Monday, October 19, 2026
সৌদি সংবাদ

আরব রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে হুথি হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বললেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলখেরেইজি

আরব রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকে হুথি হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বললেন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলখেরেইজি

রিয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে সৌদি আরবে নিযুক্ত আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেইজি। বৈঠকের শুরুতেই তিনি বলেছেন, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি ব্যবহার করে المملكة-র বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং বিমানবন্দরগুলোতে যে হামলা চালিয়েছে, তা সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন, মিলিশিয়ার হামলা সব নৈতিক ও ধর্মীয় সীমা লঙ্ঘন করেছে, কারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে মক্কা, মদিনা, উমরাহ পালনকারী ও দর্শনার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের মোকাবিলা একটি অভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।

বৈঠকে المملكة-র অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে এলখেরেইজি বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করা এবং সে লক্ষ্যে সব প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া المملكة-র প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি যোগ করেন, المملكة তার নাগরিক, বাসিন্দা বা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি সহ্য করবে না এবং নিজের ভূখণ্ড রক্ষা, আগ্রাসন প্রতিহত ও আগ্রাসীদের নিরুৎসাহিত করতে সব বৈধ ব্যবস্থা নেবে।

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার হামলার মুখে ইয়েমেনি জনগণ ও তাদের বৈধ সরকারের পাশে المملكة-র সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দেন, ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে মিলিশিয়া যে অপরাধ করছে, তার সম্পূর্ণ দায় মিলিশিয়ারই।

অন্যদিকে রাষ্ট্রদূতরা المملكة, তার বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা এই হামলাগুলো মোকাবিলা, المملكة-র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং তার নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় المملكة যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতে নিজেদের দেশগুলোর সংহতি প্রকাশ করেন।

বৈঠকটি এমন সময়ে হলো, যখন المملكة-র বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং বিমানবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রসঙ্গ আন্তর্জাতিক আলোচনায় বারবার উঠে আসছে। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হামলাগুলোকে শুধু নিরাপত্তা লঙ্ঘন নয়, বরং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। প্রশ্ন হলো, বেসামরিক স্থাপনা ও বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়াকে যুদ্ধাপরাধ বলার পেছনে আন্তর্জাতিক আইনের কোন ভিত্তি তুলে ধরা হয়েছে? প্রতিবেদনে সেই আইনি ব্যাখ্যা বিস্তারিত দেওয়া হয়নি।

এসপিএ জানিয়েছে, বৈঠকে মক্কা ও মদিনার পাশাপাশি উমরাহ পালনকারী ও দর্শনার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মীয় স্থান ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা المملكة-র কাছে কেবল নিরাপত্তা প্রশ্ন নয়, বরং ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বও। তাহলে ধর্মীয় সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক ফোরামে কীভাবে উত্থাপন করা হবে? প্রতিবেদনে এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর নেই, তবে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের মোকাবিলাকে অভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব বলা হয়েছে।

বৈঠকে المملكة-র অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে তিনটি স্তরে। প্রথমত, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা অগ্রাধিকার। দ্বিতীয়ত, নাগরিক, বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি সহ্য না করা। তৃতীয়ত, ভূখণ্ড রক্ষা, আগ্রাসন প্রতিহত ও আগ্রাসীদের নিরুৎসাহিত করতে সব বৈধ ব্যবস্থা নেওয়া। এই তিন স্তরের প্রতিটিই এসপিএ-র প্রতিবেদনে সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। প্রশ্ন হলো, ‘সব বৈধ ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে—কূটনৈতিক, প্রতিরক্ষামূলক নাকি অন্য কিছু? প্রতিবেদনে তার তালিকা দেওয়া হয়নি।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে দুটি দিক স্পষ্ট। এক, ইয়েমেনি জনগণ ও তাদের বৈধ সরকারের পাশে المملكة-র সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দুই, ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের সম্পূর্ণ দায় হুথি মিলিশিয়ার। এই অবস্থান থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে, ইয়েমেন সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে المملكة-র সমর্থন কোন পথে এগোবে? এসপিএ-র প্রতিবেদনে সেই পথের বিবরণ নেই, শুধু সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

