সৌদি আরবের দুই ফুটবলার সালেম আল দাওসারি ও ফেরাস আল ব্রিকান ২০২৬ এএফসি বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় পুরস্কারের তিন মনোনীত খেলোয়াড়ের মধ্যে জায়গা পেয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে তালিকায় আছেন ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দ। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) শুক্রবার এই মনোনয়ন ঘোষণা করেছে। কুয়ালালামপুর থেকে ঘোষণাটি দেওয়া হয়।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, ৩০তম এএফসি বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠান আগামী ১৯ নভেম্বর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কিং পাওয়ার কমপ্লেক্সের অকসরা থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে মোট ১৯টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। থাইল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজনের স্বাগতিক হতে যাচ্ছে; এর আগে ২০১৭ সালে ব্যাংককেই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল।
সালেম আল দাওসারির সামনে এখন ইতিহাসের সুযোগ। তিনি ২০২২ ও ২০২৫ সালে এই পুরস্কার জিতেছেন। অর্থাৎ টানা দ্বিতীয়বার এবং সামগ্রিকভাবে তৃতীয়বার এই খেতাব জিতে তিনি ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে আছেন। আল হিলালের অধিনায়ক হিসেবে তিনি দলকে ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে অপরাজিত লিগ শিরোপা এনে দিয়েছেন। একই সঙ্গে দলটি জিতেছে দশম কিংস কাপ শিরোপা। আল হিলালকে তিনি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের নকআউট পর্বে পৌঁছে দিয়েছেন।
একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে টানা দুই মৌসুমে এই ধরনের ধারাবাহিকতা পাওয়া কতটা কঠিন, তা ভাবতে পারছেন কি? আল দাওসারির নেতৃত্বে আল হিলাল ঘরোয়া লিগে পুরো মৌসুম অপরাজিত থেকেছে। একই মৌসুমে দলটি কিংস কাপের দশম শিরোপা ঘরে তুলেছে। মহাদেশীয় আসরেও দলটি নকআউট পর্বে পৌঁছেছে। এই তিনটি অর্জন একসঙ্গে একজন অধিনায়কের কৃতিত্বের মাপকাঠি তৈরি করে।
অন্যদিকে ফেরাস আল ব্রিকান প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের ফাইনালে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন, যার সুবাদে আল আহলি শিরোপা ধরে রেখেছে। শুধু ক্লাব পর্যায়েই নয়, সৌদি আরবের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
প্রথমবার মনোনয়ন পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য ফাইনালের জয়সূচক গোল কতটা বড় প্রমাণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। আল ব্রিকান ক্লাবের হয়ে শিরোপা রক্ষার মঞ্চে গোল করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পথেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন। এই দুই মঞ্চের পারফরম্যান্সই তাঁকে চূড়ান্ত তিনজনের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।
এএফসি বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার হলি ম্যাকনামারা, উত্তর কোরিয়ার কিম কিওং ইয়ং এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কিম হাই-রি।
এশিয়ার বাইরে খেলা এশীয় খেলোয়াড়দের জন্য এএফসি বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক পুরুষ খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার লি কাং-ইন, জাপানের আয়াসে উয়েদা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াং ইন-বিওম। লি কাং-ইন এই পুরস্কারের বর্তমান বিজয়ী। এএফসি বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক নারী খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন জাপানের ইউই হাসেগাওয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার আলানা কেনেডি ও কেইটলিন ফোর্ড।
বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ের তালিকায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন থাকলে প্রতিযোগিতা কতটা জমে ওঠে, তা ভাবা যায়। লি কাং-ইন আগেরবারের বিজয়ী হিসেবে আছেন। তাঁর সামনে জাপানের আয়াসে উয়েদা ও দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াং ইন-বিওমের চ্যালেঞ্জ। মহাদেশের বাইরে খেলা এশীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে কে সেরা, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে ১৯ নভেম্বর।
এএফসি বর্ষসেরা পুরুষ কোচের মনোনয়ন পেয়েছেন জোসেফ মন্টেমুরো, গো কুরোদা এবং সাদায়োশি শিরাই। বর্ষসেরা নারী কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন মারজিয়েহ জাফারি, পার্ক ইয়ুন-জং এবং মা শিয়াওসু।
এএফসি বর্ষসেরা পুরুষ যুব খেলোয়াড়ের তালিকায় জাপানের রিউনোসুকে সাতো, মাকি কিতাহারা এবং রিওন ইচিহারা আছেন। বর্ষসেরা নারী যুব খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন উত্তর কোরিয়ার কিম ওন সিম ও ইউ জং হাইয়াং এবং জাপানের নোয়া ফুকুশিমা।
কুয়ালালামপুরে এএফসি-র পক্ষ থেকে শুক্রবার এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। ঘোষণায় ১৯টি ক্যাটাগরির কথা বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানের তারিখ ১৯ নভেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। স্থান ব্যাংককের কিং পাওয়ার কমপ্লেক্সের অকসরা থিয়েটার। ২০১৭ সালের পর দ্বিতীয়বার থাইল্যান্ড এই আয়োজনের স্বাগতিক।
সৌদি ফুটবলের জন্য এই মনোনয়ন কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের তিনজনের তালিকায় দুজন সৌদি খেলোয়াড়। একজন ইতিমধ্যে দুইবার এই পুরস্কার জিতেছেন। অন্যজন প্রথমবার মনোনয়ন পেয়েই চূড়ান্ত তালিকায়। ক্লাব পর্যায়ে আল হিলাল ও আল আহলি—দুই ক্লাবই মহাদেশীয় আসরে নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছে।
