Tuesday, November 3, 2026
সৌদি সংবাদ

মক্কায় ইউএনএওসি বন্ধু গোষ্ঠীর বৈঠকে অংশ নিল মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ

মক্কায় ইউএনএওসি বন্ধু গোষ্ঠীর বৈঠকে অংশ নিল মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ

মক্কা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতিসংঘ অ্যালায়েন্স অব সিভিলাইজেশনস (ইউএনএওসি) বন্ধু গোষ্ঠীর বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ (এমডব্লিউএল)। মক্কাভিত্তিক এই সংস্থার পক্ষ থেকে বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করেন সহকারী মহাসচিব (যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) আবদুলওয়াহাব বিন মোহাম্মদ আল-শেহরি।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের মহাসচিব এবং অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান শেখ ড. মোহাম্মদ আল-ইসসার পক্ষে এই বৈঠকে যোগ দেন আল-শেহরি। অর্থাৎ সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি এই আন্তর্জাতিক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে অ্যালায়েন্সের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ, বন্ধু গোষ্ঠীর কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশ্ন হলো, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের এমন বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্ব একই টেবিলে বসার অর্থ আসলে কী? জাতিসংঘের এই প্ল্যাটফর্মে ধর্মীয় সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন ও বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের একত্র উপস্থিতি কি সংলাপকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে পারে?

আল-শেহরি বৈঠকে একটি ভাষণ দেন, যেখানে তিনি কয়েকটি বিষয়ে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের অবস্থান তুলে ধরেন। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বাগ্রে ছিল ফিলিস্তিন প্রশ্ন। ভাষণে তিনি নীতিগত ঘোষণা থেকে বাস্তব পদক্ষেপ ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। প্রশ্ন দাঁড়ায়, সংলাপের ঘোষণা যখন কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার মূল্য কতটুকু?

তিনি এমডব্লিউএলের শিক্ষা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ এবং সমাজের ভেতরে শান্তি প্রচারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। সংস্থার এই কাজগুলো কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। প্রশ্ন হলো, শিক্ষা ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে?

আল-শেহরি গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি তাদের দুর্ভোগ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। প্রশ্ন দাঁড়ায়, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোর আহ্বান কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে প্রতিফলিত হয়?

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের মধ্যে সর্বাগ্রে হলো দুই-রাষ্ট্র সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক রেজোলিউশন অনুযায়ী একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার। তাঁর ভাষণে এই অবস্থানকে অঞ্চলে ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি অর্জনের একমাত্র পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রশ্ন হলো, দুই-রাষ্ট্র সমাধানের কাঠামোতে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য জোরদার করতে ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা কতটা কার্যকর?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে অ্যালায়েন্সের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ ছাড়াও কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়, বন্ধু গোষ্ঠীর বৈঠক কেবল একটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বহুপাক্ষিক কূটনীতির একটি সমাবেশ। প্রশ্ন দাঁড়ায়, ধর্মীয় সংস্থাগুলো যখন জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে অবস্থান ব্যক্ত করে, তখন তা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর নীতিনির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলে?

মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের পক্ষ থেকে এই অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সাংস্কৃতিক সহাবস্থানের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংস্থার সহকারী মহাসচিবের ভাষণে শিক্ষা, সংলাপ ও শান্তি প্রচারের মতো বিষয়গুলো একসঙ্গে উপস্থাপিত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই তিনটি ক্ষেত্রকে একটি সমন্বিত কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা কি বাস্তবসম্মত?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে ভাষণের বিস্তারিত পটভূমি, বৈঠকের আলোচ্যসূচির অন্যান্য বিষয় বা সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে শুধু বলা হয়েছে, আল-শেহরি এমডব্লিউএলের অবস্থান তুলে ধরে ভাষণ দেন এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নকে সর্বাগ্রে রাখেন। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক থেকে নির্দিষ্ট কোনো ফলাফল বা পরবর্তী পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকলে অংশগ্রহণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কীভাবে মাপা হবে?

