ম্যানামায় জিসিসি বিদ্যুৎ ও পানি সহযোগিতা কমিটির ৩১তম বৈঠকে সচিবালয়ের মহাসচিব জাসেম আলবুদাইউই বলেছেন, বিদ্যুৎ ও পানি খাত কৌশলগত অগ্রাধিকার এবং যৌথ জিসিসি কর্মকাণ্ডের ভিত্তি। বাহরাইনের বিদ্যুৎ ও পানি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াসের বিন ইব্রাহিম হুমাইদান, যিনি বর্তমান অধিবেশনের সভাপতিও, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, আলবুদাইউই বলেন, সম্পদ টেকসইকরণ, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই দুই খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬-এ জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কাউন্সিলের ১৯তম পরামর্শমূলক বৈঠকের ফলাফলে সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্ব নিশ্চিত হয়েছে। এই নির্দেশনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পানি আন্তঃসংযোগ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন এবং জিসিসি বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি এই নির্দেশনাগুলোকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে যৌথ উপসাগরীয় কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত একীকরণ ও প্রস্তুতির দিকে এগোয়।
আলবুদাইউই ব্যাখ্যা করেন, বর্তমান পর্যায়ে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন, যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির বাড়তে থাকা চাহিদার প্রস্তুতি প্রধান। তিনি জানান, ২০২৫ সালে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার গিগাওয়াট-ঘণ্টায় (GWh) পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বিশোধন করা পানির উৎপাদন প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটারে দাঁড়িয়েছে, যার প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।
এই সংখ্যাগুলো কি দেখায় না যে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং অবকাঠামো সেই গতি ধরে রাখতে পারছে কি না, সে প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে? মহাসচিব উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে অগ্রগতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাহরাইনের মন্ত্রী হুমাইদান সভাপতিত্ব করেন এবং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। এসপিএর প্রতিবেদনে বৈঠকের আলোচ্যসূচির বিস্তারিত বা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের তালিকা পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। তবে মহাসচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট, জিসিসি বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ এবং পানি আন্তঃসংযোগের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন—এই দুই বিষয়ই এখন যৌথ কর্মকাণ্ডের মূল ধারায় রয়েছে।
প্রশ্ন হলো, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পানি আন্তঃসংযোগ প্রকল্প বাস্তবে কতটা দ্রুত এগোবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সমন্বয় কীভাবে হবে? আলবুদাইউই বলেন, সুপ্রিম কাউন্সিলের নির্দেশনাগুলোকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তর করতে হবে, যাতে একীকরণ ও প্রস্তুতির আরও বিস্তৃত পরিসরে যৌথ উপসাগরীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে যায়।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং পানিতে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি—এই দুই হার একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, দুই খাতেই চাহিদা বাড়ছে এবং সেগুলো পরস্পর সংযুক্ত। মহাসচিবের ভাষায়, বর্তমান পর্যায়ে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন, যার মধ্যে বাড়তে থাকা চাহিদার প্রস্তুতি প্রধান।
তাহলে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ—এই তিন ধাপে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক। আলবুদাইউই এই তিন ধাপে অগ্রগতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
জেদ্দায় ২৮ এপ্রিল ২০২৬-এর পরামর্শমূলক বৈঠকের নির্দেশনায় সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে পানি আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন এবং বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ—এই দুই কাজই এখন কমিটির আলোচনার কেন্দ্রে।
প্রশ্ন দাঁড়ায়, পানি আন্তঃসংযোগের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন শেষ হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে এবং বিনিয়োগের ধারা কী হবে? এসপিএর প্রতিবেদনে এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই। তবে মহাসচিবের বক্তব্যে এটা স্পষ্ট যে নির্দেশনাগুলোকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তরই এখন মূল লক্ষ্য।
