ঐতিহাসিক দিরিয়ার জেলাগুলোতে পাবলিক স্পেসের নকশা ও পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে, যেখানে ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ ধরে ১৫ থেকে ২১ জন অংশগ্রহণকারী পাঁচটি দলে ভাগ হয়ে কাজ করবেন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১৯ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রাম সেন্টার “ক্রিয়েট ইওর নেইবারহুড’স আইডেন্টিটি” নামের একটি উদ্যোগ চালু করেছে। এটি দিরিয়া গেট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিজিডিএ), কিং সালমান কালচারাল সেন্টারস—যা কিং সালমান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক শাখা—এবং আলমাশতাল ক্রিয়েটিভ ইনকিউবেটরের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নেওয়া হয়েছে।
উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো জেলাগুলোর স্থানীয় পরিচয় শক্তিশালী করা এবং পাবলিক স্পেস উন্নয়নে ডিজাইন ও শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরা। ব্যবহারিক এই কর্মসূচি সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে কমিউনিটি অংশগ্রহণকে একত্র করে এবং সৃজনশীল ধারণাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে চায়, যা প্রতিটি স্থানের স্বতন্ত্র চরিত্র এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজন প্রতিফলিত করবে।
ঐতিহাসিক দিরিয়ার জেলাগুলোই হবে এই নকশা ও পরীক্ষামূলক প্রকল্পের কেন্দ্র। এলাকার সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য পরিচয় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্প ও ডিজাইন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রোটোটাইপ তৈরি ও পরীক্ষা করা হবে। এসব প্রকল্প পাবলিক স্পেসের গুণমান উন্নত করতে এবং বাসিন্দাদের নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
কিন্তু একটি জেলার পরিচয় আসলে কী দিয়ে তৈরি হয়—তার ভবন, তার গলি, নাকি সেখানে বসবাসকারী মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাস? এই প্রশ্নটিই উদ্যোগটির কেন্দ্রে রয়েছে বলে এসপিএর প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে।
কর্মসূচিটি ছয় থেকে আট সপ্তাহ ধরে চলবে। এতে ১৫ থেকে ২১ জন অংশগ্রহণকারী পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন। লক্ষ্য হলো এক থেকে তিনটি পাবলিক স্পেস প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন, যা স্থানীয় পরিচয় প্রতিফলিত করবে এবং কমিউনিটির জন্য স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
এসপিএ জানিয়েছে, উদ্যোগটি ডিজাইন ও পাবলিক আর্টে প্রতিভা বিকশিত করতেও চায়। এর জন্য একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশ তৈরি করা হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের সঙ্গে একত্র হবেন। স্থানীয় শিল্পীরা তাঁদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন এবং তাঁদের সৃজনশীল দক্ষতা শানিত করতে সহায়তা করবেন। এতে জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে এবং উদীয়মান প্রতিভা স্থানীয় শিল্প ও ডিজাইন চর্চার সঙ্গে যুক্ত হবেন।
তাহলে প্রশিক্ষণের এই ছয় থেকে আট সপ্তাহ শেষে অংশগ্রহণকারীরা যা শিখবেন, তা কি কেবল প্রকল্পের কাগজে থাকবে, নাকি দিরিয়ার রাস্তায় সত্যিই দেখা যাবে? এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্য এক থেকে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা—অর্থাৎ ধারণাকে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
উদ্যোগের একটি বড় দিক হলো কমিউনিটি অংশগ্রহণ। শুধু নকশা 전문가রা নয়, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজনও প্রকল্পে প্রতিফলিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, স্থানীয় বাসিন্দাদের কণ্ঠ কতটা সরাসরি এই নকশা প্রক্রিয়ায় ঢুকবে? এসপিএর বিবরণে বলা হয়েছে, প্রকল্পগুলো প্রতিটি স্থানের স্বতন্ত্র চরিত্র এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের চাহিদা প্রতিফলিত করবে।
