২০২৪ সালে সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ (এসএফডিএ) লাইসেন্সপ্রাপ্ত কারখানা ও গুদামের সংখ্যায় ২০২৩ সালের তুলনায় রেকর্ড ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এসএফডিএ। এই উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায়ন করেছে, যার মধ্যে লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ এবং শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে বাস্তবায়িত অন্যান্য উদ্যোগ রয়েছে।
খাদ্য খাতে ২০২৪ সালে ৬৯৩টি কারখানা ও ৩,৮৫৭টি গুদামের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। ওষুধ খাতে আটটি কারখানা ও ৫৬৫টি গুদাম লাইসেন্স পেয়েছে। প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানা ও ৮৫৭টি গুদাম, চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানা ও ১,৪০৫টি গুদাম এবং ফিড খাতে ২৯টি কারখানা ও ২৭০টি গুদামের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগারও লাইসেন্স পেয়েছে।
খাদ্য খাতের ৬৯৩টি কারখানা আর ৩,৮৫৭টি গুদামের হিসাব আলাদা করে দেখলে বোঝা যায়, গুদামের সংখ্যা কারখানার প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ। এই অনুপাত কি শুধু উৎপাদন নয়, বরং সরবরাহ ও সংরক্ষণ অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে না?
ওষুধ খাতে মাত্র আটটি কারখানা লাইসেন্স পেলেও গুদাম লাইসেন্সের সংখ্যা ৫৬৫। প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানার পাশে ৮৫৭টি গুদাম। চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানার বিপরীতে ১,৪০৫টি গুদাম। ফিড খাতে ২৯টি কারখানার সঙ্গে ২৭০টি গুদাম। প্রতিটি খাতেই গুদাম লাইসেন্স কারখানা লাইসেন্সের চেয়ে অনেক বেশি—এই ধারা কি আমদানি-নির্ভর সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ধীরে ধীরে স্থানীয় মজুত ও বিতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সংকেত নয়?
এসএফডিএ জানিয়েছে, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়ন, যা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষমতায়ন করেছে। এই পরিকল্পনায় কয়েকটি উদ্যোগ রয়েছে। এর একটি হলো লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠন। এছাড়া শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও কিছু উদ্যোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, শুধু পদ্ধতি সহজ করলেই কি ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সম্ভব, নাকি এর পেছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর বড় কোনো পরিবর্তনও কাজ করছে?
খাদ্য খাতের ৬৯৩টি কারখানা লাইসেন্স এক বছরে দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় কতটা বেশি, তা এসপিএ প্রতিবেদনে আলাদা করে বলা হয়নি। তবে ৮২ শতাংশ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার থেকে বোঝা যায়, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত কারখানা ও গুদামের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ওষুধ খাতে আটটি কারখানা লাইসেন্স পাওয়া মানে বছরে আটটি নতুন ওষুধ উৎপাদন ইউনিট যুক্ত হওয়া। দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সংখ্যা কি যথেষ্ট? নাকি এই খাতে আরও বড় লাফ দেওয়ার সুযোগ এখনও অপেক্ষা করছে?
