Sunday, November 1, 2026
অর্থনীতি

রিয়াদ অর্থনৈতিক ফোরামে এক্সপো ২০৩০ ও বিশ্বকাপ ২০৩৪-এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক রিটার্ন নিয়ে আলোচনা

রিয়াদ অর্থনৈতিক ফোরামে এক্সপো ২০৩০ ও বিশ্বকাপ ২০৩৪-এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক রিটার্ন নিয়ে আলোচনা

রিয়াদ অর্থনৈতিক ফোরামের দ্বাদশ অধিবেশনে সৌদি আরবের এক্সপো ২০৩০ ও বিশ্বকাপ ২০৩৪ আয়োজনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রিটার্ন সর্বাধিক করার বিষয়ে একটি সমীক্ষা আলোচিত হবে। ফোরামটি ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হবে।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, ফোরামের এই উদ্যোগ দেশের ব্যবসায়িক খাত উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ। সমীক্ষাটি এই দুই আয়োজনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সর্বাধিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সমীক্ষার মূল লক্ষ্য ও প্রভাব

সমীক্ষার লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন, জাতীয় পরিচয় সংহতকরণ এবং সভ্যতার গভীরতা তুলে ধরা। এর পাশাপাশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি সমর্থন, মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবহন ও লজিস্টিক খাতকে শক্তিশালী করা। এসবের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই দুই আয়োজনের প্রভাব আয়োজনের সময়কাল ছাড়িয়ে যাবে। এটি টেকসই উত্তরাধিকার গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে, যা মানুষকে ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবন সমর্থন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব উন্নয়ন এবং বড় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও স্বচ্ছতার নীতি সংহত করার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

কিন্তু এই দুই বৈশ্বিক আয়োজনের প্রভাব কি কেবল আয়োজনের সময়কালেই সীমাবদ্ধ থাকবে? সমীক্ষা বলছে, এর সুফল দীর্ঘমেয়াদে ছড়িয়ে পড়বে।

অর্থনৈতিক রিটার্নের সম্ভাবনা

সমীক্ষাটি জিডিপি প্রবৃদ্ধি সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরেছে। এক্সপো ২০৩০ ও বিশ্বকাপ ২০৩৪ আয়োজনের প্রস্তুতি ও আয়োজনকালে অবকাঠামো, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। এই বিনিয়োগ দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে।

মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও সমীক্ষায় গুরুত্ব পেয়েছে। আয়োজন ঘিরে নির্মাণ, পর্যটন, সেবা ও প্রযুক্তি খাতে নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এসব সুযোগ দেশের অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে।

তবে এসব সুযোগ কি সবার জন্য সমানভাবে পৌঁছাবে? সমীক্ষায় মানবসম্পদ উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক রিটার্ন ও জাতীয় পরিচয়

সমীক্ষার সামাজিক দিকটিতে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন, জাতীয় পরিচয় সংহতকরণ এবং সভ্যতার গভীরতা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। এই দুই আয়োজন সৌদি আরবের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত বৈশিষ্ট্য বিশ্বের সামনে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করবে।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্ব উন্নয়নের বিষয়টিও সমীক্ষায় রয়েছে। বড় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও স্বচ্ছতার নীতি সংহত করার কথা বলা হয়েছে।

এই অংশীদারিত্ব কি টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করতে পারবে? সমীক্ষা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে।

টেকসই উত্তরাধিকার

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দুই আয়োজনের প্রভাব আয়োজনের সময়কাল ছাড়িয়ে যাবে। এটি টেকসই উত্তরাধিকার গড়ে তুলবে, যা মানুষকে ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবন সমর্থন এবং অংশীদারিত্ব উন্নয়নের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে।

সুশাসন ও স্বচ্ছতা বড় প্রকল্প ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হবে। এসব নীতি ভবিষ্যতের প্রকল্পেও প্রযোজ্য হবে।

এই উত্তরাধিকার কি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুফল বয়ে আনবে? সমীক্ষার লক্ষ্য তা-ই।

ফোরামের ভূমিকা

রিয়াদ অর্থনৈতিক ফোরামের দ্বাদশ অধিবেশন ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ফোরামটি দেশের ব্যবসায়িক খাত উন্নয়নের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সমীক্ষা আলোচনা করবে।

ফোরামের পৃষ্ঠপোষকতা করছেন দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদ।

এসপিএ জানিয়েছে, ফোরামের এই অধিবেশনে সমীক্ষাটি উপস্থাপিত হবে। তবে সমীক্ষার বিস্তারিত তথ্য বা পরিসংখ্যান বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়নি।

সমীক্ষার সুপারিশ কী হবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি। ফোরামের অধিবেশনে এসব বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যায়ন ও ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে এই দুই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

এসপিএ আরও জানিয়েছে, ফোরামের এই উদ্যোগ দেশের ব্যবসায়িক খাতের উন্নয়নে সহায়ক হবে। তবে সমীক্ষার পূর্ণ প্রতিবেদন বা সুপারিশের বিবরণ বিজ্ঞপ্তিতে নেই।

ফোরাম কবে অনুষ্ঠিত হবে? রিয়াদ অর্থনৈতিক ফোরামের দ্বাদশ অধিবেশন ১২ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। এটি দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক বাদশাহ সালমান বিন আবদুলআজিজ আল সৌদের পৃষ্ঠপোষকতায় হবে। এসপিএ ১ অক্টোবর ২০২৬-এ এই তথ্য জানিয়েছে।

সমীক্ষার মূল লক্ষ্য কী? সমীক্ষার লক্ষ্য হলো এক্সপো ২০৩০ ও বিশ্বকাপ ২০৩৪ আয়োজনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব সর্বাধিক করা। এর মধ্যে রয়েছে দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন, জাতীয় পরিচয় সংহতকরণ, জিডিপি প্রবৃদ্ধি সমর্থন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন। এসপিএ এই তথ্য দিয়েছে।

কোন খাতগুলো উপকৃত হবে? সমীক্ষা অনুযায়ী পরিবহন ও লজিস্টিক খাত, অবকাঠামো ও ডিজিটাল অবকাঠামো এবং পর্যটন খাত উপকৃত হবে। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বাড়বে। এসপিএ জানিয়েছে, এসবের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে।

টেকসই উত্তরাধিকার বলতে কী বোঝানো হয়েছে? সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দুই আয়োজনের প্রভাব আয়োজনের সময়কাল ছাড়িয়ে যাবে। এটি টেকসই উত্তরাধিকার গড়ে তুলবে, যা মানুষকে ক্ষমতায়ন, উদ্ভাবন সমর্থন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং সুশাসন ও স্বচ্ছতার নীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। এসপিএ এই তথ্য দিয়েছে।