Friday, October 30, 2026
বিজ্ঞান

কেস্ট সভাপতি জাপানে বিজ্ঞানে আস্থা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলে সৌদি অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন

কেস্ট সভাপতি জাপানে বিজ্ঞানে আস্থা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলে সৌদি অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন

কিয়োটো, ৬ অক্টোবর ২০২৬ — সৌদি আরব জাপানের কিয়োটোতে অনুষ্ঠিত সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইন সোসাইটি (এসটিএস) ফোরামের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব, নীতি-নির্ধারক এবং গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এতে অংশ নেন।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ফোরামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর এবং সমাজ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিজ্ঞানে আস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্মুক্ত বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ উঠে আসে। পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নিয়েও কথা হয়।

কিং আবদুলআজিজ সিটি ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (কেস্ট)-এর সভাপতি এবং রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন অথরিটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ড. মুনির আলদেসৌকি “হোয়াই ট্রাস্ট সায়েন্স?” শীর্ষক প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেন। এসটিএস ফোরাম কাউন্সিলের বিশিষ্ট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

তার সঙ্গে ছিলেন জাপানের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়োশিহিরো সেকি; জাপানি বিজ্ঞানী অধ্যাপক শিমন সাকাগুচি; নেচার-এর এডিটর-ইন-চিফ ম্যাগডালেনা স্কিপার; নোবেল ফাউন্ডেশনের বোর্ড চেয়ার অ্যাস্ট্রিড সোডারবার্গ উইডিং; এবং অধ্যাপক সান্তা জে. ওনো। সেশনটি পরিচালনা করেন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সুদীপ পারিখ।

সেশনে ড. আলদেসৌকি আরও উন্মুক্ত ও আস্থাভাজন গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কয়েকটি দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিজ্ঞানে আস্থা নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক বিনয়, উন্মুক্ততা ও জবাবদিহিতার ওপর, সেই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের নিজেদের ফলাফল পুনর্বিবেচনা, যাচাই এবং স্বচ্ছভাবে সংশোধনের সক্ষমতার ওপর।

তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের প্রতি রাজ্যের দিকনির্দেশনার ওপর জোর দেন। এর ফলে পরীক্ষাগার ও অন্যান্য সুবিধার ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞানে আস্থা কেবল গবেষণাগারের ভেতরের বিষয় নয় — এটি সমাজের সঙ্গে গবেষণার সম্পর্কের প্রশ্ন। তাহলে কেন সাধারণ মানুষের বিজ্ঞানের ওপর আস্থা এত গুরুত্বপূর্ণ? কারণ প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত আজ সরাসরি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্মুক্ত বিজ্ঞান কিংবা নতুন গবেষণা পদ্ধতি — সবই নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করছে।

এসটিএস ফোরামের এবারের আলোচনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর এবং সমাজে তার প্রভাব প্রধান বিষয় ছিল। ফোরামে অংশগ্রহণকারীরা বিজ্ঞানে আস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্মুক্ত বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নিয়েও কথা হয় — কীভাবে উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।

ড. আলদেসৌকির বক্তব্যের মূল সুর ছিল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের নিজেদের ফলাফল পুনর্বিবেচনা, যাচাই এবং স্বচ্ছভাবে সংশোধনের সক্ষমতাই আস্থার ভিত্তি। প্রশ্ন হলো, কোনো প্রতিষ্ঠান ভুল করলে তা স্বীকার করার সাহস কতটা দেখায়? বিজ্ঞান যদি নিজের ভুল সংশোধন করতে না পারে, তাহলে সাধারণ মানুষ কেন তাকে বিশ্বাস করবে?

তিনি জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে গবেষক ও উদ্ভাবকদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরেন। এর ফলে পরীক্ষাগারসহ বিভিন্ন সুবিধার ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, গবেষণার সুবিধা যদি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে উদ্ভাবনের ফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছাবে কীভাবে?

সৌদি আরবের এই অংশগ্রহণ কেবল একটি বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে উপস্থিতি নয়। এটি বৈশ্বিক বিজ্ঞান কূটনীতিতে রাজ্যের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। ড. আলদেসৌকি এসটিএস ফোরাম কাউন্সিলের বিশিষ্ট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এই প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন। এই নিয়োগ কী বার্তা বহন করে? এটি কি দেখায় না যে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান আলোচনায় একটি সক্রিয় কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছে?

