Saturday, October 17, 2026
সংস্কৃতি

কাসিমে ‘হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট’ আয়োজনে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন

কাসিমে ‘হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট’ আয়োজনে অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন

উনাইজায় জাদাত আল-নাখিলে দুই দিনব্যাপী ‘হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট’ শীর্ষক আয়োজন করেছে উনাইজা ট্যুরিজম কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন। অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে এই আয়োজনে সৌদি আরবের ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, আয়োজনে সাতটি ঐতিহ্যবাহী প্যাভিলিয়ন ছিল। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যালকনরি, সৌদি কফি, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, আরবি ক্যালিগ্রাফি, লোকশিল্প এবং লেখক আবদুল্লাহ বিন খামিসকে উৎসর্গ করা একটি প্রদর্শনী। দর্শনার্থীরা সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ পান।

কিন্তু একটি দুই দিনের আয়োজন কি সত্যিই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে? আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানেই আসল কাজ শুরু।

অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক বান্দার আল-জেনাইনি বলেন, এই আয়োজনের লক্ষ্য হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া চর্চা ও দক্ষতা সংরক্ষণ করা, যার মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, কারুশিল্প ও উপভাষা, এবং সেগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।

তরুণ প্রজন্ম কি এই ঐতিহ্যগুলোকে নিজের ভাষায় চিনবে, নাকি শুধু প্রদর্শনীর কাচের বাক্সে সীমাবদ্ধ থাকবে? প্রশ্নটি আয়োজনের কেন্দ্রে রয়েছে।

জনসংযোগ ও মিডিয়া কর্মকর্তা খুলুদ আল-মিজানি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হস্তান্তরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন উটের গান (আল-হিদা), ফ্যালকনরি, সৌদি কফি প্রস্তুতি এবং লোকশিল্পের মতো ঐতিহ্য। তিনি পরিবারগুলোকে সন্তানদের ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।

পরিবারগুলো যদি সন্তানদের এই আয়োজনে না নিয়ে আসে, তাহলে এই হস্তান্তর কতটা কার্যকর হবে? আয়োজকদের বার্তা স্পষ্ট—ঐতিহ্য সংরক্ষণ কেবল প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, পরিবারেরও দায়িত্ব।

ফ্যালকনরি প্যাভিলিয়নে ১১টি ফ্যালকন এবং প্রায় আটজন ফ্যালকনার উপস্থিত ছিলেন। ফ্যালকনার নাহার আল-ওতাইবি বলেন, প্যাভিলিয়নে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয় এবং দর্শনার্থীদের ফ্যালকনের পরিচর্যা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।

ফ্যালকনরি কি কেবল প্রদর্শনীর বিষয়, নাকি এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শেখার একটি জীবন্ত দক্ষতা? আল-ওতাইবির বর্ণনায় প্যাভিলিয়নটি সেই জীবন্ত দক্ষতারই চিত্র তুলে ধরে।

আয়োজনে সৌদি কফি প্রস্তুতির প্যাভিলিয়নও ছিল, যেখানে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে কফি তৈরির দিকগুলো তুলে ধরা হয়। আরবি ক্যালিগ্রাফির প্যাভিলিয়ন দর্শনার্থীদের হাতে-কলমে এই শিল্পের সৌন্দর্য জানার সুযোগ দেয়।

লেখক আবদুল্লাহ বিন খামিসকে উৎসর্গ করা প্রদর্শনীটি আয়োজনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য অংশ। সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের সংযোগ কীভাবে দৃশ্যমান হয়, সেই প্রশ্নও এই প্রদর্শনী সামনে আনে।

লোকশিল্পের প্যাভিলিয়নটি সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার সঙ্গে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেয়। আয়োজকদের মতে, এসব পরিবেশনা ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও উপভাষার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।

উপভাষা ও লোকশিল্প কি ডিজিটাল যুগে টিকে থাকতে পারবে? আল-মিজানির মতে, পরিবার ও তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্ততাই এর উত্তর নির্ধারণ করবে।

এই উদ্যোগটি অ্যাসোসিয়েশনের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক পরিচয় শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও চর্চা সংরক্ষণের প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

সাতটি প্যাভিলিয়ন, ১১টি ফ্যালকন ও প্রায় আটজন ফ্যালকনার—এই সংখ্যাগুলো আয়োজনের পরিসর বোঝায়। তবে এসপিএর প্রতিবেদনে আয়োজনের মোট দর্শনার্থী সংখ্যা, ব্যয় বা ভবিষ্যতে এই ধরনের আয়োজন কতবার হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

আয়োজনটি কোথায় এবং কে আয়োজন করেছে? উনাইজা ট্যুরিজম কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন উনাইজার জাদাত আল-নাখিলে দুই দিনব্যাপী ‘হেরিটেজ ডিস্ট্রিক্ট’ আয়োজন করে। এসপিএ জানিয়েছে, এটি অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত হয়। আয়োজনে সৌদি আরবের ঐতিহ্য, কারুশিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয়।

আয়োজনে কী কী প্যাভিলিয়ন ছিল? সাতটি ঐতিহ্যবাহী প্যাভিলিয়ন ছিল, যার মধ্যে ফ্যালকনরি, সৌদি কফি, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প, আরবি ক্যালিগ্রাফি ও লোকশিল্প রয়েছে। এছাড়া লেখক আবদুল্লাহ বিন খামিসকে উৎসর্গ করা একটি প্রদর্শনী ছিল। এসপিএ অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা এসব প্যাভিলিয়নে সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা জানার সুযোগ পান।

ফ্যালকনরি প্যাভিলিয়নে কী প্রদর্শিত হয়? ফ্যালকনার নাহার আল-ওতাইবি বলেন, প্যাভিলিয়নে ১১টি ফ্যালকন এবং প্রায় আটজন ফ্যালকনার উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শিত হয় এবং দর্শনার্থীদের ফ্যালকনের পরিচর্যা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। এসপিএ প্রতিবেদনে ফ্যালকনগুলোর প্রজাতি বা সরঞ্জামের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।

আয়োজনের লক্ষ্য কী ছিল? নির্বাহী পরিচালক বান্দার আল-জেনাইনি বলেন, আয়োজনের লক্ষ্য উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া চর্চা ও দক্ষতা সংরক্ষণ করা, যার মধ্যে ঐতিহ্যবাহী শিল্প, কারুশিল্প ও উপভাষা রয়েছে। সেগুলো তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও লক্ষ্যের অংশ। এসপিএ জানিয়েছে, উদ্যোগটি সাংস্কৃতিক পরিচয় শক্তিশালীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সংরক্ষণের প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

পরিবার ও শিশুদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কী বলা হয়েছে? জনসংযোগ ও মিডিয়া কর্মকর্তা খুলুদ আল-মিজানি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হস্তান্তরের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উটের গান (আল-হিদা), ফ্যালকনরি, সৌদি কফি প্রস্তুতি ও লোকশিল্পের কথা উল্লেখ করেন। তিনি পরিবারগুলোকে সন্তানদের ঐতিহ্যবাহী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান। এসপিএ প্রতিবেদনে এই আহ্বানের বাইরে কোনো নির্দিষ্ট কার্যক্রমের বিবরণ নেই।