ঐতিহাসিক দিরিয়া বেছে নেওয়ার পেছনে একটি স্পষ্ট যুক্তি রয়েছে। এলাকার সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য পরিচয় থেকে অনুপ্রাণিত প্রকল্পগুলোর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন কোনো কৃত্রিম ধারণা নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্য থেকেই নকশার উপাদান নেওয়ার কথা। এতে পাবলিক স্পেসের গুণমান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন জাগে, একটি জায়গার স্থাপত্য ঐতিহ্য যদি নকশার মূল উৎস হয়, তাহলে আধুনিক ব্যবহারের চাহিদা আর ঐতিহ্যের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে? এসপিএর প্রতিবেদনে এই ভারসাম্যের বিস্তারিত পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রোটোটাইপ পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে—যা ধারণা যাচাইয়ের একটি ধাপ।
অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা থেকেও উদ্যোগের পরিধি বোঝা যায়। কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রাম সেন্টার উদ্যোগটি চালু করেছে। দিরিয়া গেট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিজিডিএ) সঙ্গী। কিং সালমান কালচারাল সেন্টারস, যা কিং সালমান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক শাখা, এবং আলমাশতাল ক্রিয়েটিভ ইনকিউবেটরও অংশীদার। এই সমন্বয়ই বলে দেয়, উদ্যোগটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সৃজনশীল ইনকিউবেশন—দুই দিককেই ছুঁতে চায়।
ডিজাইন ও পাবলিক আর্টে প্রতিভা বিকশিত করার লক্ষ্যটি এই সমন্বয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। স্থানীয় শিল্পীদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে উদীয়মান প্রতিভা স্থানীয় শিল্প ও ডিজাইন চর্চার সঙ্গে যুক্ত হন। তাহলে কি এই উদ্যোগ দিরিয়ার জন্য একটি স্থায়ী সৃজনশীল নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে, নাকি এটি কেবল একটি সীমিত সময়ের কর্মসূচি হিসেবে থাকবে?
কর্মসূচির কাঠামো তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট। ছয় থেকে আট সপ্তাহের মেয়াদ। ১৫ থেকে ২১ জন অংশগ্রহণকারী। পাঁচটি দল। শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের তত্ত্বাবধান। ফলাফল হিসেবে এক থেকে তিনটি পাবলিক স্পেস প্রকল্প। এই সংখ্যাগুলোই এসপিএর প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, পাঁচটি দলের মধ্যে কাজ কীভাবে ভাগ হবে—প্রতিটি দল কি আলাদা জেলায় কাজ করবে, নাকি একই স্থানে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরীক্ষা চালাবে? এসপিএর প্রতিবেদনে এই বিভাজনের বিস্তারিত নেই। তবে জেলাগুলোকে নকশা ও পরীক্ষার স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একাধিক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
আরেকটি দিক হলো সময়সীমা। ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে ধারণা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত পৌঁছানো একটি চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধান এবং স্থানীয় শিল্পীদের অভিজ্ঞতা এই প্রক্রিয়াকে গতি দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণ, নকশা, পরীক্ষা ও বাস্তবায়ন—এই চার ধাপ একসঙ্গে কতটা সম্ভব? এসপিএ এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেয়নি।
উদ্যোগের নাম “ক্রিয়েট ইওর নেইবারহুড’স আইডেন্টিটি” নিজেই একটি বার্তা বহন করে। নামের মধ্যেই বলা আছে, নিজের পাড়ার পরিচয় নিজে তৈরি করো। অর্থাৎ অংশগ্রহণকারীরা কেবল বাইরে থেকে নকশা শিখবেন না, বরং নিজেদের এলাকার পরিচয় গড়ার প্রক্রিয়ার অংশ হবেন। এই অংশগ্রহণমূলক দিকটিই উদ্যোগটিকে একটি প্রশিক্ষণ কোর্সের চেয়ে আলাদা করে তোলে বলে প্রতিবেদনের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়।
