সৌদি আরবে কৃষিবনায়ন খাতের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন, বৈশ্বিক সেরা চর্চা প্রয়োগ এবং টেকসই বন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে কৃষিবনায়ন অ্যাকশন প্ল্যান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প চালু করেছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেজিটেশন কভার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমব্যাটিং ডেজার্টিফিকেশন (এনসিভিসি)।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, প্রকল্পটি পরিবেশগত টেকসইতা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। পাশাপাশি এটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যগুলোতে অবদান রাখবে, যেখানে টেকসই পরিবেশগত চর্চা এবং মরুকরণ মোকাবিলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
এনসিভিসি জানিয়েছে, প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি (সিফর-আইক্রাফ) এর সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক সক্রিয় করবে। এর উদ্দেশ্য গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো এবং উন্নত কৃষিবনায়ন কৌশল প্রয়োগ করা।
এই উদ্যোগটি এনসিভিসির বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ, যার মধ্যে রয়েছে জমি পুনরুদ্ধার, উদ্ভিদ আচ্ছাদন বিস্তার, মরুকরণ মোকাবিলা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো। প্রকল্পটি স্থিতিস্থাপক ও টেকসই বন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে বনাঞ্চল সুরক্ষা ও উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে।
এনসিভিসি বনাঞ্চলে টেকসই উদ্ভিদ আচ্ছাদন প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। তাদের উদ্যোগের আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ কোটি গাছ রোপণ করা হবে, যা ৩ লাখ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের সমান। সংস্থাটি ভেজিটেশন কভার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমব্যাটিং ডেজার্টিফিকেশনের নির্বাহী বিধিমালার অধীনে কাজ করে, বিশেষত অনুচ্ছেদ ৬-এর বন সংক্রান্ত বিধান, যার লক্ষ্য টেকসই বন ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন, বন সুরক্ষা ও উন্নয়ন এবং বনভূমিতে পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ করা।
কৃষিবনায়ন বলতে সাধারণত এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে একই জমিতে গাছ এবং ফসল বা পশুসম্পদ একসঙ্গে ব্যবস্থাপনা করা হয়। এই পদ্ধতি মাটির উর্বরতা বাড়াতে, জল ধরে রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করতে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়। সৌদি আরবের মতো শুষ্ক ও অর্ধ-শুষ্ক অঞ্চলে এই ধরনের ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ সেখানে জলসংকট ও মরুকরণ বড় চ্যালেঞ্জ।
এনসিভিসির এই প্রকল্প শুধু পরিবেশগত দিকেই সীমাবদ্ধ নয়। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও লক্ষ্য করা হচ্ছে। কৃষিবনায়নভিত্তিক কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে বন ব্যবস্থাপনায় সম্পৃক্ত করতে পারে। তবে এসপিএ প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার বিস্তারিত পরিমাণ বা নির্দিষ্ট প্রকল্প এলাকার কথা উল্লেখ করেনি।
সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে প্রকল্পটির সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। ভিশনের অন্যতম লক্ষ্য হলো পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিত করা এবং মরুকরণের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করা। এনসিভিসির এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সংস্থাটি ইতিমধ্যে দেশজুড়ে উদ্ভিদ আচ্ছাদন বাড়ানো, জমি পুনরুদ্ধার এবং প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিফর-আইক্রাফের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এই প্রকল্পের একটি বড় ভিত্তি। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা সৌদি আরবকে উন্নত কৃষিবনায়ন কৌশল ও বৈশ্বিক সেরা চর্চা প্রয়োগে সহায়তা করবে। প্রশ্ন হলো, এই সহযোগিতা কত দ্রুত মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান ফলাফল দেবে? এসপিএ এই বিষয়ে কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেনি।
৬ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যটি এনসিভিসির অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ লাখ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বীজ সংগ্রহ, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, সেচ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা—সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পিত পদক্ষেপ দরকার। এসপিএ প্রতিবেদনে এসব বাস্তবায়ন কৌশলের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।
