রুব আল-খালি মরুভূমির সীমান্ত পর্যন্ত stretches।

এর পূর্ব ও পশ্চিম ঢালের পার্থক্য কী? এসপিএ জানিয়েছে, তুয়াইক পর্বতের পূর্ব ঢাল ধীরে ধীরে নেমে গেছে, অন্যদিকে পশ্চিম মুখ খাড়া ও নাটকীয় ক্লিফের মতো হঠাৎ নিচে নেমে গেছে। ওয়াদি হানিফা পূর্ব দিক থেকে নিষ্কাশিত হয়েছে, আর অন্যান্য উপত্যকা পশ্চিম থেকে পূর্বে পর্বতশ্রেণিটিকে ছেদ করেছে।

পর্বতটির ঐতিহাসিক নাম কী ছিল? এসপিএ জানিয়েছে, তুয়াইক পর্বত ঐতিহাসিকভাবে ‘জাবাল আল-আরিদ’ বা ‘আরিদ আল-ইয়ামামা’ নামে পরিচিত ছিল। ধ্রুপদী ও আধুনিক আরবি কবিতায় এই এস্কার্পমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

পর্বতটি কীভাবে জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সম্মেলনে ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘সৌদি জনগণের সংকল্প তুয়াইক পর্বতের মতো।’ এভাবে পর্বতটি জাতীয় স্থিতিশীলতার সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

পর্বতের ঢালে কোন বসতিগুলো গড়ে উঠেছিল? এসপিএ জানিয়েছে, মধ্য ও দক্ষিণ নজদের প্রধান বসতিগুলো তুয়াইক পর্বতের ঢাল থেকে নেমে আসা উর্বর উপত্যকাগুলোর পাশে গড়ে উঠেছিল। পর্বতটি পূর্বের সুদাইর গ্রামগুলো এবং পশ্চিমের আল-ওয়াশমের মধ্যে প্রাকৃতিক বিভাজক হিসেবে কাজ করেছিল।