আরব রাষ্ট্রদূতদের অংশে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা নিজেদের দেশগুলোর পক্ষ থেকে المملكة-র বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং المملكة-র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ব্যবস্থায় সংহতি প্রকাশ করেছেন। এই সংহতি কতটা সমন্বিত কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ নেবে? প্রতিবেদনে সেই ইঙ্গিত নেই। তবে আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের একযোগে এই অবস্থান প্রকাশ করা কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে রিয়াদে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা এতে অংশ নেন। এসপিএ-র প্রতিবেদনে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূতদের নাম, দেশের সংখ্যা বা বৈঠকের সময়কাল উল্লেখ করা হয়নি। বৈঠকে হুথি হামলার ধরন হিসেবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি—এই তিনটি অস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই হামলাগুলোর প্রমাণ আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা হবে কি না? প্রতিবেদনে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ শব্দটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে এবং হামলাকে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ’ বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধের সংজ্ঞা ও বিচার প্রক্রিয়া জটিল। তাহলে এই অভিযোগ কোন আন্তর্জাতিক ফোরামে উত্থাপন করা হবে—জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক আদালত নাকি অন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম? এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। তবে المملكة-র অবস্থান স্পষ্ট যে বিষয়টি অভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্বের অংশ।

বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং বিমানবন্দরে হামলার প্রসঙ্গে المملكة-র অগ্রাধিকার হিসেবে বেসামরিকদের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, বিমানবন্দর ও অর্থনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদারে কী ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? প্রতিবেদনে সেই ব্যবস্থার বিবরণ নেই, শুধু ‘সব প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মক্কা, মদিনা, উমরাহ পালনকারী ও দর্শনার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষভাবে উত্থাপিত হয়েছে। ধর্মীয় স্থান ও তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। তাহলে ধর্মীয় স্থান রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কতটা জরুরি? সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটিকে নৈতিক ও ধর্মীয় সীমা লঙ্ঘন বলা হয়েছে, যা থেকে ধর্মীয় স্থানের নিরাপত্তাকে অভিন্ন দায়িত্ব হিসেবে দেখার ইঙ্গিত মেলে।

ইয়েমেনি জনগণের প্রতি المملكة-র সমর্থনের কথা বলার সময় সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণ’ অভিধাটি ব্যবহার করেছেন। এই ভাষা দুই দেশের জনগণের মধ্যে ঐতিহ্যগত সম্পর্কের প্রতিফলন। প্রশ্ন হলো, ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা ও পুনর্গঠনে المملكة-র ভূমিকা কেমন হবে? এসপিএ-র প্রতিবেদনে মানবিক সহায়তার পরিমাণ বা প্রকল্পের কোনো উল্লেখ নেই।

আরব রাষ্ট্রদূতদের সংহতি প্রকাশের বিষয়টি থেকে বোঝা যায়, হুথি হামলার বিষয়ে আরব বিশ্বের অবস্থান তুলনামূলকভাবে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু এই ঐক্য কতটা কার্যকর নিরাপত্তা সহযোগিতায় রূপ নেবে? প্রতিবেদনে সেই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে রাষ্ট্রদূতদের বক্তব্যে المملكة-র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন স্পষ্ট।

বৈঠকে المملكة-র অবস্থান তিন দিক থেকে সামনে এসেছে—বেসামরিক সুরক্ষা, আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার এবং ইয়েমেনে বৈধ সরকারের প্রতি সমর্থন। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই তিন দিকের বাইরে অতিরিক্ত কোনো ঘোষণা বা সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়নি। বৈঠকে কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে কি না, বা ভবিষ্যতে কোনো সমন্বিত পদক্ষেপের পরিকল্পনা আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।

সৌদি আরবে নিযুক্ত আরব রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এই ধরনের বৈঠক কূটনৈতিক সমন্বয়ের একটি ধাপ হিসেবে দেখা হয়। হুথি হামলার প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরব দেশগুলোর সঙ্গে المملكة-র যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্ন হলো, এই কূটনৈতিক সমন্বয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থাপত্যে কী পরিবর্তন আনবে? প্রতিবেদনে সেই বিশ্লেষণ নেই, শুধু বৈঠকের বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, المملكة তার ভূখণ্ড রক্ষা, আগ্রাসন প্রতিহত ও আগ্রাসীদের নিরুৎসাহিত করতে সব বৈধ ব্যবস্থা নেবে। এই ঘোষণা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বেসামরিকদের সুরক্ষা অগ্রাধিকার। প্রশ্ন হলো, প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও বেসামরিক সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে? প্রতিবেদনে এই ভারসাম্যের ব্যাখ্যা নেই।

