রিয়াদে সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডে পরিচালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ বিন আবদুলআজিজ। মঙ্গলবার এই সফরে তিনি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং সাইবার নিরাপত্তা—এই দুটি কেন্দ্র উদ্বোধন করেন এবং বাহিনীর সদস্যদের জন্য ডিজিটাল সেবা চালু করেন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২০ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, উদ্বোধিত কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ও নিরাপত্তা ইউএভি সিস্টেম কেন্দ্রে সাতটি বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে এবং এটি সৌদি আরবজুড়ে বাহিনীর শাখাগুলোর ১৩টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত।
কেন্দ্রটি উন্নত ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত ব্যবস্থা ব্যবহার করে রিপোর্ট গ্রহণ, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা তথ্য বিনিময় করে। এতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমে এবং জাতীয় নিরাপত্তা কার্যক্রম কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতায় নিরাপত্তা সমন্বয় উন্নত হয়।
কেন্দ্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন ইউএভি ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের নজরদারি সমর্থন করে এবং বাহিনীর দায়িত্ব এলাকার মধ্যে নিরাপত্তা কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ায়।
সফরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রও উদ্বোধন করেন। এই কেন্দ্রের দায়িত্ব হলো তথ্য ও ডেটা সুরক্ষা, নেটওয়ার্ক ও ডিভাইস নিরাপদ করা, দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা করা। এসব কাজ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সুরক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা সমর্থন করে।
প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সৌদ বাহিনীর সদস্যদের জন্য ‘আবশের ইন্টেরিয়র’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সেবাও চালু করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেকনোলজি অ্যাফেয়ার্স সেক্টরের অধীন ইউনিফায়েড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের সহযোগিতায় এই সেবা তৈরি হয়েছে। এর লক্ষ্য পদ্ধতি সহজ করা এবং সদস্যদের ইলেকট্রনিকভাবে সেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া।
সফরে মন্ত্রী বাহিনীর উন্নত ডিজিটাল সেবা ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে মাওয়ারেদ সিস্টেমের সঙ্গে আবশের প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় এবং জাতীয় ইউনিফায়েড অ্যাকসেস প্ল্যাটফর্ম ‘নাফাজ’-এর সমন্বয় রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ প্রযুক্তিগত ইন্টারফেস সমন্বয়ের বিষয়টিও পরিদর্শনে ছিল।
সাতটি বিশেষায়িত ইউনিটের সমন্বয়ে গড়া এই কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল কাঠামো বাহিনীর শাখাগুলোর ১৩টি কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত—এই সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, বাহিনীর কার্যক্রম এখন কতটা কেন্দ্রীভূত ও নেটওয়ার্কভিত্তিক। প্রশ্ন হলো, এই কেন্দ্রীভূত কাঠামো মাঠপর্যায়ের ইউনিটগুলোর স্বায়ত্তশাসন কমিয়ে দেবে না তো?
জাতীয় নিরাপত্তা কার্যক্রম কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা এসপিএ স্পষ্ট করেছে। প্রতিক্রিয়ার সময় কমা এবং নিরাপত্তা সমন্বয় উন্নত হওয়া এই সহযোগিতারই ফল। কিন্তু বাস্তব মাঠে এই সমন্বয় কত দ্রুত কাজে লাগবে, তা নির্ভর করে তথ্য বিনিময়ের গতি ও নির্ভুলতার ওপর।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ইউএভি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে মাঠপর্যায়ের নজরদারি সমর্থনের জন্য। প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, নজরদারির সীমা ও তথ্য ব্যবহারের নীতিমালা কী হবে—এ প্রশ্নও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত: তথ্য ও ডেটা সুরক্ষা, নেটওয়ার্ক ও ডিভাইস নিরাপদ করা, দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা। এসবের লক্ষ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সুরক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা সমর্থন।
ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে ‘আবশের ইন্টেরিয়র’ অ্যাপ্লিকেশনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেকনোলজি অ্যাফেয়ার্স সেক্টরের অধীন ইউনিফায়েড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের সহযোগিতায় এটি তৈরি। সদস্যদের জন্য পদ্ধতি সহজ করা এবং ইলেকট্রনিকভাবে সেবা পাওয়া এর লক্ষ্য।
মাওয়ারেদ সিস্টেমের সঙ্গে আবশের প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় এবং ‘নাফাজ’ প্ল্যাটফর্মের সমন্বয়—এই দুটি ধাপ বাহিনীর ডিজিটাল রূপান্তরের বড় অংশ। নিরাপদ প্রযুক্তিগত ইন্টারফেস সমন্বয়ও এর সঙ্গে যুক্ত।
প্রশ্ন হলো, এই ডিজিটাল সেবাগুলো বাহিনীর সদস্যদের দৈনন্দিন কাজে কতটা সময় বাঁচাবে এবং কতটা স্বচ্ছতা আনবে?
