রিয়াদে কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (কেএফএসএইচ) চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীর জরায়ু থেকে হৃদয় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া একটি বিরল টিউমার একটিমাত্র অত্যন্ত জটিল অপারেশনে সফলভাবে অপসারণ করেছে। এই পদ্ধতিতে জীবন-হুমকিপূর্ণ জটিলতা এড়ানো গেছে এবং একাধিক উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দূর হয়েছে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, রোগী ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, উপরের পেটে ব্যথা ও অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। প্রাথমিকভাবে এই উপসর্গগুলোকে পরস্পর সম্পর্কহীন মনে হলেও উন্নত ইমেজিং পরীক্ষায় একটি বিরল অবস্থা ধরা পড়ে, যেখানে টিউমারটি প্রধান শিরার মধ্য দিয়ে হৃদয়ে বেড়ে গিয়েছিল এবং ইনফিরিয়র ভেনা কেভা ও ডান অলিন্দ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা রক্তসঞ্চালন ও হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা—উভয়ের জন্যই গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
বিস্তারিত রোগনির্ণয় ও পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পর কার্ডিয়াক সার্জারি, হেপাটোপ্যানক্রিয়াটোবিলিয়ারি সার্জারি, গাইনোকোলজিক অনকোলজি সার্জারি, কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিয়া এবং নিবিড় পরিচর্যা—এই পাঁচ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের একটি বহুবিভাগীয় দল সবচেয়ে বিরল ও চ্যালেঞ্জিং অস্ত্রোপচারের একটি জন্য পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
রোগীর ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা একটি অসাধারণ জটিল অপারেশন করা হয়। অস্ত্রোপচার দলটি শ্রোণি থেকে রক্তনালির মধ্য দিয়ে হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়া টিউমারটি অপসারণ করেন, যার মধ্যে যকৃতের শিরা ও প্রধান রক্তনালিতে এর বিস্তারও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁরা জরায়ুতে টিউমারটির উৎসও সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রের প্রাচীর ও রক্তনালি পুনর্গঠন করেন।
একই অপারেশনে এই পদ্ধতি সম্পন্ন করায় রোগীকে একাধিক উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার থেকে রক্ষা করা গেছে, জটিলতার ঝুঁকি কমেছে এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
এ ধরনের অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সময়ের ব্যবধানে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা এবং বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ থাকে। এই সমন্বিত পদ্ধতি সেই বোঝা কমিয়েছে এবং আরও নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসাপথ নিশ্চিত করেছে।
এই ঘটনাটি বিরল ও জটিল রোগব্যাধি পরিচালনায় কেএফএসএইচ-এর উন্নত সক্ষমতার প্রতিফলন।
কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—এমন বিরল রোগ কত দ্রুত ধরা পড়ে? উপসর্গগুলো যখন আলাদা আলাদা অঙ্গের বলে মনে হয়, তখন সাধারণ রোগী কীভাবে বুঝবেন যে সমস্যাটি একটিমাত্র সূত্রে গাঁথা? উন্নত ইমেজিং ছাড়া এই ধরনের বিস্তার কি আদৌ ধরা সম্ভব হতো?
অস্ত্রোপচার দলের সদস্যরা পাঁচটি ভিন্ন বিশেষত্ব থেকে এসেছিলেন। একজন কার্ডিয়াক সার্জন, একজন হেপাটোপ্যানক্রিয়াটোবিলিয়ারি সার্জন, একজন গাইনোকোলজিক অনকোলজিস্ট, একজন কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এবং নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ—সবাই একসঙ্গে পরিকল্পনা না করলে ১৬ ঘণ্টার এই অপারেশন কি সম্ভব হতো? এমন বহুবিভাগীয় সমন্বয় কেবল বড় হাসপাতালেই সম্ভব—এই বাস্তবতা কি দেশের অন্যত্র চিকিৎসাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করে না?
রোগীর উপসর্গগুলো ছিল ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, উপরের পেটে ব্যথা ও অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তক্ষরণ। এগুলোর কোনোটিই নিজে থেকে হৃদযন্ত্রের টিউমার নির্দেশ করে না। প্রশ্ন হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকেরা কি এই সমন্বয়টি ধরতে পারবেন? নাকি উন্নত ইমেজিং পরীক্ষাই একমাত্র পথ?
টিউমারটি জরায়ু থেকে প্রধান শিরার মধ্য দিয়ে ইনফিরিয়র ভেনা কেভা এবং ডান অলিন্দ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এই পথটি রক্তসঞ্চালনের মূল ধমনি। টিউমারটি যদি আরও কিছুদিন অগ্রাহ্য হতো, তাহলে কী ঘটতে পারত? হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা কি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি ছিল?
অস্ত্রোপচারে জরায়ুতে টিউমারটির উৎস সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়েছে এবং হৃদযন্ত্রের প্রাচীর ও রক্তনালি পুনর্গঠন করা হয়েছে। একই অপারেশনে এতগুলো জটিল ধাপ সম্পন্ন করা কি রোগীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ ছিল? নাকি ধাপে ধাপে অপারেশন করলে ঝুঁকি আরও কম হতো?
