যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত এ বছরের G20 ইন্টারফেইথ ফোরামে সম্মানিত অতিথি ও মূল বক্তা হিসেবে অংশ নিয়েছেন মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের (MWL) মহাসচিব এবং অর্গানাইজেশন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুলকরিম আল-ইসা। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত G20 শীর্ষ সম্মেলনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই ফোরামের আয়োজন করা হয়।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ফোরামে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রসারে ধর্মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন এবং সব ধরনের মেরুকরণের বিপদ ও তা থেকে সৃষ্ট হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেন।
ড. আল-ইসা জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় নেতাদের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে, কারণ মেরুকরণ, উসকানি ও সহিংসতা প্রায়ই বিকৃত ধর্মীয় বয়ানের আশ্রয় নেয়। প্রশ্ন হলো, ধর্মীয় বয়ানের এই বিকৃতি ঠেকাতে ধর্মীয় নেতারা কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন?
তিনি উল্লেখ করেন, MWL জাতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন দূর করতে কাজ করেছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তার অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো “Building Bridges of Understanding and Peace between East and West”। এই উদ্যোগের একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দ এবং ধর্মীয়, বুদ্ধিজীবী ও গবেষণা ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় বাস্তবায়িত বেশ কয়েকটি মানবিক উদ্যোগও পর্যালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু মোকাবিলায় ধর্মগুলোর ভূমিকা নিয়ে একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে। তিনি জোর দেন, এটি সক্রিয় ও প্রভাবশালী ধর্মীয় কূটনীতির গুরুত্বের স্বীকৃতি।
ধর্মীয় কূটনীতি কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকলে কি বাস্তব পরিবর্তন আনা সম্ভব? নাকি এর প্রভাব মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে হলে আরও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দরকার?
MWL মহাসচিবের ভাষায়, মেরুকরণ কেবল মতভেদ নয়; এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা সমাজের ভেতরে বিভাজন গভীর করে এবং সহিংসতার পথ প্রশস্ত করে। তিনি বলেন, ধর্মীয় বয়ান যখন রাজনৈতিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বিকৃত হয়, তখন তা শান্তির পরিবর্তে সংঘাতের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। তাই ধর্মীয় নেতাদের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্পষ্টভাবে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।
প্রশ্ন জাগে, ধর্মীয় নেতারা যখন মেরুকরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, তখন তাদের বার্তা কি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়? আর সেই বার্তা গ্রহণযোগ্য করতে কোন কোন মাধ্যম সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে?
তিনি আরও বলেন, MWL বিভিন্ন জাতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন কমাতে কাজ করে যাচ্ছে। “Building Bridges of Understanding and Peace between East and West” উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে বোঝাপড়া ও শান্তির সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। ২০২৩ সালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই উদ্যোগের ঐতিহাসিক সম্মেলনে জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী ও গবেষকরা অংশ নিয়েছিলেন। এই উপস্থিতি কি প্রমাণ করে না যে ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?
ড. আল-ইসা ফোরামে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় পরিচালিত কয়েকটি মানবিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা কতটা টেকসই এবং কতটা প্রাতিষ্ঠানিক?
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু মোকাবিলায় ধর্মগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে। তিনি এটিকে সক্রিয় ও প্রভাবশালী ধর্মীয় কূটনীতির স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেন। প্রশ্ন হলো, এই স্বীকৃতি কি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধর্মীয় কূটনীতির জন্য নতুন দরজা খুলে দেবে?
G20 ইন্টারফেইথ ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত G20 শীর্ষ সম্মেলনের সঙ্গে সমন্বয় করে আয়োজিত হয়। ফোরামে ধর্মীয় নেতা, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীরা অংশ নেন এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধর্মের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
ড. আল-ইসার বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় প্রাধান্য পায়: শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রসারে ধর্মের ভূমিকা, মেরুকরণ ও উসকানির বিপদ, এবং ধর্মীয় কূটনীতির কার্যকর ভূমিকা। তিনি বলেন, ধর্মীয় বয়ান যখন বিকৃত হয়, তখন তা সমাজে বিভাজন তৈরি করে। তাই ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব হলো বিশুদ্ধ ও সংহতিমূলক বয়ান তুলে ধরা।
প্রশ্ন হলো, ধর্মীয় নেতাদের এই দায়িত্ব পালনে কোন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা প্রয়োজন? এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলো কি সেই সহযোগিতার যথাযথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে?
MWL মহাসচিবের মতে, ধর্মীয় কূটনীতি এখন আর প্রান্তিক বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি সক্রিয় অংশ। দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্যানেল আলোচনা এবং জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ২০২৩ সালের সম্মেলনকে তিনি এই ধারার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে এসপিএর প্রতিবেদনে ফোরামে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা, নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব বা পরবর্তী পদক্ষেপের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ফোরামে গৃহীত কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনে নেই।
G20 ইন্টারফেইথ ফোরামে কে মূল বক্তা ছিলেন? মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের (MWL) মহাসচিব এবং অর্গানাইজেশন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান শেখ ড. মোহাম্মদ বিন আবদুলকরিম আল-ইসা এ বছরের G20 ইন্টারফেইথ ফোরামে সম্মানিত অতিথি ও মূল বক্তা হিসেবে অংশ নেন। এসপিএ জানিয়েছে, ফোরামটি যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত G20 শীর্ষ সম্মেলনের সঙ্গে সমন্বয় করে আয়োজিত হয়।
ফোরামে তিনি কোন বিষয়ে সতর্ক করেন? ড. আল-ইসা সব ধরনের মেরুকরণের বিপদ ও তা থেকে সৃষ্ট হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, মেরুকরণ, উসকানি ও সহিংসতা প্রায়ই বিকৃত ধর্মীয় বয়ানের আশ্রয় নেয়। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি ধর্মীয় নেতাদের বিশেষ দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন এবং বৈশ্বিক শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রসারে ধর্মগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা বলেন।
MWL-এর কোন উদ্যোগের কথা তিনি উল্লেখ করেন? তিনি “Building Bridges of Understanding and Peace between East and West” উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এসপিএ জানিয়েছে, এই উদ্যোগের একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন ২০২৩ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দ এবং ধর্মীয়, বুদ্ধিজীবী ও গবেষণা ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। তিনি বলেন, MWL জাতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন দূর করতে কাজ করেছে।
ধর্মীয় কূটনীতি নিয়ে তিনি কী বলেছেন? ড. আল-ইসা সক্রিয় ও প্রভাবশালী ধর্মীয় কূটনীতির গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু মোকাবিলায় ধর্মগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্যানেল আলোচনার আয়োজন করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি এটিকে ধর্মীয় কূটনীতির গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি কোন মানবিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন? ড. আল-ইসা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় বাস্তবায়িত কয়েকটি মানবিক উদ্যোগ পর্যালোচনা করেন। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি এসব উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গে কথা বলেন। তবে প্রতিবেদনে এসব উদ্যোগের বিস্তারিত বিবরণ, সংখ্যা বা নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্পের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এসপিএর প্রতিবেদনে কী তথ্য অনুপস্থিত? এসপিএর প্রতিবেদনে ফোরামে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা, নির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব বা পরবর্তী পদক্ষেপের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ফোরামে গৃহীত কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্তের কথাও প্রতিবেদনে নেই। প্রতিবেদনে শুধু ড. আল-ইসার বক্তব্যের সারসংক্ষেপ এবং ফোরামের আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।