জাজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা, মদিনা, কাসিম, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। এই বজ্রঝড়ের সঙ্গে থাকতে পারে শিলাবৃষ্টি এবং ধুলো উড়ানো বাতাস, আর তা আকস্মিক বন্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তাবুক, আল-জউফ ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের কিছু অংশে এবং ওই আট অঞ্চলের কিছু অংশে কুয়াশা তৈরি হতে পারে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৮ নভেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী রবিবারের এই পূর্বাভাসে বৃষ্টি, শিলা, ধুলো ও কুয়াশার পাশাপাশি দুই সমুদ্রে বাতাসের গতি ও ঢেউয়ের উচ্চতাও উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগরে বাতাসের দিক ও গতি অঞ্চলভেদে আলাদা হবে। উত্তর অংশে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে উত্তর দিকে থাকবে এবং গতি হবে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। কেন্দ্রীয় অংশে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে থাকবে এবং গতি হবে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। দক্ষিণ অংশে বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে থাকবে এবং গতি হবে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
লোহিত সাগরে ঢেউয়ের উচ্চতা এক মিটার থেকে দুই মিটারের বেশি হতে পারে। সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থেকে অস্থির (ক্যালম টু চপি) থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আরব উপসাগরে বাতাস প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে থাকবে এবং গতি হবে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার। পরে তা ধীরে ধীরে উত্তর অংশে উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘুরে যাবে এবং গতি হবে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। দক্ষিণ অংশে বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে থাকবে এবং গতি হবে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
আরব উপসাগরেও ঢেউয়ের উচ্চতা আধা মিটার থেকে দুই মিটারের বেশি হতে পারে এবং সমুদ্র শান্ত থেকে অস্থির থাকবে।
এসপিএ জানিয়েছে, এই পূর্বাভাস রবিবারের জন্য এবং স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ০৫টা ২০ মিনিট) প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির নম্বর ০০১৬।
বৃষ্টি ও বন্যার পূর্বাভাস যে অঞ্চলগুলোর জন্য দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে জাজান, আসির ও আল-বাহা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পড়ে। মক্কা ও মদিনা পশ্চিমাঞ্চলে, কাসিম ও রিয়াদ কেন্দ্রীয় অঞ্চলে এবং পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল দেশের পূর্ব দিকে অবস্থিত। এসব অঞ্চলের কিছু অংশে কুয়াশার সম্ভাবনাও রয়েছে।
কুয়াশার পূর্বাভাস শুধু ওই আট অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাবুক, আল-জউফ ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের কিছু অংশেও কুয়াশা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র।
লোহিত সাগরের বাতাসের গতির পরিসরে বড় পার্থক্য দেখা যায়। উত্তর অংশে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার হলেও কেন্দ্রীয় অংশে তা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দক্ষিণ অংশে সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার।
আরব উপসাগরের ক্ষেত্রে বাতাসের দিক পরিবর্তনের কথা আলাদাভাবে বলা হয়েছে। উত্তর অংশে বাতাস উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘুরে যাওয়ার কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে। দক্ষিণ অংশে বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে থাকবে।
দুই সমুদ্রেই ঢেউয়ের সর্বোচ্চ উচ্চতা দুই মিটারের বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। লোহিত সাগরে সর্বনিম্ন ঢেউ এক মিটার এবং আরব উপসাগরে সর্বনিম্ন ঢেউ আধা মিটার। দুই ক্ষেত্রেই সমুদ্রের অবস্থা শান্ত থেকে অস্থির থাকবে।
বজ্রঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও ধুলো উড়ানো বাতাসের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই উপাদান মিলে রাস্তাঘাটে দৃশ্যমানতা কমিয়ে দিতে পারে এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসে আট অঞ্চলের নাম সরাসরি বলা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি অঞ্চল—জাজান, আসির, আল-বাহা ও মক্কা—দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও পশ্চিম দিকে অবস্থিত। বাকি চারটি—মদিনা, কাসিম, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল—পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বিস্তৃত।
কুয়াশার পূর্বাভাসে আরও তিনটি অঞ্চলের নাম আছে—তাবুক, আল-জউফ ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চল। এগুলো দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
সমুদ্রের পূর্বাভাস দুই ভাগে দেওয়া হয়েছে—লোহিত সাগর ও আরব উপসাগর। লোহিত সাগরের বাতাসের গতি তিন ভাগে (উত্তর, কেন্দ্রীয়, দক্ষিণ) এবং আরব উপসাগরের বাতাসের গতিও তিন ভাগে (উত্তর, দক্ষিণ ও প্রথম পর্যায়) বর্ণনা করা হয়েছে।
লোহিত সাগরে বাতাসের সর্বোচ্চ গতি কেন্দ্রীয় অংশে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। আরব উপসাগরে উত্তর ও দক্ষিণ দুই অংশেই সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার।
ঢেউয়ের উচ্চতার পরিসর দুই সমুদ্রেই প্রায় একই রকম। লোহিত সাগরে এক মিটার থেকে দুই মিটারের বেশি এবং আরব উপসাগরে আধা মিটার থেকে দুই মিটারের বেশি।
