Monday, October 26, 2026
সৌদি সংবাদ

কেএফএসএইচ-এ লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধিদল

কেএফএসএইচ-এ লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধিদল

রিয়াদে বাদশাহ ফয়সাল বিশেষায়িত হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র (কেএফএসএইচ) লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ সালেম ও তাঁর সঙ্গী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়েছে। সফরের উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসা সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অত্যন্ত বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের সুযোগ অন্বেষণ।

সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ২৫ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, সফরকালে দুই পক্ষ কেএফএসএইচ-এর ক্লিনিক্যাল ও গবেষণা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে লিবিয়ার চিকিৎসা পেশাজীবীদের সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং চিকিৎসা সেবা উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করে। আলোচনায় লিবিয়ায় দেশীয় চিকিৎসা সক্ষমতা জোরদারের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করার বিষয়ও উঠে আসে। পাশাপাশি বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়েও দুই পক্ষ কথা বলে।

প্রতিনিধিদল হাসপাতালের কয়েকটি ক্লিনিক্যাল বিভাগ এবং চিকিৎসা ও গবেষণা সুবিধা পরিদর্শন করে। এ সময় তারা হাসপাতালের উন্নত প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।

এসপিএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২৫০ একাডেমিক মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় কেএফএসএইচ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম এবং বিশ্বে ১২তম স্থান পেয়েছে। এছাড়া ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ২০২৬-এর তালিকায় হাসপাতালটি সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে মূল্যবান স্বাস্থ্যসেবা ব্র্যান্ড হিসেবে নাম পেয়েছে। নিউজউইকের ২০২৬ সালের তালিকায় বিশ্বের সেরা হাসপাতাল, বিশ্বের সেরা স্মার্ট হাসপাতাল এবং বিশ্বের সেরা বিশেষায়িত হাসপাতালের তালিকাতেও কেএফএসএইচ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

লিবিয়ার প্রতিনিধিদলের এই সফর দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা খাতে সহযোগিতার একটি নতুন জানালা খুলে দিল। কেএফএসএইচ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মধ্যে প্রথম স্থান পাওয়া এই হাসপাতালটি বিশ্বের শীর্ষ একাডেমিক মেডিকেল সেন্টারগুলোর মধ্যে ১২তম। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের সরাসরি যোগাযোগ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ছিল লিবিয়ার চিকিৎসা পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। কেএফএসএইচ-এর ক্লিনিক্যাল ও গবেষণা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে কীভাবে লিবিয়ার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দুই পক্ষ মত বিনিময় করেছে। প্রশিক্ষণ যদি বিশেষায়িত ক্ষেত্রে হয়, তাহলে লিবিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মান কতটা বাড়তে পারে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দেখতে হবে, বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরি করা কতটা সময়সাপেক্ষ ও জটিল কাজ।

দুই পক্ষ চিকিৎসা সেবা উন্নয়নের উপায় নিয়েও আলোচনা করেছে। লক্ষ্য হলো লিবিয়ায় দেশীয়ভাবে চিকিৎসা সক্ষমতা জোরদার করা। এর ফলে লিবিয়ার রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে। কিন্তু দেশীয় সক্ষমতা জোরদার করতে হলে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল—তিনটিই একসঙ্গে উন্নত করতে হয়। লিবিয়ার বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সেই প্রস্তুতি কতটা আছে? এ বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি। লিবিয়ার অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। সেই প্রক্রিয়া কীভাবে আরও সুসংগঠিত করা যায়, সে বিষয়ে দুই পক্ষ কথা বলেছে। কেএফএসএইচ যদি লিবিয়ার রোগীদের সেবা দেয়, তাহলে সেই ব্যবস্থাপনার ধরন কেমন হবে? এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

প্রতিনিধিদল হাসপাতালের কয়েকটি ক্লিনিক্যাল বিভাগ পরিদর্শন করেছে। তারা চিকিৎসা ও গবেষণা সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেছে। উন্নত প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে তারা ধারণা লাভ করেছে। এই পরিদর্শন কি লিবিয়ার প্রতিনিধিদের কাছে কেএফএসএইচ-এর সক্ষমতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দিয়েছে? সরাসরি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা সাধারণত আলোচনার টেবিলে থাকা তথ্যের চেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত হয়।

কেএফএসএইচ-এর অর্জনগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২৫০ একাডেমিক মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম এবং বিশ্বে ১২তম স্থান। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ২০২৬-এর তালিকায় এটি সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে মূল্যবান স্বাস্থ্যসেবা ব্র্যান্ড। নিউজউইকের ২০২৬ সালের তালিকায় বিশ্বের সেরা হাসপাতাল, বিশ্বের সেরা স্মার্ট হাসপাতাল এবং বিশ্বের সেরা বিশেষায়িত হাসপাতালের তালিকাতেও কেএফএসএইচ জায়গা পেয়েছে। এই স্বীকৃতিগুলো কি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে হাসপাতালটির আকর্ষণ বাড়ায়? স্বীকৃতি সাধারণত আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