প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানা ও ৮৫৭টি গুদাম লাইসেন্স পাওয়া এই খাতের বাণিজ্যিক সক্রিয়তা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানা ও ১,৪০৫টি গুদাম—এই খাতে গুদামের সংখ্যা কারখানার প্রায় ৫৮ গুণ। এত বেশি গুদাম লাইসেন্সের প্রয়োজন কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগে। ফিড খাতে ২৯টি কারখানা ও ২৭০টি গুদাম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
এসএফডিএ আরও জানিয়েছে, নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগার লাইসেন্স পেয়েছে। বেসরকারি পরীক্ষাগার লাইসেন্স দেওয়া মানে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এই নয়টি পরীক্ষাগার কোন খাতে কাজ করবে বা কোথায় অবস্থিত হবে, তা এসপিএ প্রতিবেদনে বলা হয়নি।
সামগ্রিকভাবে ২০২৪ সালে এসএফডিএ-র লাইসেন্সিং কার্যক্রমে বড় ধরনের সম্প্রসারণ দেখা গেছে। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফিড—এই পাঁচটি খাতে কারখানা ও গুদাম মিলিয়ে হাজার হাজার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যাগুলো একসঙ্গে যোগ করলে বোঝা যায়, সৌদি আরবে শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামোয় বিনিয়োগের ঢল নেমেছে।
খাদ্য খাতের ৩,৮৫৭টি গুদাম লাইসেন্স কি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মজুত বাড়াতে সহায়ক হবে? এই গুদামগুলো কোথায় অবস্থিত হবে এবং কী ধরনের পণ্য সংরক্ষণ করবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
ওষুধ খাতের ৫৬৫টি গুদাম লাইসেন্স দেশীয় ওষুধ সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে পারে। চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতের ১,৪০৫টি গুদাম লাইসেন্স স্বাস্থ্যসেবা খাতে পণ্য সরবরাহের প্রস্তুতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। প্রসাধনী খাতের ৮৫৭টি গুদাম ভোক্তাপণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফিড খাতের ২৭০টি গুদাম পশুসম্পদ ও কৃষি খাতের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এসএফডিএ-র মতে, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায়ন করেছে। লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠন, শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ—এই তিনটি ধারায় কাজ চলছে। বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই সমন্বয়ই কি ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি?
২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। এসএফডিএ এটিকে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ২০২৩ সালে মোট কতটি কারখানা ও গুদাম লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেই ভিত্তিসংখ্যা এসপিএ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে মোট সংখ্যা কত দাঁড়ায়, তা সরাসরি জানা যায় না।
খাদ্য খাতে ৬৯৩টি কারখানা ও ৩,৮৫৭টি গুদাম মিলিয়ে মোট ৪,৫৫০টি লাইসেন্স। ওষুধ খাতে আটটি কারখানা ও ৫৬৫টি গুদাম মিলিয়ে ৫৭৩টি। প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানা ও ৮৫৭টি গুদাম মিলিয়ে ৮৯৯টি। চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানা ও ১,৪০৫টি গুদাম মিলিয়ে ১,৪২৯টি। ফিড খাতে ২৯টি কারখানা ও ২৭০টি গুদাম মিলিয়ে ২৯৯টি। এই পাঁচ খাতের মোট লাইসেন্স সংখ্যা দাঁড়ায় ৭,৭৫০টি, এর সঙ্গে নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগার যোগ হলে মোট ৭,৭৫৯টি।
এই বিশাল সংখ্যক লাইসেন্স এক বছরে দেওয়া সম্ভব হয়েছে কীভাবে? লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়েছে কি? এসএফডিএ-র পরিকল্পনায় থাকা উদ্যোগগুলো কীভাবে কাজ করছে, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য থাকলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হতো।
স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। খাদ্য খাতে ৬৯৩টি কারখানা লাইসেন্স পাওয়া মানে দেশীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে। ওষুধ খাতে আটটি কারখানা—এই সংখ্যা কম মনে হলেও প্রতিটি কারখানা বড় মাপের হতে পারে। প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানা দেশীয় প্রসাধনী শিল্পের সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়। চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানা স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জামে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পথে একটি ধাপ। ফিড খাতে ২৯টি কারখানা পশুখাদ্য উৎপাদনে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
এসএফডিএ-র এই প্রতিবেদন সৌদি আরবের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাইসেন্সিং পদ্ধতির পুনর্গঠন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে এই প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে কিছু তথ্য অনুপস্থিত। ২০২৩ সালের ভিত্তিসংখ্যা, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ, কর্মসংস্থানের সংখ্যা, কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বা ভৌগোলিক অবস্থান—এসব বিষয়ে এসপিএ প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের নির্দিষ্ট ধাপগুলো কী, তাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
খাদ্য খাতে ৬৯৩টি কারখানা ও ৩,৮৫৭টি গুদামের লাইসেন্স—এই সংখ্যাগুলো কি আগামী বছরগুলোতেও একই গতিতে বাড়বে? নাকি ২০২৪ সালের প্রবৃদ্ধি একটি বিশেষ পর্যায়ের ফল, যা পরবর্তী বছরগুলোতে স্থিতিশীল হবে? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ খাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এসএফডিএ-র ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। লাইসেন্সিং কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানদণ্ড অনুসরণ করানো এবং একই সঙ্গে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা—এই দুই লক্ষ্যের মধ্যে ভারসাম্য রাখা চ্যালেঞ্জিং। ২০২৪ সালের ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয়, এই ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা কিছুটা সফল হয়েছে।
ওষুধ খাতে আটটি কারখানা লাইসেন্স পাওয়া নিয়ে আরও বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য জরুরি। আটটি কারখানা কি সেই লক্ষ্যের দিকে একটি ছোট পদক্ষেপ, নাকি বড় কিছু আসছে? চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানা ও ১,৪০৫টি গুদাম—এই খাতে গুদামের আধিক্য কি আমদানি নির্ভরতার পরিচায়ক?
