Saturday, November 7, 2026
খেলাধুলা

ফিদে সাধারণ পরিষদে সৌদি দাবা ফেডারেশনের সভাপতি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টিমুর তুরলভ জয়ী

ফিদে সাধারণ পরিষদে সৌদি দাবা ফেডারেশনের সভাপতি, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে টিমুর তুরলভ জয়ী

উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন (ফিদে) সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সৌদি দাবা ফেডারেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদি। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দাবা ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সাধারণ পরিষদের এই বৈঠকে ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের জন্য ফিদে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১১০ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন টিমুর তুরলভ।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকা ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদি বলেন, সৌদি দাবা ফেডারেশন তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি জোরদার করতে এবং জাতীয় ফেডারেশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রচেষ্টা দাবা খেলার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে সৌদি আরবের উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করে।

সমরকন্দে অনুষ্ঠিত এই সাধারণ পরিষদে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জাতীয় দাবা ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে আলোচনা চলছে—কেন এই সাধারণ পরিষদকে এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে? এর কারণ হলো, এখানেই আগামী চার বছরের জন্য ফিদের নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়েছে।

ফিদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্ত গড়ানো প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখিয়ে দেয়, সদস্য ফেডারেশনগুলোর মধ্যে মতভেদ কম ছিল না। ১১০ ভোট পাওয়া মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন—এটি নতুন নেতৃত্বের জন্য একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট। তাহলে প্রশ্ন হলো, এই ম্যান্ডেট নিয়ে টিমুর তুরলভ আগামী চার বছরে কী পরিবর্তন আনতে পারবেন?

সৌদি আরবের জন্য এই বৈঠকের তাৎপর্য আলাদা। দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবা খেলার প্রসারে কাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের উপস্থিতি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদির বক্তব্যে সেই অভিপ্রায়ই স্পষ্ট হয়েছে। জাতীয় ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো—এই দুই লক্ষ্য সামনে রেখে সৌদি ফেডারেশন কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে সৌদি আরবের উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বলতে গিয়ে ড. আল-মাসউদি শুধু প্রতিনিধিত্বের কথা বলেননি, দাবা খেলার উন্নয়নের কথাও বলেছেন। এখানে একটি প্রশ্ন জাগে—আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি বাড়ালে কি দেশের ভেতরে দাবা খেলার বিকাশ ত্বরান্বিত হবে? সাধারণত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা বিনিময় জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফিদে সাধারণ পরিষদ শুধু নির্বাচনের জায়গা নয়; এটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার মঞ্চ। সমরকন্দে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন সৌদি প্রতিনিধি দল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ-আলোচনা সৌদি ফেডারেশনের জন্য কতটা ফলপ্রসূ হবে—সেটি সময়ই বলে দেবে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে ১১০ ভোট পেয়ে টিমুর তুরলভের জয় ফিদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। নতুন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে ফিদের অগ্রাধিকার কী হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে কৌতূহল রয়েছে। সদস্য ফেডারেশনগুলোর প্রত্যাশা পূরণ করতে নতুন নেতৃত্বকে কতটা কাজ করতে হবে?

সৌদি দাবা ফেডারেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদির এই অংশগ্রহণ দুই দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে এটি সৌদি আরবের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতির অংশ, অন্যদিকে জাতীয় দাবা খেলার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ। তিনি যে দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন—আন্তর্জাতিক উপস্থিতি জোরদার করা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়া—সেগুলো পরস্পর সম্পর্কিত।

আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে কী লাভ? এর সুফল সরাসরি মাঠে দেখা যায়—প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা, রেফারি উন্নয়ন ও যুব কার্যক্রমে সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়। সৌদি ফেডারেশনের লক্ষ্যও সম্ভবত সেদিকেই। তবে এসপিএর প্রতিবেদনে এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা, সময়সীমা বা কর্মসূচির উল্লেখ নেই।

সমরকন্দে অনুষ্ঠিত ফিদে সাধারণ পরিষদে সৌদি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে দেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতারই অংশ। ড. আল-মাসউদির বক্তব্যে সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট—দেশটি আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায়। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফিদের নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌদি ফেডারেশনের সম্পর্ক কেমন হবে, সেটিও একটি প্রশ্ন। দ্বিতীয় রাউন্ডে ১১০ ভোট পাওয়া নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে সদস্য দেশগুলোর। সৌদি আরব সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে বলে ড. আল-মাসউদির বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ জানিয়েছে, এই বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দাবা ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের সময়সূচি, আলোচ্যসূচির বিস্তারিত বা সৌদি প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা সম্পর্কে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