তাহলে কি এই মডেল ভবিষ্যতে অন্য জেলাগুলোতেও প্রয়োগ করা যাবে? এসপিএর প্রতিবেদনে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনার কথা বলা হয়নি। প্রতিবেদনে কেবল ঐতিহাসিক দিরিয়ার জেলাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পাবলিক স্পেস উন্নয়নে ডিজাইন ও শিল্পের ভূমিকা নিয়ে সৌদি আরবে আলোচনা নতুন নয়, তবে এই উদ্যোগে সেটি কমিউনিটি অংশগ্রহণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যবহারিক কর্মসূচি হিসেবে এতে ধারণা থেকে বাস্তব প্রকল্পে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বাস্তব প্রকল্প মানে কি স্থায়ী স্থাপনা, নাকি অস্থায়ী হস্তক্ষেপ—যেমন বসার জায়গা, আলোকসজ্জা বা শিল্পকর্ম? এসপিএ এই বিশদ দেয়নি।
স্থানীয় পরিচয় শক্তিশালী করার লক্ষ্যটি কেবল নান্দনিকতার বিষয় নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পগুলো বাসিন্দাদের নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করবে। অর্থাৎ পাবলিক স্পেসকে শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, সামাজিক সংযোগের জন্যও দেখা হচ্ছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পাড়ার পরিচয় মানে শুধু ভবনের রং নয়, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কও।
প্রশ্ন জাগে, এই সামাজিক সংযোগ মাপা হবে কীভাবে? এসপিএর প্রতিবেদনে মূল্যায়নের কোনো পদ্ধতি উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে, প্রকল্পগুলো স্থানীয় পরিচয় প্রতিফলিত করবে এবং কমিউনিটির জন্য স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
জ্ঞানের আদান-প্রদানের দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় শিল্পীরা তাঁদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেবেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সৃজনশীল দক্ষতা শানিত করতে সহায়তা করবেন। এতে উদীয়মান প্রতিভা স্থানীয় শিল্প ও ডিজাইন চর্চার সঙ্গে যুক্ত হবেন। এই প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন হলো, স্থানীয় শিল্পীদের ভূমিকা কি কেবল পরামর্শদাতার, নাকি তাঁরা নিজেরাও প্রকল্পের অংশ হবেন? প্রতিবেদনে তাঁদের ‘ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া’ এবং ‘দক্ষতা শানিত করতে সহায়তা করা’—এই দুই ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা ১৫ থেকে ২১—এই সীমিত সংখ্যা ইঙ্গিত দেয়, উদ্যোগটি ব্যাপক নয়, বরং ঘনিষ্ঠ ও নিবিড়। পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে তাঁরা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন। এই কাঠামোতে ব্যক্তিগত মনোযোগ পাওয়ার সুযোগ বেশি, তবে অন্যদিকে ফলাফলের পরিধিও সীমিত থাকতে পারে।
তাহলে ১৫ থেকে ২১ জনের এই দল কি দিরিয়ার পাবলিক স্পেসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে? এসপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্য এক থেকে তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন। সংখ্যাটি ছোট, তবে প্রতিটি প্রকল্প যদি স্থানীয় পরিচয়ের নমুনা হয়ে ওঠে, তাহলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
উদ্যোগটি চালু হওয়ার সময় ও স্থান হিসেবে রিয়াদ এবং ১৯ অক্টোবর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে এসপিএর প্রতিবেদনে। তবে প্রকল্পের নির্দিষ্ট কোন জেলাগুলোতে কাজ হবে, তার নাম দেওয়া হয়নি। শুধু ‘ঐতিহাসিক দিরিয়ার জেলাগুলো’ বলা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, কোন জেলা বাছাই করা হবে তা কে নির্ধারণ করবে—কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রাম সেন্টার, ডিজিডিএ, নাকি অংশগ্রহণকারীরা নিজেরা? এসপিএ এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার বিবরণ দেয়নি।
বাজেট, অর্থায়ন বা প্রকল্পের মোট খরচ সম্পর্কেও প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কিন্তু তাদের আর্থিক অবদান বা দায়িত্ব বিভাজনের বিস্তারিত নেই।
একইভাবে, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তার রক্ষণাবেক্ষণ কে করবে, বা সেগুলো স্থায়ী হবে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এসপিএর প্রতিবেদনে নেই। প্রতিবেদনে কেবল বর্তমান কর্মসূচির কাঠামো, লক্ষ্য ও অংশীদারদের কথা বলা হয়েছে।