প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানা ও ৮৫৭টি গুদাম। ভোক্তাপণ্যের এই খাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমতে পারে। ফিড খাতে ২৯টি কারখানা ও ২৭০টি গুদাম পশুসম্পদ খাতের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।
নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগার লাইসেন্স পাওয়া একটি উল্লেখযোগ্য দিক। মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়লে এসএফডিএ-র কাজের চাপ কমতে পারে এবং সেবার গুণমান বাড়তে পারে। তবে এই পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা ও পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে এসএফডিএ-র লাইসেন্সিং পরিসংখ্যান সৌদি আরবের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে গতিশীলতার প্রমাণ। ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এর পেছনে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায়ন এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় কাজ করেছে।
তবে এই প্রবৃদ্ধির টেকসইতা নির্ভর করবে পরবর্তী বছরগুলোর ধারাবাহিকতার ওপর। লাইসেন্স দেওয়া এক বিষয়, আর সেই লাইসেন্সের ভিত্তিতে কারখানা ও গুদাম চালু করে উৎপাদন শুরু করা আরেক বিষয়। কত শতাংশ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা এসপিএ প্রতিবেদনে বলা হয়নি।
খাদ্য খাতে ৬৯৩টি কারখানার মধ্যে কতগুলো ইতিমধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে? ওষুধ খাতে আটটি কারখানার কতগুলো চালু হয়েছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ছাড়া প্রবৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব বোঝা কঠিন।
এসএফডিএ-র উদ্যোগগুলোর মধ্যে লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠন অন্যতম। এই পুনর্গঠনের ফলে আবেদন প্রক্রিয়া কতটা সহজ হয়েছে, সময় কতটা কমেছে, বা ডিজিটাল সেবা কতটা বেড়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে নেই। শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগগুলোর নির্দিষ্ট প্রকৃতি ও ফলাফলও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের প্রেক্ষাপটে এসএফডিএ-র এই লাইসেন্সিং পরিসংখ্যান তাৎপূর্ণ। অখাদ্য ও অ-তেল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফিড—এই খাতগুলোতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কারখানা ও গুদামের সংখ্যা বাড়া সেই লক্ষ্যের দিকেই ইঙ্গিত করে।
তবে শুধু লাইসেন্সের সংখ্যা দিয়ে সাফল্য মাপা যায় না। প্রকৃত উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও বাজারে সরবরাহ—এই সূচকগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএ প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে তথ্য নেই। ভবিষ্যতে এসএফডিএ-র পক্ষ থেকে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন এলে চিত্রটি আরও স্পষ্ট হবে।
২০২৪ সালের এই ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি একটি শক্তিশালী সূচনা। আগামী বছরগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের শিল্প ও সরবরাহ অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। নিয়ন্ত্রক পরিবেশ উন্নত থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং স্থানীয় উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হবে।
এসএফডিএ-র এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট, ২০২৪ সালে সৌদি আরবে লাইসেন্সিং কার্যক্রমে বড় ধরনের গতি এসেছে। খাদ্য খাত সবচেয়ে বড় অংশ দখল করেছে, যেখানে ৬৯৩টি কারখানা ও ৩,৮৫৭টি গুদাম লাইসেন্স পেয়েছে। অন্যান্য খাতগুলোও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লাইসেন্স পেয়েছে। নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগার লাইসেন্স পাওয়া এই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এই প্রবৃদ্ধির পেছনে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়ন, লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠন, শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়—এই বিষয়গুলো এসএফডিএ উল্লেখ করেছে। তবে প্রতিটি উদ্যোগের নির্দিষ্ট অবদান কতটা, তা আলাদাভাবে পরিমাপ করা হয়নি।