এসপিএ জানিয়েছে, এই সমন্বিত পদ্ধতি রোগীর ওপর একাধিক অস্ত্রোপচারের বোঝা কমিয়েছে এবং দ্রুত সুস্থতার পথ তৈরি করেছে। কিন্তু রোগীর বয়স চল্লিশোর্ধ্ব হওয়ায় ১৬ ঘণ্টার অপারেশন কতটা সহনীয় ছিল? দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হতে কত সময় লেগেছে—এই তথ্য কি প্রকাশ করা হয়েছে?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সময়ের ব্যবধানে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা এবং বাড়তি শারীরিক ও মানসিক চাপ থাকে। এই তুলনাটি কি আসলে দেখায় যে একক অপারেশন সবসময় সেরা পথ? নাকি রোগীর অবস্থাভেদে ভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োজন?
কেএফএসএইচ-এর এই সাফল্য বিরল ও জটিল রোগব্যাধি পরিচালনায় তার সক্ষমতার প্রমাণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অভিজ্ঞতা কি দেশের অন্য হাসপাতালেও ছড়িয়ে দেওয়া যাবে? এমন বহুবিভাগীয় দল গঠনের জন্য কী কী সম্পদ প্রয়োজন?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে অপারেশনের খরচ, রোগীর জাতীয়তা, হাসপাতালে ভর্তির তারিখ বা সুস্থ হওয়ার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। টিউমারটির নির্দিষ্ট ধরন বা প্যাথলজি রিপোর্টের বিস্তারও প্রকাশ করা হয়নি। এসব তথ্য ছাড়া এই সাফল্যের সম্পূর্ণ চিত্র পাওয়া কঠিন—তবুও এক অপারেশনে এত জটিল সমস্যার সমাধান যে সম্ভব, তা এই ঘটনাই প্রমাণ করে।
কোন হাসপাতাল এই অপারেশন করেছে এবং রোগী কে? কিং ফয়সাল স্পেশালিস্ট হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (কেএফএসএইচ) রিয়াদে এই অপারেশন করেছে। রোগী চল্লিশোর্ধ্ব এক নারী, যিনি ক্রমবর্ধমান ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, উপরের পেটে ব্যথা ও অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ এই তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে রোগীর জাতীয়তা বা পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
টিউমারটি শরীরে কোথায় ছড়িয়েছিল? উন্নত ইমেজিং পরীক্ষায় দেখা যায় টিউমারটি জরায়ু থেকে প্রধান শিরার মধ্য দিয়ে বেড়ে গিয়ে ইনফিরিয়র ভেনা কেভা ও ডান অলিন্দ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটি রক্তসঞ্চালন ও হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা—উভয়ের জন্যই গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করেছিল। টিউমারটি যকৃতের শিরা ও প্রধান রক্তনালিতেও বিস্তৃত হয়েছিল। এসপিএ এই বিস্তারের বিবরণ দিয়েছে, তবে টিউমারের নির্দিষ্ট ধরন প্রকাশ করেনি।
অস্ত্রোপচার দলে কারা ছিলেন এবং কত সময় লেগেছিল? কার্ডিয়াক সার্জারি, হেপাটোপ্যানক্রিয়াটোবিলিয়ারি সার্জারি, গাইনোকোলজিক অনকোলজি সার্জারি, কার্ডিয়াক অ্যানেস্থেসিয়া এবং নিবিড় পরিচর্যা—এই পাঁচ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের বহুবিভাগীয় দল অপারেশনটি করেন। অপারেশনটি ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। দলটি টিউমার অপসারণের পাশাপাশি জরায়ুতে এর উৎস সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে ফেলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হৃদযন্ত্রের প্রাচীর ও রক্তনালি পুনর্গঠন করেন।
এক অপারেশনে করার সুবিধা কী ছিল? একই অপারেশনে পদ্ধতিটি সম্পন্ন করায় রোগীকে একাধিক উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার থেকে রক্ষা করা গেছে। এতে জটিলতার ঝুঁকি কমেছে এবং দ্রুত সুস্থ হওয়ার পথ সুগম হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এ ধরনের অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সময়ের ব্যবধানে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা ও বাড়তি শারীরিক-মানসিক চাপ থাকে। এই সমন্বিত পদ্ধতি সেই বোঝা কমিয়েছে।
এই ঘটনার কোন তথ্য প্রতিবেদনে অনুপস্থিত? এসপিএ-র প্রতিবেদনে অপারেশনের খরচ, রোগীর জাতীয়তা, হাসপাতালে ভর্তির তারিখ বা সুস্থ হওয়ার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। টিউমারটির নির্দিষ্ট ধরন বা প্যাথলজি রিপোর্টের বিস্তারও প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই সাফল্য বিরল ও জটিল রোগব্যাধি পরিচালনায় কেএফএসএইচ-এর সক্ষমতার প্রতিফলন।