সমুদ্রের অবস্থা দুই ক্ষেত্রেই শান্ত থেকে অস্থির পর্যন্ত হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এসপিএ-র এই প্রতিবেদন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিটে প্রকাশিত। গ্রিনিচ মান সময়ে তা ০৫টা ২০ মিনিট।
জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাসে বৃষ্টির পরিমাণ, বন্যার সম্ভাব্য এলাকা, ক্ষতির আশঙ্কা বা সতর্কতার মাত্রা নিয়ে কোনো সংখ্যা দেওয়া হয়নি। বাতাসের গতি, ঢেউয়ের উচ্চতা ও সমুদ্রের অবস্থা ছাড়া অন্য কোনো পরিমাপ বিজ্ঞপ্তিতে নেই।
পূর্বাভাসে কোন অঞ্চলে কতটুকু বৃষ্টি হবে বা বন্যা কতটা তীব্র হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। শিলাবৃষ্টির আকার বা ধুলো উড়ানো বাতাসের গতিও আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
কুয়াশার ঘনত্ব, স্থায়িত্ব বা দৃশ্যমানতার মাত্রাও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি। তাবুক, আল-জউফ ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলে কুয়াশা কতটা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত নেই।
সমুদ্রের পূর্বাভাসে কোন সময়ে বাতাসের দিক পরিবর্তন হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। আরব উপসাগরের উত্তর অংশে বাতাস উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ‘ধীরে ধীরে’ ঘুরবে বলে উল্লেখ আছে, তবে কোনো সময়সীমা দেওয়া হয়নি।
লোহিত সাগরের তিন অংশের বাতাসের গতির পরিসর আলাদা। উত্তর অংশে ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার, কেন্দ্রীয় অংশে ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ অংশে ১৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
আরব উপসাগরের প্রথম পর্যায়ে বাতাস দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বইবে। উত্তর অংশে তা উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ অংশে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার।
বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি, ধুলো উড়ানো বাতাস ও কুয়াশা—এই চার ধরনের আবহাওয়া পরিস্থিতির কথা একই পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বজ্রঝড় ও বন্যার সম্ভাবনা আট অঞ্চলে এবং কুয়াশার সম্ভাবনা এগারো অঞ্চলে বলা হয়েছে।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে পূর্বাভাসের তারিখ ৮ নভেম্বর ২০২৬ এবং স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ২০ মিনিট উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির নম্বর ০০১৬।
কোন কোন অঞ্চলে বজ্রঝড় ও আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে? জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী জাজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা, মদিনা, কাসিম, রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রঝড় হতে পারে। এই বজ্রঝড় আকস্মিক বন্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং সঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও ধুলো উড়ানো বাতাস থাকতে পারে। এসপিএ জানিয়েছে, এসব অঞ্চলের কিছু অংশে কুয়াশাও তৈরি হতে পারে।
লোহিত সাগরে বাতাসের গতি ও দিক কেমন থাকবে? লোহিত সাগরের উত্তর অংশে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে উত্তর দিকে ঘণ্টায় ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বইবে। কেন্দ্রীয় অংশে বাতাস উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৬০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ অংশে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে বইবে। ঢেউ এক মিটার থেকে দুই মিটারের বেশি হতে পারে এবং সমুদ্র শান্ত থেকে অস্থির থাকবে।
আরব উপসাগরে বাতাস ও ঢেউ কেমন হবে? আরব উপসাগরে বাতাস প্রথমে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ দিকে ঘণ্টায় ১৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে বইবে। পরে উত্তর অংশে তা উত্তর-পূর্ব থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণ অংশে দক্ষিণ-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিতে বইবে। ঢেউ আধা মিটার থেকে দুই মিটারের বেশি হতে পারে এবং সমুদ্র শান্ত থেকে অস্থির থাকবে।
কুয়াশার পূর্বাভাস কোন কোন অঞ্চলে দেওয়া হয়েছে? বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া আট অঞ্চলের কিছু অংশে কুয়াশা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। এর বাইরে তাবুক, আল-জউফ ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের কিছু অংশেও কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এসব অঞ্চলে কুয়াশা কতটা ঘন হবে বা কত সময় থাকবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
বজ্রঝড়ের সঙ্গে আর কী কী থাকতে পারে? পূর্বাভাস অনুযায়ী বজ্রঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি এবং ধুলো উড়ানো বাতাস থাকতে পারে। এসপিএ জানিয়েছে, এই বজ্রঝড় মাঝারি থেকে ভারী হতে পারে এবং তা আকস্মিক বন্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞপ্তিতে শিলাবৃষ্টির আকার বা ধুলো উড়ানো বাতাসের গতি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
পূর্বাভাসটি কখন ও কোন সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের এই পূর্বাভাস রবিবারের জন্য এবং তা ৮ নভেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় সময় ছিল সকাল ৮টা ২০ মিনিট এবং গ্রিনিচ মান সময় ০৫টা ২০ মিনিট। বিজ্ঞপ্তির নম্বর ০০১৬।





