মক্কার কিং সালমান গেট প্রকল্পের মধ্যে একটি বড় পরিবহন-কেন্দ্রিক মিশ্র-ব্যবহারের গন্তব্য গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ২১০০ কোটি রিয়াল মূল্যের একটি সহযোগিতা চুক্তি হয়েছে। চুক্তিটি হয়েছে মক্কার কিং সালমান গেট প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার ও পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) কোম্পানি রুয়া আলহারাম আলমাক্কি এবং মালয়েশিয়ার রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো ডেভেলপার মালয়েশিয়ান রিসোর্সেস কর্পোরেশন বেরহাদ (এমআরসিবি)-এর মধ্যে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, গতকাল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এই সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় থাকা প্রকল্পটি এখনও ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন হওয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়া, বাস্তবায়ন পর্যায় নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সাপেক্ষে রয়েছে।
এই সহযোগিতা চুক্তি কিং সালমান গেট প্রকল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দেয়। এটি বিশ্বজুড়ে হজ ও উমরাহ পালনকারী pilgrims ও দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মক্কার সক্ষমতা বাড়ানোর সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে।
চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রকল্প উন্নয়নে এমআরসিবি-র অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কেএল সেন্ট্রাল, যা মালয়েশিয়ার বৃহত্তম সমন্বিত পরিবহন হাব এবং যেখানে পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে নগর ব্যবহারের নানা ধরন একত্রিত হয়েছে। মক্কার প্রকল্পটি কি একই মডেলে এগোবে, নাকি স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ভিন্ন রূপ নেবে?
প্রস্তাবিত প্রকল্পে কিং সালমান গেটের ভেতরে একটি পাবলিক বাস স্টেশন এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক, খুচরা বিক্রয় ও অন্যান্য মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়ন গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত। শুধু অবকাঠামো নয়, অংশীদারিত্বের লক্ষ্য হলো পরিবহন নেটওয়ার্ক ও সহায়ক সেবা ব্যবহার করে হজ ও উমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীদের চলাচল সহজ করা, প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং মক্কায় তাঁদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার উপায় খুঁজে বের করা।
চুক্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্প উন্নয়ন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের একটি সমন্বিত কাঠামো অন্বেষণের কথাও বলা হয়েছে। এতে রুয়া আলহারাম আলমাক্কির কিং সালমান গেট ভিশন এবং এমআরসিবি-র পরিবহন-সংযুক্ত বড় মিশ্র-ব্যবহার প্রকল্পের দক্ষতা কাজে লাগানো হবে। লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, উন্নয়ন, চলাচল সমাধান ও দর্শনার্থী সেবার মধ্যে সমন্বয় সাধন।
মক্কায় প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক হজ ও উমরাহ পালনকারী আসেন। তাঁদের চলাচল, থাকার ব্যবস্থা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সবসময় বড় চ্যালেঞ্জ। কিং সালমান গেট প্রকল্প সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা ভূমিকা রাখতে পারবে? পরিবহন-কেন্দ্রিক এই গন্তব্য কি ভিড় কমাতে এবং যাতায়াত সহজ করতে সক্ষম হবে?
এমআরসিবি-র অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ কেএল সেন্ট্রাল মালয়েশিয়ায় পরিবহন নেটওয়ার্ক ও নগর ব্যবহারের সমন্বয়ের একটি পরিচিত উদাহরণ। তবে মক্কার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এখানে ধর্মীয় গুরুত্ব, মৌসুমি ভিড় এবং সীমিত জায়গার মধ্যে পরিকল্পনা করতে হয়। মালয়েশিয়ার মডেল মক্কায় কতটা খাপ খাবে? স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কী কী পরিবর্তন প্রয়োজন হবে?