সৌদি আরবের খাদ্য নিরাপত্তা, ওষুধ উৎপাদন, প্রসাধনী শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও পশুখাদ্য খাতে এই লাইসেন্সিং প্রবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয়, এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালে এসএফডিএ কত শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে এবং কেন? সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ (এসএফডিএ) ২০২৪ সালে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কারখানা ও গুদামের সংখ্যায় ২০২৩ সালের তুলনায় রেকর্ড ৮২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করেছে। সংস্থাটি এই প্রবৃদ্ধির পেছনে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতায়ন করেছে। এর মধ্যে লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠন এবং শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ রয়েছে, যা বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
খাদ্য খাতে ২০২৪ সালে কতটি কারখানা ও গুদাম লাইসেন্স পেয়েছে? খাদ্য খাতে ২০২৪ সালে ৬৯৩টি কারখানা ও ৩,৮৫৭টি গুদামের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যা অন্যান্য খাতের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। গুদামের সংখ্যা কারখানার প্রায় সাড়ে পাঁচ গুণ, যা সরবরাহ ও সংরক্ষণ অবকাঠামোতেও বিনিয়োগ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। এসপিএ প্রতিবেদনে খাদ্য খাতের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান বা উৎপাদন ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ওষুধ, প্রসাধনী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ফিড খাতে কতটি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে? ওষুধ খাতে আটটি কারখানা ও ৫৬৫টি গুদাম লাইসেন্স পেয়েছে। প্রসাধনী খাতে ৪২টি কারখানা ও ৮৫৭টি গুদাম, চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ২৪টি কারখানা ও ১,৪০৫টি গুদাম এবং ফিড খাতে ২৯টি কারখানা ও ২৭০টি গুদামের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগারও লাইসেন্স পেয়েছে। প্রতিটি খাতেই গুদাম লাইসেন্স কারখানা লাইসেন্সের চেয়ে অনেক বেশি।
এসএফডিএ এই প্রবৃদ্ধির পেছনে কোন কারণগুলো উল্লেখ করেছে? এসএফডিএ এই প্রবৃদ্ধির পেছনে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা একটি পরিকল্পনার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষমতায়ন করেছে। এই পরিকল্পনায় লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ এবং শিল্প উৎসাহ ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও কিছু উদ্যোগ রয়েছে। এসব উদ্যোগ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি উদ্যোগের নির্দিষ্ট অবদান আলাদাভাবে পরিমাপ করা হয়নি।
বেসরকারি পরীক্ষাগার লাইসেন্স দেওয়ার তাৎপর্য কী? এসএফডিএ ২০২৪ সালে নয়টি বেসরকারি পরীক্ষাগারকে লাইসেন্স দিয়েছে। এর মানে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এতে এসএফডিএ-র কাজের চাপ কমতে পারে এবং সেবার গুণমান বাড়তে পারে। তবে এই পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা, পরিধি বা অবস্থান সম্পর্কে এসপিএ প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই প্রবৃদ্ধির বিষয়ে এসপিএ প্রতিবেদনে কী তথ্য অনুপস্থিত? ২০২৩ সালের ভিত্তিসংখ্যা, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ, কর্মসংস্থানের সংখ্যা, কারখানাগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বা ভৌগোলিক অবস্থান—এসব বিষয়ে এসপিএ প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। লাইসেন্সিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের নির্দিষ্ট ধাপগুলো কী, তাও বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া কত শতাংশ লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান প্রকৃতপক্ষে কার্যক্রম শুরু করেছে, সেই তথ্যও অনুপস্থিত।