Friday, October 30, 2026
সৌদি সংবাদ

মক্কার থার্ড রিং রোডের বর্ধিতাংশ চালু, মসজিদুল হারাম ও জামারাতে যাত্রার সময় ৯০% কমবে

মক্কার থার্ড রিং রোডের বর্ধিতাংশ চালু, মসজিদুল হারাম ও জামারাতে যাত্রার সময় ৯০% কমবে

মক্কার থার্ড রিং রোডের সম্প্রসারণ প্রকল্পের বর্ধিতাংশে যান চলাচল শুরু হয়েছে, যা মসজিদুল হারাম ও মিনার জামারাত সুবিধায় যাত্রার সময় প্রায় ৯০% পর্যন্ত কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। মক্কা শহর ও পবিত্র স্থানসমূহের রয়্যাল কমিশন এই ঘোষণা দিয়েছে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, মক্কাকে ঘিরে থাকা চারটি রিং রোডের একটি হলো এই থার্ড রিং রোড। প্রকল্পের প্রভাব সূচকে দেখা গেছে, পিক আওয়ার ও মৌসুমে যাত্রার দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

দূরত্ব কমেছে কতটা

প্রিন্স মুতিব ইন্টারসেকশন থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত চালকদের যাত্রাপথ ১৬.৫ কিলোমিটার থেকে কমে ৬.৫ কিলোমিটার হয়েছে। আর জামারাত সুবিধা পর্যন্ত দূরত্ব ১২ কিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে ৪ কিলোমিটারে।

এই সড়কটি উভয় দিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার যানবাহন ধারণ করতে সক্ষম। তাহলে প্রতিদিন এত যানবাহন চলাচল করলে হজ ও উমরাহ মৌসুমে যানজটের চাপ আসলে কতটা কমবে?

প্রকল্পটি মক্কার সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ। এর লক্ষ্য হলো যাতায়াত সহজ করা, আশপাশের সড়কে যানজটের চাপ কমানো এবং বিশেষ করে হজ ও উমরাহ মৌসুমে যান চলাচল সামলাতে অবকাঠামোর প্রস্তুতি বাড়ানো।

হজ ও উমরাহ মৌসুমে প্রস্তুতি

হজ ও উমরাহ মৌসুমে মক্কায় লাখ লাখ তীর্থযাত্রী আসেন। সেই সময় সড়কে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেড়ে যায়। এই বর্ধিতাংশ চালু হওয়ায় তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দা—সবার যাতায়াতই সহজ হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

রয়্যাল কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রভাব সূচকে পিক আওয়ার ও মৌসুমে যাত্রার দক্ষতা বেড়েছে। মসজিদুল হারাম ও জামারাতে পৌঁছাতে সময় প্রায় ৯০% পর্যন্ত কমতে পারে। প্রশ্ন হলো, এই সময় সাশ্রয় কি বাস্তবে তীর্থযাত্রীরা প্রতিদিন অনুভব করবেন?

চার রিং রোডের অংশ

মক্কাকে ঘিরে চারটি রিং রোড রয়েছে। থার্ড রিং রোড তার একটি। এই রিং রোড ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো শহরের ভেতরের সড়কে চাপ না ফেলে বাইরে থেকে যানবাহন ঘুরিয়ে নেওয়া। বর্ধিতাংশ চালু হওয়ায় সেই ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হলো।

প্রিন্স মুতিব ইন্টারসেকশন থেকে মসজিদুল হারামের দূরত্ব ১৬.৫ কিলোমিটার থেকে ৬.৫ কিলোমিটারে নামা মানে প্রায় ১০ কিলোমিটার কম পথ। জামারাতের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ৪ কিলোমিটার, অর্থাৎ ৮ কিলোমিটার কম। এতটা পথ কমলে জ্বালানি খরচ ও সময়—দুটোই বাঁচে। কিন্তু নতুন এই সড়কে যানবাহনের চাপ সামলাতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কতটা প্রস্তুত?

সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের ধারা

মক্কার সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। এর মধ্যে রিং রোড, ইন্টারসেকশন ও সংযোগ সড়কের কাজ পড়ে। থার্ড রিং রোডের বর্ধিতাংশ সেই ধারারই একটি ধাপ।

প্রকল্পের আরেক লক্ষ্য, আশপাশের সড়কে যানজটের চাপ কমানো। শহরের ভেতরের সড়কে যানবাহন কমলে যাতায়াত স্বাভাবিক থাকে। বিশেষ করে হজ ও উমরাহ মৌসুমে এই ব্যবস্থাপনা জরুরি হয়ে পড়ে। তাহলে কি ভবিষ্যতে বাকি রিং রোডগুলোতেও একই ধরনের সম্প্রসারণ দেখা যাবে?

অবকাঠামো প্রস্তুতির প্রশ্ন

রয়্যাল কমিশন বলেছে, এই প্রকল্প অবকাঠামোর প্রস্তুতি বাড়ায়। প্রতিদিন ১ লাখ ৭০ হাজার যানবাহন ধারণক্ষমতা সেই প্রস্তুতিরই অংশ। উভয় দিকে এই ধারণক্ষমতা।

তবে এসপিএর প্রতিবেদনে প্রকল্পের ব্যয়, নির্মাণের সময়সীমা বা ঠিকাদারের নাম উল্লেখ নেই। বর্ধিতাংশের দৈর্ঘ্যও আলাদাভাবে বলা হয়নি। শুধু দূরত্ব হ্রাস, ধারণক্ষমতা ও সময় সাশ্রয়ের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

যাত্রার সময় ৯০% পর্যন্ত কমানোর কথা বলা হয়েছে, তবে কোন নির্দিষ্ট সময়ে বা কোন পথে এই হিসাব—তা স্পষ্ট নয়। প্রশ্ন থেকে যায়, এই সূচক কি সারা বছর ধরে মাপা হবে, নাকি শুধু হজ ও উমরাহ মৌসুমে?

মক্কার বাসিন্দা ও তীর্থযাত্রীদের জন্য থার্ড রিং রোডের বর্ধিতাংশ চালু হওয়া একটি বাস্তব পরিবর্তন। প্রিন্স মুতিব ইন্টারসেকশন থেকে মসজিদুল হারাম ও জামারাতে পৌঁছানোর পথ এখন অনেক ছোট। এই সড়ক প্রতিদিন ১ লাখ ৭০ হাজার যানবাহন সামলাতে পারবে। হজ ও উমরাহ মৌসুমে এই সক্ষমতা কতটা কাজে আসবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

থার্ড রিং রোডের বর্ধিতাংশ চালু হওয়ায় দূরত্ব কতটা কমেছে? প্রিন্স মুতিব ইন্টারসেকশন থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত দূরত্ব ১৬.৫ কিলোমিটার থেকে কমে ৬.৫ কিলোমিটার হয়েছে। জামারাত সুবিধা পর্যন্ত দূরত্ব ১২ কিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে ৪ কিলোমিটারে। এসপিএ জানিয়েছে, এই সড়ক উভয় দিকে প্রতিদিন ১ লাখ ৭০ হাজার যানবাহন ধারণ করতে পারে।

যাত্রার সময় কতটা কমতে পারে? রয়্যাল কমিশন ফর মক্কা সিটি অ্যান্ড হোলি সাইটস জানিয়েছে, মসজিদুল হারাম ও জামারাতে যাত্রার সময় প্রায় ৯০% পর্যন্ত কমতে পারে। প্রকল্পের প্রভাব সূচকে পিক আওয়ার ও মৌসুমে যাত্রার দক্ষতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে। এসপিএর প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট সময় বা পথের বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী? প্রকল্পটি মক্কার সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের অংশ। এর লক্ষ্য যাতায়াত সহজ করা, আশপাশের সড়কে যানজটের চাপ কমানো এবং বিশেষ করে হজ ও উমরাহ মৌসুমে যান চলাচল সামলাতে অবকাঠামোর প্রস্তুতি বাড়ানো। মক্কাকে ঘিরে থাকা চারটি রিং রোডের একটি হলো এই থার্ড রিং রোড।

প্রতিদিন কত যানবাহন চলাচল করতে পারবে? থার্ড রিং রোডের বর্ধিতাংশ উভয় দিকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ লাখ ৭০ হাজার যানবাহন ধারণ করতে সক্ষম। এসপিএ এই ধারণক্ষমতার তথ্য দিয়েছে। তবে প্রকল্পের ব্যয়, নির্মাণের সময়সীমা বা ঠিকাদারের নাম প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।