লিবিয়ার প্রতিনিধিদলের সফর শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। এর পেছনে রয়েছে চিকিৎসা সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি করার সম্ভাবনা। অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহযোগিতা—এই তিনটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে দুই পক্ষ এগোতে চায়। কিন্তু এই আলোচনা থেকে কী কী konkrit ফলাফল আসবে, তা সময়ই বলে দেবে।

লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ সালেমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি সফর করেছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন সদস্য। তবে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নাম, পদবি বা সংখ্যা এসপিএ-র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

দুই পক্ষের আলোচনায় কী কী নির্দিষ্ট বিষয় স্থান পেয়েছে, তার বিস্তারিত বিবরণ প্রতিবেদনে নেই। চিকিৎসা সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিশেষায়িত ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ—এই তিনটি মূল বিষয় ছাড়া অন্য কোনো নির্দিষ্ট খাতের কথা জানা যায়নি।

লিবিয়ার চিকিৎসা পেশাজীবীদের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তখনই টেকসই হয়, যখন দেশীয়ভাবে দক্ষ জনবল তৈরি হয়। কেএফএসএইচ-এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে লিবিয়া যদি নিজেদের চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে পারে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা লিবিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু প্রশিক্ষণের পরিমাণ, সময়সীমা বা ক্ষেত্র সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

চিকিৎসা সেবা উন্নয়নের প্রসঙ্গে দুই পক্ষের আলোচনা লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের পরিবর্তে দেশেই উন্নত চিকিৎসা পাওয়া গেলে রোগীদের ভোগান্তি কমে। তবে সেজন্য প্রয়োজন আধুনিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা। লিবিয়ার বর্তমান অবস্থা কী, তা এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়নি।

বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ব্যবস্থাপনার বিষয়টি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। লিবিয়ার রোগীরা যদি সৌদি আরবে চিকিৎসা নেন, তাহলে সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত থাকে ভিসা, পরিবহন, চিকিৎসা খরচ এবং চিকিৎসা-পরবর্তী সেবা। এসব দিক কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

কেএফএসএইচ-এর ক্লিনিক্যাল বিভাগ ও গবেষণা সুবিধা পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধিদল উন্নত প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম দেখেছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পদ্ধতিও তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজেদের দেশে কীভাবে কাজে লাগানো যাবে, তা নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পরিদর্শনের সময় কোন কোন বিভাগে তারা গিয়েছে, তার তালিকা প্রতিবেদনে নেই।

কেএফএসএইচ-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এই সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২৬ সালের শীর্ষ ২৫০ একাডেমিক মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম স্থান এবং বিশ্বে ১২তম স্থান পাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লিবিয়ার সহযোগিতা চাওয়া স্বাভাবিক। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্সের তালিকায় সবচেয়ে মূল্যবান স্বাস্থ্যসেবা ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি এবং নিউজউইকের তিনটি তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হাসপাতালটির সুনাম আরও বাড়িয়েছে। এই সুনাম কি লিবিয়ার সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে? সম্ভবত।

তবে এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই সফরের সময়সীমা, চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কোনো উল্লেখ নেই। দুই পক্ষের আলোচনার ফলাফল কী হবে, তা নিয়েও কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে এই আলোচনা কী রূপ নেবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

লিবিয়ার প্রতিনিধিদলের এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ধাপ। চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং রোগী ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এক বৈঠকেই সব সমস্যার সমাধান হয় না। তবে আলোচনার সূচনা হলে ভবিষ্যতে তার ধারাবাহিকতা থাকতে পারে।

কেএফএসএইচ-এর গবেষণা সক্ষমতাও এই সহযোগিতার একটি দিক। বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। লিবিয়ার চিকিৎসা পেশাজীবীরা যদি কেএফএসএইচ-এর গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন, তাহলে তা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক হতে পারে। কিন্তু গবেষণা সহযোগিতার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সৌদি আরব ও লিবিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। তবে কেএফএসএইচ-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এই সহযোগিতাকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো দিতে পারে। প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে লিবিয়ার চিকিৎসা পেশাজীবীরা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পেতে পারেন। এতে লিবিয়ার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

অন্যদিকে, কেএফএসএইচ-এর জন্যও এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও অভিজ্ঞতা বাড়ায়। বিভিন্ন দেশের রোগীদের সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লিবিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা সেই দিক থেকে একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

তবে সব কিছু নির্ভর করে আলোচনার ফলাফলের ওপর। দুই পক্ষ কী বিষয়ে একমত হয়েছে, কী বিষয়ে এখনো আলোচনা প্রয়োজন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় স্পষ্ট কিছু বলা কঠিন। এসপিএ-র প্রতিবেদন মূলত সফরের ঘটনা ও আলোচনার বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।

প্রতিনিধিদলের সফর শেষে কী ধরনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে কি না, তাও জানা যায়নি। ভবিষ্যতে এই আলোচনা কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই।

সামগ্রিকভাবে, লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রতিনিধিদলের কেএফএসএইচ সফর দুই দেশের চিকিৎসা সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। অভিজ্ঞতা বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে সহযোগিতা—এই তিনটি ক্ষেত্রে আলোচনা হয়েছে। কেএফএসএইচ-এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এই আলোচনাকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে। তবে আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফলাফল, সময়সীমা বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে অনুপস্থিত।

কেএফএসএইচ-এ কারা সফর করেছেন এবং কেন? লিবিয়ার চিকিৎসা সেবা সহায়তা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ডা. আহমেদ সালেম ও তাঁর সঙ্গী প্রতিনিধিদল রিয়াদে বাদশাহ ফয়সাল বিশেষায়িত হাসপাতাল ও গবেষণা কেন্দ্র (কেএফএসএইচ) সফর করেছেন। সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, সফরের উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসা সহযোগিতার সুযোগ অন্বেষণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং অত্যন্ত বিশেষায়িত চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ। প্রতিনিধিদল হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল বিভাগ ও গবেষণা সুবিধা পরিদর্শন করেছে।

দুই পক্ষের আলোচনায় কী কী বিষয় উঠে এসেছে? আলোচনায় কেএফএসএইচ-এর ক্লিনিক্যাল ও গবেষণা দক্ষতা কাজে লাগিয়ে লিবিয়ার চিকিৎসা পেশাজীবীদের সক্ষমতা গড়ে তোলার উপায় নিয়ে কথা হয়েছে। চিকিৎসা সেবা উন্নয়ন এবং লিবিয়ায় দেশীয় চিকিৎসা সক্ষমতা জোরদারের প্রচেষ্টায় সহায়তার বিষয়ও আলোচনায় এসেছে। এছাড়া বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়েও দুই পক্ষ মত বিনিময় করেছে। এসপিএ এসব আলোচনার বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করেনি।

কেএফএসএইচ ২০২৬ সালে কী কী স্বীকৃতি পেয়েছে? এসপিএ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বিশ্বের শীর্ষ ২৫০ একাডেমিক মেডিকেল সেন্টারের তালিকায় কেএফএসএইচ মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় প্রথম এবং বিশ্বে ১২তম স্থান পেয়েছে। ব্র্যান্ড ফাইন্যান্স ২০২৬-এর তালিকায় এটি সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে মূল্যবান স্বাস্থ্যসেবা ব্র্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। নিউজউইকের ২০২৬ সালের বিশ্বের সেরা হাসপাতাল, বিশ্বের সেরা স্মার্ট হাসপাতাল এবং বিশ্বের সেরা বিশেষায়িত হাসপাতালের তালিকাতেও কেএফএসএইচ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

প্রতিনিধিদল সফরে কী কী দেখেছে? প্রতিনিধিদল কেএফএসএইচ-এর কয়েকটি ক্লিনিক্যাল বিভাগ এবং চিকিৎসা ও গবেষণা সুবিধা পরিদর্শন করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, তারা হাসপাতালের উন্নত প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছে। তবে কোন কোন বিভাগে তারা গিয়েছে বা পরিদর্শনের সময়সূচি কী ছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।

এই সফরে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে কি? এসপিএ-র প্রতিবেদনে এই সফরে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ চিকিৎসা সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনার সুনির্দিষ্ট ফলাফল, সময়সীমা বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। ফলে এই সফর থেকে কী konkrit ফলাফল আসবে, তা স্পষ্ট নয়।

লিবিয়ার রোগীদের বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে? দুই পক্ষ বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছে। এসপিএ জানিয়েছে, আলোচনায় লিবিয়ায় দেশীয় চিকিৎসা সক্ষমতা জোরদারের প্রচেষ্টায় সহায়তার বিষয়ও উঠে এসেছে। এর লক্ষ্য হলো লিবিয়ার ভেতরেই চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করা। তবে রোগী ব্যবস্থাপনার নির্দিষ্ট পদ্ধতি, ভিসা, খরচ বা চিকিৎসা-পরবর্তী সেবা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।