প্লেনারি সেশনে যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের তালিকা নিজেই একটি বার্তা। জাপানের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়োশিহিরো সেকি, জাপানি বিজ্ঞানী অধ্যাপক শিমন সাকাগুচি, নেচার-এর এডিটর-ইন-চিফ ম্যাগডালেনা স্কিপার, নোবেল ফাউন্ডেশনের বোর্ড চেয়ার অ্যাস্ট্রিড সোডারবার্গ উইডিং এবং অধ্যাপক সান্তা জে. ওনো ছিলেন এই সেশনে। সেশন পরিচালনা করেন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সুদীপ পারিখ।

এমন বৈচিত্র্যময় প্যানেলে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে বৈশ্বিক বিজ্ঞান সম্প্রদায়ে রাজ্যের অবস্থানকে শক্তিশালী করে? নোবেল ফাউন্ডেশন, নেচার এবং এএএএস-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই মঞ্চে আলোচনা গবেষণা সহযোগিতার নতুন দরজা খুলতে পারে কি? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে, তবে ফোরামের আলোচ্যসূচি ইঙ্গিত দেয় যে সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

ফোরামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এর নৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও ভাবতে হবে। উন্মুক্ত বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনায় গবেষণার ফল সবার জন্য সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। প্রশ্ন হলো, উন্মুক্ততা ও মেধাস্বত্বের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা যায়? গবেষণার ফল যদি সবার জন্য খোলা থাকে, তাহলে উদ্ভাবনে বিনিয়োগের প্রণোদনা টিকে থাকবে কীভাবে?

বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নিয়ে ফোরামে যে আলোচনা হয়েছে, তা দুটি দিক সামনে আনে — প্রযুক্তির সুযোগ এবং তার চ্যালেঞ্জ। উন্নত প্রযুক্তি যেমন সমাধান দেয়, তেমনি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করে। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। প্রশ্ন উঠতে পারে, প্রযুক্তির গতি যদি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে দ্রুত হয়, তাহলে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে কে?

ড. আলদেসৌকির বক্তব্যে বৈজ্ঞানিক বিনয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বিজ্ঞান যখন নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে, তখনই তা আস্থা অর্জন করে। প্রশ্ন হলো, বিনয় ও আত্মবিশ্বাসের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে সম্ভব? একজন গবেষক যদি নিজের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তাহলে তা কি দুর্বলতা, নাকি শক্তি?

সৌদি আরবের জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের দিকটি গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিবেশকে আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্যকে সামনে আনে। পরীক্ষাগার ও অন্যান্য সুবিধার ব্যাপক ব্যবহার গবেষকদের কাজকে সহজ করতে পারে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, অবকাঠামো উন্মুক্ত হলে উদ্ভাবনের গতি বাড়বে কি? আর সেই উদ্ভাবন কি দেশীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে?

এসটিএস ফোরামের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলন কিয়োটোতে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব, নীতি-নির্ধারক এবং গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা এতে অংশ নেন। এই বৈচিত্র্য নিজেই দেখায়, বিজ্ঞান আজ আর কোনো একক দেশ বা অঞ্চলের সীমায় আবদ্ধ নয়। প্রশ্ন হলো, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ধরনের বহুপাক্ষিক মঞ্চ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে?

ফোরামে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে বিজ্ঞানে আস্থা ছিল কেন্দ্রীয়। ড. আলদেসৌকি বলেন, আস্থা নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক বিনয়, উন্মুক্ততা ও জবাবদিহিতার ওপর। তিনি বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের নিজেদের ফলাফল পুনর্বিবেচনা, যাচাই এবং স্বচ্ছভাবে সংশোধনের সক্ষমতার ওপর জোর দেন। এই বক্তব্য কি দেখায় না যে আস্থা কেবল দাবি করার বিষয় নয়, অর্জন করার বিষয়?

সৌদি আরবের অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজ্যের সংযোগ আরও দৃঢ় করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। ড. আলদেসৌকির নেতৃত্বে কেস্ট এবং রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন অথরিটি গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে রাজ্যের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সম্পৃক্ততা দেশীয় গবেষণা পরিবেশে কী পরিবর্তন আনবে?

ফোরামের আলোচনায় উন্মুক্ত বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা হয়। গবেষণার ফলাফল সবার জন্য সহজলভ্য করা এবং গবেষণা প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করা — এই দুই লক্ষ্য কীভাবে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রশ্ন হলো, স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তার মধ্যে সীমারেখা কোথায়? গবেষণার কিছু তথ্য যদি সংবেদনশীল হয়, তাহলে উন্মুক্ততার নীতি কতদূর প্রযোজ্য?

সেশনে ড. আলদেসৌকির সঙ্গে যারা ছিলেন, তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী। জাপানের শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রী, একজন নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী, একটি শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান জার্নালের সম্পাদক, নোবেল ফাউন্ডেশনের বোর্ড চেয়ার এবং একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক — এই সমন্বয় দেখায় আলোচনার গুরুত্ব কতটা বিস্তৃত। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের প্যানেল কি নীতি নির্ধারণে বাস্তব প্রভাব ফেলে, নাকি কেবল আলোচনার মঞ্চ হয়ে থাকে?

সৌদি আরবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি ড. আলদেসৌকি গবেষণা ইকোসিস্টেমকে আরও উন্মুক্ত ও আস্থাভাজন করার দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন। জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ, পরীক্ষাগারের ব্যাপক ব্যবহার এবং গবেষক ও উদ্ভাবকদের সুযোগ বাড়ানো — এসব বিষয় তার বক্তব্যে উঠে আসে। প্রশ্ন দাঁড়ায়, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে কী কী চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে?