দাবা খেলা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের পর। এই প্রেক্ষাপটে ফিদের নেতৃত্ব ও সদস্য ফেডারেশনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব এই অঙ্গনে নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইলে ধারাবাহিক অংশগ্রহণ ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ দরকার—এমনটাই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদির নেতৃত্বে সৌদি দাবা ফেডারেশন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে বার্তা দিয়েছে, তা হলো—দেশটি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বৈশ্বিক দাবা সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশ হতে চায়। এই বার্তা কতটা বাস্তব রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের পদক্ষেপের ওপর।

সাধারণ পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন ছাড়াও অন্য কী বিষয় আলোচিত হয়েছে, সে সম্পর্কে এসপিএর প্রতিবেদনে বিস্তারিত নেই। ফিদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, সদস্য দেশগুলোর প্রস্তাব বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে সৌদি আরবের ক্রমবর্ধমান সম্পৃক্ততা দেশের ক্রীড়া খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড. আল-মাসউদির এই সফর সেই ধারাবাহিকতার একটি ধাপ। তবে একটি সফর বা একটি বৈঠকই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে না—এজন্য দরকার ধারাবাহিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।

ফিদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আন্তর্জাতিক দাবা অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ২০২৬–২০৩০ মেয়াদে টিমুর তুরলভের নেতৃত্বে ফিদে কী পথে চলবে, সদস্য দেশগুলোর প্রত্যাশা কতটা পূরণ হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামী দিনে। সৌদি আরব সেই যাত্রায় অংশীদার হতে চায়, এবং সমরকন্দের বৈঠকে তার প্রতিফলন ঘটেছে।

সৌদি দাবা ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ঘোষণা শুধু কূটনৈতিক বক্তব্য নয়; এর পেছনে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের বড় লক্ষ্য রয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তবে এসপিএর প্রতিবেদনে সেই লক্ষ্যের বিস্তারিত রূপরেখা বা নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়নি।

সৌদি আরবের ক্রীড়া কূটনীতির অংশ হিসেবে দাবা খেলার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদির নেতৃত্বে ফেডারেশন যে দুটি মূল লক্ষ্যের কথা বলেছে—আন্তর্জাতিক উপস্থিতি জোরদার করা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়া—তা বাস্তবায়নে সময় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

সমরকন্দের বৈঠক শেষে সৌদি প্রতিনিধি দল কী কী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফিরেছে বা ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা আছে, সে সম্পর্কে এসপিএর প্রতিবেদনে কিছু জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে সৌদি আরবের ভূমিকা আগামী দিনে কতটা বিস্তৃত হবে, সেটি এখন সময়ের প্রশ্ন।

ফিদে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব কে করেছেন? সৌদি দাবা ফেডারেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদি এই বৈঠকে অংশ নেন। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দাবা ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত হয়।

ফিদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কে জয়ী হয়েছেন এবং কত ভোট পেয়েছেন? ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের জন্য ফিদে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েছেন টিমুর তুরলভ। এসপিএ জানিয়েছে, দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনি ১১০ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনটি ফিদে সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দাবা ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি দাবা ফেডারেশনের লক্ষ্য কী? ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদি বলেছেন, সৌদি দাবা ফেডারেশন তার আন্তর্জাতিক উপস্থিতি জোরদার করতে এবং জাতীয় ফেডারেশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসপিএ জানিয়েছে, এসব প্রচেষ্টা দাবা খেলার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে সৌদি আরবের উপস্থিতি বাড়াতে সহায়তা করে।

এই বৈঠক কোথায় এবং কখন অনুষ্ঠিত হয়? ফিদে সাধারণ পরিষদের বৈঠকটি উজবেকিস্তানের সমরকন্দে অনুষ্ঠিত হয়। এসপিএ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ এই তথ্য জানিয়েছে। বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাতীয় দাবা ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং সেখানে ২০২৬–২০৩০ মেয়াদের ফিদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদি আরবের জন্য এই অংশগ্রহণের তাৎপর্য কী? ড. মোহাম্মদ আল-মাসউদির বক্তব্য অনুযায়ী, এই অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক দাবা সম্প্রদায়ে সৌদি আরবের উপস্থিতি বাড়াতে এবং দাবা খেলার উন্নয়নে সহায়তা করে। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি জাতীয় ফেডারেশন ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার ওপর জোর দিয়েছেন।