আল দাওসারির ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলো স্পষ্ট। ২০২২ ও ২০২৫ সালে পুরস্কার জয়। ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে অপরাজিত লিগ শিরোপা। দশম কিংস কাপ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের নকআউট পর্বে উপস্থিতি। আল হিলালের অধিনায়ক হিসেবে এই সব অর্জনের কেন্দ্রে তিনি ছিলেন। তৃতীয়বার এই পুরস্কার জিতলে তিনি কী ইতিহাসের অংশ হবেন, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
আল ব্রিকানের ক্ষেত্রেও তথ্য পরিষ্কার। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের ফাইনালে জয়সূচক গোল। আল আহলির শিরোপা ধরে রাখা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সৌদি আরবের যোগ্যতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। প্রথমবার মনোনয়ন পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য এই তালিকা যথেষ্ট শক্তিশালী।
নারী খেলোয়াড়দের তালিকায় তিন মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব আছে। অস্ট্রেলিয়া, উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে একজন করে মনোনীত। আন্তর্জাতিক নারী খেলোয়াড়ের তালিকায় জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা আছেন। কোচদের তালিকাতেও একাধিক দেশের নাম এসেছে। যুব পর্যায়ে জাপান ও উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়রা মনোনয়ন পেয়েছেন।
১৯টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে পুরুষ ও নারী খেলোয়াড়, আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়, কোচ এবং যুব খেলোয়াড়ের ক্যাটাগরি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ক্যাটাগরিগুলোর বিস্তারিত এই ঘোষণায় দেওয়া হয়নি।
এশিয়ান ফুটবলের বর্ষসেরা পুরস্কার কতটা মর্যাদার, তা নিয়ে প্রশ্ন কারও থাকার কথা নয়। মহাদেশের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়ের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আসে। সৌদি আরবের দুই খেলোয়াড় এই তালিকায় থাকা দেশের ফুটবলের জন্য বড় বিষয়।
ঘোষণায় আল দাওসারি বা আল ব্রিকানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অনুষ্ঠানের টিকিট বা সম্প্রচার সংক্রান্ত তথ্যও দেওয়া হয়নি। ১৯টি ক্যাটাগরির পূর্ণ তালিকা এবং বাকি ক্যাটাগরির মনোনীতদের নাম এই ঘোষণায় নেই। ভোটাভুটির পদ্ধতি বা বিচারকদের পরিচয়ও জানানো হয়নি। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
২০২৬ এএফসি বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের মনোনীতরা কারা? তিনজন মনোনীত হলেন সৌদি আরবের সালেম আল দাওসারি, সৌদি আরবের ফেরাস আল ব্রিকান এবং ইরানের আলিরেজা বেইরানভান্দ। এএফসি শুক্রবার কুয়ালালামপুর থেকে এই তালিকা ঘোষণা করেছে। ৩০তম এএফসি বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠান ১৯ নভেম্বর ব্যাংককের কিং পাওয়ার কমপ্লেক্সের অকসরা থিয়েটারে হবে। অনুষ্ঠানে ১৯টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে।
সালেম আল দাওসারির অর্জন কী কী? আল দাওসারি ২০২২ ও ২০২৫ সালে এএফসি বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। তৃতীয়বার জিতলে তিনি ইতিহাস গড়বেন। আল হিলালের অধিনায়ক হিসেবে তিনি দলকে ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে অপরাজিত লিগ শিরোপা এবং দশম কিংস কাপ শিরোপা এনে দিয়েছেন। দলটি তাঁর নেতৃত্বে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের নকআউট পর্বেও পৌঁছেছে।
ফেরাস আল ব্রিকানের মনোনয়নের ভিত্তি কী? আল ব্রিকান প্রথমবারের মতো এই পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিটের ফাইনালে জয়সূচক গোল করেছিলেন, যার সুবাদে আল আহলি শিরোপা ধরে রেখেছে। এছাড়া সৌদি আরবের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়ের পারফরম্যান্সই তাঁকে চূড়ান্ত তালিকায় এনেছে।
অনুষ্ঠানটি কোথায় ও কবে হবে? ৩০তম এএফসি বার্ষিক পুরস্কার অনুষ্ঠান ১৯ নভেম্বর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কিং পাওয়ার কমপ্লেক্সের অকসরা থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ১৯টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। থাইল্যান্ড দ্বিতীয়বারের মতো এই আয়োজনের স্বাগতিক হতে যাচ্ছে; এর আগে ২০১৭ সালে ব্যাংককেই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল।
অন্য ক্যাটাগরিতে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন? বর্ষসেরা নারী খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন অস্ট্রেলিয়ার হলি ম্যাকনামারা, উত্তর কোরিয়ার কিম কিওং ইয়ং ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিম হাই-রি। বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক পুরুষ খেলোয়াড়ের তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার লি কাং-ইন, জাপানের আয়াসে উয়েদা ও দক্ষিণ কোরিয়ার হোয়াং ইন-বিওম আছেন। বর্ষসেরা পুরুষ কোচের মনোনীতরা হলেন জোসেফ মন্টেমুরো, গো কুরোদা ও সাদায়োশি শিরাই।
ঘোষণায় কী কী তথ্য দেওয়া হয়নি? ঘোষণায় আল দাওসারি বা আল ব্রিকানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। অনুষ্ঠানের টিকিট বা সম্প্রচার সংক্রান্ত তথ্যও দেওয়া হয়নি। ১৯টি ক্যাটাগরির পূর্ণ তালিকা এবং বাকি ক্যাটাগরির মনোনীতদের নামও এই ঘোষণায় নেই। ভোটাভুটির পদ্ধতি বা বিচারকদের পরিচয় সম্পর্কেও এসপিএ-র প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।