চুক্তিতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের দিকটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিং সালমান গেট প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ কতটা আসবে? আর সেই বিনিয়োগ মক্কার অবকাঠামো ও সেবার মান বাড়াতে কতটা সহায়ক হবে? এসপিএ-র প্রতিবেদনে এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই।
প্রকল্পটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। ডিউ ডিলিজেন্স, অনুমোদন, অর্থায়ন, বাস্তবায়ন পর্যায় নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত চুক্তি—এই ধাপগুলো পার হতে হবে। ফলে প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপ কেমন হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। বাস স্টেশনটি কোথায় হবে, কত বড় হবে, কত সময় লাগবে—এসব বিষয়ে এসপিএ-র প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।
মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়নের মধ্যে আবাসিক, বাণিজ্যিক ও খুচরা বিক্রয়ের কথা বলা হয়েছে। এগুলো কারা ব্যবহার করবেন—স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী, নাকি ব্যবসায়ীরা? কিং সালমান গেটের ভেতরে এই সুবিধাগুলো কীভাবে সাজানো হবে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য নেই।
সৌদি আরবের পিআইএফ কোম্পানি হিসেবে রুয়া আলহারাম আলমাক্কি কিং সালমান গেটের মাস্টার ডেভেলপার। এই প্রকল্প মক্কার সেবা সক্ষমতা বাড়ানোর জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সেই লক্ষ্য পূরণে কতটা গতি আনবে? মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই সহযোগিতা ভবিষ্যতে অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদেরও আকৃষ্ট করবে কি?
এসপিএ-র প্রতিবেদনে চুক্তির তারিখ হিসেবে গতকালের কথা বলা হয়েছে এবং স্থান হিসেবে কুয়ালালামপুরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ, সম্ভাব্য সময়সূচি বা প্রকল্পের নির্দিষ্ট কোনো ধাপের কথা সেখানে বলা হয়নি। মূল্য ২১০০ কোটি রিয়াল অনুমানভিত্তিক এবং তা ডিউ ডিলিজেন্স ও অনুমোদনের সাপেক্ষে।
সামগ্রিকভাবে, এই সমঝোতা কিং সালমান গেট প্রকল্পে পরিবহন-কেন্দ্রিক মিশ্র-ব্যবহারের একটি বড় গন্তব্য গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে তা এখনও অধ্যয়ন ও অনুমোদনের পর্যায়ে। মক্কার হজ ও উমরাহ পালনকারীদের জন্য এর সুফল কত দ্রুত মিলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
চুক্তিটি কে কে করেছে এবং কোথায় স্বাক্ষরিত হয়েছে? মক্কার কিং সালমান গেট প্রকল্পের মাস্টার ডেভেলপার ও পিআইএফ কোম্পানি রুয়া আলহারাম আলমাক্কি এবং মালয়েশিয়ার রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো ডেভেলপার মালয়েশিয়ান রিসোর্সেস কর্পোরেশন বেরহাদ (এমআরসিবি) চুক্তিটি করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, গতকাল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সহযোগিতা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পের আনুমানিক মূল্য কত এবং তা কী সাপেক্ষে? প্রকল্পের আনুমানিক মোট মূল্য ২১০০ কোটি রিয়াল। এসপিএ জানিয়েছে, প্রকল্পটি ডিউ ডিলিজেন্স সম্পন্ন হওয়া, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়া, বাস্তবায়ন পর্যায় নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সাপেক্ষে রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে কী কী থাকবে? প্রস্তাবিত প্রকল্পে কিং সালমান গেটের ভেতরে একটি পাবলিক বাস স্টেশন এবং আবাসিক, বাণিজ্যিক, খুচরা বিক্রয় ও অন্যান্য মিশ্র-ব্যবহারের উন্নয়ন গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা অধ্যয়ন অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া পরিবহন নেটওয়ার্ক ও সহায়ক সেবা ব্যবহার করে হজ ও উমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীদের চলাচল সহজ করার উপায়ও অধ্যয়ন করা হবে।
এমআরসিবি-র কোন অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হবে? চুক্তিতে সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রকল্প উন্নয়নে এমআরসিবি-র অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কেএল সেন্ট্রাল, যা মালয়েশিয়ার বৃহত্তম সমন্বিত পরিবহন হাব এবং যেখানে পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে নগর ব্যবহারের নানা ধরন একত্রিত হয়েছে।
এই চুক্তি মক্কার সেবা সক্ষমতায় কীভাবে সহায়তা করবে? এসপিএ জানিয়েছে, চুক্তিটি কিং সালমান গেট প্রকল্পের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পথ খুলে দেয়। এটি বিশ্বজুড়ে হজ ও উমরাহ পালনকারী এবং দর্শনার্থীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মক্কার সক্ষমতা বাড়ানোর সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে।





