রিয়াদের আল-ফালাহ জেলায় শুরু হয়েছে শহরের প্রথম স্বচালিত যানবাহনভিত্তিক ডেলিভারি সেবার পাইলট প্রকল্প। পরিবহন সাধারণ কর্তৃপক্ষ (টিজিএ) এই প্রকল্প চালু করেছে, যেখানে গ্রাহকের ইলেকট্রনিক অর্ডার সরাসরি একটি স্বচালিত গাড়িতে লোড হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপকের কাছে পৌঁছে যাবে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ ৫ অক্টোবর ২০২৬-এ জানিয়েছে, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং উদ্ভাবনী সমাধান সক্রিয় করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ এই উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এই সেবা, যার সূচনা হয়েছে আল-ফালাহ জেলা থেকে।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয় ইলেকট্রনিকভাবে অর্ডার দেওয়ার মাধ্যমে। এরপর পণ্য একটি যানবাহনে লোড করা হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়। পুরো প্রক্রিয়ায় মানবচালকের প্রয়োজন হয় না।
এই যানবাহনে ব্যবহৃত হচ্ছে লেভেল ৪ স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি। এতে রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি সেন্সর কভারেজ, রিমোট অপারেশন সেন্টার থেকে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে থেমে যাওয়ার সক্ষমতা। এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিশ্চিত করে যে যানবাহনটি চলার সময় চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা রাখতে পারে এবং প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
টিজিএ জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক এই বহর ব্যবহারের মাধ্যমে ডেলিভারি খরচ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এই বহর পরিচালনার সময় শূন্য কার্বন নিঃসরণ করে এবং রাস্তার শব্দ দূষণও কমায়।
কীভাবে এই প্রযুক্তি রিয়াদের ডেলিভারি খাতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবর্তন আনবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শহরের অন্যান্য জেলায় কখন এই সেবা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি। পাইলট প্রকল্পের সময়সীমা, যানবাহনের সংখ্যা বা সেবার মূল্য সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারি যানবাহন কীভাবে জটিল শহুরে পরিবেশে নিরাপদে চলাচল করবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আগ্রহ থাকতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য স্পষ্ট—আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতকে আরও দক্ষ ও টেকসই করা।
রিয়াদের আল-ফালাহ জেলার বাসিন্দারা এই সেবা ব্যবহার শুরু করতে পারবেন ইলেকট্রনিক অর্ডারের মাধ্যমে। স্বয়ংক্রিয় যানবাহন কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাবে এবং পণ্য হস্তান্তর করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে নেই।
পরিবহন সাধারণ কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ সৌদি আরবের পরিবহন খাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি উদাহরণ। লেভেল ৪ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি এবং ৩৬০ ডিগ্রি সেন্সর কভারেজের সমন্বয়ে এই যানবাহনগুলো শহরের রাস্তায় চলাচল করবে। রিমোট অপারেশন সেন্টার থেকে নজরদারি চালানো হবে, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বৈদ্যুতিক বহর হিসেবে এই যানবাহনগুলো পরিবেশবান্ধব। শূন্য কার্বন নিঃসরণ এবং কম শব্দ দূষণ শহরের পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। ডেলিভারি খরচ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্যও সুবিধাজনক হতে পারে।
তবে এই সেবা কেবল আল-ফালাহ জেলার নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। ভবিষ্যতে এটি অন্য এলাকায় সম্প্রসারিত হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই।
স্বয়ংক্রিয় ডেলিভারি সেবা চালু হওয়ার ফলে রিয়াদের ডেলিভারি খাতে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। প্রথাগত ডেলিভারি সেবার সঙ্গে এই নতুন প্রযুক্তি কীভাবে সমন্বয় হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
পরিবহন সাধারণ কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং উদ্ভাবনী সমাধান সক্রিয় করার মাধ্যমে পরিবহন ও লজিস্টিকস খাতকে আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
গ্রাহকরা ইলেকট্রনিক অর্ডার দিয়ে এই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। অর্ডার দেওয়ার পর পণ্য স্বয়ংক্রিয় যানবাহনে লোড হবে এবং প্রাপকের কাছে পৌঁছে যাবে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হবে।
এই পাইলট প্রকল্পের সফলতা ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের পথ নির্ধারণ করবে। তবে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত সময়সূচি বা পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্বচালিত ডেলিভারি সেবা কীভাবে কাজ করে? গ্রাহক ইলেকট্রনিকভাবে অর্ডার দিলে পণ্য একটি স্বচালিত যানবাহনে লোড হয়, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেয়। যানবাহনে লেভেল ৪ স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি, ৩৬০ ডিগ্রি সেন্সর কভারেজ এবং রিমোট অপারেশন সেন্টার থেকে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ রয়েছে। জরুরি অবস্থায় যানবাহন তাৎক্ষণিকভাবে থামতে পারে।
এই সেবা কোথায় চালু হয়েছে? রিয়াদের আল-ফালাহ জেলায় নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে এই পাইলট প্রকল্প চালু হয়েছে। পরিবহন সাধারণ কর্তৃপক্ষ (টিজিএ) এটি চালু করেছে। শহরের অন্যান্য জেলায় কখন সেবা বিস্তৃত হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।
খরচ কতটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে? টিজিএ জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক বহর ব্যবহারের মাধ্যমে ডেলিভারি খরচ ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে। এই বহর পরিচালনার সময় শূন্য কার্বন নিঃসরণ করে এবং রাস্তার শব্দ দূষণ কমায়।
যানবাহনগুলোতে কী কী নিরাপত্তা প্রযুক্তি আছে? যানবাহনগুলোতে লেভেল ৪ স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি এবং ৩৬০ ডিগ্রি সেন্সর কভারেজ রয়েছে। রিমোট অপারেশন সেন্টার থেকে রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ চালানো হয় এবং জরুরি অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে থামার সক্ষমতা রয়েছে।
পাইলট প্রকল্পের সময়সীমা বা যানবাহনের সংখ্যা কত? বিজ্ঞপ্তিতে পাইলট প্রকল্পের সময়সীমা, যানবাহনের সংখ্যা বা সেবার মূল্য সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, সেবাটি আল-ফালাহ জেলার নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় চালু হয়েছে।