ম্যানামায় অনুষ্ঠিত ৩১তম বৈঠকটি এমন সময়ে হলো, যখন জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি খাতে চাহিদা বাড়ছে এবং সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আলবুদাইউই বলেন, এই দুই খাত যৌথ জিসিসি কর্মকাণ্ডের ভিত্তি, কারণ এগুলো সম্পদ টেকসইকরণ, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার গিগাওয়াট-ঘণ্টা এবং বিশোধন করা পানির উৎপাদন প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটার—এই দুই সংখ্যা একসঙ্গে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর অবকাঠামোর আকার বোঝায়। আগের বছরের তুলনায় বিদ্যুতে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ ও পানিতে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সেই আকার আরও বাড়িয়েছে।
এই প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে হলে সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা জরুরি। মহাসচিব উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে অগ্রগতির মাধ্যমে ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে বাহরাইনের মন্ত্রী হুমাইদান সভাপতিত্ব করেন, যিনি বর্তমান অধিবেশনের সভাপতিও। কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। এসপিএর প্রতিবেদনে বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বিবরণ, সময়সূচি বা নির্দিষ্ট প্রকল্পের নাম উল্লেখ নেই। প্রতিবেদনটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, তাই আলোচনার কিছু অংশ পাওয়া যায়নি।
তবু মহাসচিবের বক্তব্য থেকে এটা পরিষ্কার, জিসিসি বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ এবং পানি আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন—এই দুই বিষয় এখন যৌথ কর্মকাণ্ডের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সুপ্রিম কাউন্সিলের ১৯তম পরামর্শমূলক বৈঠকের নির্দেশনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তরের আহ্বান সেই অগ্রাধিকারকে আরও জোরালো করেছে।
প্রশ্ন হলো, এই উদ্যোগগুলো বাস্তবে রূপ নিতে কত সময় লাগবে এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় কীভাবে কার্যকর হবে? এসপিএর প্রতিবেদনে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। তবে বৈঠকের আলোচনা এবং মহাসচিবের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয়, বিদ্যুৎ ও পানি খাতে একীকরণ ও প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।
৩১তম বৈঠকটি কোথায় এবং কে সভাপতিত্ব করেন? জিসিসি বিদ্যুৎ ও পানি সহযোগিতা কমিটির ৩১তম বৈঠক ম্যানামায় অনুষ্ঠিত হয়। বাহরাইনের বিদ্যুৎ ও পানি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াসের বিন ইব্রাহিম হুমাইদান সভাপতিত্ব করেন, যিনি বর্তমান অধিবেশনের সভাপতিও। কমিটির সদস্যরা বৈঠকে অংশ নেন। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মহাসচিব জাসেম আলবুদাইউই বৈঠকে বক্তব্য দেন এবং বিদ্যুৎ ও পানি খাতকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
২০২৫ সালে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কত ছিল? আলবুদাইউই জানান, ২০২৫ সালে জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় ৮ লাখ ৭৬ হাজার গিগাওয়াট-ঘণ্টা (GWh) ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বিশোধন করা পানির উৎপাদন ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটার, যার প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। এই তথ্য এসপিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কাউন্সিলের ১৯তম পরামর্শমূলক বৈঠকের নির্দেশনা কী ছিল? ২৮ এপ্রিল ২০২৬-এ জেদ্দায় অনুষ্ঠিত সুপ্রিম কাউন্সিলের ১৯তম পরামর্শমূলক বৈঠকে সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জিসিসি রাষ্ট্রগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্ব নিশ্চিত করা হয়। নির্দেশনায় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পানি আন্তঃসংযোগ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন এবং জিসিসি বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়। আলবুদাইউই এই নির্দেশনাকে বাস্তব উদ্যোগে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
মহাসচিব কোন খাতগুলোকে অগ্রাধিকার বলেছেন? আলবুদাইউই বলেন, বর্তমান পর্যায়ে অগ্রাধিকার খাতগুলোতে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন, যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানির বাড়তে থাকা চাহিদার প্রস্তুতি প্রধান। তিনি উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে অগ্রগতির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নত করার গুরুত্বও তুলে ধরেন। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি বিদ্যুৎ ও পানি খাতকে যৌথ জিসিসি কর্মকাণ্ডের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং কী তথ্য পাওয়া যায়নি? এসপিএর প্রতিবেদনে বৈঠকের নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তালিকা, সময়সূচি বা প্রকল্পের নাম উল্লেখ নেই। প্রতিবেদনটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। তবে মহাসচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট, জিসিসি বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণ এবং পানি আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন যৌথ কর্মকাণ্ডের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বৈঠকে বাহরাইনের মন্ত্রী হুমাইদান সভাপতিত্ব করেন এবং কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।