তবুও, উদ্যোগটির মূল বার্তা স্পষ্ট: পাবলিক স্পেস উন্নয়নে ডিজাইন ও শিল্পকে কেবল সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে নয়, বরং স্থানীয় পরিচয় গড়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিরিয়ার সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যকে ভিত্তি ধরে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করা হবে।
প্রশ্ন থেকে যায়, ছয় থেকে আট সপ্তাহের এই প্রচেষ্টা কি দিরিয়ার পাড়াগুলোকে নতুন পরিচয় দেবে, নাকি এটি একটি প্রক্রিয়ার সূচনা মাত্র—যার প্রকৃত ফল দেখা যাবে আরও পরে? এসপিএর প্রতিবেদনে এই প্রশ্নের উত্তর নেই; সেখানে কেবল উদ্যোগের লক্ষ্য, কাঠামো ও অংশীদারদের কথা বলা হয়েছে।
উদ্যোগটি কে চালু করেছে এবং কারা অংশীদার? কোয়ালিটি অব লাইফ প্রোগ্রাম সেন্টার “ক্রিয়েট ইওর নেইবারহুড’স আইডেন্টিটি” উদ্যোগটি চালু করেছে। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে দিরিয়া গেট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ডিজিডিএ), কিং সালমান কালচারাল সেন্টারস—যা কিং সালমান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক শাখা—এবং আলমাশতাল ক্রিয়েটিভ ইনকিউবেটর। উদ্যোগের লক্ষ্য জেলাগুলোর স্থানীয় পরিচয় শক্তিশালী করা এবং পাবলিক স্পেস উন্নয়নে ডিজাইন ও শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরা।
কর্মসূচির সময়সীমা ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কত? এসপিএর তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি ছয় থেকে আট সপ্তাহ ধরে চলবে। এতে ১৫ থেকে ২১ জন অংশগ্রহণকারী পাঁচটি দলে বিভক্ত হয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন। লক্ষ্য হলো এক থেকে তিনটি পাবলিক স্পেস প্রকল্প তৈরি ও বাস্তবায়ন, যা স্থানীয় পরিচয় প্রতিফলিত করবে এবং কমিউনিটির জন্য স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
কোথায় প্রকল্পের নকশা ও পরীক্ষা হবে? এসপিএ জানিয়েছে, ঐতিহাসিক দিরিয়ার জেলাগুলোই প্রকল্পের নকশা ও পরীক্ষার স্থান হবে। এলাকার সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য পরিচয় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শিল্প ও ডিজাইন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রোটোটাইপ তৈরি ও পরীক্ষা করা হবে। এসব প্রকল্প পাবলিক স্পেসের গুণমান উন্নত করতে এবং বাসিন্দাদের নিজেদের পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়তা করবে।
স্থানীয় শিল্পীদের ভূমিকা কী থাকবে? এসপিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্যোগটি ডিজাইন ও পাবলিক আর্টে প্রতিভা বিকশিত করতেও চায়। এর জন্য একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ পরিবেশ তৈরি করা হবে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞ ও পেশাদারদের সঙ্গে একত্র হবেন। স্থানীয় শিল্পীরা তাঁদের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন এবং তাঁদের সৃজনশীল দক্ষতা শানিত করতে সহায়তা করবেন। এতে জ্ঞানের আদান-প্রদান হবে এবং উদীয়মান প্রতিভা স্থানীয় শিল্প ও ডিজাইন চর্চার সঙ্গে যুক্ত হবেন।
উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কী? উদ্যোগটির লক্ষ্য জেলাগুলোর স্থানীয় পরিচয় শক্তিশালী করা এবং পাবলিক স্পেস উন্নয়নে ডিজাইন ও শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরা। ব্যবহারিক এই কর্মসূচি সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে কমিউনিটি অংশগ্রহণকে একত্র করে এবং সৃজনশীল ধারণাকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে চায়, যা প্রতিটি স্থানের স্বতন্ত্র চরিত্র এবং বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের প্রয়োজন প্রতিফলিত করবে। এসপিএর প্রতিবেদনে মূল্য, ক্ষমতা বা নির্দিষ্ট জেলার নাম উল্লেখ করা হয়নি।