বৈঠকে হুথি হামলাকে ‘সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ’ বলার পাশাপাশি ‘সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ অভিধা ব্যবহার করা হয়েছে। এই ভাষা المملكة-র অবস্থানের কঠোরতা বোঝায়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই অবস্থান পৌঁছাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা জরুরি? আরব রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠক সেই উদ্যোগেরই অংশ বলে প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়, যদিও পরবর্তী পদক্ষেপের বিবরণ নেই।

সব মিলিয়ে এসপিএ-র প্রতিবেদনে যা পাওয়া যায় তা হলো—রিয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে আরব রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেইজির বৈঠক, হুথি হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা, বেসামরিক সুরক্ষার অগ্রাধিকার, আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার, ইয়েমেনি জনগণ ও বৈধ সরকারের প্রতি সমর্থন এবং রাষ্ট্রদূতদের নিন্দা ও সংহতি প্রকাশ। প্রতিবেদনে বৈঠকের সিদ্ধান্ত, যৌথ বিবৃতি, অংশগ্রহণকারীদের নাম বা পরবর্তী পদক্ষেপের কোনো উল্লেখ নেই।

বৈঠকে হুথি হামলাকে কী বলা হয়েছে? সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এলখেরেইজি বলেছেন, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউএভি দিয়ে المملكة-র বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা এবং বিমানবন্দরে যে হামলা চালিয়েছে, তা সম্পূর্ণ যুদ্ধাপরাধ। এসপিএ জানিয়েছে, তিনি বলেছেন মিলিশিয়া মক্কা, মদিনা, উমরাহ পালনকারী ও দর্শনার্থীদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে সব নৈতিক ও ধর্মীয় সীমা লঙ্ঘন করেছে।

বেসামরিকদের সুরক্ষায় المملكة-র অবস্থান কী? এসপিএ অনুযায়ী, সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন المملكة-র অগ্রাধিকার হলো বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করা এবং সে লক্ষ্যে সব প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া। তিনি যোগ করেন, المملكة তার নাগরিক, বাসিন্দা বা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি সহ্য করবে না এবং ভূখণ্ড রক্ষা, আগ্রাসন প্রতিহত ও আগ্রাসীদের নিরুৎসাহিত করতে সব বৈধ ব্যবস্থা নেবে।

ইয়েমেন প্রসঙ্গে কী বলা হয়েছে? বৈঠকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী المملكة-র সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন ইয়েমেনি জনগণ ও তাদের বৈধ সরকারের প্রতি, হুথি সন্ত্রাসী মিলিশিয়ার হামলা মোকাবিলায়। তিনি জোর দেন, ভ্রাতৃপ্রতিম ইয়েমেনি জনগণের বিরুদ্ধে মিলিশিয়া যে অপরাধ করছে তার সম্পূর্ণ দায় মিলিশিয়ারই। এসপিএ-র প্রতিবেদনে ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা বা রাজনৈতিক সমাধানের বিস্তারিত উল্লেখ নেই।

আরব রাষ্ট্রদূতরা কী বলেছেন? এসপিএ জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা المملكة, তার বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা المملكة-র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় المملكة যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তাতে নিজেদের দেশগুলোর সংহতি প্রকাশ করেন। প্রতিবেদনে রাষ্ট্রদূতদের নাম বা দেশের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠক কোথায় এবং কবে অনুষ্ঠিত হয়? সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকটি ১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ রিয়াদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। সৌদি আরবে নিযুক্ত আরব দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতরা এতে অংশ নেন। প্রতিবেদনে বৈঠকের সময়কাল, অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূতদের নাম বা কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।

সন্ত্রাসী মিলিশিয়া মোকাবিলায় المملكة কী দায়িত্বের কথা বলেছে? সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে বলেছেন, সন্ত্রাসী মিলিশিয়াদের মোকাবিলা একটি অভিন্ন আন্তর্জাতিক দায়িত্ব। এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই বক্তব্যের সঙ্গে হুথি হামলাকে যুদ্ধাপরাধ আখ্যা এবং বেসামরিক স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার প্রসঙ্গ যুক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে এই দায়িত্ব বাস্তবায়নে কোন আন্তর্জাতিক ফোরাম বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তার বিবরণ দেওয়া হয়নি।