রিয়াদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ৪ থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মিডল ইস্ট পোল্ট্রি এক্সপো ২০২৬-এর সমাপ্তিতে ঘোষণা আসে যে, সৌদি আরবের মুরগির মাংস উৎপাদন ২০২৬ সালে প্রায় ১৪ লাখ টনে এবং ডিম উৎপাদন ৯০০ কোটি ছাড়িয়েছে। পোল্ট্রি মাংসে স্বনির্ভরতার হার ৮০ শতাংশ এবং টেবিল ডিমে তা ১০০ শতাংশে পৌঁছেছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় পাঁচটি প্রধান উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা দেশের পোল্ট্রি শিল্পকে স্থানীয়করণে, খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে এবং উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী এই উদ্যোগগুলোর ফলেই মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদনের এই স্তরে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রণালয় বলছে, এসব প্রচেষ্টা খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার করতেও সহায়ক। এসপিএ জানিয়েছে, এই ধারা সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ার এই গতি কি আমদানিনির্ভরতা কমাতে যথেষ্ট দ্রুত এগোচ্ছে?
এক্সপোর পঞ্চম সংস্করণে ২০২৬ পোল্ট্রি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়। এই পুরস্কার খাতের অগ্রগামী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অসামান্য অংশীদারদের সম্মান জানায়। এসপিএ অনুযায়ী পুরস্কারের পাঁচটি প্রধান ক্যাটাগরি হলো—অগ্রগামী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি; সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সমবায় কাজে উৎকর্ষ; প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব; বায়োসিকিউরিটিতে নেতৃত্ব; এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে উৎকর্ষ।
একটি প্রশ্ন জাগে, এই স্বীকৃতি কি খাতের ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মান উন্নয়নে উৎসাহিত করবে, নাকি বড় কোম্পানিগুলোর আধিপত্য আরও দৃঢ় করবে?
এসপিএ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রথম দিকে ৩০টি দেশের ১৪০টি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল; ২০২৬ সালের সংস্করণে ৪৫টি দেশের ৪০০-এর বেশি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এই বৃদ্ধি খাতের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহের স্পষ্ট সংকেত।
এবারের আসরে অতিথি দেশ হিসেবে ছিল তুরস্ক, যার ২৯টি কোম্পানি অংশ নেয়। এছাড়া চীনের ৬০টিরও বেশি কোম্পানি প্রদর্শনীতে ছিল। এসপিএ জানিয়েছে, এই উপস্থিতি সৌদি পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের বাড়তি সম্ভাবনাকে তুলে ধরে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, বিদেশি অংশীদারদের এই সমাগম কি প্রযুক্তি হস্তান্তরেও রূপ নেবে?
প্রদর্শনীর বিজনেস ম্যাচমেকিং কর্মসূচিতে ৪০০-এর বেশি নির্ধারিত বৈঠক রেকর্ড করা হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এই বৈঠকগুলো রাজ্যের পোল্ট্রি খাতে বাড়তে থাকা বিনিয়োগ সুযোগ ও অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য হলো পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার করা এবং জাতীয় পণ্যের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় পাঁচটি উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে, তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে সেই উদ্যোগগুলোর প্রতিটির বিস্তারিত নাম, বাস্তবায়ন সময়সীমা বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, এই পাঁচটি উদ্যোগ স্থানীয়করণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। প্রশ্ন হলো, উদ্যোগগুলোর অগ্রগতি কীভাবে মাপা হবে?
স্বনির্ভরতার হার প্রসঙ্গে এসপিএ জানিয়েছে, পোল্ট্রি মাংসে তা ৮০ শতাংশ এবং টেবিল ডিমে ১০০ শতাংশ। ডিম উৎপাদন ৯০০ কোটির বেশি ছাড়িয়েছে। মুরগির মাংস উৎপাদন প্রায় ১৪ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যাগুলো ২০২৬ সালের জন্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব।
খাদ্য নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে পোল্ট্রি খাতের এই অগ্রগতি তাৎপর্যপূর্ণ। মাংস ও ডিম—দুটি ক্ষেত্রেই স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ১০০ শতাংশ স্বনির্ভরতা কি সারা বছর ধরে টেকসই থাকবে, নাকি এটি নির্দিষ্ট সময়ের হিসাব?
এক্সপোটি মন্ত্রণালয়ের পোল্ট্রি খাত উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করে। এসপিএ জানিয়েছে, এই আয়োজন বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার এবং জাতীয় পণ্যের দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে। আয়োজনটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে ৪০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠানে দাঁড়ানো এবং ৪৫টি দেশের উপস্থিতি এই খাতের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তুরস্কের অতিথি দেশ হিসেবে অংশগ্রহণ এবং চীনের ৬০টিরও বেশি কোম্পানির উপস্থিতি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সৌদি আরবের অবস্থানকে আরও দৃশ্যমান করে তোলে। প্রশ্ন হলো, এই আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা কি স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য প্রতিযোগিতার চাপ বাড়াবে?
