নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত একটি প্যানেল আলোচনায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম আলবুদাইউই বলেছেন, জল নিরাপত্তা জিসিসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার, যা সরাসরি মানব নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত এবং স্থিতিশীলতার একটি মৌলিক স্তম্ভ।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থায়ী মিশন জাতিসংঘে «জল একটি কৌশলগত অপরিহার্যতা: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থেকে সম্মিলিত পদক্ষেপ» শীর্ষক এই প্যানেলের আয়োজন করে। আলবুদাইউই এতে জিসিসি অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী পানির সংকট নিয়ে কথা বলেন এবং বলেন যে এই সংকটই সদস্য দেশগুলোকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং ডিস্যালিনেশন, বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহার, চাহিদা ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তিতে বিস্তৃত দক্ষতা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি জল-জ্বালানি-খাদ্য-জলবায়ু সংযোগ শক্তিশালীকরণের বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, মরুভূমির প্রান্তে গড়ে ওঠা এই অর্থনীতিগুলো কেন পানির সংকটকে কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং টিকে থাকার প্রশ্ন হিসেবে দেখে? আলবুদাইউইয়ের বক্তব্যের মূল সুর ছিল এই যে কেবল প্রযুক্তি জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তিনি জিসিসি সদস্য দেশগুলোর চলমান যৌথ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন, যার লক্ষ্য একটি আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগ স্থাপন। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদার করা, আঞ্চলিক প্রস্তুতি বাড়ানো এবং সংকটের সময় জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ।
একটি আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগ বলতে ঠিক কী বোঝায়, এবং সীমান্ত পেরিয়ে পানি প্রবাহিত করার সিদ্ধান্ত কতটা জটিল? এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলবুদাইউই এই প্রকল্পকে সরবরাহ নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রস্তুতি ও সংকটকালীন জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট জল ব্যবস্থাপনা সিস্টেম এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করে সহযোগিতামূলক অর্থায়ন মডেলের কথা বলেন, যাতে বড় পরিসরে সম্প্রসারণযোগ্য অবকাঠামো প্রকল্প বিকাশ করা যায়।
জল নিরাপত্তার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্ক এত গভীর কেন? উপসাগরীয় অঞ্চলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ও পানি পরিবহন ব্যবস্থা চালাতে বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন, আর সেই বিদ্যুৎ উৎপাদন অনেকাংশে জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পানির সরবরাহ ব্যাহত হলে তা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন এবং নাগরিক জীবনের প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলে। আলবুদাইউই এই আন্তঃসংযোগকেই জল-জ্বালানি-খাদ্য-জলবায়ু সংযোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা তাঁর ভাষায় স্থিতিশীলতার মৌলিক স্তম্ভ।
খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নটিও একই সূত্রে গাঁথা। সীমিত কৃষিজমি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের বাস্তবতায় উপসাগরীয় দেশগুলো খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, আর সেই আমদানি নির্ভরতা কমাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে হলে সেচের জন্য নির্ভরযোগ্য পানি দরকার। আলবুদাইউই তাই পানির সংকটকে কেবল একটি খাতের সমস্যা না দেখে মানব নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন।
তাহলে প্রযুক্তিগত সমাধান আর প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য কোথায়? মহাসচিব স্পষ্ট করেছেন যে প্রযুক্তি একা যথেষ্ট নয়। তাঁর মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনা সিস্টেম পানির ব্যবহার দক্ষ করতে পারে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খরচ কমাতে পারে, কিন্তু এসবের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত অর্থায়ন ও আন্তঃসীমান্ত পরিকল্পনা। এ কারণেই তিনি সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থায়ন মডেলের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে প্রকল্পগুলো কেবল পরিকল্পনায় না থেকে বাস্তবে সম্প্রসারিত হয়।
আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংকটকালীন সময়ে সদস্য দেশগুলো একে অপরকে সহায়তা করতে পারবে—এই যুক্তি কতটা বাস্তবসম্মত? এসপিএ-র বরাতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদার করা, আঞ্চলিক প্রস্তুতি বাড়ানো এবং সংকটের সময় জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ। অর্থাৎ কোনো একটি দেশে সরবরাহ ব্যাহত হলে অন্যদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার একটি কাঠামো তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে।
আলবুদাইউই তাঁর বক্তব্যের শেষে আসন্ন জাতিসংঘ জল সম্মেলনের দিকে ইঙ্গিত করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সেনেগাল যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি এটিকে বহুপাক্ষিক জল অংশীদারিত্ব এবং বাস্তব বিনিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেন।
২০২৬ সালের ডিসেম্বরের এই সম্মেলন কি উপসাগরীয় অঞ্চলের জল কূটনীতিতে নতুন গতি আনতে পারবে? এসপিএ-র প্রতিবেদনে আলবুদাইউইর বক্তব্যের যে অংশগুলো উঠে এসেছে, তাতে সম্মেলনকে তিনি বহুপাক্ষিক অংশীদারিত্ব ও বাস্তব বিনিয়োগের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন। তবে প্রতিবেদনে এই সম্মেলনের সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা, অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বা প্রত্যাশিত অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জল সংকট কতটা তীব্র, তা বোঝা যায় এই বাস্তবতা থেকে যে এই দেশগুলো বিশ্বের সবচেয়ে কম মিঠা পানির সম্পদে বাস করে, অথচ তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও নগরায়ণ ক্রমাগত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ডিস্যালিনেশন ও বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহারে তারা যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, আলবুদাইউই সেটিকে উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ফসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট যে এই অভিজ্ঞতা কেবল অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জল-জ্বালানি-খাদ্য-জলবায়ু সংযোগের মতো আন্তঃসম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলোতে প্রভাব ফেলে।