বৈঠকে ফিলিস্তিন প্রশ্ন ছাড়াও আল-শেহরি কয়েকটি বিষয়ে সংস্থার অবস্থান তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তবে কোন কোন বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন, তা এসপিএ-র প্রতিবেদনে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট, সংস্থার মূল বার্তা ছিল নীতিগত অবস্থান থেকে বাস্তব অংশীদারিত্বের দিকে অগ্রসর হওয়া। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক সংলাপে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর জন্য এই রূপান্তর কতটা চ্যালেঞ্জিং?

মক্কা থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের সময়সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ২২:৩৬ মিনিটে এবং গ্রিনিচ মান সময় ১৯:৩৬ মিনিটে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের সূত্র হিসেবে এসপিএ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, আন্তর্জাতিক সংলাপের খবরাখবর আঞ্চলিক সংবাদ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিশ্বজনমত গঠনে কতটা ভূমিকা রাখে?

সামগ্রিকভাবে, ইউএনএওসি বন্ধু গোষ্ঠীর বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের অংশগ্রহণ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে সংস্থার অবস্থান তুলে ধরার ঘটনাটি আন্তঃধর্মীয় ও বহুপাক্ষিক কূটনীতির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। এসপিএ-র প্রতিবেদনে ভাষণের মূল বক্তব্য, উপস্থিত প্রতিনিধিদের ধরন এবং সংস্থার অবস্থানের কথা উল্লেখ থাকলেও বৈঠকের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী পদক্ষেপ বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। প্রশ্ন হলো, সংলাপের ঘোষণা থেকে বাস্তব পদক্ষেপে উত্তরণের পথে এই ধরনের বৈঠক কতটা দৃশ্যমান অগ্রগতি আনবে?

বৈঠকে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের প্রতিনিধিত্ব কে করেন? মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগের মহাসচিব ও অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম স্কলার্সের চেয়ারম্যান শেখ ড. মোহাম্মদ আল-ইসসার পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন সহকারী মহাসচিব (যোগাযোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা) আবদুলওয়াহাব বিন মোহাম্মদ আল-শেহরি। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি বৈঠকে একটি ভাষণ দেন এবং সংস্থার অবস্থান তুলে ধরেন।

বৈঠকে আর কারা উপস্থিত ছিলেন? এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে অ্যালায়েন্সের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ, বন্ধু গোষ্ঠীর কয়েকজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক ও ধর্মীয় সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এই উপস্থিতি বন্ধু গোষ্ঠীর বৈঠককে বহুপাক্ষিক কূটনীতির একটি সমাবেশ হিসেবে চিহ্নিত করে।

আল-শেহরির ভাষণে কোন বিষয়টি সর্বাগ্রে ছিল? এসপিএ জানিয়েছে, আল-শেহরির ভাষণে সর্বাগ্রে ছিল ফিলিস্তিন প্রশ্ন। তিনি নীতিগত ঘোষণা থেকে বাস্তব পদক্ষেপ ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং শিক্ষা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপ ও সমাজে শান্তি প্রচারে এমডব্লিউএলের প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন।

গাজা নিয়ে তিনি কী বলেছেন? প্রতিবেদন অনুযায়ী, আল-শেহরি গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং তাদের দুর্ভোগ অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে তাঁর অবস্থান কী? আল-শেহরি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ অধিকারের মধ্যে সর্বাগ্রে হলো দুই-রাষ্ট্র সমাধান ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক রেজোলিউশন অনুযায়ী একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার। তাঁর ভাষণে এই অবস্থানকে অঞ্চলে ন্যায়সংগত ও টেকসই শান্তি অর্জনের একমাত্র পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিবেদনে কী উল্লেখ করা হয়নি? এসপিএ-র প্রতিবেদনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত, পরবর্তী পদক্ষেপ, ভাষণের বিস্তারিত পটভূমি বা আলোচ্যসূচির অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে শুধু বলা হয়েছে, আল-শেহরি এমডব্লিউএলের অবস্থান তুলে ধরে ভাষণ দেন এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নকে সর্বাগ্রে রাখেন।