২০২৬ পোল্ট্রি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের পাঁচটি ক্যাটাগরি শুধু উৎপাদন নয়, বায়োসিকিউরিটি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মতো বিষয়কেও গুরুত্ব দেয়। এসপিএ জানিয়েছে, পুরস্কারটি খাতের অগ্রগামী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অসামান্য অংশীদারদের সম্মান জানায়। বায়োসিকিউরিটিতে নেতৃত্বকে আলাদা ক্যাটাগরি হিসেবে রাখা রোগ প্রতিরোধ ও খামার ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব বোঝায়।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে অবশ্য উৎপাদন খরচ, রপ্তানির পরিমাণ, খামারের সংখ্যা বা কর্মসংস্থানের মতো তথ্য দেওয়া হয়নি। এসব দিক জানা গেলে খাতের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতো।
বিজনেস ম্যাচমেকিংয়ের ৪০০-এর বেশি বৈঠক নতুন বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে এসপিএ উল্লেখ করেছে। এই বৈঠকগুলো যদি চুক্তিতে রূপ নেয়, তাহলে স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। প্রশ্ন হলো, এই বৈঠকগুলোর কত শতাংশ বাস্তবে বিনিয়োগে পরিণত হবে?
সৌদি আরবের পোল্ট্রি খাত ২০২২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর মাধ্যমে ক্রমে প্রসারিত হয়েছে। ৩০টি দেশ থেকে ৪৫টি দেশে অংশগ্রহণ বাড়া এবং ১৪০ থেকে ৪০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো এই প্রবণতার সাক্ষ্য। এসপিএ জানিয়েছে, এই বৃদ্ধি রাজ্যের পোল্ট্রি খাতে বিনিয়োগ সুযোগ ও অংশীদারিত্বের সম্প্রসারণকে প্রতিফলিত করে।
মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি উদ্যোগের লক্ষ্য স্থানীয়করণ বাড়ানো, খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন দক্ষতা উন্নত করা। এসপিএ-র প্রতিবেদনে অবশ্য এই উদ্যোগগুলোর কোনটি কতটা অবদান রেখেছে তার আলাদা হিসাব নেই। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগগুলোর মূল্যায়ন হলে খাতের অগ্রগতির চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
সারসংক্ষেপে, ২০২৬ সালে সৌদি আরবের পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন প্রায় ১৪ লাখ টন এবং ডিম উৎপাদন ৯০০ কোটি ছাড়িয়েছে, যেখানে স্বনির্ভরতার হার যথাক্রমে ৮০ ও ১০০ শতাংশ। মিডল ইস্ট পোল্ট্রি এক্সপো ২০২৬-এ পাঁচ ক্যাটাগরির পুরস্কার চালু হয় এবং ৪৫টি দেশের ৪০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এসপিএ-র প্রতিবেদনে উদ্যোগগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, বিনিয়োগের পরিমাণ বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি আরবের পোল্ট্রি উৎপাদনের বর্তমান অবস্থা কী? পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬ সালে মুরগির মাংস উৎপাদন প্রায় ১৪ লাখ টনে এবং ডিম উৎপাদন ৯০০ কোটি ছাড়িয়েছে। পোল্ট্রি মাংসে স্বনির্ভরতার হার ৮০ শতাংশ এবং টেবিল ডিমে ১০০ শতাংশ। এসপিএ জানিয়েছে, পাঁচটি প্রধান উদ্যোগ এই অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি উদ্যোগ কী কী? এসপিএ জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় পাঁচটি প্রধান উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা পোল্ট্রি শিল্পের স্থানীয়করণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও উৎপাদন দক্ষতা বাড়িয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উদ্যোগগুলোর আলাদা নাম, সময়সীমা বা লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় বলছে, এসব উদ্যোগ খাদ্য নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও জোরদার করে।
মিডল ইস্ট পোল্ট্রি এক্সপো ২০২৬ কখন ও কোথায় হয়? এসপিএ জানিয়েছে, মিডল ইস্ট পোল্ট্রি এক্সপো ২০২৬ রিয়াদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে ৪ থেকে ৬ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এটি ছিল প্রদর্শনীর পঞ্চম সংস্করণ। আয়োজনটি মন্ত্রণালয়ের পোল্ট্রি খাত উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করে এবং সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
২০২৬ পোল্ট্রি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডের ক্যাটাগরি কয়টি? এসপিএ জানিয়েছে, এক্সপোর পঞ্চম সংস্করণে ২০২৬ পোল্ট্রি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড চালু হয়, যা খাতের অগ্রগামী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অসামান্য অংশীদারদের সম্মান জানায়। পুরস্কারের পাঁচটি প্রধান ক্যাটাগরি হলো অগ্রগামী স্বীকৃতি, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সমবায় কাজে উৎকর্ষ, প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, বায়োসিকিউরিটিতে নেতৃত্ব এবং উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে উৎকর্ষ।
প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ কতটা বেড়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, ২০২২ সালে যাত্রা শুরুর পর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রথমে ৩০টি দেশের ১৪০টি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল; ২০২৬ সালের সংস্করণে ৪৫টি দেশের ৪০০-এর বেশি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। তুরস্ক অতিথি দেশ হিসেবে ২৯টি কোম্পানি এবং চীন ৬০টিরও বেশি কোম্পানি নিয়ে অংশ নেয়।
বিজনেস ম্যাচমেকিং কর্মসূচিতে কী হয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, প্রদর্শনীর বিজনেস ম্যাচমেকিং কর্মসূচিতে ৪০০-এর বেশি নির্ধারিত বৈঠক রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৈঠকগুলো রাজ্যের পোল্ট্রি খাতে বাড়তে থাকা বিনিয়োগ সুযোগ ও অংশীদারিত্বের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ জোরদার করা।