জল নিরাপত্তাকে মানব নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার তাৎপর্য কী? আলবুদাইউইর বক্তব্য অনুযায়ী, পানি শুধু পানীয় বা সেচের বিষয় নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে জল নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ মানে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ নয়, বরং সমাজের ভিত্তি সুরক্ষিত করা।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আলবুদাইউই জিসিসি সদস্য দেশগুলোর চলমান যৌথ উদ্যোগের কথা বলেছেন, যার মধ্যে আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগ অন্যতম। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট জল ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সহযোগিতামূলক অর্থায়ন মডেল গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই মডেলে সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে সম্প্রসারণযোগ্য অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন সময়সীমা কত, এবং কোন দেশ কোন অংশে বিনিয়োগ করবে? এসপিএ-র প্রতিবেদনে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়, প্রযুক্তিগত বিবরণ বা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের কোনো উল্লেখ নেই। আলবুদাইউইর বক্তব্য মূলত কৌশলগত অগ্রাধিকার ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর কেন্দ্রীভূত ছিল।
উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য জল নিরাপত্তা কেন স্থিতিশীলতার মৌলিক স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়? কারণ পানি সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, খাদ্য সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন ও নাগরিক সেবা—সবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আলবুদাইউই এই আন্তঃসংযোগকে স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে জল নিরাপত্তা মানব নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, জিসিসি জল নিরাপত্তাকে কেবল পরিবেশগত ইস্যু হিসেবে নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখছে।
আলবুদাইউইর বক্তব্যে প্রযুক্তি ও সহযোগিতার মধ্যে ভারসাম্যের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তি একা জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা যায়, জিসিসি কেবল প্রযুক্তিগত সমাধানে সন্তুষ্ট নয়, বরং আন্তঃসীমান্ত পরিকল্পনা ও যৌথ বিনিয়োগের কাঠামো গড়ে তুলতে চায়।
আসন্ন জাতিসংঘ জল সম্মেলনকে ঘিরে প্রত্যাশা কতটা? আলবুদাইউই এটিকে বহুপাক্ষিক জল অংশীদারিত্ব ও বাস্তব বিনিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সেনেগাল যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের অভিজ্ঞতা ও সম্পদ ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এসপিএ-র প্রতিবেদনে আলবুদাইউইর বক্তব্যের যে দিকগুলো উঠে এসেছে, সেগুলো মূলত কৌশলগত অগ্রাধিকার, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, আঞ্চলিক গ্রিড আন্তঃসংযোগ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর কেন্দ্রীভূত। তবে প্রতিবেদনে এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, অর্থায়নের পরিমাণ বা সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। আলবুদাইউইর বক্তব্য মূলত নীতিগত অবস্থান ও সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে, যা থেকে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায় না।
জল নিরাপত্তা নিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কী বার্তা বহন করে? আলবুদাইউইর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, জিসিসি জল নিরাপত্তাকে কেবল অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ ও সম্মিলিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করছে। প্যানেলের শিরোনামই—«জল একটি কৌশলগত অপরিহার্যতা: বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থেকে সম্মিলিত পদক্ষেপ»—এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, আলবুদাইউইর বক্তব্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জল নিরাপত্তা কৌশলের কয়েকটি স্তম্ভ তুলে ধরে: ডিস্যালিনেশন ও পুনর্ব্যবহারে অর্জিত অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগের পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, এবং সরকার-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থায়ন। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বা সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
জল নিরাপত্তাকে কেন কৌশলগত অগ্রাধিকার বলা হয়েছে? জিসিসি মহাসচিব জাসেম আলবুদাইউই বলেছেন, জল নিরাপত্তা মানব নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত এবং স্থিতিশীলতার মৌলিক স্তম্ভ। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত প্যানেলে এই কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে পানির সংকটকে কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে দেখা হয়েছে।
আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের লক্ষ্য কী? আলবুদাইউই জানিয়েছেন, জিসিসি সদস্য দেশগুলো একটি আঞ্চলিক জল গ্রিড আন্তঃসংযোগ স্থাপনের যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে। এর লক্ষ্য সরবরাহ নিরাপত্তা জোরদার করা, আঞ্চলিক প্রস্তুতি বাড়ানো এবং সংকটের সময় জরুরি প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ। এসপিএ-র প্রতিবেদনে প্রকল্পের ব্যয়, সময়সীমা বা প্রযুক্তিগত বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।
প্রযুক্তি একা কেন যথেষ্ট নয়? আলবুদাইউই স্পষ্ট করেছেন, প্রযুক্তি একা জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট জল ব্যবস্থাপনা সিস্টেম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকার, উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করে সহযোগিতামূলক অর্থায়ন মডেল গড়ে তোলার কথা বলেন, যাতে সম্প্রসারণযোগ্য অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
আসন্ন জাতিসংঘ জল সম্মেলনের তাৎপর্য কী? আলবুদাইউই আসন্ন জাতিসংঘ জল সম্মেলনকে বহুপাক্ষিক জল অংশীদারিত্ব ও বাস্তব বিনিয়োগ এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সেনেগাল যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করবে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে সম্মেলনের এজেন্ডা বা প্রত্যাশিত অর্থায়নের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।
উপসাগরীয় দেশগুলো কী কী ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছে? আলবুদাইউই জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী পানির সংকট সদস্য দেশগুলোকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং ডিস্যালিনেশন, বর্জ্য পানি পুনর্ব্যবহার, চাহিদা ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তিতে বিস্তৃত দক্ষতা গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে তারা জল-জ্বালানি-খাদ্য-জলবায়ু সংযোগ শক্তিশালীকরণের কাজ করছে। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই দক্ষতার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।