বন সংক্রান্ত নির্বাহী বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী, এনসিভিসি টেকসই বন ব্যবস্থাপনার জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে বন সুরক্ষা ও উন্নয়ন এবং বনভূমিতে পশুচারণ নিয়ন্ত্রণও অন্তর্ভুক্ত। এই বিধান বাস্তবায়নে স্থানীয় সম্প্রদায়, পশুপালক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। প্রশ্ন উঠতে পারে, পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ কীভাবে জীবিকা নির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলবে? এসপিএ এই দিকটি তুলে ধরেনি।
কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। বন ও উদ্ভিদ আচ্ছাদন কার্বন ধারণক্ষমতা বাড়ায়, যা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহায়ক। সৌদি আরবের শুষ্ক পরিবেশে গাছের বৃদ্ধি ও টিকে থাকার হার চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তাই সঠিক প্রজাতি নির্বাচন, জল ব্যবস্থাপনা এবং মাটি সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএ প্রতিবেদনে কোন প্রজাতি বা কোন অঞ্চলে কাজ হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
কৃষিবনায়ন প্রকল্পের আরেকটি দিক হলো বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। টেকসই বন ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে সুফল মিলতে পারে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রণোদনা বা নীতিগত সহায়তার কথা এসপিএ প্রতিবেদনে নেই।
সামগ্রিকভাবে, এনসিভিসির এই প্রকল্প সৌদি আরবের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে প্রকল্পের বাজেট, বাস্তবায়ন সময়সূচি, নির্দিষ্ট এলাকা এবং অংশীদারদের ভূমিকা সম্পর্কে এসপিএ প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ে স্পষ্টতা এলে প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন সহজ হবে।
কৃষিবনায়ন অ্যাকশন প্ল্যান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী? প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো কৃষিবনায়নের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন, বৈশ্বিক সেরা চর্চা প্রয়োগ এবং টেকসই বন ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ উৎসাহিত করা। এটি পরিবেশগত টেকসইতা, সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর টেকসই পরিবেশগত চর্চা ও মরুকরণ মোকাবিলার লক্ষ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত। এসপিএ প্রতিবেদনে প্রকল্পের বাজেট বা সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।
সিফর-আইক্রাফের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের ভূমিকা কী? ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ফরেস্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রোফরেস্ট্রির সঙ্গে এনসিভিসি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। প্রকল্পের অংশ হিসেবে সেই সমঝোতা সক্রিয় করা হবে। এর মাধ্যমে গবেষণা সহযোগিতা বাড়ানো এবং উন্নত কৃষিবনায়ন কৌশল প্রয়োগ করা হবে। এসপিএ প্রতিবেদনে এই সহযোগিতার নির্দিষ্ট সময়সীমা বা কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত দেওয়া হয়নি।
৬ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা কী বোঝায়? এনসিভিসি ২০৩০ সালের মধ্যে ৬ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়েছে, যা ৩ লাখ হেক্টর জমি পুনরুদ্ধারের সমান। এই উদ্যোগ বনাঞ্চলে টেকসই উদ্ভিদ আচ্ছাদন প্রতিষ্ঠার অংশ। লক্ষ্যটি জমি পুনরুদ্ধার, মরুকরণ মোকাবিলা ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর সঙ্গে যুক্ত। এসপিএ প্রতিবেদনে কোন অঞ্চলে বা কোন প্রজাতির গাছ রোপণ হবে তা উল্লেখ করা হয়নি।
বন সংক্রান্ত নির্বাহী বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৬ কী বলে? নির্বাহী বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৬ অনুযায়ী, টেকসই বন ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে বন সুরক্ষা ও উন্নয়ন এবং বনভূমিতে পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত। এনসিভিসি এই বিধান অনুসারেই কাজ করছে। এসপিএ প্রতিবেদনে পশুচারণ নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা স্থানীয় সম্প্রদায়ের ওপর তার প্রভাবের কথা বলা হয়নি।
প্রকল্পটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর সঙ্গে কীভাবে যুক্ত? সৌদি ভিশন ২০৩০-এ টেকসই পরিবেশগত চর্চা ও মরুকরণ মোকাবিলাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এনসিভিসির কৃষিবনায়ন প্রকল্প সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। এটি জমি পুনরুদ্ধার, উদ্ভিদ আচ্ছাদন বিস্তার, প্রাকৃতিক আবাসস্থল সুরক্ষা ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়তা করবে। এসপিএ প্রতিবেদনে ভিশন ২০৩০-এর নির্দিষ্ট কোনো সূচকের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
প্রকল্পের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ কী কী? সৌদি আরবের শুষ্ক ও অর্ধ-শুষ্ক পরিবেশে গাছের বৃদ্ধি ও টিকে থাকা চ্যালেঞ্জিং। সঠিক প্রজাতি নির্বাচন, জল ব্যবস্থাপনা ও মাটি সংরক্ষণ জরুরি। এছাড়া পশুচারণ নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। এসপিএ প্রতিবেদনে এসব চ্যালেঞ্জ বা সমাধানের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।