সাইবার হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলার দায়িত্ব এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল আক্রমণের মুখে। প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সুরক্ষা ও ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা—এই দুই লক্ষ্য একসঙ্গে ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
সাতটি ইউনিট ও ১৩টি কেন্দ্রের সংযোগ মানে বিপুল পরিমাণ তথ্যের প্রবাহ। এই তথ্য কীভাবে সংরক্ষিত হবে এবং কে তার অ্যাকসেস পাবে, তা নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা থাকা জরুরি।
এসপিএ জানিয়েছে, মন্ত্রী বাহিনীর উন্নত ডিজিটাল সেবা ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এই সিস্টেমগুলোর কার্যকারিতা মাপার কোনো সূচক বা সময়সীমা প্রতিবেদনে নেই।
সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের সক্ষমতা কতটা, তা নিয়ে কোনো সংখ্যা এসপিএ দেয়নি। দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানের প্রক্রিয়া কত দ্রুত, তাও স্পষ্ট নয়।
ইউএভি সিস্টেমের প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন, কতটি ইউএভি এবং কী ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এসব বিবরণ প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।
‘আবশের ইন্টেরিয়র’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে কোন কোন সেবা পাওয়া যাবে, তার তালিকা এসপিএ দেয়নি। শুধু বলা হয়েছে, সেবাগুলো পদ্ধতি সহজ করবে এবং ইলেকট্রনিক অ্যাকসেস দেবে।
মাওয়ারেদ ও নাফাজ সমন্বয়ের প্রযুক্তিগত বিবরণও সংক্ষিপ্ত। নিরাপদ ইন্টারফেস সমন্বয়ের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও বিস্তারিত নেই।
প্রশ্ন হলো, এই কেন্দ্র ও সেবাগুলো চালু হওয়ার পর বাহিনীর কার্যক্রমে কতটা দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে?
অন্য প্রশ্ন, সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র কি শুধু বাহিনীর নিজস্ব নেটওয়ার্ক রক্ষা করবে, নাকি এর পরিধি আরও বিস্তৃত?
আরও একটি প্রশ্ন, ইউএভি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে নাগরিক গোপনীয়তার বিষয়টি কীভাবে দেখা হবে?
সবশেষে, ডিজিটাল সেবা চালু হলেও বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কতটা নিশ্চিত করা হবে—এ বিষয়ে এসপিএ কিছু জানায়নি।
কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল ও নিরাপত্তা ইউএভি সিস্টেম কেন্দ্রে কী কী আছে? কেন্দ্রটিতে সাতটি বিশেষায়িত ইউনিট রয়েছে এবং এটি সৌদি আরবজুড়ে বাহিনীর শাখাগুলোর ১৩টি কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল কেন্দ্রের সঙ্গে সংযুক্ত। এটি উন্নত ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত ব্যবস্থা ব্যবহার করে রিপোর্ট গ্রহণ, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা তথ্য বিনিময় করে। এসপিএ জানিয়েছে, এতে প্রতিক্রিয়ার সময় কমে এবং জাতীয় নিরাপত্তা কার্যক্রম কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতায় নিরাপত্তা সমন্বয় উন্নত হয়।
সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের দায়িত্ব কী? কেন্দ্রটি তথ্য ও ডেটা সুরক্ষা, নেটওয়ার্ক ও ডিভাইস নিরাপদ করা, দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানে সিস্টেম পর্যবেক্ষণ এবং সাইবার হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলার দায়িত্ব পালন করবে। এসপিএ জানিয়েছে, এসব কাজের লক্ষ্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো সুরক্ষা এবং ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা সমর্থন করা। কেন্দ্রটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ বিন আবদুলআজিজ উদ্বোধন করেন।
বাহিনীর সদস্যদের জন্য কোন ডিজিটাল সেবা চালু হলো? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘আবশের ইন্টেরিয়র’ অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জন্য সেবা চালু করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেকনোলজি অ্যাফেয়ার্স সেক্টরের অধীন ইউনিফায়েড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের সহযোগিতায় এই সেবা তৈরি হয়েছে। এসপিএ জানিয়েছে, এর লক্ষ্য পদ্ধতি সহজ করা এবং সদস্যদের ইলেকট্রনিকভাবে সেবা পাওয়ার সুযোগ দেওয়া।
মন্ত্রী সফরে আর কী কী সিস্টেম পরিদর্শন করেন? সফরে মন্ত্রী বাহিনীর উন্নত ডিজিটাল সেবা ও ইলেকট্রনিক সিস্টেম পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে মাওয়ারেদ সিস্টেমের সঙ্গে আবশের প্ল্যাটফর্মের সমন্বয় এবং জাতীয় ইউনিফায়েড অ্যাকসেস প্ল্যাটফর্ম ‘নাফাজ’-এর সমন্বয় রয়েছে। এছাড়া নিরাপদ প্রযুক্তিগত ইন্টারফেস সমন্বয়ের বিষয়টিও পরিদর্শনে ছিল। এসপিএ এই সমন্বয়গুলোর বিস্তারিত প্রযুক্তিগত বিবরণ দেয়নি।
ইউএভি কীভাবে নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করবে? কেন্দ্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন ইউএভি ব্যবহার করে মাঠপর্যায়ের নজরদারি সমর্থন করবে এবং বাহিনীর দায়িত্ব এলাকার মধ্যে নিরাপত্তা কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াবে। এসপিএ জানিয়েছে, কেন্দ্রটি উন্নত ইলেকট্রনিক সিস্টেম ও প্ল্যাটফর্মের সমন্বিত ব্যবস্থাও ব্যবহার করে। তবে কতটি ইউএভি এবং কী ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত হবে, সেই বিবরণ প্রতিবেদনে নেই।
এই কেন্দ্র ও সেবাগুলো কোন তারিখে উদ্বোধন করা হয়? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সৌদ বিন নাইফ বিন আবদুলআজিজ মঙ্গলবার রিয়াদে সুবিধা নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডে পরিচালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং এই কেন্দ্র ও সেবাগুলো উদ্বোধন করেন। এসপিএ ২০ অক্টোবর ২০২৬-এ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা, ব্যয় বা সময়সীমা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।