এসপিএ-র প্রতিবেদনে ফোরামের আলোচ্যসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হলেও নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা, চুক্তি বা পরবর্তী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ নেই। ড. আলদেসৌকির বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিবরণও প্রতিবেদনে সীমিত আকারে এসেছে। ফোরামে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে নতুন কোনো উদ্যোগ বা অংশীদারিত্বের ঘোষণা এসেছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

বিজ্ঞানে আস্থা বিষয়ক আলোচনা আজ বৈশ্বিক পরিসরে বিশেষ প্রাসঙ্গিক। তথ্যের সহজলভ্যতা ও ভুল তথ্যের বিস্তারের যুগে বিজ্ঞান কীভাবে তার বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সর্বত্র। কিয়োটোর এই ফোরাম সেই প্রশ্নেরই একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। সৌদি আরবের অংশগ্রহণ এই আলোচনায় তার অবস্থান স্পষ্ট করে।

ড. আলদেসৌকির নেতৃত্বে কেস্ট ও রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন অথরিটির কাজ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার দিকেও এগিয়ে চলেছে। এসটিএস ফোরাম কাউন্সিলে তার নিয়োগ এই ধারারই অংশ। প্রশ্ন হলো, এই ধরনের নিয়োগ কি সৌদি আরবের বৈজ্ঞানিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা? নাকি এটি দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা?

ফোরামের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ, উন্মুক্ত বিজ্ঞানের সম্ভাবনা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিক পরিবর্তন নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। এসব বিষয়ে সৌদি আরবের অবস্থান কী, তা নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে ভবিষ্যতের ফোরামগুলোতে। আপাতত কিয়োটোর এই সম্মেলন দেখিয়ে দিল, বৈশ্বিক বিজ্ঞান আলোচনায় সৌদি আরবের কণ্ঠস্বর ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

কেস্ট সভাপতি কোন সেশনে বক্তব্য দেন এবং সেশনের শিরোনাম কী ছিল? কেস্ট সভাপতি ও রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন অথরিটির ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ড. মুনির আলদেসৌকি “হোয়াই ট্রাস্ট সায়েন্স?” শীর্ষক প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেন। এসটিএস ফোরাম কাউন্সিলের বিশিষ্ট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি এই বক্তব্য রাখেন। সেশনটি পরিচালনা করেন আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সুদীপ পারিখ।

ড. আলদেসৌকি বিজ্ঞানে আস্থার ভিত্তি হিসেবে কী কী বিষয় তুলে ধরেন? ড. আলদেসৌকি বলেন, বিজ্ঞানে আস্থা নির্ভর করে বৈজ্ঞানিক বিনয়, উন্মুক্ততা ও জবাবদিহিতার ওপর। সেই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায়ের নিজেদের ফলাফল পুনর্বিবেচনা, যাচাই এবং স্বচ্ছভাবে সংশোধনের সক্ষমতার ওপরও আস্থা নির্ভর করে। তিনি আরও উন্মুক্ত ও আস্থাভাজন গবেষণা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কয়েকটি দিক তুলে ধরেন।

সৌদি আরব জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে কী ধরনের সম্প্রসারণের কথা বলেছে? ড. আলদেসৌকি গবেষক ও উদ্ভাবকদের জন্য জাতীয় গবেষণা অবকাঠামোতে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের প্রতি রাজ্যের দিকনির্দেশনার ওপর জোর দেন। এর ফলে পরীক্ষাগার ও অন্যান্য সুবিধার ব্যাপক ব্যবহার সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে এই উদ্যোগের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা বাজেট উল্লেখ করা হয়নি।

প্লেনারি সেশনে আর কারা অংশ নিয়েছিলেন? ড. আলদেসৌকির সঙ্গে ছিলেন জাপানের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ইয়োশিহিরো সেকি; জাপানি বিজ্ঞানী অধ্যাপক শিমন সাকাগুচি; নেচার-এর এডিটর-ইন-চিফ ম্যাগডালেনা স্কিপার; নোবেল ফাউন্ডেশনের বোর্ড চেয়ার অ্যাস্ট্রিড সোডারবার্গ উইডিং; এবং অধ্যাপক সান্তা জে. ওনো। সেশনটি পরিচালনা করেন ড. সুদীপ পারিখ।

এসটিএস ফোরামের ২৩তম বার্ষিক সম্মেলনে কী কী বিষয় আলোচিত হয়? ফোরামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর এবং সমাজ ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় বিজ্ঞানে আস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্মুক্ত বিজ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভবিষ্যৎ উঠে আসে। পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তির সুযোগ ও চ্যালেঞ্জের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষায় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নিয়েও কথা হয়।

সৌদি আরবের এই অংশগ্রহণের তাৎপর্য কী? ড. আলদেসৌকি এসটিএস ফোরাম কাউন্সিলের বিশিষ্ট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর এই প্লেনারি সেশনে বক্তব্য রাখেন। এটি বৈশ্বিক বিজ্ঞান কূটনীতিতে রাজ্যের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়। ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব, নীতি-নির্ধারক এবং গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন।