নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহের ফাঁকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, المملكة জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের (UNCCT) কর্মসূচিতে ৬০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে।
সৌদি সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, এই অর্থ চার ক্যালেন্ডার বছর ধরে দেওয়া হবে এবং তা শুরু হবে ২০২৭ অর্থবছর থেকে।
ঘোষণাটি এসেছে এমন এক সময়ে যখন সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্ক চলছে। তাহলে কেন সৌদি আরব ঠিক এই মুহূর্তে জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রে বড় অঙ্কের অর্থ দিতে এগিয়ে এল? বৈঠকটি হয়েছিল নিউইয়র্কে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহের সাইডলাইনে।
এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি আরবের এই সহায়তা জাতিসংঘের এমন একটি কেন্দ্রের প্রতি المملكةর বিশ্বাসের প্রকাশ, যা সন্ত্রাসবিরোধের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচি পরিচালনা করে। সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে المملكةর কেন্দ্রীয় ভূমিকা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলা ও এই ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করার ব্যাপারে কেন্দ্রটির গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতি থেকেই এই সমর্থন এসেছে।
প্রশ্ন হলো, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সক্ষমতা-নির্মাণ বলতে আসলে কী বোঝায়? জাতিসংঘের ভাষায় এটি প্রশিক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার মতো কাজকে বোঝায়। সৌদি আরবের নতুন এই অর্থ সেই ধরনের কর্মসূচিতেই ব্যয় হবে বলে এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এসপিএ আরও জানিয়েছে, এই অবদান সৌদি আরব ও জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কার্যালয়ের (United Nations Office of Counter-Terrorism) মধ্যে ফলপ্রসূ সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। المملكة প্রথমে জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ১১ কোটি ডলার দিয়েছিল। সম্প্রতি আরব সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ডলার।
এই তথ্যগুলো একসঙ্গে রাখলে একটি ধারাবাহিক চিত্র তৈরি হয়। তাহলে কি সৌদি আরব জাতিসংঘের সন্ত্রাসবিরোধী স্থাপত্যে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী হিসেবে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করছে? ১১ কোটি ডলারের প্রাথমিক অবদান থেকে ৩ লাখ ডলারের আরব কৌশল প্রকল্প, আর এখন ৬০ লাখ ডলারের নতুন প্রতিশ্রুতি — এই ধারাবাহিকতা এক দিনের ঘটনা নয়।
নতুন অবদানটি চার ক্যালেন্ডার বছর ধরে দেওয়া হবে, যা ২০২৭ অর্থবছরে শুরু হবে। এই সময়সীমা নিজেই তাৎপর্যপূর্ণ। এর মানে হলো, অর্থায়নটি এককালীন অনুদান নয়, বরং কয়েক বছর ধরে বিস্তৃত একটি পরিকল্পিত সহায়তা। তাহলে কি এই দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো কেন্দ্রটির কর্মসূচি পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে?
এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, المملكةর এই সহায়তা সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার কেন্দ্রীয় ভূমিকা থেকে উদ্ভূত — যে কেউই এর পেছনে থাকুক না কেন। এই ভাষা লক্ষণীয়। সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং ব্যাপকভাবে দেখা হয়েছে। তাহলে কি এই অবস্থান আন্তর্জাতিক মঞ্চে সৌদি আরবের নীতিগত ধারাবাহিকতারই প্রতিফলন?
বৈঠকটি যেহেতু সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহের সাইডলাইনে হয়েছে, সেহেতু এর কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিশ্ব নেতারা যখন নিউইয়র্কে সমবেত হন, তখন দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোর মধ্যে দিয়েই অনেক বড় ঘোষণা আসে। তাহলে কি এই ঘোষণাটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে সৌদি আরবের অগ্রাধিকারগুলোর একটি স্পষ্ট সংকেত?
এসপিএ জানিয়েছে, المملكةর এই সমর্থন কেন্দ্রটির গুরুত্ব এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলা ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করার ক্ষেত্রে তার গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতি থেকেও এসেছে। অর্থাৎ, শুধু অর্থ দেওয়া নয়, কেন্দ্রটির কাজের ধরনকেই المملكة সমর্থন করছে। প্রশ্ন হলো, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই ধরনের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আসল সুবিধা কী?
জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সৌদি আরবের ১১ কোটি ডলারের প্রাথমিক অবদানের কথা এসপিএ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই অঙ্কটি নিজেই বলে দেয়, কেন্দ্রটির জন্মলগ্ন থেকেই المملكة তার অন্যতম প্রধান সমর্থক। তাহলে কি এই নতুন ৬০ লাখ ডলারকে সেই দীর্ঘ সম্পর্কের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা উচিত?
সম্প্রতি আরব সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল প্রকল্পে দেওয়া ৩ লাখ ডলারের কথাও এসপিএ উল্লেখ করেছে। আঞ্চলিক কৌশল প্রকল্পে এই সমর্থন দেখায়, সৌদি আরবের সহযোগিতা শুধু বৈশ্বিক কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়, আঞ্চলিক উদ্যোগেও বিস্তৃত। প্রশ্ন হলো, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক — এই দুই স্তরে একসঙ্গে কাজ করার কৌশলগত যুক্তি কী?
এসপিএর প্রতিবেদনে অবশ্য এই নতুন অর্থায়নের নির্দিষ্ট ব্যয়খাত, কোন কোন কর্মসূচি বা কোন কোন দেশ উপকৃত হবে, তা বিস্তারিত বলা হয়নি। চার ক্যালেন্ডার বছরের মধ্যে বার্ষিক কত ডলার দেওয়া হবে, সেই ভাগও স্পষ্ট করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, সহায়তা ২০২৭ অর্থবছর থেকে শুরু হবে।
একইভাবে, এই চুক্তির সঙ্গে কোনো শর্ত যুক্ত আছে কি না, বা এর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে কে — এসব বিষয়ে এসপিএর প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি। ঘোষণাটি এসেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বৈঠকের প্রেক্ষাপটে, তবে বৈঠকে আর কী আলোচনা হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
তাহলে কি এই ঘোষণার প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে কেবল ভবিষ্যতের কর্মসূচির বাস্তবায়ন দেখে? জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচি বিভিন্ন অঞ্চলে কীভাবে পরিচালিত হয়, তার ফলাফল কেমন হয় — এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে অর্থায়নের ধরন নিয়েও প্রশ্ন থাকে। কেউ কেউ বলেন, সক্ষমতা-নির্মাণে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার চেয়ে বেশি টেকসই ফল দেয়। আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন, এই অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা মাপা হয় কীভাবে? এসপিএর প্রতিবেদনে এই ধরনের মূল্যায়নের কোনো উল্লেখ নেই।
সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট: সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াই, যে কেউই এর পেছনে থাকুক। এই নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে ৬০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি একই সূত্রে গাঁথা। প্রশ্ন হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তাকে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার একটি মডেল হিসেবে দেখবে?
নিউইয়র্কের বৈঠক, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহ — এই প্রেক্ষাপট ঘোষণাটিকে কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। তবে এসপিএর প্রতিবেদনে যেহেতু বিস্তারিত ব্যয়পরিকল্পনা বা বাস্তবায়ন কাঠামো নেই, সেহেতু অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন।
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের ৬০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের কর্মসূচিতে চার বছরের সহায়তার একটি স্পষ্ট ঘোষণা। এটি المملكةর দীর্ঘ সহযোগিতার ধারাবাহিকতা, যা ১১ কোটি ডলারের প্রাথমিক অবদান ও ৩ লাখ ডলারের আরব কৌশল প্রকল্প সমর্থন থেকে শুরু। ঘোষণাটি এসেছে নিউইয়র্কে, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহে, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে।
সৌদি আরব কত টাকা এবং কত বছরে দেবে? সৌদি আরব জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের (UNCCT) কর্মসূচিতে ৬০ লাখ ডলার আর্থিক সহায়তা দেবে। এসপিএ জানিয়েছে, এই অর্থ চার ক্যালেন্ডার বছর ধরে দেওয়া হবে এবং তা ২০২৭ অর্থবছর থেকে শুরু হবে। ঘোষণাটি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে।
ঘোষণাটি কোথায় ও কখন দেওয়া হয়? ঘোষণাটি দেওয়া হয় নিউইয়র্কে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সপ্তাহের সাইডলাইনে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহর বৈঠকে। এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সহায়তা সন্ত্রাসবিরোধের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচিতে ব্যয় হবে।
সৌদি আরব আগে কেন্দ্রটিতে কত দিয়েছিল? এসপিএ জানিয়েছে, সৌদি আরব প্রথমে জাতিসংঘ সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় ১১ কোটি ডলার অবদান রেখেছিল। সম্প্রতি আরব সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল প্রকল্পে দেওয়া হয়েছে ৩ লাখ ডলার। নতুন ৬০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতিকে সেই ফলপ্রসূ সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সহায়তার উদ্দেশ্য কী? এসপিএ অনুযায়ী, এই সমর্থন সন্ত্রাসবাদের সব রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে المملكةর কেন্দ্রীয় ভূমিকা থেকে উদ্ভূত, যে কেউই এর পেছনে থাকুক। পাশাপাশি এটি কেন্দ্রটির গঠনমূলক ও কার্যকর ভূমিকার স্বীকৃতি, বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতা গড়ে তোলা ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা একত্র করার ক্ষেত্রে।
প্রতিবেদনে কী কী তথ্য দেওয়া হয়নি? এসপিএর প্রতিবেদনে চার বছরের মধ্যে বার্ষিক কত ডলার দেওয়া হবে, কোন নির্দিষ্ট কর্মসূচি বা কোন দেশ উপকৃত হবে, বা বাস্তবায়ন কে পর্যবেক্ষণ করবে — এসব বিস্তারিত বলা হয়নি। বৈঠকে আর কী আলোচনা হয়েছে, তাও উল্লেখ নেই। শুধু বলা হয়েছে, সহায়তা ২০২৭ অর্থবছর থেকে শুরু হবে।





